বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেয়েটা বিয়ের 'লায়েক' হয়ে গেছে। কিন্তু মনমতো বর মিলছে না। রাজা ভারী দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। ঘরে 'আইবুড়ো' মেয়ে থাকলে কোন বাবারই বা স্বস্তি থাকে! দিন দিন দুশ্চিন্তার মাত্রা বেড়েই চললো।
একদিন এক মন্ত্রী বুদ্ধি দিল, "জাঁহাপনা! জামাই তো অনেক খোঁজা হলো। দুনিয়ার মাপে জামাই মিলছে না। এবার না হয় আখেরাতের মাপে জামাই খোঁজা শুরু করি!"
- কিভাবে?
- গভীর রাতে মসজিদে গিয়ে খোঁজ করবো, যদি কোনও যুবককে ইবাদতরত পাই, তাকেই আমরা রাজকন্যার বর হিসেবে গ্রহণ করবো!
২.
বাবা মারা গেছেন, এখন নিজেকেই বাবার পেশায় নামতে হয়েছে। আজ চৌকিদারদের ঘনঘন টহল দেখা যাচ্ছে। মনে হয়, শহরে বড় কেউ আসবে বা যাবে! চোরটা মনে মনে ভাবছে, আজ বুঝি খালি হাতেই ফিরে যেতে হবে? তাহলে কাল খাবো কী? আচ্ছা, মসজিদে গিয়ে দেখি। দানবাক্সে যদি কিছু পাওয়া যায়!
.
মসজিদের দরজা বন্ধ। দেয়াল টপকে চোর ভেতরে প্রবেশ করলো। দানবাক্স খোলার চেষ্টা করতেই সদর দরজা খোলার আওয়াজ হলো। চোর ভয়ে এতটুকুন হয়ে গেল। এবার?
বুদ্ধি করে নামাযে দাঁড়িয়ে গেল। ওদিকে রাজার মন্ত্রী মসজিদে প্রবেশ করেই ঐ চোরকে নামাযে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো!
"সুবহানাল্লাহ! কী ইবাদতস্পৃহা! দরজা বন্ধ দেখে দেয়াল টপকে নামায পড়তে এসেছে! এমন যুবক আছে বলেই রাজ্য টিকে আছে! আর আমরা কোথায় দেশে-বিদেশে বর খুঁজে বেড়াচ্ছি!"
.
চোর মানুষের উপস্থিতির আভাস পেয়ে আরও মনোযোগ দিয়ে নামাযে প্রবৃত্ত হলো। দীর্ঘ সময় নিয়ে দুই রাকাত শেষ করেই ঝটপট আরও চার রাকাতের নিয়ত করে ফেললো। মন্ত্রী পেছনে অপেক্ষা করছে। সৈন্যরাও আছে।
.
চোর নামাযি যত সূরা-কেরাত মুখস্থ আছে, একটাকে দশ-বিশবার করে পড়লো। কিন্তু তাকে ধরতে আসা লোকগুলোর চলে যাওয়ার কোনও লক্ষণই নেই। সালাম ফিরিয়ে আবার নিয়ত করতে যাওয়ার আগেই মন্ত্রী লাফ দিয়ে এসে বাধা দিল, "থাক বাবা! আজকের মতো এখানেই থাম! শরীরের দিকেও তো খেয়াল রাখতে হবে!"
.
চোর বিহ্বল! কী হচ্ছে এসব! তাকে এত সম্মানের সাথে একেবারে রাজার সামনে কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?
রাজা সরাসরিই বললেন, "বাবা! আমরা ঠিক করেছি, রাতজেগে ইবাদত করে এমন একজনের সাথে রাজকন্যার বিয়ে দেবো! আল্লাহ তোমাকে মিলিয়ে দিলেন!"
.
চোর কিছু বলতে চাইল। রাজা থামিয়ে দিয়ে বললেন, "আমি বুঝতে পারছি তুমি কী বলবে। তুমি কোনও চিন্তা করো না! মেয়ে আমার খুবই ভালো। প্রাসাদে বড়ো হলেও, কুঁড়েঘরে থাকার প্রশিক্ষণও তাকে দেয়া হয়েছে! ইবাদত-বন্দেগীতেও আমার মা-টার তুলনা নেই। তাছাড়া এখন থেকে তুমি তো আর গরীব নও!"
.
চোর লজ্জায় সংকোচে এতটুকুন হয়ে গেলো। সবাই ভাবলো বিয়ের কথা শুনে এমনটা হয়েছে।
তার মনে চিন্তা এল, "সামান্য লোকদেখানো-ভেজাল নামায যদি আমাকে ‘প্রিন্স’ (রাজকুমার) বানিয়ে দেয়, আর ‘প্রিন্সেস’ (রাজকুমারী) মিলিয়ে দেয়, তাহলে আসল নামাযের শক্তি কতোখানি!?"
.
মহান আল্লাহ আমাদের নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার তৌফিক দিন, আমিন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now