বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(দ্বিতীয় পর্বের
পর থেকে)
পরদিন ঘড়ির
আলার্ম শুনে ঘুম
ভাঙ্গলো।
নিজেকে বাথরুমের
ফ্লোরে আবিষ্কার
করলাম। মাথাটা
খানিকটা কেটে
গিয়ে
রক্ত বেরিয়ে
জমাট বেধে আছে।
টলমল
পায়ে উঠে ভয়ে ভয়ে
আয়নার দিকে
তাকালাম। এবার
সবকিছু ঠিকঠাক।
প্রতিবিম্বে
আমিই আছি।
বাথরুম থেকে
বেরিয়ে নাস্তা
সেরে অফিসে
গেলাম।
অফিসের
সহকর্মীদের
কপালের আঘাতের
ব্যাপারে কিছুই
বললাম নাহ। শুধু
বললাম
পড়ে গিয়ে ব্যাথা
পেয়েছি। ওরা
নিজনিজ
কাজেই ব্যস্ত হয়ে
গেল। সেদিন অফিস
শেষে বাড়ি ফিরে
কাপড় চোপড়
গোছগাছ
করতে শুরু করে
দিলাম। আমি আর
এ
কটেজে থাকব নাহ।
আর যাওয়ার আগে
আলেসের
ডাইরিটাকে পুড়িয়ে
দিয়ে যাব।
হয়তো এটাই ওর
মুক্তির শেষ পথ।
আমার
ক্লজিটের সকল
কাপড় লাগেজে পুরে
নিলাম। তারপর
লাইব্রেরিতে
গেলাম
আলেসের ডাইরিটা
নিতে।
লাইব্রেরীতে
ঢুকা মাত্র
লাইব্রেরীর দরজা
বন্ধ হয়ে
গেল। আমি সভয়ে
দরজা ধাক্কাতে
শুরু
করলাম। কিছুক্ষণ
পরেই দরজার ঠিক
ওপাশ থেকে এক
আর্তচিৎকার
ভেসে এলো।
এবার আমি ভয়ে
কাঠ হয়ে গেলাম।
তারপর
সারা বাড়িতে যেন
প্রলয় শুরু হল।
জিনিসপত্র
ভাঙ্গার আওয়াজ,
কান্নার
বিলাপ, দেয়ালে
আঁচড় কাটা, আরো
বিভিন্ন
রকমের শব্দ। এক
সময় আমি অসহ্য
হয়ে
চিৎকার করে
বললাম, "আলেস,
তুমি কি
আমায় মেরে
ফেলতে চাও? "
খানিক পরেই
দরজায় লেখা
উঠলো, "নাহ, চলে
যেও নাহ।
আমায় সাহায্য কর
বন্ধু। " অতঃপর
দরজা
খুলে গেল। আমি
দৌড়ে আমার রুমে
গেলাম। যেভাবে
ভাঙ্গচুরের শব্দ
শুনেছিলাম তাতে
অনুমান করেছি
আমার রুমের
কিছুই অবশিষ্ট
নেই। কিন্তু রুমে
ঢুকে
দেখলাম সবকিছুই
স্বাভাবিক ও
সাজানো
গোছানো। তারপর
বিছানায় বসে
কাঁদতে
লাগলাম। আমি
জানিনা আলেস
কে। ওর
উপর হওয়া
নির্যাতন আমাকে
ব্যথিত
করে। কিন্তু তার
মানে এই নয় যে
আমি
আমার কটেজে
একটা অশরীরীর
উপস্থিতি
মেনে নেব। একটা
সময় কাঁদতে
কাঁদতেই
ঘুমিয়ে পড়লাম।
রাতে একটা অদ্ভুত
স্বপ্ন
দেখলাম। আয়নায়
দেখা বিম্বের সেই
মেয়েটি আমার
পায়ের কাছে পড়ে
কাঁদছে।
তার মুখ কালো
কাপড়ে বাধা। সে
কিছু
বলতে চাইছে,
কিন্তু মুখে কাপড়
থাকার
কারণে পারছে নাহ।
এক সময় সে তার
কটিবস্ত্রের মধ্য
থেকে সেই
বাইবেলটা বের
করে আমার হাতে
ধরিয়ে দিল।
তারপর ঘুরে
চলে গেল।
মাঝরাতে স্বপ্নটা
দেখে আমার
ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঘুম
থেকে উঠে দুগ্লাস
পানি খেলাম।
তারপর ফ্রিজ
থেকে
দুটুকরো স্যান্ডুইচ
খেয়ে রওনা হলাম
লাইব্রেরী পানে।
রহস্যের সব জট
এখন ঐ
বাইবেলের দিকে
ইঙ্গিত করছে
যাতে লেখা
আছে আলেসের
ডায়ারী।
লাইব্রেরীতে
গিয়ে ওটা বের করে
আবার আলেসের
লেখা
পড়তে শুরু করলাম।
"আজ সকালে
রক্ষীরা আমাদের
খাবারের
সাথে সাথে
মার্টিনীর জন্যে
দুই প্রস্থ
কাপড়ও দিয়ে গেল।
ও যখন কাপড়
পরছিল
তখন আমার হৃদয়ে
হতাশা মোচড় দিয়ে
উঠলো! ওর নিজের
কাপড় আছে। এখন
থেকে ও হয়তো
আমার কোলে
ঘুমুতে চাইবে
নাহ। কিন্তু
পরক্ষণে সে হতাশা
উবে
গেল। নীল কাপড়ে
ওকে রাজকুমারীর
মত
লাগছে। আমি ওর
উপর থেকে চোখ
ফিরাতে
পারছিলাম নাহ।
ব্যাপারটা ওর নজর
এড়ালো নাহ। ও মৃদু
হেসে জিজ্ঞাস
করলো
কেমন লাগছে ওকে।
আমি শুধু একটা
কথাই
বলতে পারলাম,
অসাধারণ। ও
আমাকে অবাক
করে দিয়ে আজ
রাতে আমার
কোলেই শুয়ে
পড়লো! তবে কি
সেও আমাকে
ভালবাসে?
নাকি এটা নিছক
একত্রে ভাল
থাকার
অভিনয়। মেয়েটা
ঘুমিয়ে আছে
ঠিকই
কিন্তু ও দ্রুত
শ্বাস নিচ্ছে।
আমার বুকে ও
বারবার মুখ ঘসছে।
মনে হচ্ছে যেন
ভালবাসার শেষ
আশ্রয় খুঁজছে। "
এই পৃষ্ঠাটা পড়তে
পড়তে আমি
লজ্জায় লাল
হয়ে উঠলাম। এই
মেয়ে দুটো প্রমাণ
করে
গেছে, ভালবাসা
স্থান, কাল, উঁচু
নীচু, জাত
ভেদ, বর্ণ লীঙ্গ
ভেদাভেদ মানে
নাহ।
ভালবাসা
ভালবাসাই। পৃষ্ঠা
উল্টে পরের
পাতায় গেলাম।
" কাল এক
স্বপ্নময় রাত
কাটিয়েছি আমি
আর মার্টিনী।
ওকে এভাবে কাছে
পাবো
কখনোই কল্পনা
করিনি। এই
মেয়েটা শুধু
দেখতেই সুন্দরি না,
বিছানায়ও
অসাধারণ।
ঈশ্বরের অমায়িক
সৃষ্টি। হে স্রষ্টা
আমায়
ক্ষমা কর । আমার
হেন পাপ মোচন কর।
কিন্তু আমার
পাপের শাস্তি তুমি
মার্টিনীকে
দিওনা কভু। দরকার
হলে ওর
মৃত্যুদ্যুতকে
আমার কাছে
পাঠিয়ে দাও তবুও
ওকে এই নরক
থেকে উদ্ধার কর
প্রভু। আমেন।"
তার পরদিন ও
লিখেছে,
"আজ ধরে আনার ৭
দিন পর ওরা
আমাকে আর
মার্টিনীকে একটা
ছোট্ট পুকুরে নিয়ে
যায়
গোসল করাতে।
যাহোক ওরা একদম
নির্দয়
নয়। পুকুরের উষ্ম
প্রস্রবণে গা
ডুবিয়ে
দিতেই চাবুকের
ক্ষতগুলিতে
অসহ্য
জ্বালাপোড়া শুরু
হয়েছিল। কিন্তু
মনটা
এক অদ্ভুত
প্রশান্তিতে ভরে
গিয়েছিল।
আমি আর
মার্টিনী জল
ছিটানোর খেলায়
মেতে উঠলাম।
কিন্তু বেরসিক
রক্ষীদের
তা পছন্দ হল নাহ।
একটা নেতা গোছের
রক্ষী এসে আমার
আর মার্টিনীর
দিকে পাথর
ছুড়ে মারতে লাগল।
আমি নীচু হয়ে
যাওয়ায়
পাথরের আঘাত
থেকে রক্ষা পেলাম
কিন্তু
বেচারি মার্টিনীর
আহত মাথায়
আবারো
একটা পাথরের
আঘাত লাগল! আমি
আর সহ্য
করতে পারলাম না।
এরা আমার সামনে
আমার প্রিয়াকে
আঘাত করতে পারে
নাহ।
আমি ওদের
চিৎকার করে
অভিশাপ দিলাম
যেন সে শীঘ্রই
নরকে প্রবেশ
করে। আমার
অভিশাপ শুনে ঐ
রক্ষী সভয়ে
পিছিয়ে
গেল। ওরা আমাকে
ডাইনি ভাবে। তাই
আমার অভিশাপকে
ভয় পেয়েছে।
নিজেকে
একটু হলেও
ক্ষমতাবান মনে
হল।
মার্টিনীকে আর
আমাকে আবার
সেলে ঢুকিয়ে
দেওয়া হল। প্রভু
তোমায় অসংখ্য
ধন্যবাদ। আজকের
এই চমৎকার দিনের
জন্যে। "
এই পৃষ্ঠা পড়া শেষ
হওয়ার সাথে সাথেই
আবার লাইব্রেরীর
দরজা সশব্দে বন্ধ
হল।
আর ধুলোর মধ্যে
লেখা ফুটলো,
আলেস
+মার্টিনী। এই
প্রথম আমি
আলেসের
ডায়রি পড়ে
হাসলাম। মেয়ে দুটো
এত্তসবের মাঝেও
প্রেমে পড়েছিল
আর
জেলখানায় চুটিয়ে
প্রেম করছিল।
বন্ধ
দরজার ওপাশ থেকে
তখনই খিলখিল
হাসির
শব্দ ভেসে এলো।
আমিও সে হাসিতে
যোগ
দিলাম। আলেসের
প্রতি আমার ভয়
ভীতি
সবকিছুই কেটে
গেল। নিঃসঙ্গ
কর্টেজে
এমন একজন
সঙ্গিনী পাওয়া
মন্দ কি? হোক
না সে অশরীরী।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now