বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ ৭ বছর পরে বাড়ি ফিরছি।
বাসের অগ্রিম টিকিট কিনে রেখেছিলাম।
রাত ৯ টার বাস সারাদিন সব কিছু
ভাল করে গুছিয়ে নিয়েছি।মার জন্য
কেনা শাড়িটা,বাবার পাঞ্জাবিটা,বোনের
শাড়ি,আর পিচ্চিটার জন্য অনেক
কিছু কিনেছি। সবকিছু আবার চেক
করে ব্যাগে ডুকালাম।সন্ধ্যা ৭ টায় বাসা
থেকে বের হলাম।উদ্দেশ্য মহাখালি
বাস টার্মিনাল। আধা ঘন্টার মধ্যেই
গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম।অবশ্যই বাস
ছাড়তে আরও ঘন্টা দেড়েক আছে।
.
ব্যাগ পত্র গুলো কাউন্টারে রেখে একটু
হাঁটতে বের হলাম। হাঁটতে হাঁটতে
একটা টং এসে চা খেলাম সেই সাথে
একটা সিগারেটও।অবশ্যই আগে
সিগারেট খেতাম না। বাড়ি থেকে
চলে আসার পর থেকে কেনো জানি
সিগারেট খেলে মনটা হালকা হতো।
প্রথম প্রথম রাত জাগতে সমস্যা হতো,
তাই রাত জাগার সাথী হিসেবে সিগারেট
টাকে বেঁচে নিয়েছিলাম। চা খাওয়া শেষে
কাউন্টারে এসে জিনিসপত্র নিয়ে বাসে
উঠলাম।এখনও বাস ছাড়তে মিনিট
দশেক বাকি আছে।তবুও বসে রইলাম।
ঘরে ফিরে আসার জন্য মনটা অস্থির হয়ে
গিয়েছে।বসে বসে অতিতের
স্মৃতিচারণ করতে লাগলাম।
.
কতই সুন্দর ছিল আমার শৈশব।
মা,বাবা,ভাই বোন নিয়ে কত না
সুখেই ছিলাম।বোনের সাথে খুনশুটি
করে মার বকা খাওয়া। মা বলত ওর
বিয়ে হলে কার সাথে এইসব করবি।
আমি বলতাম ওর বিয়ে হবে না
আর বিয়ে হলেও আমার ভাগ্নে
হলে ওকে সব শিখিয়ে দিব যাতে
ওকে সবসময় জ্বালায়। আপু বলত
প্রথম আমার মেয়ে হবে এটা নিয়ে
আবার শুরু হয়ে যায় আমাদের মাঝে।
মা বিরক্ত হয়ে বলে যা খুশি কর
তোরা তোদের বাবা আসুক আজকে।
একমাত্র বাবার আয়ের উপর নির্ভরশীল।
মধ্যবিও হলোও কোন কিছুর অভাব
কখনো বুঝতে দেয়নি বাবা আমাদের
ভাই বোনকে। সেই বাবার সাথে
রাগারাগি করে বাড়ি ছেড়েছি।
.
.
কিন্তু যার জন্য বাড়ি ছেড়েছি সে
আজ অন্যের ঘরে। থাকবে না কেন
কি আছে আমার তাকে সুখে রাখার মত।
সে জন্য হয়তো চলে গেছে আমার
জিবন থেকে। ইন্টার পড়ার সময়
একটি মেয়েকে খুব ভালোবেসেছিলাম।
শেয়ারিং কেয়ারিং মধ্য দিয়ে ভালই
চলছিলআমাদের রিলেশনশীপ।টেষ্ট
পরিক্ষার।আগে হাঠৎ করে রুমি কে
দেখতে আসে পাএপক্ষ. সেদিন রাতে
রুমি অনেক কান্নাকাটি করে ফোনে
বলে মা বাবা যেকোন সময় আমার
বিয়ে দিয়ে দিবে তুমি কিছু একটা কর।
আমি রুমিকে খুব ভালোবাসি আমি তাকে
হারাতে পারবোনা। সেই জন্য মাকে
বলি মা আমি একজনকে ভালোবাসি
ওর বাবা ওকে বিয়ে দিবে আমি ওকে
ছাড়া বাঁচব না। তুমি কিছু একটা কর।
মাঃ তোর বাবা যে রাগি এখন এই
সব মেনে নিবে বল।
আমিঃ তুমি একটু বাবাকে বুঝিয়ে
বলো না বাবাকে।
মা বাবাকে বলে কথাটি শুনার পর
অনেক রাগারাগি করে বাবা এবং
আমার লেখাপড়া বন্ধ করে
দিবার হুমকি দেয়। আমার বাবা
অনেক রাগী ও গম্ভির এজন্য আমি
বাবার সামনে কিছু বলতে পারি না।
.
.
তারপর মা বলে ফাইনাল পরিক্ষার
পর কিছু একটা করবে. রুমিও ওর
বাড়িতে কিছু একটা বলে ম্যানেজ করে।
তারপর সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই চলছিল।
পরিক্ষা হয়ে দুইজন ভালোভাবে পাশ
করি এবং আমি বগুড়া আযিযুল হক
বিস্ববিদ্যালয়ে চান্স পাই।এরপর রুমি
আবার বিয়ের জন্য প্রস্তাব আসে।
আমি মা কে বলি মা কিছু একটা কর।
মা বাবাকে বল বাবা বলে আমি বেঁচে
থাকতে এটা কখনো মেনে নিবো না।
আমিও বাবার সাথে প্রথম রাগারাগি করি।
এবং বলি যদি কোনদিন বিয়ে করি রুমি
করব। কি করব কিছুই বুঝেতে পারি
তারপর রুমি বলে কিছু একটা কর
আমি তোমার কাছে চলে আসব।
রাগারাগি করে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে
আসি। বাবা একটা কথা বলেছিল
একদিন ঠিকি তোর ভুল বুঝতে পারবি।
.
.
তারপর চলে আসি অচেনা শহরে
এখানে অনেক একটা জব নিই।
একমাস পর রুমি কে তুমি আমার
কাছে চলে আসো। সেদিন রুমি
বলেছিল কত টাকা বেতন পাও
তুমি ও টা দিয়ে আমাদের কিছু
হবে না। বাবা আমার বিয়ে ঠিক
করেছে সামনে মাসে আমার বিয়ে।
ছেলে ভালো চাকুরি আমি সেদিন
বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিলাম কিছু বলতে
পারিনি। যার জন্য এতকিছু করলাম
সেই রুমি এইসব বলতে পারলো।
বাবার কথাই ঠিক হলো, তবুও নিজের
জেদের কাছে হার মানিনি.তারপর
বাড়ির কারো সাথে যোগাযোগ
করতাম না ।সিম কার্ড পরিবর্তন
করে ফেলি। এফবি এ্যাকাউন্ট
ডিয়েকটিভ করে দিয়ে নতুন
এ্যাকাউন্ট খুলি। গ্রামের বন্ধুদের
সাথে পযর্ন্ত যোগাযোগ করতাম না।
তারপর থেকে তার সাথে কোনো
রকম যোগাযোগ করিনি। রুমির
সাথেও আর যোগাযোগ করিনি।
হয়তো এতদিনে তার বিয়ে হয়ে গেছে।
হয়তো অনেক সুখে আছে।হঠাৎ করে
কেউ একজনের ধাক্কায় ভাবনায় ছেদ
পড়ল দেখলাম একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে
অাছে আমার পাশের সিটটা নাকি ওর।
সিটটা ছেড়ে দিয়ে ওকে বসতে দিলাম।
.
.
গাড়ি চলেছে গাড়ির আপন গতিতে,
আবার ভাবনার জগতে হারিয়ে গেলাম।
বাড়ি ছেড়ে আসলেও পড়াশোনাটা ছাড়ি
নাই.কেননা বাবার অনেক সপ্ন ছিল যে
অনেক লেখাপড়া করে অনেক বড় হব।
অফিস করা আর অফিস না থাকলে
বাসায় ঘুমানো আর বিকালে ছাদে
পায়চারি করাটাই ছিল আমার নিত্য
নৈমিত্তিক রুটিন। হ্যাঁ আমি আজ
প্রতিষ্ঠিত দের মধ্যে একজন।কিন্তু
আজ আমি সত্যিই সবকিছু থেকেও
কিছুই নেই। বাবা তুমি ঠিক ছিলে আমি
ভুল ছিলাম বাবা আমি বাস্তবতা কাছে
হেরে গেছি। অফিসের কল ছাড়া অন্য
কারো কল আসতো না আমার ফোনে।
আমিও প্রয়োজন ছাড়া কোনো বন্ধুকে
ফোন দিতাম না। হঠাৎ করে কারো
ধাক্কাতে ভাবনায় ছেদ পড়ল।দেখলাম
মেয়েটা আমাকে ডাকছে।জানতে
চাইলাম সমস্যা কি? বললো পাশে
একটা সুন্দরী মেয়ে বসে আছি।অথচ
আপনার কোনো অাগ্রহই নেই।আমি
বললাম,আমি এরকমই।তখন মেয়েটা
কিছু না বলে চুপচাপ বসে রইল।
.
.
আমি আবারও অতীতে হারিয়ে গেলাম।
শুক্রবারে বিকাল বেলা বাসায় শুয়ে আছি,
হঠাৎ ফোনে কল আসল।দেখলাম নতুন
নাম্বার।কল রিসিব করবো কি করবো না
ভাবতে ভাবতে কলটা কেটে গেলো।
দেখলাম আবার কল আসছে একই
নাম্বার থেকে।তখন এতকিছু না
ভেবেই রিসিভ করলাম। রিসিভ করার
সাথে সাথে কারো কান্নার আওয়াজ
শুনতে পেলাম।মনে হলো কণ্ঠটা
আমার খুব পরিচিত।কন্ঠটা অার
কারো নয় আমার গর্ভধারণী মায়ের।
যার সাথে প্রায়ই ৭ বছর বছর কথা
হয়নি, মা কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে জানতে
চাইলো আমি কেমন আছি।আর বললো
আমি চলে আসার পর
থেকে মা-বাবা কেউই রাতে ঘুমাতো না।
বাবা সারাক্ষন কি যানি চিন্তা করে।
মা বাবাকে মোবাইল দেয়।আমি কথা
বলি বাবার সাথে।বাবা কিছু বলতে
পারেনি,শুধু বলে বাড়ি ফিরে এসো।
সব শেষে জানতে আমি নাকি মামা হয়েছি।
বোনটা নাকি বাবুকে নিয়ে অনেক কান্না
করি তোর মামা থাকলে তোকে যে কত
ভালোবাসত। তখন কোনো কিছু না
ভেবেই একটা বন্ধুকে শনিবার রাতের
জন্য টিকেট কাটতে বলি ফোনে।
.
.
হঠাৎ গাড়িটা জোরে ব্রেক করার ফলে
সামনের সিটের সাথে ধাক্কা খেলাম।
পাশে থাকিয়ে দেখলাম মেয়েটা
আমার কাঁধের উপর মাথা রেখে
ঘুমিয়ে থাকার কারণে মেয়েটাও
ধাক্কা খেয়ে জেগে উঠল।আর জেগে
উঠে সরি বলতে বলতে লাগল দুই
তিন বার,আমি বললাম ওকে।
এরপর থেকে যে যার মতো চুপ
হয়ে গেলাম।সকাল ৭টা নাগাদ
বাস গন্তব্য স্থানে এসে দাঁড়াল।
বাস থেকে নেমে দেখতে পেলাম
কুয়াশার চাঁদর ভেদ করে বের হচ্ছে
কিছু চিরচেনা মুখ। আমার মুখ ভর্তি
দাড়ি গোফ।লম্বা কোঁকড়ানো চুল।
এসব কিছু সত্ত্বেও মা আমাকে চিনতে
একবিন্দু ভুল করে নি।দৌঁড়ে
এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে চুম্বনে
ভরিয়ে দিতে লাগল মা।সেই সাথে
মায়ের চোখের জল আমার সারা
শরীর ভিজিয়ে দিল।তারপর বাবা
আমাকে বুকে জড়িয়ে নিলো।আমি
বাবার পা ধরে সালাম করে ক্ষমা চেয়ে
ছিলাম এবং বলেছিলাম বাবা আমি
আমার ভুল বুঝতে পেরেছি তখন বাবা
বললো বাবার কাছে কোনো ছেলেই
অপরাধী নয়। একেক করে সবার
সাথে কুশল বিনিময় করলাম সবার
মুখে হাসি ফুটতে লাগলো আমাকে
পেয়ে।মা,বাবা,কাকা,কাকি যেন ঈদের
চাঁদ হাতে পেয়েছে। কিন্তু একজনকে
দেখতে পারছিনা কিছু দুরে দেখতে
পেলাম কেউ একজন বুকভরা অভিমান
নিয়েই অন্য দিকে করে দাঁড়িয়ে আছে
আমার আভিমানী বোনটা।আমাকে তার
অভিমানটা ভাঙ্গতেই হবে। গিয়ে পিছন
থেকে হাতটা ধরলাম ও বললাম দেখো
বুবু আমি জিতে গেছি কথা ঠিক আমার
ভাগ্নে হয়েছে।। কান্না কন্ঠ বলল আমাদের
কে ছেড়ে এতো দিন থাকতে পারলি। যার
জন্য চলে গেলি সে তো দিব্যি অন্যের ঘরে
সংসার করতিছে। থাক না আপু এসব কথা।
দেখি দুটো চোখ আমার দিকে অপলক
দৃষ্টিতে চেয়ে আছে বুঝতে আর বাকি
হলো না এটা কে। হাতটা বাড়িয়ে দিলাম
ওর দিকে। সাথে সাথে বুকে জড়িয়ে
আসল বুকটা যেন একটা পরিপূর্ণ।
যে মানুষ গুলা আমার জন্য দীর্ঘ ৭টা
বছর অধীর অাগ্রহে অপেক্ষা করল
আর আমি কি না এদেরকে ছেড়েই চলে
গিয়েছিলাম?????
.
.
পরিশিষ্টঃ আবেগের বসে গিয়ে আমরা
জীবনের অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নেই।
কিন্তু ভুল গুলো বুঝতে অনেক দেরি
হয়ে যায়। তাই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ
সিদ্ধান্ত গুলি অনেক ভেবে চিন্তা
করে নিতে হয়।
.
.
.Megh Balok Shanto
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now