বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিয়ের আড়াই বছরের মাথায় স্বামীকে সব চেয়ে আনন্দের সংবাদটা দিলো মৃন্ময়ী।
অদ্ভুত একটা হাসি দিয়ে কোলে তুলে নিয়েছিলো ওর স্বামী।
রাতেই ঠিক করা হলো কাল বাসার সবায়কে জানানো হবে। কিন্তু রাত পোহাতেই মৃন্ময়ীর মাথা ঘোড়ানো দেখেই শাশুড়ি মা বুঝে গেলেন কেউ আসছে।
মৃন্ময়ী কে অবশ্য ব্যাপারটা নিয়ে ভালো মন্দ কিছু বললেন না। হয়তো ভালো খারাপ কিছু একটা বলা উচিত ছিলো।
রান্নাঘরে কাজ করতে করতেই কানে গেলো
পড়শিদের কেউ বেড়াতে এসেছে সম্ভবত।
তার সাথে শাশুড়ি মা রসিয়ে গল্প করছেন---
বউটার পেটে বাচ্চা আইছে কিন্তু বউ আমার যে কালো আমার তো ভয় হচ্ছে বাচ্চাটা না আবার কালো হয় বেশ ভালো হয় যদি আমার ছেলেটার মতো হয়। কথাটা কানে যেতেই থমকে গেলো জেনো।
মৃন্ময়ী খুব বেশী কালো নয় গড়নটা শ্যামলায় বলা যায়।
এই উন্নত সময়ে এসেও কারো মনে যে কালো-সাদার বিভেদ থাকতে পারে এতে বেশ অবাকই হলো মৃন্ময়ী।
ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলো মৃন্ময়ী আর ওর স্বামী। শাশুড়ি অবশ্য বিয়ের পর থেকে রঙ নিয়ে খোটা দেয় তাতে অতোটা কিছু মনে হয় না মৃন্ময়ীর।
তবে আজকের কথাটা জেনো বেশীই খারাপ লাগলো একটা নতুন মানুষ আসছে তার ব্যাপারে ভালো ধারনা তো মা করতেই পারতো।
২য় মাসেই নিজের শরীরটাকে মৃন্ময়ীর কাছে বেশ ভারি মনে হয়।
এরমধ্যেই মৃন্ময়ীর ননদটাও বাসায় স্হায়ী হয়ে গেছে। ননদটাও প্রেগন্যান্ট।
এই অবস্হায় নাকি মেয়েদের বাবার বাড়িতেই নিয়ে যাওয়া হয়।
নিয়ম মাফিক শাশুড়ি মেয়েকে বাসায় নিয়ে এসেছেন। মৃন্ময়ীর ভাই ভাবিও এসেছিলো ওকে নিতে।
ভাই-ভাবির আগমনের হেতু শুনে হায় হায় করে উঠলেন মৃন্ময়ীর শাশুড়ি-----
কি বলেন আপনারা??? বউমা যদি এখন বাপের বাড়ি যায় বাসার এতো কাজ কে করবে??
আর তাছাড়া আমার মোয়েটাও পোয়াতি ওরই যত্ন আমি একা কিভাবে নিবো??
আপনাদের বোন তো এখানে সুখেই আছে।
এমন নিজস্বার্থ বোঝার মতো কথা শুনে মৃন্ময়ীর ভাই কঠিন কিছু বলার জন্যই মুখ খুলেছিলেন কিন্তু পরক্ষনেই বোনের চোখের ইশারায় কিছু না খেয়েই মুখ কালো করে প্রস্হান করেন।
বাসায় গিয়ে মৃন্ময়ীর ভাবি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন একটা মানুষ এতোটা স্বার্থপর কিভাবে হতে পারে নিজের মেয়ের আলাদা যত্ন দরকার পরের মেয়ের নেই।
রাতে ঘরে যেতেই মৃন্ময়ীরর স্বামী জিজ্ঞাসা করে তোমার ভাই ভাবি এসেছিলো আজ???
মৃন্ময়ী সত্যটা লুকিয়েই ঝটপট বলে ফেলে--
কই না তো আসেনি, কেন তাদের আসার কথা ছিলো বুঝি??
অবাক হয় কথাটা শুনে
কি বলো তুমি? আমাকে তো ফোন করে বললো
আজ এসে তোমায় নিয়ে যাবে।
মুচকি হেসে মৃন্ময়ী জবাব দেয়----
হয়তো ব্যস্ত তাই আসতে পারেনি বাদ দাও না আমি তো এখানে বেশ আছি।
রাত শেষে আবার কাজে লেগে পড়ে মৃন্ময়ী।
৪-৫ দিন আগে বাড়ির বুয়াটাকেও বিদেয় করেছে শাশুড়ি মা।
এহেন কাজের কথা জিজ্ঞাসা করতেই পান খেয়ে লাল হওয়া দাঁত বের করে বললো--
--বউ মা সামনে তো আমাদের অনেক খরচ বুয়া থাকলে অযথা বাড়তি টাকা যাবে তার চেয়ে এই টাকাটা বাচুক তুমি তো একাই সব সামলাতে পারে।
কথার প্রেক্ষিতে আর একটা কথাও বলেনি মৃন্ময়ী।
সকাল থেকে স্বামী শাওন আসা পর্যন্ত কাজ করে যায় মৃন্ময়ী।
যখনই শাওনের আগমন ঘটে কোথায় থেকে জেনো অনেক মায়া ভর করে শাশুড়ির মনে।
তখন মৃন্ময়ীকে বসিয়ে রেখে নিজেই কাজে দৌড়াদৌড়ি করেন।
ননদটাকে দেখে একটু হলেও হিংসা হয় মৃন্ময়ীর পরম আদরে মায়ের হাতে তুলে খায় যখন।
আজকাল আদেশও করে শাশুড়ির সামনেই---
ভাবি পা টা বড্ড টান মারছে একটু টিপে দাও তো শাশুড়িও তাতে সায় মেলায় ---
দাও না বউ মা একটু ও তো তোমার ছোট বোনের মতোই।
হাসি মুখে সব করে দেয় মৃন্ময়ী।
রাতে কখনো হুটহাট শাওন জিজ্ঞেস করে বসে--
--মৃন্ময়ী তোমার কি অসুবিধা হচ্ছে??
চলো কাল ডাক্তার দেখাই।
বেবীর কন্ডিশনও জানা হবে সাথে তোমারও শরীর সম্পর্কে জানা যাবে।
পরদিন শাশুড়িকে বলতেই জবাব দেয়--
--- না রে বউ মা তো দেখি ঠিকই আছে ডাক্তার না দেখালেও চলবে তুই তার চেয়ে বরং এক কাজ কর তোর বোনকে একবার ডাক্তার দেখিয়ে আন ওর পা টা কেমন ফুলে গেছে।
প্রতিবাদ করার জন্য ইচ্ছা করতেই শাওনকে মৃন্ময়ীই বলে ওঠে---
--- মা ঠিকই বলেছে তুমি বোনকেই একবার দেখিয়ে আনো আমি আরেকদিক না হয় যাবো।
মৃন্ময়ীরর ভাবি বহু পদের আচার তৈরী করে পাঠিয়ে দিয়েছে মৃন্ময়ীর জন্য।
বয়ামের মুখাটা খুলতেই কই থেকে জেনো ননদটা ছুটে এলো---
--- ভাবি কি খাচ্ছো??? আচার নাকি??
আমাকে দাও তো বয়ামটা।
মুখে দেওয়ার পরই বয়াম সহ মায়ের কাছে ছোটে মৃন্ময়ীর ননদ।
তারপর আর আচারের হদিস পাওয়া যায় না।
একে একে ৩-৪ টা বয়াম উধাও হতেই শাশুড়ির ঘরে যেয়ে ননদকে জিজ্ঞেস করে মৃন্ময়ী --
তুমি কি আচারের বয়ামগুলো দেখেছো??
হাসি মুখে ননদ জবাব দেয়---
--- ভাবি আমি তো ওগুলো খেয়ে ফেলেছি তোমার তো আরো আছে তুমি সেগুলো খাও।
আহত কন্ঠে মৃন্ময়ী বলে উঠলো--
৪ বয়ামই তো শেষ তাহলে আর আচার কোথায় পাবো আমার জন্য একটু হলেও তো রাখতে পারতে।
এই কথা বলতেই ননদ বেশ নাকি কান্না জুরে দেয়-- ---------মাআআ ওও মা দেখো না আমি ভাবির
একটু আচার খেয়েছি তাই কেমন করছে।
অবাক হয়ে মৃন্ময়ী বলে--
একটু কই আপু তুমি তো সবই শেষ করে ফেলেছো.
বেলকুনি থেকে শাশুড়ি বলে ওঠে--
তুমি কেমন মেয়ে ছেলে বাপু তোমার বোনের মতো মেয়েটা একটু আচার খেয়েছে তাই তুমি এমন করছো??. মা বাবা কখনো আচার খাওয়াইনি তোমায়?? শশুড় বাড়িতেই সব কিছু খেতে হবে তোমায়??
কথাগুলো শুনে বেশ কষ্ট পায় মৃন্ময়ী।
চোখের জল মুছেই পিছন ফিরে হাটা দেয় নিজের ঘরের দিকে।
এভাবেই নানা রকম মানসিক টর্চার সহ্য করেই কেটে যায় মৃন্ময়ীর দিন।
আর সাথে তো কাপড় কাচা থেকে শুরু করে ৫ তলা বাড়ির ছাদে কাপড় নেড়ে দেয়ার মতো ভারি কাজ তো আছেই।
সাড়ে পাঁচ মাস হতেই টুং করে একটু নড়াচড়া করে ভিতরের অস্তিত্য নিজের অবস্হানটা জানান দিতে শুরু করলো।
এরপরে শতকষ্টেও পিচ্চিটার নড়াচড়ায় বেশ একটা সস্তি পায় মৃন্ময়ী।
মাঝে মাঝে শাওনও মৃন্ময়ীর পেটে কান লাগিয়ে ভিতরের পিচ্চিটার নড়াচড়া শোনার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় সেটা আরেক অন্য রকম অনূভুতি।
কিন্তু সাড়ে ৬ মাসের পর পিচ্চিটা কেমন মায়ের সাথে লুকোচুরি বন্ধ করে দেয়।
বেশ ২-৩ দিন অপেক্ষা করে মৃন্ময়ী।
শেষে এক সময় শাশুড়িককে বলে--
আম্মা বাচ্চাটা কেন জেনো নড়ছে না চলুন না একটু ডাক্তারের কাছে যাই।
শাশুড়ি প্রথমে মুখ ঝামটা দিলেও পরক্ষনেই যেতে রাজি হয়।
তবে নিজের মেয়েটাকে পাঁজাকোলা করতে ভোলেন না।
ডাক্তারখানায় গিয়েই নিজের মেয়েকেই আগে পরিক্ষা করান শাশুড়ি।
তাতেও কোনো দ্বিমত করে না মৃন্ময়ী।
শেষমেশ নিজের অবস্হা পরিক্ষা করার সুযোগ পায় মেয়েটা।
রিপোর্ট দেখে নিজেই আতকে ওঠে মৃন্ময়ী।
অতিরিক্ত প্রেসার আর কাজের চাপে বাচ্চাটার কন্ডিশন অত্যান্ত খারাপ।
একফাকে ডাক্তার নিজেই শাশুড়ি মাকে নিজের রুমে ডাকেন।
--- আমায় ডেকেছেন ডাক্তার সাহেব??
--- জ্বি আপনার সাথে আসা ২ টা মেয়ে কে হয় আপনার??
---- একটা মেয়ে আরেক ছেলের বউ।
---- ২ জন মেয়েই সমান স্হানে আছে কিন্তু এই অবস্হায় আপনার মেয়ে মায়ের বাসায় এসেছে বউকে যেতে দেননি নাকি??
--- সেকি ডাক্তার কি বলেন আপনি আমি তো বউমাকে যেতে বলেছিলাম কিন্তু মেয়েটায় তো যায়নি এতে আমার কি দোষ বলেন?
ডাক্তার আর কথা বাড়ান না মৃন্ময়ীরর জন্য কিছু মেডিসিন লিখেই বিদেয় করেন।
আর শাশুড়িকে বলেন---
আপনি যদি পরের মেয়েটাকেও একটু নিজের মেয়ে ভাবতেন তাহলে হয়তো বাচ্চারর অবস্হা অনেক ভালো থাকতো হাজার হোক মেয়েটার ভিতরে যে আছে সে তো আর ভেসে আসেনি। একটু খেয়াল রাখবেন মেয়েটার।
ডাক্তারের কথাগুলো বেশ দাগ কাটে শাশুড়ির মনে।
আর এসব কথা শুনে মৃন্ময়ী মেয়েটাও আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখে।
এবার থেকে হয়তো শাশুড়ি মা তাকে একটু হলেও যত্ন করবেন এই আশায়।
(ভুল ত্রুটি মার্জনীয়)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now