বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাসা থেকে ভাবী ফোন দিয়ে তাড়াতাড়ি ফিরতে বললো, আমার জন্য কি নাকি খুশির খবর আছে।তাই কি আর করা তাড়াতাড়ি চলে এলাম
অফিস থেকে।
,
বাসায় এসে দেখি রুমে বাবা মা ভাইয়া ভাবী সবাই বসে আছে।কেমন
জানি সন্দেহজনক লাগলো বেপারটা। সত্যিই কি খুশির খবর নাকি কপালে শনি আছে বুঝতে পারছি না।
,
--শুন তর জন্য আমরা মেয়ে দেখছি (আম্মু)
--মানে কি?
--তর ভাবী আর একা এ সংসার সামলাতে পারবে না।তার ও একজন
সংগী দরকার।
-- তুমি তো বাসায় আছই। অন্য মেয়ে আনার কি দরকার।
-- এত কথা জানি না। তকে এবার বিয়ে করতেই হবে। পরের মাসের ৩
তারিখ বিয়ে ঠিক করছি।
--মগের মুল্লুক পাইছ নাকি? চিনি না জানি না কাকে বিয়ে করবো?
--মেয়েটা খুব ভালো, তর ভাবীর বান্ধবীর ছোট বোন।
,
আমি ভাবীর দিকে তাকালাম। দেখি ভাবী হাসছে।ভাবীর হাসি দেখে
আমার আরো রাগ হচ্ছে। আমাকে বিপদে ফেলে তিনি মজা নিচ্ছেন। "
আমি এ বিয়ে করবো না "। এই কথা বলে চলে গেলাম। যাওয়ার আগে আরো বললাম "আমি আমার পছন্দের মেয়ে ছাড়া অন্য মেয়েকে বিয়ে করতে পারবো না "। বাবা মা সবাই জানে আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি।কিন্তু তারা কোন রকম প্রেমের বিয়ে মেনে নিবে না। সবাই যখন সিনেমা দেখে তখন নায়ক নায়িকার প্রেম খুব ভালো লাগে, নায়ক নায়িকাকে না পেলে সবার খারাপ লাগে। কিন্তু বাস্তবে কিন্তু এরাই ভিলেন এর মত হয়ে যায়।
,
কয়েক দিন হাতে সময় আছে। প্রতিদিন আম্মুকে বুঝালাম। আমি বিয়ে করবো না। কিন্তু কেউ মানলোই না। একদিন জোর করে মেয়ের বাসাতেও নিয়ে গেল। মেয়েটা দেখতে অবশ্য ভালোই। কিন্তু তাকালাম না তার দিকে। সবাই যখন অন্য মনষ্ক ছিল তখন চুরি করে একবার দেখে নেই।
,
অপছন্দ করার মত মেয়ে না হলেও আমি ওকে বিয়ে করবো না বলে সাফ সাফ জানিয়ে দিলাম।কিন্তু কোন লাভ হলো না। অবশেষে তিন তারিখ এসেই গেল।বিয়ে করতেই হলো।
,
বাসরঘর,
,
দেখি মেয়েটা একা একাই খাটের উপর বসে আছে।
গিয়েই এক ধমক দিলাম,"
--এই মেয়ে এখান থেকে সাইডে যাও,
আমি ঘুমাব"
--(মেয়েটা চুপ)
--এই মেয়ে যাও বলছি
,
কথাটা বলতে না বলতেই নিজের
কানে টান অনুভব করলাম। পিছনে
তাকিয়ে দেখি ভাবী।
--এবার থামো,অনেক নাটক করছ,আর নাটক করতে হবে না " (ভাবী)
ভাবীকে দেখে আভা নিজেও শুরু করলো বলা।
--ভাবী করতে দেন আরো এমন। বিয়ে ঠিক হবার প্রথম দিন থেকে দেখছি এমন করছে আমার সাথে। আমাকে কোন মেয়েই মনে করছে না ও। আগে সারা দিন আমার পিছে পিছে ঘুরতো আর এখন ভাব নিচ্ছে।
,
"আরে আমি কি করলাম? তোমাকে পাওয়ার জন্যই তো এমন করছি। এখন সব দোষ আমার তাই না? " আমি বললাম।
,
"অনেক হইছে,যাকে পাওয়ার জন্য করছ, তাকে এখন পাইছ,তাকে নিয়ে থাকো। আর ঝগড়া করতে হবে না। আমি যাই " এ কথা বলে ভাবী চলে গেলেন।
,
,
আসলে পুরোটাই সাজানো ছিল। আমার ভাবীটা অনেক ভালো। তিনি আগের দিনের কলকালা সিনেমার ভাবীদের মত দজ্জাল না।তিনি হলেন আগের দিনের আমাদের দেশের বাংলা সিনেমার শাবানার মত ভাবী। এর জন্য ই শুধু সকল কাজে আমাকে সাহায্য করেন। যখন বুঝতেছিলাম সোজা ভাবে আভাকে বিয়ে করা সম্ভব না তখন ই মাথায় এই বুদ্ধিটা আসে। আভাকে বলি ওর বড় বোনের সাথে কথা বলতে।
আমিও ভাবীকে বেপারটা বলি। দুজনেই রাজি হয়ে যায়। তারা আগের
থেকে বান্ধবী ছিল না,আমাদের বিয়ে দেবার জন্য বান্ধবী হয়েছে।
,
মা বাবাকে কষ্ট দিয়ে কিছু করা ঠিক না। তাই তাদের খুশির জন্যই এই কাজ করা। এতে তারাও খুশি,আর আমিও পেয়ে গেলাম আভাকে।
,
[] Sayem Sagor []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now