বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভূত ও জিন কি এই দুনিয়াই আছে না নেই

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান SM Hasan(guest) (০ পয়েন্ট)

X অনেকেই আছেন যারা ভুত বিশ্বাস করেন আবার অনেকে করেন না। তার মানে কি এই যে, তারা ভুত দেখলে ভয় পাবেন না? আমি বাজি রেখে বলতে পারি, যারা বলে বেড়ান যে তারা খুব সাহসী, জিন, ভুত কিছুই তারা ভয় পায়না সেই তারাই জিন/ভুত দেখলে আরও বেশি ভয় পাবেন। আজ আমি যেই ঘটনা বলতে যাচ্ছি সেটি যেমন নিদারুন সত্যি, তেমনি ভয়াবহ। ঘটনাটি ঘটেছিল বহু বছর আগে। তখন ছিল ব্রিটিশ আমল অর্থাৎ দাদা-নানার আমলের ঘটনা। সেই সময় কিছু কিছু তরুন যারা মোটামুটি শিক্ষিত ছিল এবং নিজেদের খুবই সাহসী ভাবত। আর ভাবতো জিন/ভুত হচ্ছে ভীরুদের মনের দুর্বল কল্পনা। তো একদিন তাদের অন্যান্য বন্ধুদের সাথে তাদের এক সাহসী বন্ধুর তর্ক লেগে গেল। জিন/ভুত যে আছে এটা সে এটা সে একদমই মানতে নারাজ। এটা শুনে তার অন্যান্য বন্ধুরা তার উপর প্রচণ্ড খেপে গেল। আর বলল, তুই যে জিন/ভুতের ভয় পাস না তার প্রমাণ করতে পারবি? একথা শুনে সে বলল, আমি কি তোদের মত ভীতুর ডিম নাকি? আমাকে কি করতে হবে বল? তার বন্ধুরা বলল, তুই যদি আমাবস্যায় মাঝ রাতে একা শ্মশানে গিয়ে একটা কাঁচা বাঁশ মাটিতে গেড়ে আসতে পারিস, তবে বুঝব যে তুই খুব সাহসী। একথা শুনে সে বলল, ঠিক আছে তাই হবে। দেখতে দেখতে আমাবস্যার রাত চলে এল। শ্মশানে যাওয়ার আগে তার সব বন্ধুরা তাকে বার বার করে নিষেধ করল। তোর ভয় লাগলে যাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু সে কিছুতেই শুনল না। উল্টো সবাইকে বলতে শুরু করল, তোরা কি মনে করেছিস আমি ভয় পেয়েছি? তোরা সবকটা এক একটা ভীতুর ডিম। তার বন্ধুদের এইভাবে বিদ্রুপ করে সে চলে যায় শ্মশানের উদ্দেশ্যে। হাতে তার একটি কাঁচা বাঁশ। একসময় সে হাঁটতে হাঁটতে শ্মশানের খুব কাছে চলে যায়। তখন গ্রামে কোন বিদ্যুৎ ছিল না আর চারিদিক ছিল গভীর অন্ধকার। এতটা অন্ধকার যে, নিজের শরীর পর্যন্ত ভাল করে দেখা যায়না। এবার তার শরীরে একটু একটু ভয় ঢুকতে শুরু করল। কিন্তু পেছনে ফিরে যাবার কোন উপায় নেই। কেননা তাহলে বন্ধুদের কাছে সে মুখ দেখাতে পারবে না। তাই সে মনে মনে ভাবল, শ্মশানে গিয়ে কোনোরকমে বাঁশটা গেড়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসবে। সে শ্মশানের ভেতর প্রবেশ করল। এবার তার মনের মধ্যে ভয় পুরপুরি ভাবে গেড়ে বসলো। একেই আমাবস্যার রাত, তার উপর আবার শ্মশান ঘাট। ভয়ে তার বুক ধড়ফড় করতে লাগল। তার বার বার মনে হতে লাগল, এইবুঝি কিছু একটা এসে পেছন থেকে তার ঘাড় মটকে ধরবে। এবার সে বাঁশ গাড়তে শুরু করল। সে বাঁশটির প্রায় ৮-১০ ইঞ্চির মত মাটিতে গেথে ফেলল। সে মনে মনে ভাবল, এবার সে সবাইকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে, যে জিন/ভুত বলতে কিছুই নেই। আর সে কত সাহসী। বাঁশ গারা শেষ। এবার তার বাড়ি ফিরার পালা। কিন্তু যেই সে উঠে দাঁড়িয়ে এক পা সামনে বাড়াল, তার মনে হল কে যেন তাকে মাটির দিকে টানছে। আমাবস্যার এই মাঝরাতে শ্মশানে এসে সে যে চুল করেছে, তার মাশুল তাকে দিতেই হবে। এতদিন যে জিনিসটাকে সে অগ্রাহ্য করত, ভীরুদের কল্পনা বলে হাসত, সেই কল্পনা আজ তার কাছে আজ দেখা দিল। তাও আবার অদৃশ্য হয়ে। এইরকম প্রচণ্ড চাপ তার ভেতরে সহ্য করতে পারল না। এবং ভয়েরচোটে সেখানেই সে হার্টফেল করে মারা গেল। পরদিন সকালে তার বন্ধুরা তার বাড়িতে এসে দেখে সে বাড়িতে নেই, এবং সাথে সাথে তারা সেই শ্মশানে যায়। আর সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পায় তাদের সেই বন্ধু মৃত অবস্থায় পরে আছে। তারা আরও দেখল যে সেই বাঁশটা তার বন্ধুর ধুতি সহ মাটিতে গারা অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু অন্ধকারের কারনে সে তা লক্ষ করেনি। তাই সে উঠে আসার সময় বাঁশের সাথে ধুতি আটকে যাওয়ায় তার মনে হয়েছিল, কেও তাকে টেনে ধরেছিল। আর প্রচণ্ড ভয়ের কারনে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভূত ও জিন কি এই দুনিয়াই আছে না নেই

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now