বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#হরর_রহস্য_সিরিজ
#ভ্যাম্পায়ার_কিং
লেখক:শাহরিয়ার হাছান
পর্ব ৬
রাতে চোখ বন্ধ করার সাথে সাথে ঘুম চলে আসলো।সকালে উঠতেই হালকা হালকা আনন্দ লাগছে।মন চাচ্ছে নাচি,আকাশে উড়ে।ভাবতেই ডানা বের হলো পিঠ থেকে।ছাদে উঠে দিলাম উড়াল।আমিই মনে হয় একমাত্র ভ্যাম্পায়ার যে দিনেও বের হতে পারে ভ্যাম্পায়ার সাথে মানুষও হতে পারে।না জানি আমার ডি.এন.এ তে কি চলছে।অনেক্ষণ উড়ে অনিশার রুমে গেলাম।এখানো কি ঘুমাচ্ছে।গিয়ে দেখি অনিশা বেডে নেই। কই গেলো।বাথরুমের থেকে আওয়াজ আসছে।তার মানে বাথরুমে।অনেক্ষণ বসে রইলাম।অনিশা বাথরুম থেকে বের হলো
-নীল তুমি এতো সকাল সকাল
-দেখতে আসলাম তোমার অবস্থা
-একটু ক্লান্ত ঠিক হয়ে যাবো দুই তিনদিনে
-তোমার কি মাথা ব্যাথা করে?
-নাহ
-তাহলে ঠিক আছে
-কেনো?
-অামার মতো মাথা করলে বুঝতাম ভ্যাম্পায়ার হয়ে যাচ্ছো।যাক কিছু হয় নি আমার চিন্তা হচ্ছিলো।আচ্চা আমি যাই নিজের খেয়াল রেখো।
-ওকে
চলে আসলাম।মনে একটা প্রশ্ন জাহলো অনিশা কেনো ভ্যাম্পায়ার হচ্ছে না।আমি তো হয়েছি।অরিকেই বলতে পারবে কেনো।রাত যে কখন হবে।কি করি। উড়াল দিলাম সোজা পুলিশ বেটার কাছে।ঢুকতেই দেখি ওসি সাহেব আর রাব্বির মাঝে কিছু হচ্ছে।মনে হলো কথার কাঁটাকাঁটি।
-রাব্বি কেসটা আমি নিয়া নিলাম।তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।
-আমি আপনাকে প্রমাণ দিলাম ভ্যাম্পায়ারদের আর আপনি মজা ভাবছেন।অনেক অপমান করছেন। যান তো আপনার কেস আপনি সামলান
ওসি সাহেব আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,"এর প্রতিশোধ আমি নিবো"।এরপর চলে গেলো।
-কিরে কি হইছে রাব্বি?
-আরে বলিছ না নিজে তো কিছু করে না সব আমার দিয়া করায়।আবার বড় গলা।ফালতু একটা লোক
-তুই শান্ত হ
-বালের চাকরি ছাইড়া দিমু
রাব্বি অনেক রেগে আছে।ওকে বুঝাইয়া শান্ত করাইয়া চলে আসলাম।
দুপুরে বাসায় আসলাম।ঢুকতেই বাবা ডাকলো।
-নীল বসো কথা আছে
-জি বাবা বলো
-তোমার তো বয়স কম হয় নি।তেইশ পার করলে।
-হুম।
-আর এই বয়সে কোনো মেয়ে সোজা তোমার বেড রুমে যায় দিন কি রাত কি।আবার তুমিও যাও।
-চুপচাপ কিছু না বলে বসে রইলাম।
-তো সিদ্ধান্ত নিলে।অনিশার বাবা কিন্তু এ নিয়ে আমাকে বলেছে কয়েকবার।কিন্তু এবার তোমরা বেশিই ক্লোজ।
-একদম চুপ করে বসে রইলাম।
-অাজব তো ভয় পাচ্ছো কেনো।আমি তো বলছি অনিশার বাবার সাথে বিয়ের ডেট ঠিক করবো কিনা।
-সত্যিই।লাভ ইউ আব্বু।তোমার যেদিন মন চায় সেদিন।
খুশিতে তো নাচতে মন চায়।সবার আড়ালে ছাদে উঠলাম।উঠে ডানা দুটো বের করে দিলাম উড়াল।অনিশার রুমে ঢুকলাম।মেয়েটা আয়নার সামনে বসে আছে।চুল হালকা ভিজা মনে হয় একটু আগে গোসল করেছে।আসতে আসতে পিছন দিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম।
-এই তুমি কখন এলে
-এই তো মাত্র এলাম।
-ওহ
-একটা কুশির সংবাদ।আমাদের বিয়ের ডেট ঠিক করা হবে।
-সত্যিই
-হুম
এই দিকে আমার অবস্থা খারাপ একতো ওর নেশা ধরানো রক্তের গন্ধ অন্য দিকে ভিজা চুলের গন্ধ।
ঘাড়ে নাক ঢুবিয়ে দিলাম।
-এই ছাড়ো।
-না ছাড়বো না
দুপুরটা ওইখানেই কাঁটলো কি হলো সেটা না হয় আপনারা নাই জানুন।বিকালে নিজের বাসায় চলে আসলাম।রাব্বি ফোন দিয়েছে ও আসবে।রাব্বির সাখে কথা বলতে বলতে সন্ধ্যা পার হয়ে গেলো।হঠাৎ কতগুলো ছোট ছোট বাদুর জানালা দিয়ে ঢুকলো।ধিরে ধিরে একটা রুপ ধারণ করলো।সেটা আর কেউ নয় অরিক।
-তুমি এখানে?
-হুম নীল।তোমাদের তো বলা হয় নি কেনো ভ্যাম্পায়ার রাজ্য থেকে সবাই পৃথিবীতে আসতে চাচ্ছে।
-বলো
-ঘটনা আরো অনেক বছর আগের।তখন ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে শান্তিই শান্তি ছিলো।এক লক্ষ্যের কম ছিলো ভালো ভ্যাম্পায়ার।আর বিশ হাজার ছিলো ব্ল্যাক ভ্যাম্পায়ার।সেই বিশ হাজারের রাজা ছিলো এলবার্ড।খুব ভয়ানক রাজা।অন্য দিকে আমাদের রাজা ছিলেন চার্লস এডওয়ার্ড।উনি অনেক ভালো ছিলেন।এভাবে শান্তিতে সব কিছু হচ্ছিলো।ঘটনার শুরু হয় রক্ত নিয়ে ব্ল্যাক ভ্যাম্পায়ার মৃত পশুর রক্ত খেতো না জীবিত পশুর খেতো।আর আমরা মৃত।আমরা অন্যকে হত্যা পছন্দ করতাম না।চার্লস ওনাদের অনেক বার বুঝায় বুঝে না।শেষে বিস হাজার ব্ল্যাক ভ্যাম্পায়ার একদিন গোপনে রাজ মহলে ঢুকে আক্রমণ করে।আঘাত বাঘের উপর আক্রমণ করে।চার্লসদের কোনো প্রস্তুতি বা অস্ত্র ছিলো না।সেদিন মহলের সব সৈন্যদের মেরে ফেলে চার্লসকেও মারতে চায়।খুজে পায় নি। শেষে রাজ চার্লসকে পায়।চার্লস বসে ছিলো।চার্লস কখনো বয় কি শিখে নি।একা বিশ বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ করে আর কতো পারবেই বা।চার্লসের মৃত্যর পর অনেক কঠিন ভাবে দেহকে বিবৃত করা হয়।সেটা মেহেলের সামনে রেখে সবাইকে দেখায়।সেদিন রাজ্যের সকাই ভয় পায়।চার্লসের মতো এতো সাহসী কেউ ছিলো না।সে আর নিই সবার সাহসও চলে যায়।বিশ হাজার ব্ল্যাক ভ্যাম্পায়ার গোলাম করে নেয় আমাদের কে।কঠিন খেতে কঠিন কাজ করায় বিনিময়ে এক ফোটা রক্ত।আমরা সহ্য না করতে পেরে পৃথিবীতে আসার চিন্তা করি।আর সফল হই।কিন্তু এখানে আসার পর আরো মাথা খারাপ হয়ে যায়।চারদিকে রক্তের গন্ধ।এতো মধুর যা ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে নেই।আমার সাথের গুলো খারাপ হয়ে যায়।এরপর সেদিন তোমাকে ধরে কিন্তু তুমি বেঁচে যাও।আর ভ্যাম্পায়ার হও।
-ওহ বুঝলাম সব কিছু
-আচ্চা তোমার পাশের বাসায় কে থাকে।আসার সময় একটা কড়া মিস্টি রক্তের গন্ধ পাচ্ছিলাম।আমি তো কন্ট্রোল করতে পারছিলাম না অনেক কষ্টে এখানে এসেছি।
-এই অরিক সাবধান ওর দিকে চোখ দিবে না।
-কে সে?
-আমার হবু বউ। কয়দিন পর আমাদের বিয়ে
-সামলিয়ে রাখো আমি তো কিছু করবো না অন্যকেও করতে পারে।
অরিক এরপর চলে গেলো।রাব্বিও একটু পর চলো গেলো।রাতটা কোনো রকম পার করলাম।
সকালে উঠে নিচে নামতেই চোখ কপালে উঠলো।ওসি সাহেবে আমাকে গ্রেফতার করলো।কারণটা শুনেই চোখটা কপালে উঠেছে।কারণটা হলো রাব্বির খুনের দায়ে আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।শেষ বার আমার বাসায় আসে।নদীর ওর লাশ পাওয়া গেছে।
আমি সেখানে কথা আর বলতে পারি না। আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় জেলে।চার দেওয়ালের খাঁচায় বন্ধি।আমার চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়তে রাব্বি আর বেঁচে নেই।
চলবে.........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now