বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গগনের পরিবার শান্তিতেই কাটালো একটা দিন। কখনো ভাবতেই পারে নি যে এক দিনেই আবার তাদের আকাশে কালো মেঘ নেমে আসবে। সব কিছু স্বাভাবিকই ছিলো। মিষ্টি রান্না করছিলো। সকালে তখন কেউই ঘুম থেকে ওঠে নি। এত কিছুর মধ্যেও মিষ্টির মনের সন্দেহ কেন যেন রয়েই গেলো। তাই নিজের সন্দেহ দূর করার জন্য মিষ্টি সেই আয়নাটার কাছে আবার যায়। কিছুটা ভয়ে ভয়ে আয়নাটার দিকে তাকায়। মিষ্টির কপালে ভয়ের ঘাম জমেছে। এবার আয়নাটা দেখতে যেই মুখটা আয়নায় ধরলো অমনি বৃদ্ধা আত্মার চেহারা ভেসে উঠলো। এবার যেন চোখে অনেক রাগ। সোজা মিষ্টিকে বললো, মরবি, তুই মরবি। মুক্তি সাথে সাথে আয়নাটা ফেলে দৌড়ে যায় গগনের কাছে। গগন তখনো ঘুমাচ্ছে।
.
--শুনছো, প্লিজ ওঠো তারাতারি
--কি হলো, ডাকাত পড়লো নাকি? এত ডাকাডাকি কেনো?
-- আআ আ আয়না,
--কি বলছো, যা বলার ক্লিয়ার করে বলো তো। ঘুম টা নষ্ট করে কি বলছো?
--আয়নায়, আবার, ও এসে গেছে (কাদতে কাদতে বলে)
--কে?
--ওই আত্মা, বলছিলো যে মরবি মরবি। গগন ও আমাদের মেরে ফেলবে। তুমি ওই কাপালীকে খবর দাও প্লিজ।
--কি সব বলছো, তুমি ভুল দেখেছো, মন থেকে ভয়টা যায় নি এখনো।
--বিশ্বাস করো, না হয় তুমি দেখো গিয়ে।
--আজব, চলো দেখি।
.
এতদিন মিষ্টি একাই কেবল এগুলোর সাক্ষী ছিলো কিন্তু আজ গগনও তা প্রত্যক্ষ করলো। ওহ কি ভয়ানক সে চেহারা। গগন মিষ্টিকে বলে নিশ্চই আত্মাটা আবার এসে ছে। ওই কাপালীকে খবর দিতে হবে। এই বলে সে আলীকে হাক পাড়ে। আলী জলদি উঠে আসে।
.
--কি হয়েছে ছোট বাবু?
--ওই আত্মাটা আবার এসেছে। তোমার বৌমা ভীষন ভয় পেয়েছে। আমি ওর কাছে থাকি। তুমি গিয়ে ওই কাপালীকে ডেকে নিয়ে এসো।
--এমনটা তা হবার কথা না। তবুও আমি যাচ্ছি।
.
এই বলে আলী রওনা দেয় সেই শ্মশানের উদ্দেশ্যে। গিয়েই গেইটের সামনে দেখতে পায় অনেক লোকের ভীর। সে ভাবে হয়তো কোনো শব দাহ করতে আনা হয়েছে। তাই সবাইকে ঠেলে সে ভিতরে ঢোকে সেই কাপালীর সন্ধানে। কিন্তু ভিতরে ঢোকার পরে আলীর মাথায় বাজ পড়ে। সে যা দেখে তা সে মমোটেও আশা করে নি।
.
আলী দেখে যে কাপালী শ্মশানের বটগাছে ঝুলছে। অর্থাৎ তার লাশ ঝুলছে। গলায় দড়ি দিয়ে লাশটা ঝুলানো। গলা সহ সারা বুক লাল হয়ে গেছে রক্তে। চোখ গুলো যেন চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। মাথার জটা গুলোও ঝুলছে। এ ঘটনা দেখার পর আলী ছুটে যায় বাড়িতে।বাড়িতে যাওয়ার পরই দরজায় বসে পরে। গগন ছুটে আসে ও জিজ্ঞাসা করে,
.
--কি হলো আলী কাকা? এত হাপাচ্ছো কেন?
--ছোটবাবু, ছোটবাবু, ওই কাপালী আর নেই।
--নেই মানে, পাও নি?
--পেয়েছি, কিন্তু তার লাশ। গলা কেটে কেউ গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে।
--কি বলছো এসব? পাগল হয়ে গেছো নাকি?
--না ছোট বাবু। সত্যি। টিভিতেও মনে হয় দেখাবে।
--ওকে। তারাতারি ভিতরে আসো। মিষ্টি, কনক এদিকে এসো।
.
সবাই নিচে নেমে আসে। ড্রয়িং রুমে টিভি অন করে। সবাই হতভম্ব হয়ে যায়। মিষ্টি হা হয়ে যায়। এ যে সত্যি। কাপালী তো সত্যি খুন হয়েছে। এ ঘটনার পর যেন মাথায় বাজ পড়লো গগন পরিবারের। যে ছিলো ভরশা, সেই তো এখন শেষ।
.
--ছোটবাবু, আমার মনে হয় আত্মাটা করেছে এ কাজ।
-- আমারো তাই মনে হয় (গগন)
--এখন আমাদের কি হবে?(মিষ্টি)
--কপালে যা আছে। (গগন)
--ওই বড়দা, কি বলিস এসব হ্যা? ভালো কথা মুখে আসে না? (কনক)
--দেখ কনক। যা হবে, দেখা যাবে। এখন যা কলেজে যা। আমিও স্কুলে যাবো। (গগন)
-- আমি কি একা থাকবো বাড়িতে? (মিষ্টি)
-- একা কই, আলী কাকা তো আছেই, আর কোনো সমস্যা হলে ফোন দিবে। আলী কাকা, ওর খেয়াল রেখো। (গগন)
.
সবাই যে যার কাজে চলে যায়। বাড়িতে রয়ে যায় মিষ্টি, আর বৃদ্ধ আলী। দুপুর বেলা, খাওয়া শেষ, মিষ্টি ঘুমাতে যাবে। দরজা বন্ধ করে যেই বিছানায় ঊঠবে, ওমনি ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় ভেসে ওঠে সেই ছবি। এবার এ আর কোনো ছবি নয়। আয়না থেকে খোদ সেই বৃদ্ধাই মিষ্টির সামনে প্রকট হয়। মিষ্টি কিছু বোঝার আগেই মিষ্টির গলা চেপে ধরে বৃদ্ধা, মিষ্টি অচকিত আক্রমনের শিকার হয়। অনেক চেষ্টা করেও মিষ্টি নিজেকে ছাড়াতে পারে না, কোনো চিৎকারও বের হয় না তার গলা দিয়ে। বৃদ্ধা মিষ্টির গলা ধরে ঠেলে দেওয়ালে ঠেকিয়ে ধরে। মিষ্টি এখন নিরুপায়। এখন কেবল মৃত্যুর অপেক্ষা।
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now