বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালোবাসায় কেন অপুর্ণতা?«»০২

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X সোমা এসে আমার পাশে চুপ করে বসে পড়লো । আমাকে কিছুই জিজ্ঞেস করলো না । অথচ কিছুদিন আগেও যখন দেখা করতে আসতো । তখন আগে আমার শার্টের খোলা বোতাম গুলো লাগাতে লাগাতে বলতো_এই ছেলে কাকে দেখানোর জন্য শার্টের বোতাম খুলে রেখেছো? আর তোমার বাড়িতে কি তৈল,শ্যাম্পু কিছুই নেই চুলগুলো কেমন লালচে হয়ে যাচ্ছে ! সোমা তখন আমার সব কিছুর খেয়াল রাখতো । কিন্তু আজকে যখন আমি বাড়ি থেকে সেন্ডেল পড়ে এসেছি । তবুও কিছুই জিজ্ঞেস করেনি । মাথায় হাত বৌলায়নি একবারও । একবারও জান বলে ডাকেনি । এর পেছনে কি কারণ থাকতে পারে? আমিঃ সোমা তুমি আমার সাথে এমন করছো কেন? ঠিকমতো খোজখবর কথাটাও তো বলোনা । সত্যি করে বল তোমার কি হয়েছে? সোমাঃ তুমি আমাকে ভূলে যাও! আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে । ২দিন পরই আমার বিয়ে । *কথাটা শুনে হৃদয় মাঝে কুড়োল বিধে গেল । রক্ত ঝরলো হৃদয়জুড়ে । আমিঃ তুমি এসব কি বলছো সোমা? আর তুমি ওয়েটিংয়ে থাকো তাতে আমার কিছু যায় আসে না । কিন্তু এভাবে চলে যেতে বলো না । আমি তোমাকে ছাড়া বাচতে পারবো না? *সোমা তার কান্না ধরে রাখতে পারলো না । কিছুক্ষণ কাদতে থাকলো । আর আমিও বুঝে গেলাম হঠাৎ করে এমন একটা মেয়ে আমাকে কি করে ভূলতে পারে । নিশ্চয় এর পিছনে কোন কারণ আছে । সোমা বুঝতে পারলো আমি তাকে সন্দেহ করিনি । এখনো তার প্রতি আগের মতই ভালোবাসা আছে । সোমাঃ তুমি আমাকে ভূলে যাও । ছোট বেলায় আমার বাবা মারা যায় । আর সেই মা আর বিয়ে না করে আমাকে বড় করেছে । খুব ভালো ১টা ছেলে হাতছাড়া করতে চাইছে না । মা আমাকে বলেছে দয়া করে তুই বিয়েতে রাজি হয়ে যা মা । আমি মায়ের কথা চিন্তা করে মায়ের কথা ফেলতে পারি নি । আমি মাকে কষ্ট দিতে চাই না । তাই বিয়েতে রাজি হয়ে গেছি । জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না । আমি চাই তুমিও ভালো একটা মেয়ে দেখে বিয়ে করে নাও । জীবনে একজন চলে গেলে আরেকজন আসবে । এটাই স্বাভাবিক । তাই বলে জীবন তো কারো জন্য থেমে থাকবে না । তাছাড়া সব ভালোবাসায় তো আর পূর্ণতা পায় না । দূর থেকেও ভালোবাসা যায় । আমি চাই তুমি বিয়ে করে সুখী হও । তবেই আমার সুখ হবে ।।। আমিঃ আমি তোমাকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারি না । সোমাঃ এখন থেকে ভাবতে শেখো । আর আমি চলি । আমিঃ এখুনি চলে যাবে? সোমাঃ হ্যা,নয়তো মা কষ্ট পাবে । যে মা এত কষ্টে আমাকে মানুষ করেছে আমি তাকে কষ্ট দিতে চাই না । ভালো থেকো । «»সোমা চলে গেলো । আমি অবাক হয়ে স্তব্ধ হয়ে তার চলে যাওয়া দেখলাম । আমি মাতালের মত বাড়ি চলে গেলাম । বাড়ি গিয়ে অনেক কাদলাম । এখন আর ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করিনা । সারাক্ষণ তার কথা মনে পড়ছে । মনে পড়ছে তার সাথে কাটানো সেই মুহুর্তগুলো । অনেকবার ফোন করার চেষ্টা করলাম । কিন্তু ফোনে পেলাম না । হতাশা বুকে নিয়ে দেবদাসের মত হয়ে গেলাম । চুলদাড়িও আমাকে চিনতে পারে না । কেউ তো আর আমার খোজ নেয়না । একদিন ইমুর সফটওয়ারে সোমার পাঠানো একটা ম্যাসেজ পেলাম ........ *প্রিয় রূপচাঁন* আমি তোমাকে ভূলে যেতে চেয়েছি হাজার বার । কিন্তু এখনো ভুলতে পারি নি । আমার হবু স্বামীর সাথে কথা বলে ওয়েটিংয়ে থেকেছি । যাতে তুমি আমাকে ভুল বুঝে চলে যাও । কিন্তু শেষবার যেদিন তোমার সাথে কথা বললাম,তখন বুঝলাম তুমি আমাকে কতটা ভালোবাসো আর কতটা বিশ্বাস করো । তাই তখন তোমার সামনে আর কান্না ধরে রাখতে পারলাম না। রূপচাঁন আমি তোমাকে মিথ্যে বলেছি।আমার বিয়ে হয়েছে ১৪মাস । আর আমি এখন গর্ভবতী । তুমি হয়তো জানো না । ছোটবেলায় যখন বাবা মারা যায় । তখন মামা আর নানা মাকে বারবার বিয়ে করতে বলেছে । কিন্তু মা আমাকে বুকে জড়িয়ে বলেছে না আমার সোমা আছে । তাকে নিয়ে বেচে থাকবো । তখন আমার সেই মামাই আমাদের সংসারের খরচ চালাতেন । আর ঐ মামাই মার কাছে হাত জোর করে তার ছেলের সাথে বিয়ের জন্য আমাকে মার কাছে চাই । মা তার ঋণের কথা চিন্তা করে হাসি মুখে রাজি হয় । আর সেই হাসি মুখ নিয়ে মা আমার কাছে আসে বিয়ের কথা বলতে । তখন আমিও তাদের কথা চিন্তা করে রাজি হয়ে যায় । অনেকদিন বালিশ মাথায় দিয়ে কেদেছি । যেন কেউ কিছু বুঝতে না পারে । আমার পেটের বাচ্চাটা দেখতে এসো । আর ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করে নিও । আমি তোমাকে এখনো ভালোবাসি । ভালোবাসার মরণ হয়না কোণদিন । তুমি যদি বিয়ে না করো আমি মরেও শান্তি পাবো না । ভালো থেকো । আর নিজের প্রতি খেয়াল রেখো ।।। সোমার কথা গুলো শুনে মনে শান্তি পেলাম । আর বুঝতে পারলাম হঠাৎ করে বদলে যাওয়া মেয়েটিকে । চারদিন পর সোমার বান্ধবীর কাছে জানতে পারলাম সোমা আর পৃথিবীতে নেই । সিজার করার সময় সোমা ও তার পেটের মেয়েটিও মারা গেছে । আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়লাম । পৃথিবীটাকে বড় একা একা মনে হলো । ১৫দিন মরার চেষ্টা করেছি । দেয়ালে মাথা ঠুকে রক্ত ঝরিয়েছি । সর্বশেষে একজাতীয় বিষও খেয়েছিলাম । কিন্তু বন্ধুরা জানতে পেরে হাসপাতালে ভর্তি করে । বিশাল নল দিয়ে বিষ বের করে ফেলে । আমার মা বাবাও আমার কাছে আসে । এসে বলে বাবা তোমাকে বড় ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাবো । এরপর বড় ডাক্তারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় কল্পনায়,জপনায় সোমাকে দেখতে পায় । মনে হয় সোমার ছায়া দাড়িয়ে আছে আমাকে কাছে ডাকছে । ****আমি ছায়াকে বলতে থাকলাম.... কে? কে ওখানে? *** **** ** *** *** *** **


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালোবাসায় কেন অপুর্ণতা?«»০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now