বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনীশ দাশ অপু আমার অনেক প্রিয় একজন হরর লেখক।উনার সম্পাদিত মৃত্য-পুতুল ব্ই এর প্রিন্স আশরাফ রচিত ভয় নামক এই গল্পটি আমার অনেক ভাল লেগেছিল তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম এইখানে।গল্পটি যেমন ছিলো পুরাপুরি তাই তুলে ধরছি....
আগেরদিনে গ্রামে যাদের টাকা পয়সা ছিলো বা হতো তারা হজ্জে যেতো।এখন অবস্থা বদলেছে।এখন গ্রামের টাকাওয়ালা লোক হজ্জে না যেয়ে সেই টাকায় ছেলেমেয়েদেরকে শহরের বেসরকারি ভার্সিটি বা মেডিকেলে ভর্তি করায়।
আমার বাবা অবশ্য দুটোই করেছেন।তার টাকা পয়সার অভাব নেই।ইউনিয়ন পরিশোধের চেয়ারম্যান তিনি।তাছাড়া ৩০০ বিঘার লীজ-ঘের আছে আমাদের।কাজেই ১০-১২ লাখ টাকা দিয়ে ছেলেকে বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি করানো এবং মাকে নিয়ে হজ্জে যাওয়া বাবার কাছে কোন ব্যাপার ই না।
বাবা হজ্জ থেকে আসার পর গ্রামের ছোট ছোট অনেক পরিবর্তন হয়েছে।ভাড়ায় ভিসিআর দেখানোর দোকানগুলো উঠে গেছে।বন্ধ হয়েছে দোকানের পিছনের ফেন্সিডিল ও গাজার পুরিয়া বেচা।আমার অবশ্য সমস্যা নেই।চেয়ারম্যানের ছেলে হওয়ার আমার সাপ্লাই সময়মত চলে আসে।
আর কয়দিন পরেই মেডিকেলে পড়তে যাবো বিধায় যা খাওয়ার এখন খেয়ে নিচ্ছি।ডাইল খাওয়ার জন্য সন্ধার পর ঘেরের সবচেয়ে দূরের কুড়েঁ ঘরে এসেছি।সঙ্গে আছে বন্ধুস্থানীয় বাবুল আর ঘেরের দুই পাহারাদার।ডাইল খেলে মাতাল হয় না কেউ,ঝিম মেরে বসে থাকতে হয়।আমরাও ঝিম মেরে বসে আছি।হঠাৎ একটা জিনিস মনে পরলো।আমি মাথা তুলে কারো দিকে না তাকিয়ে বললাম,"আমার একটা লাশ দরকার"
বাবুল চমকে উঠলো।আর ঘেরের পাহারাদার হামিদ বললো "ছোটোভাই,কন কার লাশ ফেলে দিতে হবে।আপনি খালি কন"
আমি মাথা ঝাকিয়ে বললাম "নির্দিষ্ট কারো না।যে কোনো মরা লাশ হলেই হবে।ডাক্তারি পরতে লাশ লাগে।লাশের হাড়গোড় লাগে।ঢাকা শহরে দশ বারো হাজার টাকা লাগে হাড় পেতে।তা্ই ভাবলাম যদি গ্রাম থেকে নিয়ে যাওয়া যায়। "
হামিদ ভাই আগের মত খসখসে গলায় বললো "কি কন ছোটভাই?হাড়ের দাম দশ হাজার টাকা?তাইলে তো প্রত্যেকদিন একটা করে লাশ নিয়ে ঢাকায় বেচে দিলে হয়।শুধু টাকা আর টাকা।"
"যেরকম ভাবছ তেমন সোজা না,ঝামেলা আছে"
ইয়াসিনের মাথা মোটামুটি ঠান্ডা,সে ভেবে বললো "ছোটভাই কবর দেয়া লাশ হলে চলবে?"
"কদিন আগে কবর দেয়া?শুনেছি বেশি আগে কবর দেয়া হলে সেই হাড়ে মাটি লেগে যায়।ঐ হাড় হবে না।"
ইয়াসিন হাত গুনে বললো "দুইদিন আগের"
"চলবে যদি হাড় ফ্রেশ থাকে"
"ফ্রেশ থাকতে পারে।যুবতি বউ তো,তারপর আবার বিষ খাওয়া লাশ।"
হামিদ ওপাশ থেকে বলে "কার কথা কও ইয়াসিন ভাই?"
"কেন বাগদি পাড়ার সন্নাসির বউ।এনড্রিন খেয়ে মরলো না।
আমি অবাক গলায় বললাম "বাগদিরা লাশ পোড়ায় না নাকি?"
ইয়াসিন বললো "মনে হয় না।পোড়াতে অনেক খরচ।ওদের এত টাকা কই?তারপর বিষ খাওয়া।পা ভেঙে সোজা মাটিতে পুতে ফেলে।"
"বাগদি ব্উ এর লাশ ই যদি হয় তাহলে আজ তুলে ফেলা ভালো।৩দিন হয়ে গেলে আমার আর কাজে লাগবে না"
"তাহলে আজই লাশ তুলে ফেলি"
হামিদ বললো "সবাই ঘুমিয়ে পরলে রাত একটু বাড়লে বের হই।আজ রাতটা বেশ ভালো।"
ঘেরের মধ্যেই সব জোগাড় হয়ে গেলো।কোদাল,শাবল আর লাশ বয়ে আনার জন্য বস্তা।
ইয়াসিন ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম "চুন আছে নাকি?"
"কতটুকু?"
"এই বস্তা খানেক"
"তা হবে।কিন্তু কি করবেন?"
"চুনগোলা পানিতে লাশ ফেলে ফুটালে হাড়ের গা থেকে সহজে মাংস ছাড়িয়ে যায় শুনেছি।"
বাবুল বলে উঠল "গন্ধ হবে না?"
"তা হয়তো হবে।কিন্তু ঘেরের এই ফাকা জায়গায় গন্ধ হলেই বা পাবে কে আমরা ছাড়া।আশে পাশে তো কোনো ঘর বাড়ি নাই"
রাতের খাবার খেয়ে সব গুছিয়ে উঠতে এগারোটা বাজলো।আমরা ৩ জন রওনা দিলাম।ঘের পাহারা দিতে হামিদ থেকে গেল।অবশ্য সে বস্তার চুন বড় পাত্রে ঢেলে পানি দিয়ে ফুটাতে থাকবে যাতে আমরা এসেই ওতে লাশ ছেড়ে দিতে পারি।
ঠান্ডা বাতাস ছেড়েছে।তার মধ্যে টর্চের আলো ফেলে বাগদি পাড়ায় পৌছাতে বারোটা ছাড়িয়ে গেল।বাবুলের চোখ শকুনের চোখ।সে এই অন্ধকারেই ঠিকই বাগদি বউ এর কবর খুজে বের করলো।আমি টর্চ জালিয়ে ধরলাম,ইয়াসিন ভাই কোদাল দিয়ে মাটি খুড়তে লাগল আর বাবুল হাত দিয়ে মাটি সরিয়ে রাখতে শুরু করলো।
বাবুলের চোখ সত্যিই শকুনের চোখ।এই অন্ধকারেও সে বলে দিলো "ইয়াসিন ভাই তাড়াতাড়ি হাত লাগান।ওয়াপদার রাস্তা দিয়ে কেউ এই দিকে আসছে মনে হয়।"
শুনে ভয়ে আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল,যদি ধরা পরে যা্ই।
কবরের মধ্যে ওটাকে কফিন না বলে বাক্স বলা ভাল।তার মধ্যে কেবল পচন ধরেছে বাগদি বউ এর লাশে।ওরা দুজনে ধরাধরি করে লাশ বস্তায় ভরে মুখ বন্ধ করে ফেলে।
বস্তা নিয়ে রাস্তায় উঠতেই বাবুলের দেখা আগন্তুকের সাথে দেখা হলো।
ইয়াসিন ভাই চড়া গলা্য় বললো "কে যায় এত রাতে?"
কাচুমাচু কন্ঠে জবাব পাওয়া গেলো "আমি বাগদি পাড়ার সন্নাসি"
"এত রাত বিরাতে ঐদিকে কই যাস?"
"কবরখানার দিকে।মনে হলো কারা যেন আছে কবরখানায়।আমার বউডার তো আবার ২দিন হলো কবর দে্য়া।"
"যা দেখে আয়।একা একা ভয় পাসনে"
সন্নাসি সাহস করে বলে উঠে "আপনারা কনে যান?"
"আমরা তো ঘেরের জন্য চুন আনতে গেছিলাম।এই বস্তা করে চুন নিয়ে যাচ্ছি।তুই যা।আমাদেরও দেরি হয়ে যাচ্ছে "
যাক একটা ফাঁড়া তো কাটলো।তারপর চুনের পানিতে লাশ জাল দিয়ে ফ্রেশ হাড় নিয়ে বাড়ি ফিরেই ঘুম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now