বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমরা ডুবে গেলাম অন্ধকারে।এখন আমাদের সাথে ঘরে আছে পিঠ বাদে বাকি শরীরের চামড়া ছিলানো একটা পরিচিত মৃতদেহ যে এতদিন এখানেই বাস করত।
দুজনের মধ্যে ভয় আবার ফিরে এসেছে।দুজন খাটের উপর পাশাপাশি বসে আছি।ঘরের মধ্যে আহ উহ করতে করতে হামিদ ভাই হাটাহাটি করছে।একসময় তার পরিচিত গলা পা্ওয়া গেল "বড় যন্ত্রণা।ছোটভাই বড় যন্ত্রণা শরীর জুড়ে।একটু পানি খাওয়াতে পারেন? "
আমাদের মুখ থেকে কথা বের হয় না।
"ওহ হো,বাইরের বাতাস শরীরে লাগলেও জ্বলে যাচ্ছে।পুড়ে যাচ্ছে গোটা শরীর।ওহ!!" হামিদ ভাই এর গলা দিয়ে একজাতীয় জান্তব আওয়াজ বের হয়।
"ছোটভাই চামড়া দিতে পারেন?ওহ অসহ্য যন্ত্রণা"
হাসান বলে উঠে "তুমি হাসান ভাই নও।তুমি আমাদের চোখের ভুল।কাজ করতে করতে আমাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।"
ঘরের কোণা থেকে অতিকষ্টে হাসির শব্দ ভেসে আসে।এই হাসি আমরা চিনি।হামিদ ভাই এর হাসি।
হামিদ ভাই টেনে টেনে অতিকষ্টে বলে "লাশকাটা ঘরের ট্রলির উপর আমি ছিলাম।ঘুমানোর আগে ট্রলির চাকায় ইট দিয়ে রেখেছিলাম যাতে না নড়ে"
হঠাৎ আমার ইটের কথা মনে পরলো।আমি বললাম "ইট গুলো আমি দেখেছি।"
হামিদ ভাই টেনে টেনে বলতে থাকে "লাশ না পেয়ে তাড়াতাড়ি মেডিকেলে ফিরে আসি।কোন কাজ না থাকায় মর্গে ঢুকে আমার ট্রলিতে শুয়ে পরি।চোখে আলো লাগছিলো দেখে সাদা চাদরে মুরি দেই।ঘুমিয়ে পরি।আর ঐ মরা ট্রলিতে ঘুমালে আমার যেন কি হয়,ঠিক মরার মত হয়ে যাই।সকালে আবার ঠিক হয়ে যায়।আজ ওখানে ঘুমানোর কথা না আমার।কিন্তু ঘুমিয়ে গেছিলাম।মড়ার ঘুম।ঘুম ভাঙতেই দেখি আমি এই অন্ধকার ঘরে।শরীরে অসহনীয় ব্যাথা।কিছু বুঝে উঠার আগে জানলা দিয়ে লাফিয়ে পড়ি।বৃষ্টির ফোটা চামড়া ছিলা গায়ে পরতেই ব্যাথা আরো বেড়ে গেলো।আবার ফিরে এলাম পানি খাবো বলে।"
আমি ঢোক গিলে কোনমতে বললাম "হামিদ ভাই আমার টেবিলে জগ আছে।নিয়ে খাও"
অন্ধকারে কিছু সরে যেতে থাকে।পা টেনে টেনে হাটার শব্দ হয়।তারপর পানি খাওয়ার শব্দ।
পানি খাওয়া শেষ হলে তৃপ্তির শ্বাস নিয়ে বলে "ছোটভাই আমার চামড়াটা আমারে দিয়া দেন।চামড়া ছাড়া বড় কষ্ট।"
তারপর অন্ধকারে ছায়ামূর্তিটা কিছু খুজতে থাকে।এঘর থেকে ওঘর করতে থাকে।
একসময় বৃষ্টি থামে।আবার বিদুৎ চমকের আলোতে আমরা দেখি চামড়াবিহীন মূর্তিটা জানলা দিয়ে "বড় কষ্ট বলে লাফ দেয়"।তার হাতে কি যেন ধরা।
এই সময় ফজরের আযান দেয়।ইলেকট্রিসিটি চলে আসে।ঘরের মধ্যে তাকিয়ে দেখি গোটা ঘর বিধ্বস্ত।তন্নতন্ন করে কিছু খুজেছে কেউ।এখানে ওখানে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ।আমি উঠে যেখানে ছাড়ানো চামড়া রেখেছিলাম সেই বাস্কেটের মধ্যে উকি দেই।কিছু নেই।কেউ সব কুড়িয়ে নিয়ে গেছে।
হাসান উঠে ক্যামেরার ব্যাটারি চার্জ দিয়ে ভিডিওকৃত অংশ দেখে।
পুরা রিল ফাকা।কিছুই উঠেনি তাতে।
তারপর থেকে হামিদ ভাই কেও আর দেখে যায় নাই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now