বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক
নতুন বাসাটি তুবার ভীষণ পছন্দ হয়েছে, ঠিক যেমনটি বিয়ের আগে আবরারের কাছে চেয়েছিল। দুই রুমের ফ্ল্যাট। একটা ডাইনিং। একটা কিচেন। বাথ। দুটো রুমের সঙ্গেই ছোট্ট বারান্দা থাকবে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে খোলা আকাশ দেখা যাবে। দেখা যাবে সবুজ গাছ-পালা। শোনা যাবে কল-কাকলি। জেলা সদরে অনেক খুঁজেও এমন বাসাটি মেলাতে পারছিল না আবরার। অবশেষে স্বপ্নের সেই বাসার সন্ধান পেল সে। বাড়ির মালিক যা দাবি করলেন, কথা না বাড়িয়ে সেই ভাড়ায় নতুন বাসায় উঠে গেল তুবা-আবরার দম্পতি।
ফ্ল্যাটের পশ্চিম পাশের রুমের ৩০ গজ সামনে বেশ বড় একটা পুকুর রয়েছে। পুকুরের শান বাঁধানো ঘাটটি সারাদিনই ব্যস্ত থাকে। কখনো কখনো গভীর রাত পর্যন্তও! শেষ বিকেলে বারান্দায় আরাম কেদারায় বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে পুকুর-ঘাটের দৃশ্যগুলো দেখা তুবা এবং আবরারের প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে বসেই সূর্যাস্ত দেখে তারা। এমনকি সূর্য ডুবে যাওয়ার পরও অনেকক্ষণ সেখানে বসে থাকাটা তুবার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
রাতে চাঁদের আলো যখন ঠিকরে পরে পুকুরে, মৃদু বাতাসে পুকুরের পানিতে ছোট ছোট ঢেউ খেলে যায়। চাঁদের আলো পিঠে চড়িয়ে ছোট ছোট ঢেউগুলো যেন তাদের বাসার দিকে এসে মিলিয়ে যায়। অনেকক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে থাকলে মনে হয় যেন তাদের ফ্ল্যাটটা ঢেউ ভেঙে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চাঁদনি রাতে পুকুরের এমন দৃশ্য ভীষণ পছন্দ তুবার। গভীর রাতেও বারান্দায় দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে তুবা।
দুই
কয়েকদিন ধরে আবরার একটি বিষয় লক্ষ্য করছে। প্রতিদিন ঠিক রাত পৌনে একটায় পুকুর ঘাটে কে যেন জোরে জোরে কাপড় কাচে। ভেজা কাপড় দিয়ে জোরে পানির ওপর আঘাত করে। সেই শব্দ প্রতিধ্বনি তুলে ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। বিষয়টা সে তুবার সঙ্গে শেয়ার করেনি। কারণ, তুবা খুবই ভীতু। বিশেষ করে ভূতুড়ে ব্যাপারগুলোতে। কিন্তু তুবার সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করার জন্য আবরার বেশ কিছুদিন ধরেই উসখুস করছিল। আজ ঘুমানোর আগে তুবাকে জানায় আবরার। শুনে তুবা বিস্মিত হয়ে বলে, এমন কিছু তার কখনও চোখে পড়েনি। পরদিন দু’জনেই রাত পৌনে একটার আগেই বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায় এবং আবিষ্কার করে ঠিক সে সময় কাপড় কাচার জোরালো শব্দ। তুবা ভয় পেয়ে জড়িয়ে ধরে আবরারকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আবরার বলে, এমন সময় কারো গোসল করতে আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। যারা অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করে বাসায় ফেরেন, তারা এতো রাতে গোসল করতেই পারেন।
পরদিন সকালে আবরার পুকুর ঘাটের পাশের খুপড়ি ঘরে থাকা বুড়িমার কাছে বিষয়টা জানতে যায়। কিন্তু সেদিন তাকে সে পায় না। যথারীতি পরদিনও সে যায়। এদিনও ওই খুপড়ি ঘরে সে কাউকে দেখতে পায় না। এভাবে বেশ কয়েকদিন সকালে গিয়েও সে ব্যর্থ হয়। অবশেষে একদিন সন্ধ্যায় খুপড়ি ঘরে কুপি জ্বলতে দেখে আবরার বাসা থেকে বের হয়। গিয়ে দেখে বুড়ি পুটি মাছ দিয়ে পুঁইশাক রান্না করছে।
আবরার বুড়িমাকে তার পরিচয় দেয়। সে যে ফ্ল্যাটে থাকে আঙুল তুলে সেদিকটাও দেখায়। এমনকি পুকুরটা যে তাদের ভীষণ পছন্দ এ কথাও বলে। কিন্তু বুড়ি আবরারের কোনো কথারই জবাব দেয় না। আবরারের অশ্বস্তি হতে শুরু করে। সেই অশ্বস্তি কাটিয়ে ওঠার জন্য পুনরায় বলে, আপনার সঙ্গে আর কে থাকে এখানে?
একবার, দু’বার একই কথা জিজ্ঞেস করেও আবরার সাড়া পায় না। এবার সে আসল প্রশ্নটি করে- আচ্ছা, আপনি কি রাতে ঘাটে জোরে জোরে শব্দ করে কাপড় কাচেন?
এবার বুড়ি আবরারের দিকে ফিরে তাকায়। তার চোখে স্পষ্ট রাগ যেন মহা অন্যায় কিছু বলে ফেলেছে সে। বুড়ি কটমট করে আবরারের দিকে তাকিয়ে থাকে অপলক।
আবরার পরিস্থিতি সামাল দিতে নিচু স্বরে বলে, না, মানে প্রতিদিন রাতে আমরা ওই বাসা থেকে শব্দ পাই সে কারণেই বলছিলাম। কিন্তু এরপর আর কথা বাড়ায় না সে। উত্তর না পেয়ে ফিরে আসে চুপচাপ।
সেদিন রাতে আবরার আরো জোরো জোরো কাপড় কাচার শব্দ শুনতে পায়। এই শব্দ তাদের দুজনের আনন্দময় সময় নিরানন্দে পরিণত করছে। ধীরে ধীরে সুখের সময়টাকে বিষিয়ে তুলছে। সন্ধ্যা নামার পর পরই যেন আনন্দময় ঘরটাতে ভূতুড়ে অবস্থা ভর করে। এর রেশ থাকে তাদের দু’চোখে ঘুম নামার আগ পর্যন্ত। ভয়ে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারে না তুবা। একটু পর পরই তার ঘুম ভেঙে যায়। দিন দিন পরিস্থিতি খারাপ হতে লাগল। এরই মধ্যে আবরারের শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে পরায় তুবাকে তার বাবার বাড়ি দিয়ে আসে সে।
তিন
সেদিন অফিস থেকে ফিরতে ফিরতে বেশ রাত হয়ে যায় আবরারের। আসার পথে আবারো সে বুড়িমার খুপড়িতে ঢুঁ মারে। কিন্তু কেউ নেই সেখানে। শূন্য খুপড়ি ঘরটার মধ্যে যেন আরো বেশি অন্ধকার ঘাপটি মেরে আছে। সেখান থেকে সে বাসার দিকে রওয়ানা দেয়। ভয়ে ভয়ে এক-একটা সিঁড়ি পার করে উঠতে থাকে। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তালা খুলে ফ্ল্যাটের মধ্যে পা রাখতেই নাকে এসে গন্ধটা লাগে। মনে মনে আবরার তুবার ওপর একটু বিরক্ত হয়। নিশ্চয়ই সে ভুলে মাছের পোটলাটা ফ্রিজে না রেখে বাইরে রেখে গিয়েছে। সেই পঁচা মাছের গন্ধ এখন ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। সুইচ টিপে বাতি জ্বালায় আবরার। তারপর সে ডাইনিং রুমে যায়। কিন্তু কোথাও কিছু রেখে যায়নি তুবা। সবকিছু সাজানো গোছানো দেখে সে বেশ অবাক হয়।
ফ্রেশ হয়ে রিডিং টেবিলে এসে বসে আবরার। এমন সময় টেবিলের উপর ৫০ টাকার একটি ভেজা নোট দেখতে পায় সে। এবারও তুবার ওপর একটু রাগ হয় তার- তুবা এত ভুলোমনা! টাকাটা খোলা জায়গায় না রেখে ড্রয়ারে রাখলেই হতো। পরক্ষণেই তার মনে হয়, টাকাটা ভিজল কীভাবে? বেশ কয়েকদিন ধরে তো বৃষ্টির বালাই নেই! বিষয়টা নিয়ে চিন্তা না বাড়িয়ে রাতের খাবার তৈরি করতে যায় আবরার। রান্না করে খেয়ে রাত সাড়ে দশটার দিকেই সে ঘুমিয়ে পরে। হঠাৎ তার ঘুম ভাঙে সেই কাপড় কাচার শব্দে। অন্ধকার রুমে একা একা ভীষণ ভয় পায় সে। বালিশের নিচে মোবাইলটা রাখা ছিল- অনেক্ষণ হাতড়িয়েও সে ওটা খুঁজে পেল না।
বিছানা থেকে উঠে গিয়ে লাইটটা অন করে আবরার। ততক্ষণে কাপার কাচার শব্দ অবশ্য মিলিয়ে গেছে। এরপর আর কিছুতেই ঘুম এলো না আবরারের। অনেকক্ষণ এপাশ-ওপাশ করে লাইট জ্বালিয়েই ঘুমিয়ে পড়ে সে। সকালে যথারীতি অফিসে চলে যায়। সন্ধ্যায় ফিরে আজও সে টেবিলের উপর ১০০ টাকার ভেজা নোট পায়। বিষয়টি নিয়ে আবরার এবার সিরিয়াস হয়। তুবাকে বিষয়টা ফোনে জানায়। তুবাও বেশ ভয় পেয়ে যায় ঘটনা শুনে। পরদিনও ৫০ টাকার একটি ভেজা নোট পাওয়া যায় টেবিলের ওপরে। এভাবে নিয়ম করেই সে টাকা পেতে থাকে। আবরার এই টাকাগুলো টেবিলের ড্রয়ারে সযত্নে রেখে দেয়। খরচ করার সাহস পায় না।
চার
আজ অফিস থেকে ফিরে আবরার আর বাসায় ঢোকেনি। সোজা পুকুর পাড়ে গিয়ে কংক্রিটের বড় চেয়ারের এক কোণে বসে থাকে। হরেক-রকম মানুষের আনাগোনা দেখে। গোসলের দৃশ্য। গলা পানিতে নেমে শিশুদের হইহুল্লোর দেখে সে তারে শৈশবে ফিরে যায়। এক সময় সন্ধ্যা নেমে আসে। আস্তে আস্তে পুকুর ঘাটে নেমে আসে নির্জনতা। এরপর দিগন্তজুড়ে অন্ধকার নামে। পুকুরের পানির আদ্রতা গায়ে মেখে মৃদুমন্দ শীতল বাতাস বয়ে যায়। যার পরশ আবরারের ক্লান্ত শরীরটাকে বেশ প্রশান্তি এনে দেয়। কখন যে তার চোখ দুটো বুজে আসে টেরই পায় না সে। কংক্রিটের চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সে।
হঠাৎ বুড়ির কান্নার শব্দে ঘুম ভাঙে আবরারের। চোখ খুলে দেখে চারদিকে অন্ধকার। শুধু বুড়ির খুপড়ি ঘরে কুপি জ্বলছে। আর এক কোণে বসে কেঁদেই চলছে সে। আবরার এগিয়ে যায়। অনেকক্ষণ বুড়ির খুপড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। আস্তে আস্তে কান্নার তীব্রতা কমে আসে। কিছুক্ষণ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে বুড়ি। এক সময় মিলিয়ে যায় সবকিছু। বাতাসের তোড়ে হেলেদুলে জ্বলা কুপিটা নিভে যায় সহসা। আবরার হাঁটতে শুরু করে বাসার দিকে। হঠাৎ বাইরে রাখা বুড়ির খালি বদনাটা আবরারের পায়ে লেগে ছিকটে দূরে গিয়ে পড়ে। খানিকটা শব্দ হয়। খুপড়ি থেকে খেঁকিয়ে ওঠে বুড়ি- কেডা? কেডা মরতে আইছে ওহানে? দুইন্নাতে কী মরার আর জায়গা নাই!
আবরার আস্তে আস্তে বলে, বুড়িমা আমি। অনেকক্ষণ ধরে এখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম আপনার সঙ্গে কথা বলব বলে।
বুড়ি বলে ওঠে, তুই আরো একদিন আইছিলি।
একদিন নয় বুড়িমা, বেশ কয়েকদিন এসেছি। আপনাকে পাইনি। আবরার বলে।
হঠাৎ বুড়ি বলে ওঠে, ওই ডাইনির (ভূতের মা) কথা আমার কাছে জানতে চাইস না। ওই ডাইনি আমার পুতেরেও খাইছে। আমার পুতেও ওইরকম কাপড় ধোয়ার আওয়াজ পাইতো। আমার পুতেরে প্রত্যকদিন ভিজা টাকা দিয়া যাইত ডাইনি। আমার অবুঝ পুতেও সেই টাকা খরচ করত। ওই টাকার জন্যি শ্যাষ পর্যন্ত ডাইনি আমার পুতেরে পুকুরে ডুবাই মারছে। এহানে আইসা আমি আমার মানিকরে হারাইছি- বলেই আবারো কাঁদতে শুরু করে। কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলে, তুই চইল্লা যা এহান থাইক্যা।
বুড়ির কথাগুলো ঠিকমতো বুঝতে না পেরে আবরার বাসায় চলে যায়। বাসায় ফিরে সে আবারও ভেজা টাকা পায়।
পাঁচ
পরদিন শুক্রবার। বিকেলে বাসার পাশের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিল আবরার। হঠাৎ শুনতে পায় বুড়িমা নাকি অসুস্থ। চায়ের দোকানদার মালেক মিয়ার কাছে বুড়ির সম্পর্কে জানতে চায় আবরার। মালেক মিয়া জানায়, এই বুড়ি এখানে আছে ২৯ বছর ধরে। সে যখন প্রথম এখানে আসে তখন নাকি তার সঙ্গে ১৫ বছরের এক ছেলে ছিল। বাড়িঘর নেই। তাই পুকুরের এখানেই খুপড়ি তৈরি করে থাকতে শুরু করে বুড়ি ও তার ছেলে। বুড়ি ভিক্ষা করত। তার ছেলে মটরসাইকেলের গ্যারেজে ১৫ টাকা রোজে কাজ করত। বুড়ির ছেলে নাকি প্রতিদিন ভেজা টাকা পেত পুকুর ঘাটে। এভাবে অনেকদিন পেয়েছে। হঠাৎ একদিন রাতে বুড়ির ছেলেকে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খুঁজেও কোথাও পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে পুকুরে বুড়ির ছেলের লাশ ভেসে ওঠে। এভাবে আরো বেশ কয়েকজন ভেজা টাকা পেয়েছিল। তারাও মারা গেছে। পুকুরটা ভালো না।
মসজিদের হুজুর বলেছে এখানে নাকি ভূতের মা থাকে। তার ছেলেকে নাকি মানুষ মেরে ফেলেছে। সে কারণে ভূতের মা ভেজা টাকা দিয়ে টার্গেট ঠিক করে। যারা তার ভেজা টাকা নেয় এবং খরচ করে, তাকে সে মেরে ফেলে। মানুষ মেরে নাকি ভূতের মা তার পুত্র শোক পালন করে। এবার কাকে টার্গেট করেছে কে জানে!
কথাগুলো চুপচাপ শুনছিল আবরার। সংবিত ফিরে পাওয়ার পর চায়ের বিল পরিশোধ করেই হাঁটতে শুরু করে সে। তার চোখে-মুখে রাজ্যের উৎকণ্ঠা। একটু আগের হাসিমাখা মুখ তার এখন একেবারেই মলিন। মালেক মিয়ার বুঝতে বাকি রইল না ঘটনা কী ঘটেছে। বিষয়টা ভেবে মালেক মিয়াও চিন্তিত হয়ে ওঠে। দোকান থেকে একটু সামনে গিয়ে রিকশা নেয় আবরার। সোজা স্টেশনের দিকে তার রিকশা চলতে থাকে। মালেক মিয়া তাকিয়ে থাকে আবরারের যাওয়ার পথে। এক সময় মিলিয়ে যায় রিকশাটা। হুডের পেছনের ফাঁক দিয়ে ঝাকুনিতে দুলে ওঠা আবরারের শরীরটা তখনো চোখে ভাসতে থাকে মালেক মিয়ার। চোখ ফেরাতেই সে দেখে পাড়ার কয়েকটি তরুণ বুড়ির খুপড়ির দিকে যাচ্ছে। তারা বলাবলি করছে, বুড়ি নাকি আর বেঁচে নেই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now