বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"ভেজা বৃষ্টি"
তখন সময়টা হবে বর্ষার একটু আগে,আকাশে সাদা-কালো মেঘের ঘনঘটা।ছুটিটা মিললো ও এসময়,চাকরির সুবাদে দেশের বাইরেই থাকা হয় বেশিরভাগ সময়।আর ছুটি সেতো আমবস্যার চাঁদ। বছরে হাতেগোনা কিছু দিন।আর তাও এমন সময়ে বৃষ্টির দিনে,বৃষ্টি আমার কৈশর থেকেই বিরক্তির বিষয়বস্তু।কেমন জানি বিরামহীন পানি ঝড়া,কোন কিছুর একটা সীমা থাক দরকার এর বাইরে গেলে জিনিসটা বিরক্তি বোধ ছাড়া আর কিছু নয়।অনেকের কাছে বর্ষা,সেতো এক প্রেমময় সময়,সুখের উপাখ্যান। আর আমার জন্য বিরক্তিকর স্যাতস্যাতে এক অনুভুতি।
থাক সে কথা,,,,
বাসায় এসে একটু কয়েকদিন যে অলসভাবে কাটাবো সে সুযোগ আর হলো না,নিকট আত্মীয়,বোন,বোন-জামাই সবমিলিয়ে বাসাভর্তি।প্রায় সবারই একি প্রশ্ন,ছুটি কয়দিন,শুকিয়ে গেলি যে,বিয়েটা এবার করেই নে,দাদার মতো বুড়ো হলে করবি নাকি।তখন আর মেয়ে বিয়ে করতে হবে না,মহিলা বিয়ে করবি...আরো কত কি
তবে বুঝতে পারছি না,মেয়ে আর মহিলার মাঝে কি এমন দূরত্ব।
শনিবার সকাল,সকাল বললে ভুল হবে,বেশ বেলা হয়েছে।বোন এসে ঢেকে দিয়ে গেলো।আলসেমি কাটিয়ে চোখ খুলেই,আম্মুর ব্যাস্ততা চোখে পড়লো।আমকে ও রেডি হয়ে নিতে বললো।কই যাবে এ নিয়ে কিছু বলছে না।রেডি হয়ে বের হলাম।
সে এক অপরিচিত জায়গা,সামনে মোটামুটি কয়েকটা খুটি আর মরিচা ধরা টিন এর উপর ভিত্তি করে দাড়িয়ে আছে একটা বাড়ি।বাড়ি বললে হয়তো ভুল হবে,তবে এখন আর অন্য কিছুর সংজ্ঞা মনে আসছে না।বাড়ির ভিতর মলিন একটা বেডশিট দেয়া আবৃত খাটের উপর বসলাম।কিছু ছোট ছোট বাচ্চা মেয়ে ছেলে খামড়ার অপর পাশ থেকে ওকি-ঝুকি দিচ্ছে।ওদের ছোট চাহনির পাশাপাশি কিছু প্রবীন চোখ ও নজরে এলো।অসস্তি লাগছে আমার।সময়কে একটু থমকে দিয়ে,পাশের খামড়া থেকে হলুদ রঙের কিছু পানীয় নিয়ে এক মেয়ের আগমন।মেয়ে নাকি মহিলা..এর মাঝামাঝি আর কিছু আছে কি,কনফিউশান হচ্ছে এটা নিয়ে।আর ভাবনা আসছে না,থাক।খয়েরি রঙের শাড়ি,মুখটা পুরোটা ঘোমটা দিয়ে ঘেরা এক মানবী।শাড়ির মাঝ গলিয়ে বেরিয়ে আসা হাতই জানান দিচ্ছে কোন এক কবিতার নামের মতো।কবিতা হয়তো এখনো বাকি।আমার দিয়ে এগিয়ে আসলো হলুদ রঙের পানীয় নিয়ে একটি হাত।খুব ভালো করে খেয়াল করলাম,নখগুলো খুব সুন্দর করে কাটা,যেন কারো খুব বাধ্যে।আধুনিকতার কোন ছোয়া নেই।পানীয়টা হাতে নিলাম।মা বসার সু্যোগ করে দিলো।এসময় পরিচিত কেউ কাছে এসে আলতো করে ঘোমটাটা সরিয়ে দিলো।আমি জানিনা সুন্দর জিনিসের বর্ণনা কিভাবে ব্যাখা করতে হয়।কখনো হয়তো সুন্দর জিনিসের সৌন্দর্য নিয়ে কখনো ভাবার চেষ্টায় করা হয় নি।তবে ঘোমটার আড়ালে (মেয়ে বা মহিলা) রুপি মানবীর নিচের দিকে থাকিয়ে থাকা চোখে কি খুজছে,তা নিয়ে আমার ধারণা নেয়।তবে আমি হয়তো এমন কিছু খুজে পেয়েছি,যা ছাড়া সৃষ্টির প্রথম মানব
(আদম আঃ) ও হয়তো একলপনায় ভুগতো।মৃদু উজ্জল গায়ের রঙ,দীর্ঘ নাক,ঠোটের কোণে লেগে থাকা মদাকতা,চাহনিতে ধোয়াশা কিছু একটা, আর কপালে কয়েক ফালি কালো কেশের ছড়াছড়ি.....,
বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়ছে,
কি অদ্ভুত!!!
আজ বৃষ্টির জল নিয়ে কোন বিরক্তিবোধ হচ্ছে না।এ কি আমি?
আমি কি আদৌ আমার মাঝে আছি...নাকি হারিয়ে ফেলেছি,খয়েরী রঙের শাড়ির ঘোমটার আড়ালে.....,
হয়তো বর্ষার আগমনের সাথে একটা নতুন অস্তিত্বের আগমন ও ঘটছে মনে...........,❤
হালকা একটু আলসেমি কাটিয়ে,লিখার প্রচেষ্টা।ভুল ত্রুটি হলে,জানাবেন প্লিজ.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now