বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভাড়াটে
--------------
"রাজধানীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে সিরিয়াল কিলার, টার্গেট মধ্যবয়সী নারী।"
পত্রিকার হেডলাইনটা দেখে লুৎফা বেগমের চোখ আটকে গেলো। ঢাকায় সিরিয়াল কিলার। ব্যাপারটা বেশ ইন্টারেস্টিং। সিরিয়াল কিলারের বিষয়গুলোর প্রতি লুৎফা বেগমের আলাদা একটা দুর্বলতা আছে ছোটবেলা থেকেই। তিনি খবরটা বেশ ভালো করে পড়লেন। জানা গেছে, রাজধানীতে বাসা দেখার নাম করে এক তরুণ বয়সী লোক এখন পর্যন্ত পাঁচটা খুন করেছেন। এদের মধ্যে সকলেই মধ্যবয়সী মহিলা। লুৎফা বেগম আয়নার দিকে তাকালেন। তিনিও তো মধ্য বয়সী। সিরিয়াল কিলারটা কি তাকে টার্গেট করতে পারে না?
লুৎফা বেগম বিয়ে করেন নি। পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত এই বিল্ডিংটার একটা ফ্ল্যাটে একাকী জীবন যাপন করেন। বাকি ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। একাকী জীবনে থ্রিলার, মিস্ট্রি ধাচের বইগুলোই তার সঙ্গি। লুৎফা বেগম ভাবছেন সিরিয়াল কিলারের কথা। যদি কখনো মুখোমুখি হতে হয়? কেমন রোমাঞ্চকর হবে ব্যাপারটা!
টিংটং। হঠাৎ কলিংবেলের আওয়াজে ভড়কে গেলেন তিনি। মনে মনে একটা নিষিদ্ধ আশা।
-কে?
লুৎফা বেগম হাঁক ছাড়লেন।
-জি, বাসা ভাড়া হবে?
অত্যান্ত নরম কন্ঠে কেউ একজন বলে উঠলো।
লুৎফা বেগম উত্তেজিত হয়ে পড়লেন। সিরিয়াল কিলারটাও হতে পারে। কে জানে? দরজা খুলে দেখা গেলো লোকটার সাথে পত্রিকার সিরিয়াল কিলারের বৈশিষ্ট্যের প্রিয় আশিভাগ মিল। কর্পোরেট পোশাকে কাছে ব্যাগ ঝুলানো একজন তরুণ। ওই ব্যাগেই বোধহয় চাপাতিটা থাকে।
একবার লুৎফা বেগমের ইচ্ছে হলো দড়াম করে দরজাটা লাগিয়ে দিতে। কিন্তু একটা রোমাঞ্চকর মুহূর্তের আশা তাঁকে বাধা দিলো। লুৎফা বেগম লোকটাকে বাসা দেখাতে নিয়ে গেলেন। সঙ্গে নিলেন একটা ধারালো ব্লেড। লোকটা ঘুরে ঘুরে বাসা দেখছে। বারবার ব্যাগে হাত দিচ্ছে। নিশ্চই চাপাতিটা বের করতে চাচ্ছে। লুৎফা বেগম সতর্ক দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে আছেন। চোখের আড়াল হলেই সর্বনাশ। লোকটাকে খুন করতে হবে। নাহলে বাঁচা যাবে না। লুৎফা বেগম সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন।
লোকটা এখন ভিতরের রুমটা দেখছেন। এটাউ সুযোগ। লুৎফা বেগম পেছন থেকে ব্লেডের এক পোচে গলাটা ফাকা করে দিলেন। লোকটা কিছু বুঝে উঠার আগেই আরেকটা ব্লেডের আরেকটা পোচ মেরে মৃত্যু নিশ্চিত করলেন। লোকটার দেহ কয়েকবার কৈ মাছের মত লাফিয়ে নিস্তেজ হয়ে গেলো। রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। লুৎফা বেগমের শাড়ীর নিচের দিকটা রক্তে ভিজে গেলো। তিনি লোকটার ব্যাগ চেক করলেন। ব্যাগে চাপাতি বা মানুষ খুন করা যায় এমন অস্ত্র ছিল না। কয়েকটা গোলাপ ফুল ছিল শুধু। লুৎফা বেগম পাথরের মূর্তির মত ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকলেন।
দুই মাস পরঃ
কলিং বেলের শব্দ।
-কে?
লুৎফা বেগম হাঁক ছাড়লেন।
-বাসা দেখানো যাবে?
-হ্যা যাবে।
লুৎফা বেগম ব্লেডটা হাতে নিলেন। গত দুই মাসে এই পর্যন্ত আটজন খুন হলো তাঁর হাতে। অথচ এদের কেউই সিরিয়াল কিলারটা ছিল না। লুৎফা বেগম হতাশ হন নি। তিনি জানেন, একদিন না একদিন সিরিয়াল কিলার টা তাঁর কাছে আসবেই। হয়তো আজকেই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। লুৎফা বেগম ব্লেড টা শক্ত করে চেপে ধরলেন। আজকেও খুন করতে যাচ্ছেন তিনি। ????
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now