বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখা:অস্তিত্ব হীন মামুন" হ্যালো ম্যাডাম! এখনো দাঁড়িয়ে যে? কখন তো বেড়িয়েছো?" রূপান্তর নিজের নতুন গাড়ির কাঁচটা নামিয়ে জিজ্ঞেস করল অফিসের বাইরের বাস স্ট্যান্ডে দাড়িয়ে থাকা মেঘলাকে দেখে।"শনিবার তো বাস কম।" মেঘলা নিরুত্তাপ উত্তর। আজ আফিসের সবাই চেয়েছিল মেঘলার বার্থডে টা সেলিব্রেট করতে....হয়ে ওঠেনি মেঘলার বিভিন্ন বাহানা আর অনিচ্ছাতে। অনেক আগেই বেরিয়েছে কিন্তু কিছুই ভালো লাগছিলো না। তাই বাস স্ট্যান্ডের ওয়েটিং রুমে বসে পিছনের জলা জমিতে জমে থাকা জলে বাচ্চা গুলোর খেলা দেখছিলো এক মনে।"চলো আমি ড্রপ করে দিই। বার্থডে গার্ল আজ তুমি।" রূপান্তর গাড়ির দরজা খুলে মেঘলার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।"আরে না না! বাস পেয়ে যাবো। তুমি যাও।""দিদি আজ K-2 আর চলবেনা রাস্তায় ঝামেলা হয়েছে।" এক অত্যুৎসাহী পথচারী মাঝে ফুট কাটলেন।"চলো এবার" গাড়ির সামনের গেটটা খুলে হাতের ইশারা করে ড্রাইভারের মত অভ্যর্থনা জানাল রূপান্তর। আঙ্গি ভঙ্গিমা দেখে হেসেই ফেললো মেঘলা। উঠে পরল গাড়িতে।রূপান্তর আর মেঘলা দুজনে একই কম্পানিতে আছে লাস্ট চার বছর ধরে। আগে একই প্রজেক্টে ছিলো রিসেন্টলি চেঞ্জ হয়েছে।"কি ব্যাপার মুড অফ কেনো?....আজ তোমার জন্মদিন...স্পেশাল দিন...এনজয় ইয়র ডে!" পরের সিগনালে গাড়ি দাঁড়াতেই রূপান্তর নিস্তব্ধতা ভাঙ্গার চেষ্টা করল।"না না মুড অফ না। ওই একটু..........অনেক দিন হলো সোহাগ আউট অফ টাউন.......।" থেমে থেমে কথা গুলো বলে যতটা সম্ভব নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করল মেঘলা।সোহাগ আর মেঘলার ডিজিটাল লাভ ম্যারেজ। ফেসবুকেই আলাপ আরকি। সোহাগের নিজেই একটা এড এজেন্সি চালায়...খুব ভালোই নিজের রেপুটেশন বানিয়েছে অল্পদিনেই। তারই কাজে দেশের সব শহরঘুরে বেড়ায়...ব্যস্ত থাকে খুবই।এখনো দশদিন পরেই ফেরার কথা আহমেদাবাদ থেকে। আজ মেঘলাই দুবার ফোন করেছে কিন্তু সোহাগ এতো ব্যস্ত যে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতেও ভুলে গেছে।"কি হোলো দাঁড়ালে? কোনো কাজ থাকলে, ইউ ক্যান ক্যারি অন। আমি কিছু একটা পেয়ে যাব।" রূপান্তর গাড়িটা রাস্তার ধারে পার্ক করে নেমে গেলো। হাত দেখিয়ে বলল দু মিনিট। কানে হেডফোন টা গুঁজে রবীন্দ্রসংগীতে মন দিলো মেঘলা...চোখ বুজে এলো।"ম্যাডাম! চোখ খুলুন!" রূপান্তরের ডাকে চোখ খুললো মেঘলা। সামনে একটা বিশাল ঝিল....চারিদিকেবাসায় ফেরা পাখির ডাক....উল্টো পাড়ের উঁচু বিল্ডিং গুলো থেকে ঝিলের জলে চুইয়ে পরা আলো...গাড়ি থেকে নামতেই এক ঝটকা মনোরম ঠান্ডা হাওয়া মেঘলার সারাদিনর ক্লান্তি...সব মন খারাপ নিমেষে গায়েব করে দিলো। "বাহ! দারুন! কি সুন্দর জায়গা! কোথায় এটা?" খুব আশ্চর্য মেঘলা।"এই পিছনের বাড়ি তে আমি থাকি...না না আমার বাড়ি না....আমার এক আম্রিকাবাসী কাকার।" বলেই পিছনেএকটা দ্বিতল বাংলো দেখালো। "ভিতরে এসো। কাকাও ভাড়া নেন না আর আমিও এজ এ কেয়ারটেকার কোনো মাইনে ক্লেম করিনা।" বলেই হাসতে হাসতে বাড়ির গেট খুলতে লাগলো।"না না! আজ থাক! আমি আসি। দেরি হয়ে যাবে আমার।""আরে এসো...কফি খেয়ে যাবে...আমিই না হয় ছেড়ে দেব"প্রায় হাত ধরে ভিতরে নিয়ে গেলো রূপান্তর। বসতে দিল ড্রয়িং রুমে।পাঁচ মিনিট পরে ভিতরের ঘর থেকে আওয়াজ শুনে দরজা ঠেলে ঢুকতেই কোথা থেকে এক রাশি গোলাপের পাপড়ি যেনো মেঘলার উপর বৃষ্টি হলো। সাথে সাথে রূপান্তর গেয়ে উঠলো " হ্যাপি বার্থডে টুডিয়ার....." তারপর একটার পর একটা স্বপ্নের মতো কেক...চকলেটস....ফুল বৃষ্টি...সুন্দরমিউজিক...স্কচ....এন্ড ড্যান্স...বার্থডে টাকে জীবনের স্মরণীয় করে তুলেছিল।এসবের মাঝেই নিজের জমিয়ে রাখা দুঃখ উজার করে রূপান্তরের বুকে নিমজ্জিত হলো মেঘলা....দু জোড়া উষ্ণ ঠোঁট ডুব দিলো এক পরিতৃপ্ত অমোঘ আবেশে। হুঁস ফিরলো রূপান্তরের কর্কশ রিংটোন টা বেজে ওঠায়।মেঘলা নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে বাইরে এসে বৃথা চেষ্টা চালালো এতো রাতে ট্যাক্সি খোঁজর...অগত্যা ভরসা সেই রূপান্তর। পৌঁছে দিলো কমপ্লেক্সের বাইরের গেট অবদি। রূপান্তর কথা বলার অনেক চেষ্টা করলেও মেঘলা সেই গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরেই তাকিয়ে।মেঘলা নিজের ফ্ল্যাটে যখন পৌঁছল তখন প্রায় মধ্যরাত্রি। চাবি ঘুরিয়ে গেট খুলে দেখে পুরোড্রয়িংরুম তার প্রিয় কালারের বেলুন আর অর্কিড দিয়ে সাজানো....টেবিলে ওর পছন্দের তিন থাক কেক.....পাশে রঙ্গীন মোড়কে ঢাকা তিন চারটে গিফট প্যাক....একটা দামি ওয়াইনের বোতল আর পাশে দুটো সুন্দর কাঁচের গ্লাস রাখা।"তা হলে কি সোহাগ ফিরে এসেছে" মনে মনে বললো মেঘলা। নীল রং-এর মিষ্টি আলোয় ব্যালকনির সোফায় খুঁজে পেলো সোহাগকে...ঘুমিয়ে পরেছে অপেক্ষা করতে করতে। পাশে বসে বুকে মাথা রাখলো মেঘলা। চোখের কোনটা হালকা আলোতেও চিকচিক করে উঠল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now