বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কখনো কখনো নাটক-সিনেমাকে হার মানায় তা কখনো বুঝতামই না যদি না বুবলীর সাথে আমার পরিচয় হতো।
সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল কিন্তু......
-কি করো...জানু?(বুবলী)
-তোমাকে দেখছি।(আমি)
-কি করে?
-কল্পনায়,,,
-গুড।
-হুম....এই একটু হোল্ড করো তো,কেউ ফোন দিচ্ছে।
শিরিন ফোন দিচ্ছে,,,আমি ফোন দিয়েই রেগে বললাম
-কি হইছে বল?
-তুমি কার সাথে এত সময় ধরে কথা বললে?
-সে কৈফিয়ত তোমাকে দিতে হবে?
-আচ্ছা ঠিক আছে দিতে হবে না।কেমন আছো?
-ভাল।এখন বল কিজন্য ফোন দিয়েছো?
-আজকে বিকালে আমি বাসায় যাব সাত দিনের জন্য।
-তো যাও না,আমাকে কেন বলছো?
-তোমাকে খুব মিস করবো।
-আর কিছু?
-তুমি যদি বাসট্যান্ডে আসতে তাহলে একটু দেখতাম তোমাকে।
-সরি,আমি পারবো না।রাখলাম।
মানিকের জন্মদিনে শিরিনের সাথে আমার প্রথম দেখা।
তারপর ধীরে ধীরে প্রেম।যদিও এ প্রেমে আমার শুরু থেকে আগ্রহ ছিল না বললেই চলে। বন্ধুদের কথায় শিরিনের প্রোপোজাল অ্যাকসেপ্ট করেই বিপদে পড়ছি।এটা করবানা,ওটা করবানা,এটা কেন করছ?
হাজার হাজার প্রশ্ন।
জীবন আমার অতিষ্ঠ।
শিরিন আমার গলায় মাছের কাঁটার মতো লেগে আছে,হাজারো কাশিতে ও সরতে চাইছে না।
যাগগে,তাকে নিয়ে চিন্তা ভাবনার কোন টাইম আমার কাছে নেই।
-কে ফোন দিয়েছিল?
-আমার এক ফ্রেন্ড,ক্রিকেট খেলার জন্য।
-তো খেলতে যাবে না?
-না।
-কেন?
-খেলার থেকে তুমি আমার কাছে বেশি ইমপরট্যান্ট।
-ঢপ্।
-ঠিক আছে,রাখলাম।বাই।
-রাগ করলে?
-না।
-না তুমি রাগ করেছো,,,
-করিনি বললাম তো।
-তাহলে ফোন রাখতে চাইলে কেন?
-খেলতে যাব,,,তাই।
-ঠিক আছে, তাহলে খেলতে যাও,বাই।
-না থাক,আজ খেলব না,শুধু তোমার সাথে কথা বলবো।
এই ভিডিও কল দেয়?
-না,আমার MB নাই বাবু।
-আমি রিচার্জ করে দিচ্ছি,তুমি MB কিনে নাও।
-এখন ভিডিও কলে কথা বলা সম্ভব না।
-তো কখন সম্ভব, শুনি?আমি তোমার একটা ছবি দেখছি মাত্র।
-ধৈর্য ধরো,সবুরে মেওয়া ফলে।
-ওকে।
-হুম,,,এক কাজ করো,তুমি বরং খেলতেই যাও,আমার একটু কাজ আছে।রাতে কথা বলবো।
-আচ্ছা....
হঠাৎ কার জন্য মনে প্রেম জন্মে, এটা বোঝা বড় মুশকিল।
বুবলী আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড।
আমার জন্মদিনে উইশ করেছিল আর সেখান থেকেই পরিচয়,বন্ধুত্ব,অতঃপর প্রেম।বুবলী বগুড়া আজিজুল হক সরকারী কলেজে পড়ে,আর আমি নওগাঁ সরকারী কলেজে।
আমি বুবলী কে একবার দেখেছি মাত্র।
দিনরাত যখন তখন চ্যাটিং,ফোনে কথা বলা।
বুবলীর কন্ঠটা আমার খু্ব ভাল লাগে।
ক্রিকেট খেলছিলাম অথচ খেলাতে আমার মন নেই বললেই চলে।
তারপরেও কিছুক্ষণ খেললাম।
রহিম আসল,রহিমকে আমার পরিবর্তে ফেল্ডিং এ নামিয়ে দিয়ে চলে আসলাম।
বুবলীকে ফোন দিলাম,দেখি যে বিজি আছে,কিছুক্ষণ পরে আবারো ফোন দিলাম তখনো বিজি।
বাসায় এসে ফ্যান ছেড়ে শুয়ে আছি।
ঘুমিয়ে পড়ছিলাম,আম্মুর ডাকে ঘুম ভাঙ্গল।
আম্মু বলল যে,তোর ফোন বাজতেছে,ধরছিশ না কেন্?
বুবলী ফোন দিয়েছে ৭ বার।
ছাদে গিয়ে ফোন দিলাম।
-কি করছিলে?(বুবলী)
-এইতো একটু ঘুমাইছিলাম।
-এই সন্ধ্যায় ঘুমাইছিলা...শরীর খারাপ নাকি?কি হইছে তোমার?
-তেমন কিছুই হয় নাই রে?
-এখন কি করো?
-ছাদে বসে আছি আর তোমার সাথে কথা বলছি।
তুমি এখন কোথায়?
-রুমে...
-একটু ছাদে আসতে পারবে?
-কেন রে?
-আগে আসো, তারপরে বলছি।
-ঠিক আছে,,,রাখো।
-এখন বল,কি জন্য?
-আকাশের দিকে তাকাও
-হুম,তাকালাম, তারপর?
-চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকো।
-তারপর?
-তারপর আর কিছু না,তাকিয়েই থাকো।দুজন কাছে নেই,অথচ একইসঙ্গে চাঁদ দেখছি।কেমন লাগছে?
-খুব খুব ভাল লাগছে।
.
.
.
অদেখা, অচেনা মানুষ বুবলীর সাথে আমার ভালবাসা চলতেই থাকে।
যদিও বুবলী কে আমি দেখিনি ভাল করে,তবুও কেন জানিনা অনেক টান অনুভব করি বুবলীর প্রতি।
একদিন হঠাৎ রাতে বুবলী আমাকে বলল যে ভিডিও কলে কথা বলবে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় তখন আমার ফোনে ব্যালেন্স ছিল না।
রাত্রি তখন ১১ টা হবে।
মোড়ের দোকান থেকে রাতেই MB কার্ড নিয়ে আসলাম।
-তুমি ছবির থেকে ও অনেক সুন্দর।
-আর তুমি ও...
-আচ্ছা,এতদিন ভিডিও কলে কথা বললে না কেন?
-এমনি
-এমনি???
-হুম,তবে আজকে তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে হচ্ছিল।
-আমার প্রতিটা সময়ই ইচ্ছে হয় তোমাকে দেখতে,তোমার সাথে ঘুরতে।
-আর কী কী হয়?
-আরো অনেক কিছু....
-যেমন....?
-হাত ধরে রেললাইনে হাঁটতে ইচ্ছে হয়,,,হঠাৎ তোমার পায়ে লাগবে।আর আমি হিরোর মতো তোমায় কোলে তুলে নিবো।
-আহা!শখ কত!
-এই একটু পরে ফোন দিচ্ছি।
আবারো শিরিনের ফোন...
-বলো কি হইছে?এত রাতে ফোন দিচ্ছো কেন?
-আমি নওগাঁ ফিরে আসছি আজকে দিয়ে ৫ দিন হল।তোমাকে কতবার ফোন দিয়েছি অথচ তুমি একবারও রিসিভ করোনাই।তোমার কি হইছে,প্লিজ বলো আমাকে...
-আমি আর পারছি না।
-বুঝিনাই।
-আমার মনে হয়,আমাদের রিলেশন এখানেই সমাপ্ত করা উচিত।
-কথাটা খুব স্বাভাবিক ভাবেই বললে,রাজু।
-হুম....
-আমাদের একে অপরকে দেওয়া মুহূর্ত গুলোর কি হবে?
-মুছে ফেল সব,আর প্লিজ আমাকে ফোন দিয়ো না।
-বাহ্,,,,সুন্দর।বাই,গুড বাই।তুমি পারলে আমি ও নিশ্চই পারবো।ভাল থেকো।
-আর তুমিও।
নিজেকে খুব হালকা লাগছে...
-সরি বেবী...একটু বেশী সময় লেগে গেল।
-কোন ব্যাপার না,কিন্তু তুমি কি করছিলে?
-টয়লেটে ছিলাম বেবী।আচ্ছা আর কতদিন এভাবে চলবে....?দেখা করি,,, প্লিজ, না বলো না।
-কবে দেখা করতে চাও?
-কালকেই।
-না না কালকে না।পরশু?
-ওকে,উম্মা.....
-উমমমমমা
অারো অনেক কথা হল,মেগাবাইট শেষ হল,ফোনের ম্যাসেজ শেষ হল,ফেসবুকে চ্যাটিং,ব্যাটারি লো.....অতঃপর লোডশেডিং।
বহু প্রতীক্ষার পর সেই দিনটি এল।আমি সকালের বাসেই বগুড়া চলে আসছি।
বগুড়া চার-মাথায় বুবলীর জন্য অপেক্ষা করছি।
কিছুক্ষণ পরে একটা লাল মাইক্রো আমার পাশে দাড়াল।
জানালার কাচ খুলে এক সুন্দরী গাড়িতে উঠতে বলল।
আর এই সুন্দরই হচ্ছে,বুবলী।
-কেমন আছো,তুমি?
-ভাল,তুমি?
-আমিও ভাল আছি,খুব ভাল আছি।আসতে কোন অসুবিধা হয় নি তো।
-না,কোন অসুবিধা হয়নাই।আচ্ছা,এই গাড়িটা কি তোমাদের?
-হুম...।
-আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি?
-আমার ফুফুর বাড়ি।আমার ফুফু আমার সাথে খু্ব ফ্রেন্ডলি।
বুবলী ওর ফুফুর সাথে পরিচয় করে দিল।
কিছুক্ষণ পরে বলল যে,কি একটা জরুরি কাজে বাহিরে যেতে হবে।আমি যেতে চাইলে বলল যে,এই দশ মিনিটের মধ্যেই চলে আসবে।
ফুফু আম্মা আমাকে উপরের ঘরে যেতে বলল।এক ছাদের বিশাল এক বাড়ি।এরকম বাড়ি আমি সিনেমাতেই দেখেছি শুধু আজকেই প্রথম স্বচক্ষে দেখলাম।সত্যিই খুব সুন্দর।
যদি কখনো সম্ভব হয় তাহলে আমি ও এরকম একটা বাড়ি বানাবো।
কিছুক্ষণ পরে একটা মেয়ে হালকা খাবার দিয়ে গেল।শুধু শরবত খেলাম।
শরবতের স্বাদটা অনেক সুন্দর।কিন্তু আমি কোনরকমেই আঁচ করতে পারলাম না যে এটা কিসের শরবত।আসার সময় অনেক কিছু খাইছি তাই অন্য কিছুই খেলাম না।চোখে অনেক ঘুম পাচ্ছিল।আমার যতদূর মনে আছে,শুয়ে পড়ার সাথে সাথেই ঘুমিয়ে গেছিলাম।
পরের দিন যখন ঘুম থেকে উঠলাম।নিজেকে আবিষ্কার করলাম,এক অন্ধকার ঘরে।
জানালার ফাঁক দিয়ে হালকা আলো ঘরে আসছিল,আর তাতে সহজেই বোঝা যাচ্ছিল যে এটা স্টোর রুম।
দরজা বাহির থেকে লাগানো।জানালার ছিটকিনি জং লেগেছে,না জানি কত দিন থেকে খোলা হয় নি।
অনেক কষ্টে জানালা খুললাম।বিশাল এক পুকুর।পুকুরের কোন পাড়েই কিছু দেখা যাচ্ছে না।
খুব ভয় লাগছে,,,পরিস্থিতি আগেই না বুঝে দরজা ধাক্কা দিতে গেলাম না।অপেক্ষা করছিলাম কিছু টের পাওয়ার জন্য।আমি ভাল ভাবেই বুঝতে পেরেছিলাম, আমি ফেঁসে গেছি।
কপাল ঘামতে শুরু করছে,তলপেটে ব্যাথা করছে,বেশি টেনশন হলেই তলপেট আর মাথায় ব্যাথা হয়।কিন্তু আমি টেনশন করতে চাচ্ছি না। পকেটে মোবাইল টা নেই।ম্যানিব্যাগ ও নাই।
খুব খিদে পেয়েছে,,,,কিন্তু পেটে হাত দিয়ে খুব বড় রকমের একটা ঝটকা খেলাম।জানালার পাশে গিয়ে শার্ট খুলে দেখলাম।পেটে ব্যান্ডেজ কাপড় পেঁচানো। দু-চোখ বেয়ে পানি ঝরছে।চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে।
আমি কত দিন এখানে আছি,বুঝতে পারছি না।
বাসায় আব্বু-আম্মুকে মিথ্যে বলে এসেছিলাম।তাঁরা হয়তো এতক্ষণে টের পেয়ে গেছে।না জানি,আম্মু কত টেনশনে আছে!!!
হঠাৎ দুজন লোকের আওয়াজ শুনতে পেলাম।
অাধো-আধো আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম।আর তা থেকেই বুঝতে পারছিলাম, এ পৃথিবীতে মুক্ত পাখির মতো আমি আর কখনো হয়তো উড়তে পারবো না।
জানালা দিয়ে আসা আলোর পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতেছিল।অন্ধকার নেমে আসল।কবর বুঝি এরকমই অন্ধকার।মৃত্যুর কথা খুব স্মরণ হচ্ছিল।
দরজার ওপাশেই কারো আওয়াজ শুনতে পেলাম।
-দরজা খোল(হিংস্র মহিলা কন্ঠ)
আমি দরজার কপাটের এক পাশে দাঁড়িয়ে আছি,,,হাতে একটা লাঠি নিয়ে। হাত-পা কাঁপছে।
দরজা খুলে ভিতরে দুজন মহিলা আর এক পুরুম ঢুকল।লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত শুরু করলাম।মহিলা দুটি মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল।
কিছুক্ষণ আগেই শরীরে কোন বল পাচ্ছিলাম না কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী।
দরজার ওপাশে এসে বুঝতে পারলাম, আগের বাড়িটি এটি নয়।বাড়িটি বেশ পুরনো দেয়াল দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
বাড়িতে কোন ইলেকট্রিসিটি নেই।মাঝে মাঝে মোমবাতি জ্বালানো।কোনদিকে যাব বুঝতে পারছিলাম না।
অনেক দৌড়াদৌড়ি করে ও বের হতে পারলাম না।
পেটে ভীষণ ব্যাথা করছিল।
পেটে হাত দিয়ে আবারো সেই রুমে আসলাম।দরজা বন্ধ করে দিলাম।
হাঁটতে খুব কষ্ট হচ্ছিল।মেঝেতে বসে পড়লাম।
আর বেশি কিছু লিখা হয়তো সম্ভব না।কলমে কালি বের হচ্ছে না।কলম চেপে ধরে ধরে লিখছি।আর ইঁদুরে খাওয়া ডায়রির অবশিষ্ট শেষ পাতাটাও শেষ।
আম্মু-আব্বুকে খুব মনে পড়ছে...আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো,,,আম্মু,তোমার স্বপ্ন আমি পূরণ করতে পারলাম না।তোমার মনের মত ছেলে হতে পারলাম না।
আর শিরিন...তোমাকে বলার মত কিছু নেই আমার।শুধু একটাই কথা বলতে চাই ভাল থেকো............
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now