বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"বিদায় ভালবাসা"

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X ব্লেডটা খুজে কিচেনে পেলাম| একটু ধারালো তবে একেবারে নতুন নয়|বাসার গ্যাসের চুলা ঠিক করার সময় ব্লেডটা দিয়ে মিস্ত্রি কাজ করেছিল|সেই থেকে ব্লেডটা পড়ে আছে|আজ রফিকের অফিস থেকে ফিরতে লেট হয়েছে,দেরি হবার কারন জানতে চেয়েছিলাম,সে বল্লো অফিসে কাজের চাপ ছিল অনেক|কিছুই বলিনি ,হাসি মুখে কাপড় চোপড় এগিয়ে দিয়ে ,খাবার গুলো গরম করছিলাম|এমন সময় আমাকে ডেকে বল্লো , --- আমি শুয়ে পড়ছি,ক্ষিধে নাই একদম|তুমি খেয়ে নাও| আর তোমাকে না বলেছি ,আমার জন্য অপেক্ষা করবে না ,তুমি ডিনার করে নিবে| উত্তরে কিছুই বলিনি,শুধু দেখছি সময়ের সাথে সাথে মানুষ কত বদলে যায়| এই রফিক আমাকে ছাড়া কিচ্ছু বুঝতো না|দিনের পর দিন আমার অভিমান ভাংগানোর জন্য নিজে রাত জেগে আমার বিছানার মাথার কাছে বসে থাকতো| মুখটা মলিন দেখলেই অস্থির হয়ে যেত|অফিস থেকে এক একটা অযুহাত বানিয়ে বাসায় চলে আসতো| আজ আমরা এক ই ছাদের নীচে,তবু দু জনের মাঝে কত্ত ফারাক| গত বছর অফিসের প্রোগ্রামে ওদের ট্রুর ছিল সেনমার্টিন| পাঁচ দিনের জন্য গিয়েছিল|আমার যাওয়ার কথা থাকলেও যেতে পারিনি,কারন তখন আমার মাস্টার্স ফাইনাল চলে|অনেক ব্যাস্ত ছিলাম সেই সময় পড়াশুনা নিয়ে|ওর সেন মার্টিন ট্যুর শেষ হওয়ার বেস কিছু দিন পরে আমি ওর ফেসবুক আইডিতে সবার ছবি দেখতে পাই|বেশ এনজয় করেছিল ওরা| ওর এক লেডি কলিগ,কি জানি নাম !ওহ হ্যা মনে পড়েছে ফারজানা ,বেস চার্মিং লুক,তেমন ফিগার ,তেমন চুল,নাক ,গায়ের রং সব কিছু|দেখলেই ঈর্ষা লাগে এমন সুন্দর মেয়েটা|ওর সাথে সব জায়গায় রফিক পাশাপাশি ছিল|বিষয়টা তেমন গুরুত্ব দেইনি প্রথমে,কারন এমন হতেই পারে !জব করে এক সাথে তাই অন্তরংগ হওয়া যায়| কয়েকদিন পরে,আমি দুপুরে ঘুমাচ্ছি তখন ই ফোনটা বেজে উঠলো ,রিসিভ করার পরই আমার ছোট বোন বল্ল---আপু তুই কই? _---বাসায়,কেন? --- দুলাভাই --- কি হয়েছে? ---দুলাভাই একটা মেয়েকে নিয়ে বসুন্ধরার সিনেপ্লেক্সে এসেছে মুভি দেখতে| ---(মনে হচ্ছিল আমার কলিজাটা কেউ খাবড়ে নিয়ে যাচ্ছে)নিজেকে কন্ট্রোল করলাম,তারপর ওকে বল্লাম মুভি শেষ কয়টায় হবে? ঠিক আমি তাই করলাম,মুভি শেষ হবার আগ দিয়েই গিয়ে দাড়িয়ে রইলাম সিনেপ্লেক্সের আশে পাশে|আমার বোন আমাকে জানাতে লাগলো কখন কি বের হবে সেই আপডেট| আমার মাথা ঘুড়াচ্ছে,আমি কি ভুল দেখছি!রফিক সেই অফিস কোলিগ মেয়েটা কে নিয়ে বের হলো|দু জনার চোখেই উচ্ছসিত আনন্দ|আমি নিজেকে লুকিয়ে রাখলাম ওদের কাছ থেকে|দেখলাম ওরা ফুড কোটের দিকে যাচ্ছে|কিছু সময় পরে আমি ওর ফোনে কল দিলাম,রফিক কলটা কেটে দিয়ে একটা টেক্স পাঠালো --- আই এম ইন মিটিং,কল ইউ লেটার| সেই দিন আমার বোন আমাকে বাসায় পৌছে দিয়ে গেলো|ভেবেছিলাম বাসায় ফেরার পরে আমি রফিক কে চার্জ করব ,সব কিছু ভেগেং ফেলবো,কিন্তু তা পারিনি|আমি চুপ চাপ নিজের মত রইলাম,কিছুই বুঝতে দেইনি তাকে|এভাবে আমি রফিক কে অনেক বার ফলো করেছি|কিন্তু বুঝতে দেইনি কখনো যে আমি সব জানি| সেইবার আমি অনেক সিক হয়ে পড়লাম|একটা বার আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবার মত সময় হলো না|কয়েকদিন পরে এমন হলো যে,আমি বিছানা থেকে উঠতে পারছিলাম না|তাই বাধ্য হয়ে আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলো| প্রাইমারি চেক আপের পরে ডাক্তার বল্লেন -- আমি মা হতে চলেছি|কথাটা শুনে রফিক একদম খুশি হয়নি মনে হলো|বাসায় ফিরে দেখলাম ও একটু মুড ওফ |আমি কাছে গেলাম,গলাটা জড়িয়ে ধরে বল্লাম _-- তুমি খুশি হওনি? উত্তরে বল্লো --- তা ঠিক না,মানে এখন আমি বাচ্চা চাই না,একটু গুছিয়ে নিতে চাই নিজেকে|অনেক বুঝালাম,অনেক কাদলাম কিন্তু রফিক কিছুতেই মানতে চাইলো না|এক পর্যায় বল্লো --- এখন তুমি বাচ্চা নিলে আমাকে হারাবে| ওর একটা কথায় চুপ হয়ে গেলাম,মেনে নিলাম|যদিও আমার মা বলেছিলেন ,বাচ্চা হলে সব ঠিক হয়ে যাবে|কিন্তু আমি নিরুপায় হয়েই বাচ্চাটা নস্ট করে ফেল্লাম| ইদানিং ফারজানার মেসেজ আসে অনেক রাতে রফিকের ফোনে|ও আমার কাছ থেকে অনেক অনেক দুরে সরে গেছে|সে দিন আমি বল্লাম, ----ভালবেসে দুজনে বিয়ে করলাম,আজ সব কিছু মিথ্যে হয়ে গেলো এক ফারজানার জন্য? ---ওহ তুমি সব জেনে গেছো? ---হ্যা অনেক আগে থেকেই জানি| ---ভাল হয়েছে আগেই যে জেনেছো,তুমি চাইলে তোমার মত থাকতে পারো,আপ টু ইউ|বাট আমি ফারজানা কে বিয়ে করব| ---তাহলে আমাদের ভালবাসা !!সব কি মিথ্যা ,সব ভুল! ---জানি না,তবে ফারজানা বর্তমান,আমি সুখি হতে চাই ওকে নিয়ে|আমি ভাল থাকি ওর সাথে|এখন ডিসিশন তুমি নাও| তারপর থেকে আমার পৃথিবী বদলে গেলো|ক্রমশো দুরত্ব রফিক আর আমার মাঝে|মনে মনে ঠিক করলাম ,আমি নিজ থেকে চলে যাবো|অনেক দুরে চলে যাবো|অল্প কিছু জিনিস পত্র গুছিয়ে নিলাম|কিন্তু কথাটা কারো সাথে শেয়ার করিনি| কেন জানি এই ঘরটা ছেড়ে যেতে মনে চাচ্ছে না|খুব খুব কান্না পাচ্ছে,এই ঘরের সব কিছু আমার আপন|পর্দা,জানাল া,টেবিলে সাজানো ফুল গুলো ,সব কিছু সব|বাসাটায় যখন প্রথম আসি ,তখন কত স্বপ্ন ,কত ভালবাসা ঘুড়াঘুড়ি করতো এই ঘর গুলোর চার দেয়ালে|আজ সব মিথ্যা,সব ... রাতে রফিক ফেরার পরে ,দরজাটা খুলে রফিকের গলাটা জড়িয়ে ধরে কেদে ফেল্লাম|রফিক নির্জিব,যেন সব কিছু অসহ্য ওর কাছে|আমাকে ছাড়িয়ে দিয়ে চলে গেলো,ফিরেও চাইলো না|মনটা এবার আমার বিদ্রোহ ঘোষনা করলো|আর সইতে পারছি না,মাথায় ঘুড় পাক খেলো,কিছু একটা করবো|হ্যা আমি তাই করব ,যা আমার করা উচিত|আমার জিনিস আমি কারো হতে দিব না,ব্যাস| ব্লেডটা হাতে নিয়ে বিছানায় গেলাম,রফিক তখন ঘুমাচ্ছে|খুব কাছে গেলাম,আমার হাতটা কাপছে,অনেক কাপছে|প্রথমে আমি রফিকের ডান হাতের কব্জিতে একটা পোস দিতেই রফিক চমকে উঠলো|আমি ওর উঠে যাওয়া দেখে তাড়াহুড়ো করে ওর গলায় আর একটা দিলাম|রফিক তখন গোংগানোর আওয়াজ করছে,আমি তখন একটা বালিশ ওর মুখের উপর চেপে ধরলাম|ও তখন হাত পা ছুড়ে বাচার চেস্টা করছে|মিনিট পাচে পরে ও নিস্তেজ হয়ে গেলো|আমার দু চোখ বেয়ে পানি পড়ছে,আমি কাদছি,হঠাত দেখি ওর ফোন এ লাইট জ্বলছে|একবার ফোনটা হাতে নিতে চাইনি,পর আবার কি জানি মনে করে ফোনটা হাতে নিলাম|একটা মেসেজ এসেছে ফোনে ফারজানার নাম্বার থেকে ---- মিস ইউ জান| এবার আমার ভেতরে আমি না অন্য কেউ জেগে উঠলো,আমি এবার ব্লেডটা হাতে নিয়ে ওর শরিরের প্রতিটা চামড়ায় মনের মত করে কাটতে থাকলাম| মাথা থেকে পায়ের আংগুল পর্যন্ত| ওয়াশ রুমে গিয়ে গোসল করলাম|নতুন কাপড় পড়লাম,আলমাড়ি টায় খুজে পাসপোর্ট টা হাত ব্যাগে নিলাম|ভোর একটু হতে না হতে ই আমি বেড়িয়ে পড়লাম|যাবার আগে এক দলা থু থু রফিকের মুখে ছুড়ে মারলাম| হেটে যেতে যেতে বল্লাম --বিদায় ভালবাসা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "বিদায় ভালবাসা"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now