বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজকে তোমাকে আগের চেয়েও অনেক বেশী
সুন্দর লাগতেছে। আচ্ছা, তুমি এমন কি জাদু করো যে,
তোমাকে দেখলেই এতো ভালো লাগে?
নিতু মুখ ভার করে, গাল ফুলিয়ে বসে আছে। রাগে
চোখ দু'টো টলটল করছে।
-- এখন কয়টা বাজে?
-- মাত্র সাড়ে চারটা।
-- আচ্ছা, তাহলে আমি আসি,, বাসায় কাজ আছে।
তোমার সাড়ে তিনটায় আসার কথা ছিল।
-- সরি,, এই যে কান ধরলাম। আর ভুল হবে না।
-- তোমার এই কথা শুনতে শুনতে আমি ক্লান্ত হয়ে
গেছি অপু। আমি আর পারছি না।
নিতুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। নিতু অসহায়ের
মতো ওর মাথাটা কাঁধে হেলিয়ে দিলো।
-- আর কখনো দেরি করবো না। তুমি জানো? মাঝে
মাঝে ইচ্ছে করেই দেরি করে আসি। কারন,
তোমাকে রাগতে দেখলে ভীষণ কিউট লাগে।
আচ্ছা, তুমি এতো কিউট কেন?
-- হয়েছে, হয়েছে আর মিথ্যা কথা বলতে হবে না।
নিতুর মুখটা দু'হাত দিয়ে ধরে বললামঃ
-- আমি মিথ্যে বলছি না,, সত্যিই তুমি অনেক কিউট।
নিতু আবার আমাকে জড়িয়ে ধরলো,,
মায়া ভরা একটা হাসি দিয়ে, বাচ্চাদের মতো
কাঁদতে শুরু করলো। জলগুলো চোখের কাজলের সাথে
মিশে কালো হয়ে গাল বেয়ে টুপটুপ করে ঝরছে।
আমি অবাক হলাম,
-- আরে টিয়া পাখি, তুমি হঠাৎ কাঁদছো কেন?
পকেট থেকে ফোনটা বের করে নিতুর সামনে ধরলাম।
-- দেখ তো তোমাকে কেমন দেখাচ্ছে? ভূতের মতো।
আর এই ভূতের চোখের জল কালো। হিহিহি।
নিতু আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললঃ
-- অপু তুমি আমাকে খুব ভালবাসো, তাই না?
কথাটা শুনে আমার ভেতরটা কেমন জানি মোচড়
দিয়ে উঠলো।
-- হ্যাঁ, টিয়া পাখি। তোমাকে ভীষণ ভালবাসি।
(নিতুর চোখে জল মুছতে মুছতে বললাম)
-- তুমি সারা জীবন এভাবে ভালবাসবে তো? কথা
দাও কখনো চেন্জ হবা না?
নিতুর হাতটা শক্ত করে ধরলাম,
-- এই হাত কখনো ছাড়বো না,, কিছুতেই না। তোমার
সুখের জন্য সব কিছু করবো। কথা দিলাম।
-- সত্যি তো?
-- সত্যি, সত্যি সত্যি। তিন সত্যি।
এবার নিতু প্রাণ খুলে একটা হাঁসি দিলো। আমি শুধু
তাকিয়ে আছি।
-- আচ্ছা, নিতু আমার কাছে তো বেশি টাকা পয়সা
নেই। যে রকম আছি তুমি আমার জন্য ঐ রকম হতে
পারবে? থাকতে পারবে আমার মতো কষ্টে? সহ্য
করতে পারবে তো?
-- তুমি যদি তিন বেলা থেকে আমাকে শুধু এক
বেলাও খাবার দাও তবুও তোমার সাথেই থাকবো।
নিতুর দিকে তাকিয়ে ভাবলাম, তোমার মতো
কাউকেই আমার খুব দরকার ছিলো।
এভাবেই দু'জনের হাসি-খুশি রিলেশনটা চলছি। এই
ক্ষুদ্র নিতুটা আমার মনের বিশাল জায়গা দখল করে
নিয়েছিলো।
আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা বলতাম। কথা বলা
শেষ হলে "লাভ ইউ" বলে ফোন রাখতাম। আর এটা
বলতে ভুল হতো না। যদি ভুলে হতো তবে সাথে সাথে
ফোন দিয়ে বলে দিতাম।
দিনটা শুরু হতো নিতুর কন্ঠ শুনে,, ঘুমাতে যেতাম
নিতুর গান শুনে।
খুব সুন্দর গান করতো,, ওর নাকি গাইতে খুব ভালো
লাগে। দিনের বেশির ভাগ সময়ই গান শুনাতো।
এদিন কথা না বললে কেমন ধম বন্ধ হয়ে আসতো।
প্রচন্ড রোদের মধ্যেও ঝাপসা দেখতাম।
ঐ দিন রাতের বেলায় দূরের আকাশটা বিশাল একটা
চাঁদ উঠেছিলো।
নিতুকে কল দিয়ে বারান্দায় গেলাম।
-- দেখছো আমার কি সৌভাগ্য?
-- কি রকম?
-- একটা চাঁদের নিচে দাড়িয়ে আরেকটা চাঁদের
সাথে কথা বলতে পারি।
নিতু খিলখিল করে হেসে উঠলো। বলেছিলোঃ
-- আচ্ছা, অপু তুমি কখনো তোমার ঐ বুকের মধ্যে
জায়গা দিবা না কিন্তু? ঐ বালিশটা আমার।
আমি ওর কথা শুনে হাসছিলাম আর বলছিলাম,
-- তুমি সত্যিই পাগল।
-- হুম,, আমি জানি।
আমরা কতটা ভালবাসতাম তা কখনো জানতাম না,,
হয়তো সীমাহীন। যা কখনো ওজন করতে পারতাম না।
পারতাম না অন্য কাউকে দিয়ে নিতু উদাহরণ দিতাম।
তবে নিতু খুব চড়া আর রাগী মেজাজের ছিলো।
আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, জীবনে যদি দু'জন
দু'জনার না হই তবুও নিজের ক্ষতি করবো না। আমি
বিশ্বাস করতাম নিতু কখনো আমাকে ছাড়বে না।
কিন্তু আমাদের একটা দুর্বল দিক ছিলো, আমি
ছাত্র,, হয়তো এটাই বড় ভুল। তখন আমার করার মতো
কোন উপায় ছিলো না। না পারতাম কোন চাকরিতে
যেতে। তবে বিশ্বাস ছিলো কখনো আমাদের সাথে
ভুল কিছু হতে পারে না।
একদিন ঠিকই নিতু সব ভেঙ্গে দিলো, তাও আবার
হঠাৎ করেই। যেভাবে হাত থেকে আয়না পড়ে গেলে
ভেঙ্গে যায় ঠিক সেভাবেই দু'জনকে আলাদা হতে
হয়েছে। আর সিদ্ধান্তটা নিতুর নিজেরই ছিলো।
বিশ্বাস করেন হঠাৎ করে এমনটা হবে আমি কখনো
কল্পনাও করিনি।
একদিন নিতু ফোন করে বললঃ
-- আমার চাচাত ভাইয়ে বিয়ে, তাই আমাকে ঢাকা
যেতে হবে। আর দুই-তিন দিন কথা বলতে পারবো না।
-- কি বলো? আমি কথা না বলে থাকতে পারবো না।
-- আচ্ছা, আমি তাহলে সুযোগ পেলে কল দিবো,
কিন্তু তুমি দিও না।
কারন, আমি ততক্ষণ পর্যন্ত কল দিতাম যতক্ষণ না
পর্যন্ত নিতু ফোন তুলতো। যত ব্যাস্ততাই থাকুক না
কেন।
-- আচ্ছা, সাবধানে যেও আর পৌঁছেই আমাকে কল
দিও। আর হ্যাঁ দেইখো কেউ আবার তোমার উপর যেন
ক্রাশ না খায়।(মজা করে বললাম)
-- তাহলে তুমি চলে আসো না কেন?
-- যদি পারতাম, তাহলে কি আর বলতে হতো?
-- আচ্ছা, আমি ফোন রাখলাম। সবাই ডাকছে।
গেলাম।
-- সাবধানে যেও, লাভ ইউ।
-- লাভ ইউ টু।
নিতু ঢাকা যাওয়া পর একবার কথা হয়েছিলো। তাও
তিন দিনের ভেতর,, আমি খুব দুঃচিন্তায় থাকতাম।
ফোন দিলে বন্ধ পেতাম। ভাবতাম হয়তো কাজে
ব্যাস্ত।
তিন দিন পর নিতু বাসায় এসে একটা মিসড্ কল
দিলো। সাথে সাথে কল ব্যাক করলাম।
-- কি ব্যাপার, তোমার ফোন বার বার বন্ধ পেতাম
কেন? কতগুলো ফোন দিছি তুমি জানো?
-- বলছিলাম না আমি ব্যাস্ত থাকবো।
-- তুমি জানো না, তোমার কন্ঠ না শুনলে আমি
অস্থির হয়ে পড়ি।
-- কিছু করার ছিলো না। তুমি কি আমাকে ধমক
দিচ্ছো?
কথাটা শুনে কেমন খারাপ লাগলো, কারন আমি
কখনো নিতুর সাথে খারাপ ব্যবহার করতে চায় না।
-- আচ্ছা, বাদ দাও। বিয়ে কেমন কাটলো?
-- হুম, ভালো।
এভাবে আরো অনেকক্ষণ কথা চলছিলো আর এটাই
শেষবারের মতো সর্বোচ্চ কথা বলা।
এরপর থেকে যখন কথা বলার চেষ্টা করতাম নিতুর
ফোন ব্যাস্ত থাকতো। নাহয় কেটে দিতো। আমি
ভাবতাম হয়তো ওর বিদেশে থাকা ভাইয়ের সাথে
কথা বলে।
কিন্তু এভাবে বেশ কয়েকদিন চলছিলো। আমি ফোন
দিলেই কেটে দিতো আর দ্বিতীয় বার দিলে ফোন
ব্যাস্ত তাও ঘন্টার পর ঘন্টা।
এবার আমার খুব রাগ হয়,, নিতুর সাথে কথা বলার
সুযোগ পায় না।
একবার ফোন দিয়ে খুব ধমক দিলাম।
-- কি হয়েছে তোমার? ফোন এতো বিজি থাকে
কেন? (চেচিয়ে চেচিয়ে)
-- আমি একটু বিজি।
-- এ জন্য সব সময়? একবারও কথা বলার প্রয়োজন মনে
করো না। আমাকে বিরক্ত করতে মজা লাগে? ছিঃ
ছিঃ তুমি এরকম করবে ভাবতেও পারি নাই।
-- কিহহহ ! তুমি আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলো।
খবরদার আর একবার শুনলে কিন্তু বেশি ভালো না
অপু।
-- কি ভালো হবেনা?.....
আর কিছু বলার আগেই নিতু ফোন বন্ধ করে ফেলে।
আর আমি দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়।
দুই দিন কোন কথা হয়নি, ফোন দিলেই কেটে দিয়ে
বন্ধ করে রাখতো।
আমি নিজেকে খারাপ মনে করতে লাগলাম। সত্যিই
কি আমি খুব খারাপ কথা বলেছি, যার কারনে এই
শাস্তি?
এটা বলার অধিকারও আমার নেই? সম্পর্কটা এতো
তাড়াতাড়ি কিভাবে বদলাতে পারে?
আমি আর কোন ভাবেই যোগযোগ করতে পারছি না।
কারন, ফোন দিলেই ব্যাস্ত না হয় বন্ধ।
অবশেষে একটা মেসেজ দিলাম,
-- সরি, সরি, সরি, প্লিজ নিতু ফোনটা ধরো।
প্লিজ,প্লিজ।
কিছুক্ষণ পর নিতু কল দিয়ে বললঃ
-- কালকে তোমার সাথে দেখা করবো।
কথাটা শুনে রাতে আমার ঘুম হয়নি। খুব কষ্টে আছি।
সকাল হতেই সবার আগে আমি বেঞ্চটায় বসে
অপেক্ষা করছি। যেখানে সব সময় কথা হতো।
চোখ ফুলে আছে। রাতে ঘুম হয়নি। কিছু খেতেও
পারি নাই। খিদের জ্বালায় খুব খারাপ লাগছে।
বেঞ্চ বসতেই ঘুম আমাকে ঘিরে ধরছে, আমি উঠে
দাড়ায়, একটু হাঁটা-হাটি করি আবার বসি।
নিতু কখন আসবে তা বলেনি। যেহেতু ফোন বন্ধ
থাকতো তাই জানার সুযোগ পাইনি।
আমি সকাল সাতটায় দেখা করার জন্য অপেক্ষা
করছিলাম আর নিতু এসেছিলো বিকেল সাড়ে
তিনটায়। তবুও নিতুর মুখ দেখতে পেয়ে আমি খুশি।
এতো কষ্টের মাঝেও আমার ঠোট হাসতে বাধ্য হলো।
রিক্সাওয়ালাকে ভাড়া দিয়ে নিতু মাথার কাপড়টা
একটু টেনে কাছে আসলো।
আমার এতোটা ভালো লাগছে যা বলার বাহিরে।
নিতুর মুখটায় হাত দিয়ে জাড়িয়ে ধরলাম।
-- কি আমি তোমার সাথে খুব খারাপ কাজ করছি?
কষ্ট পাইছো? বোকা মেয়ে !! ভালবাসি বলেই তো
একটু শাসন করেছি।
নিতু আচমকা আমাকে জড়িয়ে ধরলো।
চোখে জল টুপটুপ করে আমার কাঁধে পড়তে লাগলো।
কান্নার শব্দ ক্রমশ বাড়তেি লাগলো। আর শার্ট
ভিজে একাকার।
-- অপু আমার একটা কথা রাখবে?
-- হুম, বলো?
-- আমাকে বিষ এনে দিবা?
কথাটা শুনে প্রচন্ড আঘাত পেলাম,, বুকের ভেতরটা
ছিড়ে যাচ্ছে। নিতুর মুখ থেকে এরকম কথা
অপ্রত্যাশিত।
-- কি আজে-বাজে বকছো?
-- আমি আর পারছিনা অপু ! আমাকে ক্ষমা করে দাও।
এবার নিতুকে সোজা করে দাড় করালাম।
নিতুর চোখের নিচে কালো দাগগুলো স্পষ্ট বোঝা
যাচ্ছে।
-- কি হয়েছে বলবা তো?
-- আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে?
-- হিহিহি, আমার সাথে মজা করছো,, দেখো এসব
বলবা না। তাহলে কিন্তু আমিও কেঁদে দেবো।
নিতু আরো জোড়ে কাঁদতে লাগলো, আর আমি
ব্যাপারটা সিরিয়াস ভাবে নিলাম।
-- আমি মিথ্যা বলছি না অপু,, আমি শেষ হয়ে
যাচ্ছি।
-- কি বলো? আচ্ছা কান্না থামাও। কি হয়েছে
বলো? তোমার বিয়ে টিক হয়েছে কিন্তু তুমি বলনি
যে, এই বিয়েতে তুমি রাজি না?
-- হ্যাঁ, আমি বলেছি আমি আরো লেখাপড়া করবো।
কিন্তু মা-বাবা বলছে, বিয়ের পর নাকি পড়াবে।
এই মূহূর্তে আমার ভেতরটা ধোমড়ে মোচড়ে শেষ হয়ে
যাচ্ছে,, এই বিকেল বেলাও সব কিছু ঝাপশা দেখছি।
-- তুমি রাজি না হলে বিয়ে তো দিতেই পারবে না।
তো সমস্যা কোথায়? তুমি সব সময় এটাই বলবা যে,
তুমি এই বিয়েতে রাজি না আর তুমি জানোই তো
বিয়ের আগে যে কথাগুলো বলা হয় সেগুলো মানা
হয়না।
-- আমি অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু ওরা
মানতেই রাজি না।
-- আচ্ছা, ছেলেটা তোমার চেনা? আর বিয়ে ঠিক
হলো কি করে? (প্রচন্ড যন্ত্রণার মাঝেও নিজেকে
সামলে নিলাম)
-- চাচাত ভাইয়ের বিয়ে আমাকে দেখে পছন্দ
করেছে,, আর আমাকে না জানিয়ে বিয়ে ঠিক করে
ফেলেছে। ও নাকি বিদেশ থেকে লেখা-পড়া শেষ
করে এসেছে।
আমাকে যেতে হবে অপু ! বাসা থেকে না বলে চলে
এসেছি। দেরি করা যাবে না।
-- বিয়ে আটকানোর আর কোন সুযোগ নেই আমার।
কথা দাও কখনো আমার কথা মনে করবা না? আমার
সাথে যোগাযোগ করবা না। দেখো তুমি আমার
চেয়ে ভালো একটা মানুষ পাবা। তোমাকে অনেক
সুখে রাখবে।
আমাকে কখনো ভুল বোঝ না,, আমি অনেক চেষ্টা
করছি কিন্তু পারিনি।
-- তোমার ফোন কি এজন্যই ব্যাস্ত থাকতো?
-- নাহ, আমি কারো সাথে এখন ফোনে কথা বলি না,,
তুমি যাতে আমাকে খারাপ ভেবে দূরে সরে যাও
এজন্য ফোন ব্যাস্ত রাখতাম। আমি আসি অপু,, নিজের
প্রতি যত্ন নিও।
নিতু পেছন ফিরে চলে যাচ্ছে, ওর চোখ থেকে
বৃষ্টির মতো পানি ঝরছিলো। আর আমার দেহর ভেতর
কলিজাটা যেন ছটফট করতে লাগলো।
নিতুকে আটকানো ক্ষমতা আমার নেই।
আস্তে আস্তে নিতু হেটে দূরে চলে যাচ্ছে,, এক সময়
আর দেখতে পায়নি।
এভাবে হারিয়ে যেতে পারে কখনো কল্পনাও
করিনি।
নিতুর বাবা মা নিজ হাতে নিতুর পায়ে শিকল বেধে
দিলো,, যে শিকল ছেড়ার ক্ষমতা নিতুর নেই।
আমার শুধু ভেতরটা পুড়ছিলো। রাতে ঘুম ভেঙ্গে
গেলেও ফোন করার ইচ্ছা হতো না,, কারন, আমার
নাম্বারটা দেখলেই নিতু কাঁদতে শুরু করে। তাই সব
যোগাযোগ বন্ধ করতে শুরু করলাম। নিতুকে আমি একটু
দোষারুপ করি না।
হারিয়ে গেলো মায়াবতী,, নিভে গেলো স্বপ্নের
প্রদীপ। টুকরো হতে লাগলো ক্ষুদ্র হৃদয়টা। যেখানে
একটা টিয়া পাখির বাসা ছিলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now