বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-ওকে তুই তাহলে প্রস্তুতি নে। ধরে নে কাজ হয়ে গেছে। কিন্তু
কারণটা কি?
-ওসব তোকে পরে বলব। এখন আর্লি কর।
-ওকে, বাই।
(ইশারা তাড়াতাড়ি ওর বাবার মোবাইলটা নিয়ে বাবার আরো
কাছে রেখে আসল যেন ফোন দিলেই শুনতে পাই। ২মিনিট পরই
ফোন বাজল। কিছুক্ষণ বাজতেই মোবাইলটা হাতে নিয়ে
রিসিভ করল ইশারার বাবা)
-হ্যালো...
-(কিছুটা উচ্চ ভঙ্গিতে) হ্যালো...
-কে?
-আপনিকি ইশারা আহমেদ এর বাবা?
-হ্যা..
-আমি ওর ক্লাস টিচার, ওকে এখনি কলেজে পাঠিয়ে দিন। আজ
ওর ইমপরট্যান্ট প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস আছে,ছুটি হতে দেরি
হবে।
-অহ সালামালাইকুম। জ্বী এখুনি পাঠাচ্ছি।
-ওয়ালাইকুম আসসালাম।
(টুট টুট টুট)
-ইশারা মা ইশারা
-জ্বী বাবা
-তোর স্যার ফোন করেছিল,বলেছে এখনি কলেজে যেতে।
প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস আছে।
-আজই!! (চমকে যাওয়ার ভান করে)
-হ্যা। স্যার বলেছে যখন যা
-আচ্ছা। (মলিন কন্ঠের ভান করে)
-আর ধর এই একশ টাকা নিয়ে যা। বৃষ্টি হচ্ছে। ক্লাস শেষ
হলে একটুও দেরি করবিনা।
-ঠিকাছে। (খুশি মনে)
************
***********
**********
(রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম রিদিতার বাসার জঙ্গলটার
উদ্দেশ্যে। একটা রিক্সা ঠিক করে উঠে পড়লাম। কিছুক্ষণ
পরেই আবির ফোন করল)-
-হ্যালো....
-কিরে কাজ হলো?
-১০০% হয়েছে। থ্যাংকস দোস্ত।
-এবার কাহিনী খুলে বল।
-আমি এখন রিক্সাই। আগে পুরোটা শেষ করি তারপর বলব।
ওকে?
-ঠিকাছে। তবে যেখানে যাচ্ছিস ভালমতন যা।
-থ্যাংকস (হাসি মুখে)।
¤¤¤¤¤¤¤¤
(ঠিক ৩০ মিনিট পর পৌঁছল ইশারা। রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া
চুকিয়ে দাঁড়াল সে। কিন্তু কি করবে বুঝতে
পারছেনা। এত বড় জঙ্গলের কোন দিক দিয়ে যাত্রা করবে
কিছু'ই বুঝতে পারছেনা। হঠাৎ করেই সকালের দেখা মেসেজটার
কথা মনে পড়ে গেল। তড়িঘড়ি করে ব্যাগ থেকে
মোবাইলটা বের করে মেসেজ টা দেখছে একবার নই বারবার।)
-আরে এটাতো এই জঙ্গলটাই। অদ্ভূততো!! এখন এতসব ভাবা
যাবেনা। যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে।
(সব দ্বিধা ভুলে মাথা থেকে ছাতাটা নিয়ে বন্ধ করে ব্যাগ
ঢুকাল। আস্তে আস্তে জঙ্গলের ভিতরে চলে গেল। বাতাস,
বৃষ্টি আর আকাশের বিদ্যুৎ চমকানিতে অস্থির হয়ে গেল সে।
তবুও থামলনা। হঠাৎ অনেকদূরে এগিয়ে যাওয়ার পর দেখল একটা
মেয়েকে। পেছনে ফিরে কার সাথে যেন ফোনে কথা
বলছে। মেয়েটা সামনে ফিরতেই ইশারা একটা গাছের আড়ালে
লুকিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর মুখোশ পরা দু'টো ছেলে এসে কি
বলতেই মেয়েটাসহ ভিতরে চলে গেল। তারপর ইশারা গাছের
আড়াল থেকে বের হয়ে মোবাইলের ম্যাপটা ফলো করে আস্তে
আস্তে সামনে এগোতে লাগল)।
-নাহ, সামনে দিয়ে কিছুতেই যাওয়া যাবেনা। অনেক পাহারা
বসেছে। আমাকে পেছন দিয়েই পথ চলতে হবে।
(মনে মনে ভেবে ইশারা আস্তে আস্তে বাড়ির পেছনে গেল।
কোন দরজা
দেখলনা। উপরে কিভাবে উঠবে ভাবতে লাগল। কিন্তু, সাথে কিছু
না আনার কারণে মাটি থেকে কিছু পাথর আর কঙ্কর কুড়িয়ে
নিয়ে উড়নার ভিতর পেঁচিয়ে রাখল। সুযোগ মত কাজে লাগাবে।
হঠাৎ একটা গাছ দেখল ইশারা। সোজা ছাদের উপর গিয়ে থেমে
গেছে। যে করেই হোক এই গাছটা বেয়ে ছাদে উঠেই যা
করার করতে হবে।
(আস্তে আস্তে গাছ বেয়ে ছাদে উঠতে লাগল ইশারা। অনেক
কষ্ট হয়েছে, তবুও এক পর্যায়ে উঠে গেল। উঠেই যা দেখল তাতে
ইশারার চোখ কেপেঁ উঠল। দৃষ্টি যেন আর পলক'ই ফেলতে
চাইনা। একটা বেঞ্চির উপর একটা মেয়েকে সাদা কাপড় মুড়িয়ে
শুয়ে রেখেছে। তার পাশে একটা মেয়ে চোখ বন্ধ করে মন্ত্র
পড়ছে। আর
সবাই দাঁড়িয়ে আছে। শুয়ে রাখা মেয়েটাকে একটুও চিনতে দেরি
হলোনা ইশারার। এই মেয়েই তো ওর বন্ধু রিদিতা। তাহলে
আজ যে ফোন করেছিল সে কে? নিশ্চয় সেই
মেয়েটাই, যে রিদিতার সাথে বেঈমানি করে,
আমার সাথেও করেছে। হঠাৎ চোখ খুলতেই রিদিতার কাজিন
ইশারাকে দেখে ফেলল)।
-হ্যালো মিস.ইশারা। ওয়েলকাম, ওয়েলকাম, মাই সিক্রেট ওয়ার্ল্ড।
-তুমি কে? আমায় চিনলে কি করে? (না বোঝার
ভান করে)
-ও হ্যা। আমি রিদিতার কাজিন। আমার নাম আশা। আজ
সকালে তোমাকে আমি'ই ফোন করেছিলাম। বিপদে পরার ভান
করে তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছি। (হাসি মুখে ব্যঙ্গ করে)
-তাতে কি লাভ? (নিজেকে কিছুটা সামলে)
-রিদিতার মুখে শুনেছি তুমি অনেক সাহসী আর দূর্দান্ত।
তাই শয়তানের প্রভু আমায় বলেছে তোমাকে মেরে, তোমার
ভিতরের হৃদপিন্ডটা যদি আরেকটা মেয়েকে অবচেতন করে তার
হৃদপিন্ড বরাবর রেখে পূর্ণিমা রাতে
সাধনা করি, তাহলে আমি অমর হয়ে যাব অমর। হা হা হা হা।
তাই তোমাকে আমার বেশি দরকার। এই দাঁড়িয়ে দেখছিস কি
ওকে বেধেঁ ফেল।
(আশার কথা শুনে সাথে সাথে সবাই ইশারার দিকে আসতে
লাগল। ইশারা কি করবে কিছুই বুঝতে পারছেনা, কিন্তু এই
মুহূর্তে
কিছু একটা করতে হবে। ওড়নাটাকে হাতের
কব্জিতে পেঁচিয়ে, পাথর গুলো দিয়ে
সবাইকে আঘাত করতে লাগল সে। জানে, বেশিক্ষণ টিকে থাকতে
পারবেনা, ,তাই আরেকটা বুদ্ধি খাটাতে লাগল। হঠাৎ চোখ পড়ল
টেবিলের উপর থাকা রঙের প্লেটের উপর। কিন্তু ওখানে
পৌঁছাবে কি করে। বৃষ্টির পানিতে ছাদ স্যাঁতসেঁতে আর
পিছলা হয়ে গেছিল।তাই মারামারির এক পর্যায়ে নিজেই নিজের
পায়ের জুতো খুলে খালি পায়ে একটা পিছল খেতেই তার
গন্ত্যব্যে পৌঁছে গেল।
আর এক মিনিট ও সময় না নিয়ে সবার চোখে এক এক করে
রঙ মারতে লাগল। ওরা যখন চোখের রঙ মুছতে ব্যস্ত তখন
ওদের কাছে থাকা মোটা লাঠি গুলো নিয়ে ওদেরই মারতে
লাগল। অনেকে দিশেহারা হয়ে ছাদ থেকেও পড়ে গেল।
শয়তানিটাকে দু'একবার মাথায় আঘাত করতেই অজ্ঞান হয়ে
পড়ে গেল। আস্তে আস্তে সবাইকে দমিয়ে দিল সে।
হঠাৎ আওয়াজ হতেই পেছনে ফিরে দেখে একটা ছেলে উঠে
ছাদের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে। আস্তে আস্তে লাঠিটা নিয়ে
ওর পিছনে গেল ইশারা, যেই আঘাত করবে, সামনে ফিরে দেখতে
পেয়েই হাত ধরে ফেলল সে ইশারার।
-প্লিজ আমাকে মারবেননা। আমি তোমার বন্ধুর মত, আমার
নাম রাফি, সকালে নকশাটা আমিই তোমাকে পাঠিয়েছিলাম।
এখন আমি তোমাকে সাহায্য করতে চাই।
(কথাগুলো একদমে বলেই থামল ছেলেটা। তারপর ইশারার হাত
ছেড়ে দিল।)
-আপনি, তাহলে এতক্ষণ কোথায় ছিলেন!!! আর আপনি
এখানে কি করে?
-আমি একজন সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা। ওদের দলের
সাথে
থেকে আমি ওদের পুরো টিমটাকে হাতের মুঠোয় এনেছি।
-কি বলছেন? তাহলে আপনি'ই ওকে বাচাঁতে পারতেন। আমাকে
বলার কি দরকার ছিল।
-আসলে ঐ আশার মুখে তোমার এত কথা শুনেছি যে তোমাকে
একবার দেখার খুব ইচ্ছে ছিল। আর দেখেই বুঝতে পারলাম
সাধারণের মাঝেও অনেক অসাধারণতা লুকিয়ে থাকে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now