বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তুমি কি মানুষ?
- হু
- তুমি নিজেকে মানুষ ভাবো?
- দুর্ভাগ্য, ভাবতে হয়
- আমার দূরভাগ্য কি জানো?
- হু
- তোমার মত মানুষকে ভালোবাসাটা আমার বোকামি ছিল
- ভালো
- তোমার ইয়ার্কি লাগছে?
- না, যুক্তি নিয়ে কথা বললাম
- কি যুক্তি
- মানুষ প্রথমবার বোকামি করে, দ্বিতীয়বার না। তুমি নিশ্চয় দ্বিতীয়বার বোকামিটা করবে না?
- মানে?
- মানে নেই
নিধি এক দৃষ্টিতে রাতুলের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার ইচ্ছে হচ্ছে রাতুলের গালে চর বসাতে। পাবলিক প্লেসে বিয়েফকে চর মারার বিষয়টা মোটেও স্বাভাবিক দেখাবে না।
রাতুল চুপ করে বসে আছে নিধির কি বলে শোনার জন্য। নিধির রাগটা জায়েজ। এক সপ্তাহ পর কথা হচ্ছে তাদের। এক সপ্তাহ অনেক সময়। নিধির জন্য বছর বলা যায়।
এই এক সপ্তাহে রাতুল ব্যাস্ত ছিল। ব্যাস্ত তা শেষ হয়েছে গতকাল। আজ বিশেষ দিন। বিশেষ দিন গুলোতে প্রিয় জনের সাথে দেখা করা যায়। আজকের দিনটি একটু বেশি বিশেষ। আজ রাতুলের চাকরি হয়েছে। চাকরি নিয়ে ব্যাস্ত ছিল শেষ কয়দিন। খুশির খবর বিশেষ দিনটির জন্য জমা রেখেছিল।
- এত দিন কই ছিলে?
- পৃথিবীতে
- পৃথিবীর কোথায়?
- বলা যাচ্ছে না
- আজ কেনো এলে?
- তুমি ডেকেছ
- না ডাকলে আসতে?
- উহু
নিধি রাতুলের থেকে চোখ ফিরিয়ে অন্য দিকে তাকালো। তার মনে হচ্ছে অপরিচিত কারো সাথে কথা বলছে। তার পাশে যে বসে আছে সে রাতুল না। এক সপ্তাহ খুব বেশি সময় না। এই অল্প সময়ে রাতুল বদলে যাবে ভাবেনি নিধি। আজ তার বিশেষ একটি দিন। অন্য কারো জন্য না হলেও সে ভেবেছিল রাতুলের জন্য দিনটি বিশেষ। তার ধারনা ভুল। নিধি রাতুলের সে বিশেষ মানুষটি হয়ত নেই।
রাতুলের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। নিধির কাঁদো কাঁদো মুখ দেখে খারাপ লাগছে তার। এতটা করা উচিত হচ্ছে না। না করে থাকার লোভ সাম্লাতে পারছে না সে।
- নিধি?
- হুম্
- কাদছ?
- আমি কাঁদছি না
- চোখে পানি ...
- থাকুক
- কান্না শেষ হলে বলো
- আমি কাঁদলে তোমার কি?
- কান্নার সময় খুশির খবর মানায়?
- খুশির খবর? বিয়ে করছ নিশ্চয় .....
- উহু, চাকরি পেলাম
চমকে রাতুলের দিকে তাকালো নিধি। চেহারা যথেষ্ট বিস্ময়ের ছাপ।
- হুম্
- চাকরি !!!
- হুম্
- এখন বলছ?
- তোমাকেই বললাম কেবল
- আগে বললে হতো না?
- না
চেহারায় মূহুর্তে রাগ সরে গিয়ে চেহারায় হাসির রেখা ফুটলো নিধির। হঠাৎ এমন খবর শুনবে ভাবেনি। এত দিনে দেখা না করার কারন তাহলে এটি?
সন্ধা নামছে। পার্কে বসে থাকা মানুষ গুলো বাড়ির পথ ধরেছে। নিধির চেহারায় হাসির রেখাটি নেই। কিছুটা অভিমান ভর করেছে তাতে। আজ তার জন্মদিন। এই দিনটিও রাতুলের জানা নেই !!
হাটতে গিয়ে থমকে দাঁড়ায় রাতুল। সঙ্গে করে আনা ব্যাগ থেকে ফুলের মালা বের করে। বেলী ফুল, নিধির বেশ পছন্দের।
সন্ধা নেমেছে পুরোপুরি। আকাশে থাকা পূর্নিমা চাঁদ আলো ছড়াতে শুরু করছে। আকাশে ভাসতে থাকা পূর্ণিমার চাঁদের দিকে খেয়াল নেই রাতুলের। তার সামনে পৃথিবীর সুন্দর চাঁদটি দাড়িয়ে আছে। মাথায় বেলী ফুলের খোপা, তার সুন্দর্য বাড়িয়েছে দিগুন।
নিধির চোখে পানি। নিজের উপরই রাগ লাগছে তার। রাতুল বদলায় নি। ঠিক আগের মতই আছে। ভালবাসার মানুষ কখনও বদলায় না। রাতুলের দিকে তাকিয়ে হেসে দেয় নিধি। তার মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি চেপেছে। পরপর দুটি সারপ্রাইজ। বিশেষ দিনটিকে আরো বিশেষ করা যায়না ???
লিখাঃ আশরাফ মামুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now