বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ কলেজ জীবনের তৃতীয় দিন । মফস্বল শহর থেকে বড় শহরে এসেছি তাই একটু অন্য রকমই লাগছে । ক্লাস শেষ তাই সবার সাথে পরিচিত হবার চেষ্টা করছি । কলেজের প্রথম দিকাকার ক্লাস জানেনই ত কেমন হয় । দুই দিনেই বেশকিছু ছেলে বন্ধু বান্ধব জুটে গেছে । কিন্তু একটা মেয়েকে নিয়ে আর পারছি না । প্রথম দিন থেকেই খেয়াল করছি মেয়েটা কেমন যেন লুকিয়ে লুকিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে আবার আমি তাকালে এমন ভঙ্গি নেয় যেন আমাকে সে সহ্যই করতে পারেনা । আমি কিছু বলার সাহস পাচ্ছিনা । এমনিতেই আমি নতুন , তারপরও যদি বড় ভাইদের পছন্দের কেউ হয় তাহলে তো উল্টা ধোলাই খাবার ভয় থেকেই যায় । কিন্তু আজ আমার সাথে এই ব্যাপারটা পিয়াসও ( আমার বন্ধু ) খেয়াল করেছে । ঐ শালা আবার এইরকম কাজে পটু বলা চলে প্রেম গুরু । সেদিন ক্যাম্পাসে বসে ছিলাম আমি , পিয়াস শাকিলসহ আরো কয়েকজন । আড্ডা চলছে । ওহ আমি রাফি । বাবা মার প্রতি মাসের বেতন অনুযায়ী মধ্যবিত্ত বলা চলে ।
~ঐ দেখ রাফি ওই মেয়েটা না তর দিকে তাকায়া আছে (পিয়াস)
~কই কোন মেয়ে (আমি)
~ভালো করে দেখ বারান্দাতে দাড়ায়া আছে
~অহ ওই মেয়েটা
~কিহ কোন মেয়েটা ??
~শালা যে মেয়েটা ক্লাসেও আমার দিকে তাকায়া থাকে ( কথাটা বলতে একটু লজ্জা লাগতেছিল কারণ আমি দেখতে এতো হ্যান্ডসাম না যে মেয়েরা আমার দিকে তাকায়া থাকবে )
কথাটা শুনে সবাই আমার সাথে টিটকারি মারা শুরু করল
~শালারা ফাজলামি শুরু করলি কেন ??
~বারে তুই হইলি এই কলেজের নতুন জামাই তর সাথে কি ফাজলামি করা যায় ?? (শাকিল)
~আয় দোস্ত তর কপালের সাথে আমার ঘষা দেই !!! তাইলে আমার দিকেও মেয়েরা তাকায়া থাকব (পিয়াস)
আবার একদফা হাসাহাসি
~আরে তরা ফাজলামি রাখবি (আমি একটু বিব্রত বোধ করে )
~এইবার কাহিনীটা কি সেইটা বল ..।। (পিয়াস)
~কি কাহিনী (আমি)
~ঐই মাইয়া আর তর কাহিনী
~ দূর আমি ঔইডারে চিনিই না
~চল ঐইদিকে (বলেই পিয়াস উঠে দাঁড়াল )
~তুই কি পাগল হইলি নাকি আমি যামু ঐ মেয়ের কাছে !!!!
আসলে আমি একটু লাজুক টাইপের । কোনো মেয়ের কাছে ঘেষতে পারি না । তাই আমার মেয়ে বন্ধুও কম ছিল না ।
~ না আমি মেয়ে দেইখা ভয় পাই .........
আবারো সবাই হাসাহাসি শুরু করল আমার কথা শুনে ।
কিন্তু কি আর করার সবার জোরাজোরিতে ঐ মেয়ের কাছে যেতেই হলো । আসলে আমাদের ফেন্ড সর্কেলে এমন কিছু ফেন্ড থাকে যারা তোমাকে ' কিলায়া , লাইত্তায়া , গুতায়া , ঘুসি দিয়া হইলেও তোমার পছন্দের মানুষটার কাছে পাঠাবেই । কি আর করার আমি নিরূপায় ।
গেলাম মেয়েটার কাছে খুব ভয় লাগতাছিল ।
একটু কাছাকাছি যেতেই আগে জুতাটা দেখে নিলাম ! নাহ একদম নিরাপদ জুতোয় বেল্ট লাগানো । খুলতে সময় লাগবে । এক হাতে বই আরেক হাতে পার্টস । যাক থাপ্পর খাবার ভয়ও নাই । একটু খুশিই হলাম । কিন্তু এইসব ভাবতে ভাবতে কখন যে মেয়েটার একেবারে সামনে এসে গেছি সেদিকে আমার খেয়ালই নেই
বলতে হবে সৃষ্টিকর্তা মেয়ে জাতিকে অপরূপ মায়া দিয়ে সৃষ্টি করেছে
মেয়েটা দেখতে বিড়ালের মতো সাদা না , কিন্তু ফরসা । চোখ গুলোয় টানা
গোলাপি ঠোঁটটা ফুলের পাপড়ির মতো । মায়ায় ভরা চেহার যাকে বলে । সত্যিই মেয়েটা অনেক সুন্দরী ।
আমি তাকিয়ে তাকিয়ে মেয়েটাকে দেখতেছিলাম । কিন্তু আমিও যে একটা মহা উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছি সেই কথা ভুলেই গিয়েছিলাম ।
আমার ঘোর কাটল মেয়েটার ডাকে ।
~এই যে এতো কাছে ঘেষতেছেন কেনো (মেয়ে)
~কি কই নাতো !!! (একটু ভয়ের সুরে )
~ নাতো মানে !!এমন হাবার মতো একটা মেয়ে মানুষের দিকে তাকায়া আছেন কেন ???
~ জি আপনি দেখতে খুবই সুন্দরী ( মনে মনে একশ একটা গালি দিলাম পিয়াসরে , হালা আমারে ভেজালের মধ্যে ফালাইলি)
~জীবনে আর কোনো সুন্দরী মেয়ে দেখেননি (একটু রাগী কণ্ঠে )
~না আপনার মতো না
~ লজ্জা বলতে কিছু আছে আপনার ??
~ কেন আমিতো যথেষ্ট লাজুক
খিলখিল করে হাসার অনেক গুলো শব্দ । বুঝলাম আশেপাশে তার বান্ধবীরাও আমাকে দেখতাছে
~ না আপনি যথেষ্ট বোকা ( একটু হেসে )
বুঝলাম একটু বোকামি হয়ে গেছে তবুও তো হাসিটা দেখতে পেলাম । হাসিটাও অনেক সুন্দর , বলতে গেলে অদ্বিতীয়া ।
~ হতে পারে (আমতো আমতো করে)
~কিছু বলার আছে আপনার ?
~না !! (কি বলব ভেবে পাচ্ছিলাম না)
~তাইলে দাঁড়াইয়া আছেন কেন ??
আর কিছু বলার সাহস হল না । উল্টা দিকে পা চালালাম ।
ফিরে গিয়েই পিয়াস হালারে ধুমধাম কয়েকটা বসাইলাম ...
~অই তুই আমারে মারতাছর কেন ? (পিয়াস )
~আমারে তুই একলা ফালাইয়া আসলি কেন ?
~একলাই তো করা লাগব । হইয়া গেলে তো আমারে ভাগ দিবি নারে ???(হেসে হেসে)
~দোস্ত মেয়েটার সাথে তর হেব্বি মানাব(শাকিল)
~দূর চিনিনা জানিনা ঐ মেয়েরে নিয়া ভাবার টাইম নাই !!
তারপর আর কিছুক্ষন সবাই মিলে আড্ডা দিয়ে বাসাই ফিরলাম । আমার তো আর বাসা না , মেসে থাকি ......
তারপর fb একটু উকি দিলাম । আসলে এই যুগে দিনে একবেলা না খেয়ে থাকা যায় কিন্তু একবেলা Fb তে না ডুকে থাকা যায় না । কিন্তু বেহায়া মন আমার কিছুতেই কিছু মানে না । ঐ মিষ্টি মেয়ের দুষ্টু হাসিতেই পড়ে আছে । আসলে আমি একটু এইরকমই আবেগী টাইপের মানুষ । তো পরের দিন যথারীতি কলেজে গেলাম । আবার বন্ধুবান্ধবের টুকাটাকি ফাজলামি
~কিরে দোস্ত মিষ্টি কই (আবির)
~মিষ্টি না খাওয়াইলে কিন্তু Happy ending হবে নারে (পিয়াস)
~শুরুই করলাম না এখনই ending (আমি)
ঐতো মেয়েটা যাই দেখি কাজ হয় কিনা
আজ নিজেই মেয়েটার সাথে কথা বলার জন্য সাহস অর্জন করে নিলাম ! তারপর গেলাম সেই মেয়ের কাছে
OMG এতো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি । আমাকে দেখে মেয়েটাই তার বান্ধবীদের ছেড়ে একা হয়ে গেল । একটু ভরসা পেলাম
~হাই , কেমন আছেন ?
~ভালো
~নীল কাপড়ে আপনাকে খুব মানায়
~তাতে আপনার কি (একটু রেগে চোখ দুটো বড় বড় করে)
~না এমনি বললাম অনেক সুন্দর লাগছে আপনাকে
~অহ্ (একটু হেসে)
~আপনার হাসিটাও অনেক সুন্দর
~আচ্ছা আপনি কি আর কথা খুঁজে পাচ্ছেন না বলার জন্য ??
~না আ আ পা পাচ্ছি তো (কি কমু মাথায় ধরে না ! ব্যবহার দেখে একটু অবাক হলাম , পাগল টাগল নয়তো আবার)
~আপনার অভ্যাস এতো খারাপ কেন ???
~জি অভ্যাস খারাপের কি পেলেন ?? (আমি একটু আশ্চার্য হয়ে)
~এই যে মেয়ে পাইলেই পটাইতে চান !!!
~মানে !!
~আপনি আমার পিছনে লাগছেন কেন ??
~আমি আপনার পিছনে লাগছি ? অপনিই তো আমার দিকে তাকায়া থাকেন !!
~কি মনে করেন নিজেকে সালমান খান ?!
~দেখুন গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসবেন না
~কিহ্ আমি ঝগড়াটে মেয়ে (রাগে ফায়ার হয়ে)
~আমি কি বলছি যে আপনি ঝগড়াটে মেয়ে
~আপনি কি মনে করেন আমাকে
~আপনি যা আমি আপনাকে তাই মনে করি
~আমি কি বাচ্চা যে আপনি কি বলবেন তা আমি বুঝব না
~শুধু বাচ্চা না আপনি এখনো পিচ্চি বাচ্চাই রয়ে গেছেন
~বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আপনি আর কোনো দিনও আমাকে বিরক্ত করবেন না !! (খুব কড়া মেজাজ দেখিয়ে)
~আমি যে আপনার কাছে বিরক্তিকর তা আমি বুঝতে পারিনি , মাফ করে দিবেন আমাকে | আপনাকে খুব ভালো লেগেছিল তাই একটু কাছে পেতে চাইতাম , ঠিক আছে আপনার কথাই রইবে আমি আর কোনোদিন আপনাকে বিরক্ত করব না (মাথাটা নিচু করে কথাগুলো একনাগাড়ে বলে আমি পিছন দিকে ঘুরলাম)
~এই যে শুনুন (মেয়েটি আবারো সেই রাগী কণ্ঠে)
আমি থামলাম না আমার মতোই চলতে থাকলাম
~আপনাকে আমি দাঁড়াতে বলছি (একটু নরম করে)
আমি চলতেই থাকলাম
~অই রাফি থামো , আমি অর্পি (চিৎকার দিয়ে মেয়েটি বলল )
উফফ আমি যে আসলেই একটা বোকা তা এখন হারে হারে টের পাচ্ছি । একটা মেয়ের সাথে কথা বলতে গেছি আর সেই মেয়ের নামটাই জিজ্ঞাস করি নাই । অর্পি নামটা শুনেই আমি থমকে দাঁড়ালাম
আমিতো অর্পি নামের একজনকেই চিনি
ফেসবুকে প্রায় একবছরের পরিচয় আমাদের । সম্পর্কটা বন্ধুত্বের চেয়ে কিছুটা বেশি
তাকে কখোনো দেখিনি
তাই বাস্তবে চিনিও না । যাইহোক আমি আবার
মেয়েটার কাছে আসলাম
সন্দেহ দূর করার জন্য জিজ্ঞাস করলাম
~কোন অর্পি
~তোমার কিউটি (আমি অর্পিকে Fb তে কিউটি বলে ডাকতাম কিন্তু মেয়েটা যে বাস্তবেও এত্তো কিউট তা জানতাম না)
~অই তুমি আমাকে আগে বলনি কেন
~কি করে বলব তোমাকে ! আমার নামটাই তো জিজ্ঞাস করোনি ! এতো হাবা তুমি !!! (জোরে জোরে হেসে)
আমার একটু রাগ হলো হাবা নামটা শুনে
~কি আমি হাবা??
~না গাধা
~দেখ পাগলি বেশি হয়া যাইতেছে কিন্তু (যখন অর্পির কথা শুনে রাগ উঠত বা আবেগ বেড়ে যেত তখন তাকে পাগলি বলে ডাকতাম ফেবুতে , এখন বাস্তবেও)
আমরা fb তে অনেক ক্লোজ । তাই কথা বলার সময় মনে হচ্ছে আমরা চিরপরিচিত
~চল কিউটি ঘুরতে যাই (আমি হঠাৎ করেই বলে ফেললাম)
অর্পি একটু অবাকই হলো এমন কথা শুনে তবুও বললো
~চলো যাই....
~রিক্শা ডাকি (আবেদনের সুরে)
~অ্যা অ্যা শখ কতো (চোখ বড় করে)
~এই রিক্শা ......!
অর্পি নিজেই রিক্শা ডাক দিল
আমি তো পুরাই আবাক রিক্শা কাছে আসতেই মহারাণী রিক্শায় উঠে বসল । আমি হা করে তাকিয়ে আছি । মনে মনে ভাবছি সারা জীবন পাগলামি করার জন্য হলেও এই পাগলি কিউটি মেয়েটাকে আমার লাগবেই । অর্পির কথা শুনে বাস্তবে ফিরলাম
~আমি কি একাই ঘুরতে যাব (অর্পি আভিমানের সুরে)
~না আমি কেনো আছি ?
রিক্শাতে এক পা রাখতেই অর্পি তার ব্যাগ দিয়ে মাঝখানে দেয়াল তুলে দিল । কলেজ ফাকি দিয়েই ঘুরতে বের হলাম । আইসক্রিম দুইজনের প্রিয় একদফা হয়ে গেল । আনেক ঘুরলাম একসাথে কিন্তু মাঝখানের দেয়াল তুলতে পারলাম না । আপসোস রয়েই গেল । সারাদিন ড্যাটিং মেরে সন্ধ্যায় মেসে এসে দেখলাম আমার মানিব্যাগের ওজন কিছুটা কমে গেছে । এভাবেই কিছুদিন চলতে থাকল আমাদের খুঁটি নাটি ভালোবাসা খুঁনসুটি
অন্য একদিনের ঘটনা ।
অলস দুপুরে মেসে বসে ভাবছি অর্পির কথা । মেয়েটাকি আমাকে ভালোবাসে নাকি ছলনা করছে । ফেসবুকের পরিচয় থেকে কি সত্যিকারের ভালোবাসা হয় । কিন্তু আমিতো মেয়েটাকে সত্যিই ভালোবাসি । নাহ্ যে যাই বলুক মেয়েটাও আমাকে ভালোবাসে , কেউ না বুঝক আমি বুঝি
তখনই অর্পিতার ফোন......
~হ্যলো রাফি |
~হুমম কিউটি কেমন আছো ??
~আমি ভালোই তুমি ?
~হা ভালোই আছি এখন , তোমার ফোন পেয়ে |
~তাই আচ্ছা শোনো আজ একটু সময় দিতে পারবা আমাকে !!
~অবশ্যই ...
~তাহলে বিকেলে পার্কের সামনে দাড়িয়ে থাকবে অর্পি
~কেন তুমি কি আবার বাচ্চা হতে চাও নাকি (ফাজলামির সুরে আমি বললাম)
~আরে আমি বলছি পার্কের সামনে দাড়াতে ভিতরে তো যাবার কথা বলিনি ।
~অহ আচ্ছা
.
তারপর আর কিছুক্ষণ কথা বলার পর আমি বললাম
~অর্পি আমি তোমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসি প্লীজ পাগলি একবার বলনা ভালোবাসি
~আমি কি বলেছি সেটা যেন মনে থাকে । বাই বাই
.
পিপ পিপ লাইনটা কেটে দিল আসলে আমি এর আগেও অনেকবার অর্পিকে i love u বলছি কিন্তু মেয়েটা বরাবরই সেই কথা গুলো কাটিয়ে গেছে । যাই হোক যত জ্বালা সব আমার কারণ ভালোটা আমিই বাসি । নির্দিষ্ট সময় , নির্দিষ্ট জায়গাতে , নির্দিষ্ট মানুষটার জন্য অপেক্ষা করা যে কত কষ্টের সেটা যারা অপেক্ষা করে তারাই বুঝবে । তো মেয়েটা এলো একটু লেট করে
উমমম্মা অর্পিকে আজ দারুণ সুন্দরী লাগছে প্রশংসা না করে থাকতে পারলাম না
~বাহ্ রে কিউটি তোকে আজ অনেক বিউটিফুল লাগছে
~তাই
~হুমম আজই প্রথম তোমাকে নীল শাড়িতে দেখলাম খুব মানিয়েছে তোমাকে ।
অর্পি আর কোনো কথা না বাড়িয়ে আমাকে রিক্শা ডাকতে বলল । তারপর উঠে বসলাম কিন্তু আজ আর মাঝখানে কোনো দেয়াল নাই । অনেক কথা বলতে বলতে চলতে থাকলাম । হঠাৎ করেই অর্পি রিক্শা থামাতে বলল । ঠিক বুঝতেছিনা মেয়েটা আসলে কি করতে যাচ্ছে । তারপর আমাকে অর্পি নিজের পছন্দ মতো একটা শার্ট আরেকটা সানগ্লাস কিনে দিল । অবশ্য মেয়েটা তার নিজের পার্টস থেকেই বিল দেয় । বলতে হবে মেয়েটার পছন্দ আছে । আমি তাকে কিছু একটা কিনে দেওয়ার জন্য খুব জোরাজোরি করলাম কিন্তু কোনো মতেই রাজি করাতে পারলাম না । তারপর ফিরে আসার সময় আমার মনটা বার বার তাকে কাছে পেতে চাইছে । কিন্তু মেয়েটা যে কেন আমার মনটা বুঝে না । কি করে বুঝাই কতটা ভালোবাসি আমি তকে
~কিউটি তুমি কি রাগ করছ
~রাগ করব কেন
~কিছু কিনে দিতে চাইলাম কিন্তু নিলে না
~এমনিই সেটা আমার ব্যাপার (অর্পি)
~একটা কথা বলি
~হুমম বল
~আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি প্লীজ একবার ভালোবাসি বলনা
~কয়টা বাজে এখন
~৫.৪০,প্লীজ অর্পি একবার শুধু ভালোবাসি বলনা (আমি)
~রিক্শা ডাকো বাসায় যেতে হবে
রিক্শা চলছে
~আমি সত্যিই তোমাকে ভালোবাসি
~কালকে কলেজে যাবা
~অইস শালী পাগলি আমি তরে কি বলতাছি আগে তার উত্তর দে
~কি আমি তোমার শালী
~হ তুই আমার শালী
কথাগুলো বলতে বলতে অর্পির বাসার কাছাকাছি এসে পড়লাম । রিক্শা থামিয়ে অর্পি নামল
~বাই বাই দুলাভাই কালকে কলেজে দেখা হবে ( ফাজিলের মতো হেসে )
.
দূর কেন যে এই পাগল ছাগলের পাল্লাতে পড়তে গেলাম । মনটাই গেল খারাপ হয়ে । বিষণ্ণ মন নিয়ে মেসের দিকে ফিরছিলাম । আর ভাবছিলাম যে করেই হোক অর্পির মুখ থেকে ভালোবাসি শব্দটা আমার জন্য আদায় করতেই হবে । হঠৎ করেই একটা পরিচাত মেয়ে কণ্ঠে আমার নাম শুনে দাড়ালাম
~কিরে কেমন আছিস (দিশা)
~অহ ভালো তুই
~আমি ভালোই তোকে একটু অন্যরকম লাগছে
~হুমম কিন্তু তুই এখানে কেমন করে ?
(অহ বলছি দিশা হচ্ছে আমার স্কুল জীবনের বন্ধু । মেয়ে ও বন্ধু হিসেবে অনেক ভালো)
~আমি এই কলেজে অ্যাডমিশন নিছি এখন এখানেই থাকব | তোর মন খারাপ কেন?
~আর বলিস নারে দোস্ত একটা মেয়েরে নিয়া প্রবলেমএ আছি!
~তর মুখে এই কথা (দিশা হেসে হেসে)
~কেন কি হইসে?
~তুই কেমন ভীতুর ডিম ছিলি স্কুল জীবনে মেয়ে দেখলে ভয় পেতি । আর কলেজে এসেই শুরু করে দিলি,জানাইলিনা আমাদের (আবারো কতোক্ষণ হাসল)
~আরে এখনোতো হয়নি (আমি একটু রাগ নিয়ে)
~সব হবে আমি আছিনা !
~তুই যেমন করে হাসতেছিস তাতে মনে হচ্ছে তুই খুশি হইছিস আমার কষ্ট দেইখা |~দূর কি যে বলিছ ! আচ্ছা কাহিনীটা খুলে বল ...
তারপর দিশাকে সব খুলে বললাম । পরে দিশা আর আমি মিলে একটা প্লেন করলাম । আমি আশাবাদী এইবার কাজ হবেই হবে ।
.
~অনেক ধন্যবাদ তোকে (আমি)
~আগেই ধন্যবাদ যদি কাজ না হয় (দিশা)
~আরে না , হবে
~আমি যাই এখন কালকে কলেজে দেখা হবে
~ওক্কে বাই কাল কলেজে ঠিক সময়ে আসবি কিন্তু । সারা রাত ঘুম হলো না । শুধু ভাবছি কাল কি হবে ।
তরপর যথারীতি কলেজে গেলাম । ভিতরে ঢুকলাম না দিশার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম । তারপর আমি আর দিশা একসাথেই কলেজে ঢুকলাম । যেহেতু দিশা এই কলেজে নতুন এন্ড সুন্দরী তাই আমাদের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে
এমনকি অর্পিও । আমরা এমনভাবে আলাপ করে করে যাচ্ছি , যে কেউ দেখলে আমাদের প্রেমিক জুটি ভাববে । সামনে বন্ধুরা পড়ল কিন্তু তাদেরও পাত্তা দিলাম না । আমি আড়চোখে অর্পির দিকে তাকালাম , মেয়েটা পুরাই আবাক , হা করে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেন জীবনে আর কোনো প্রেমিক জুটি দেখেনি । পরমুহূর্তেই অর্পির ফোন
কিন্তু আমি আমার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি
এইবার মেসেজ পাঠানো শুরু করছে
.
1st~রাফি ঐই মেয়েটা কে ?
2nd~তুমি একটু আমার কাছে আসো !
3rd~কি ব্যাপার মেসেজের ans দাও না কেন ?
কে শোনে কার কথা ....তারপর আমি আর দিশা ক্যান্টিনে গেলাম । অর্পির সাথে সামনে দেখা হলো । দেখলাম কিউটি আমার রাগে লাল হয়ে গেছে । তার চোখের কোণে জলটাও আমার চোখ ফাঁকি দিতে পারে নি । কিন্তু আমি এমন ভাব নিলাম যে আমি তাকে চিনিই না । মনে মনে খুব খুশি হলাম । তারপর দিশা তার ক্লাসের দিকে চলে গেল । আমিও ক্লাসের দিকে রওনা দিবো , ঠিক সেই সময় একটা হাত খুব জোরেসোরে আমার শার্টের কলার ধরল
সে হাত আর কারো না অর্পিতার
~অই মেয়েটা কে ? (অর্পি)
~আরে কলার ছাড়ো সবাই দেখতেছে!!
~দেখলে দেখুক মেয়েটা তোমার কি হয় ??
~এই কলেজে নতুন এসেছে , কালকে বিকেলে হঠাৎ তার সাথে ধাক্কা খাই । দেখতে কিন্তু খুবই সুন্দরি । মনে হয় আমি মেয়েটাকে ভালোবাসি !
কথাগুলো একটানে অন্য দিকে তাকায়ে বললাম | তারপর কিউটির দিকে তাকিয়ে দেখলাম চোখের পানিতে গাল ভিজে গেছে , মনে মনে বলছিলাম আরেকটু পাগলামি কর নারে পাগলি
তারপর বুকের উপর কয়েকটা কিল , চড় পড়ল অর্পি চিৎকার দিয়ে বলল
~অই লুচ্চা তুই যদি ঐ মেয়েকেই ভালোবাসবি তবে আমাকে ভালোবাসি বলেছিলি কেনো (কেঁদে কেঁদে)
~আমি তোমাকে ভালোবাসতাম কিন্তু তুমি তো আমাকে বাসো নি (আমি একটু জোর দিয়ে)
~কে বলছে আমি তোমাকে ভালোবাসি না ??(কাকুতির সুরে)
~আমি তোমাকে অনেকবার বলেছি ভালোবাসি , কিন্তু তুমি তার উত্তর দাও নি |
~ তুমি বোঝনা আমি কেন উত্তর দেইনি?? (ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে)
~আমাকে ভালোবাস না তাই কোনো উত্তর দাও নি
! (একটু অভিমানী সুরে)
~আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি , আমি সবসময়ই তোমার মুখ থেকে ঐ কথাগুলো শুনতে চাইতাম আর তাই আমি কোনো উত্তর দিতাম না । কারণ উত্তর দিলে তো তুমি আমাকে প্রতিদিন ভালোবাসি বলতে না (পিচ্চিদের মতো কেঁদে কেঁদে)
~কি বললে ??
~আমি তোমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসি !!
কথাটা বলেই অর্পি আমাকে প্রায় জড়িয়ে ধরবে ধরবে অবস্থা কিন্তু , পাচ্ছে না । খেয়াল করলাম চারপাশে বেশ কয়েকজন হা করে আমাদের কান্ডকারখানা দেখতেছে । দূর , লোকের দেখা লোকে দেখুক আগে আমার ভালোবাসা জয় করে নিই ।
আমি অর্পিকে " ভালোবাসি তোমাকে " বলে জড়িয়ে ধরলাম । অনুভব করলাম মেয়েটাও আমার বুকে মাথা রেখে জায়গা করে নিয়েছে । প্রতিদান স্বরূপ আমি শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কপালে আলতো করে একটা পাপ্পা দিলাম !
.
তারপর অর্পিকে সব খুলে বললাম
ভালোবাসা সত্যি হলে ভালোবাসার মানুষটাকেও জয় করা যায়.......
.
.
.
গল্পটা কেমন লাগল তা জানাতে ভুলবেন না কিন্তু !!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now