বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-লামিয়া, এই লামিয়া !!! (পেছন থেকে ডেকে উঠলো রাতুল)
-কি বল । (পেছনে ফিরে জবাব নিলো লামিয়া)
-কাল রাতে তো আমি মরে গেছিলাম ।
-তো এখন কেমনে বাঁইচা আছোস?
-আর বলিস না। চল কিছু খাইতে খাইতে তোরে ব্যাপারটা বলি ।
-নাহ্। এখন সময় নাই ।
-চল না দোস্ত। কিছু খাই। আমার খুব ক্ষুধা লেগেছে ।
-পকেটে টাকা আছে তো ?
-আরে চল তো ।
-শোন বলদ, আজ কিন্তু আমার কাছে কোনো টাকা নাই। সো আজ কোনো খাওয়া-দাওয়া নাই ।
-চল না দোস্ত। অমন করিস কেনো আমার সাথে ?
-আচ্ছা চল ।
-এই তো গুড গার্ল ।
- ঐ তোরে নাক টানতে বারণ করছি না ?
-সে তো আমিও তোরে বারণ করেছি। তুই কি শুনিস ?
-কি বারণ করছিস ?
-আমার নাম ধরে ডাকবি। বলদ বলে ডাকবি না। কিন্তু তুই তো বলদ বলেই ডাকিস ।
-বলদ রে কি বলবো? গাঁধা ?
.
লামিয়া হাসতে হাসতে রাতুলের সাথে হাঁটতে লাগলো। রাতুলও বোকার মতো হাসি দিয়ে চশমাটাকে টাইট করে লামিয়ার সাথে হাঁটতে লাগলো। রাতুল আর লামিয়া দুজনেই ঢুকলো মাঝারি ধরণের একটা রেস্টুরেন্টে । লামিয়া বসতে বসতে বললো, বলদ কি খাবি ?
-তুই যা খাওয়াবি তাই খাবো ।
লামিয়া কপাল কুঁচকে বললো, আমি মানে? বললাম না তোকে আমার কাছে টাকা নাই ।
-সে তো আমি জানিই। তোর কাছে টাকা নাই। কিন্তু বাবুনকে পড়ানোর বেতন তো আছে।
-দেখ রাতুল। তোকে বলেছি না এবার বেতনের টাকাটা বাড়িতে পাঠাবো। আমি উঠলাম। তুই মর ।
.
রাতুল লামিয়ার হাত চেপে ধরে বললো, প্লিজ দোস্ত। কিছু তো খাওয়া। নাহলে রেস্টুরেন্টের মান-সম্মান যাবে।
-তোর নিজেরই তো কোনো মান -সম্মান নেই। হু,,,,।
লামিয়া কপালটা কুঁচকে সবচেয়ে সস্তা দুইটা খাবার মেনু বের করলো। সবচেয়ে সস্তা খাবারও তিন'শ টাকা দাম। লামিয়া অর্ডার করে খাবার আনতেই রাতুল নির্লজ্জের মতো খেতে শুরু করলো। আর লামিয়া কপালটা কুঁচকে নিয়ে রাতুলের দিকে তাকিয়ে আছে। লামিয়ার কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না। লামিয়ার টাকাটা ভীষণ দরকার। গ্রামে ওর অসুস্থ বাবাকে ঔষুধ কেনার জন্য টাকাটা পাঠাতে হবে। লামিয়া খুব সাধারণ আর দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। শহরে সে কয়েকটা টিউশনির টাকা দিয়ে নিজের থাকা-খাওয়া আর লেখাপড়ার খরচ চালায়। এর মাঝেও তাকে দুই মাস পরপর বাড়িতে বাবার জন্য টাকা পাঠাতে হয়। কিন্তু রাতুল? হতচ্ছাড়া তবুও লামিয়াকে প্রতিমাসেই খরচ করাই। লামিয়া কেনো যে ওর সাথে এখনও বন্ধুত্ব রেখেছে কে জানে। ভার্সিটির সেই প্রথম দিন থেকে রাতুলের সাথে ওর বন্ধুত্ব। প্রথম প্রথম রাতুল কতটা হাবা মার্কা ছিল তা ভাবতেই লামিয়ার ঠোঁটের কোণে হাসি জমে যাচ্ছে। আজ সেই রাতুল লামিয়াকে বোঝে না। একটুও বোঝে না। গত মাসেই লামিয়া ওকে দুই হাজার টাকা ধার দিয়েছে। যদিও এই ধার কোনোদিন শোধ করবে না রাতুল। তবুও সে রাতুলকে টাকা ধার দেয়। কেনো দেয়? জানে না।
.
রাতুল খাওয়া শেষ করে শয়তানি হাসি হেসে লামিয়াকে বললো, চল দোস্ত, যায় । লামিয়া ছোট্ট একটা ভেংচি কেটে টাকাটা পে করে বেরিয়ে পড়লো। রাতুল আর লামিয়া আবার দুজনে হাঁটতে শুরু করলো। রাতুল চুপচাপ ভাবে হাঁটছে। আর লামিয়ার রাজ্যের চিন্তা মাথায় ঘুরছে। তবুও সে বারবার রাতুলের দিকে তাকাচ্ছে। রাতুলটা কেমন যেনো। কোনো চিন্তায় যেনো তার ভেতর নেই। রাতুল হঠাৎ করে লামিয়াকে বললো, দোস্ত পাঁচশ টা টাকা ধার দে তো। লামিয়া যেনো পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য হয়ে তাকালো রাতুলের দিকে। সেই দৃষ্টিতে কি লেখা আছে তা বোঝা যাচ্ছে না। লামিয়া রাতুলের দিক থেকে চোখ নামিয়ে নিয়ে আবার হাঁটতে লাগলো। কিন্তু রাতুল তো নাছড় বান্দা। লামিয়ার কাছে থেকে সে নির্লজ্জের মতো টাকা চাইছে। শেষ পর্যন্ত লামিয়া টাকা বের করে দিলো রাতুলকে। রাতুল টাকাটা হাতে পেয়ে অত্যন্ত খুশি গলায় বললো, দোস্ত তুই এক মিনিট দাঁড়া আমি আসছি ।
-ঐ বলদ কই যাস ?
-দাঁড়ায় থাক আসতেছি। এক মিনিট দাঁড়া।
লামিয়া বোকার মত ল্যামপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে আছে। রাতুল চোখের পলকে ঊধাও হয়ে গেলো। লামিয়া রাতুলের জন্য অপেক্ষা করছে।
.
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেই রাতুল ফিরে এলো। রাতুলের হাতে এক গুচ্ছ লাল গোলাপ। কয়েকটি রজনীগন্ধা। আর ছোট একটা ফুলের বুকেট। লামিয়া আশ্চর্য চোখে রাতুলের দিকে তাকিয়ে আছে। রাতুল বোকার মতো হাসছে। লামিয়াকে হাঁটার জন্য বলে রাতুলও হাঁটতে শুরু করলো। কিছুক্ষণ হাঁটতেই রাতুল একটা রিক্সা ঠিক করলো। লামিয়াকে রিক্সায় উঠিয়ে রাতুল উঠে পরলো রিক্সায়। তারপর রিক্সাওয়ালাকে নন্দন পার্কে যাওয়ার হুকুম দিলো। লামিয়া এখন বোকা কিন্তু আশ্চর্য চোখে রাতুলের দিকে তাকিয়ে আছে। নন্দন পার্কে এসে রাতুল লামিয়াকে দিঘির পাড়ে নিয়ে গেলো। দিঘিটাকে বেশ চকচকে মনে হচ্ছে। বিকেলের নরম রোদের আলোয় দিঘির পানিগুলো বালির মতো চকচক করছে। কি অদ্ভুত পরিবেশ এখন। কোমল কোমল আবহাওয়া। ফিনফিনে বাতাস বইছে। সেই বাতাসে লামিয়ার অবাধ্য চুলগুলো উড়ছে। রাতুল অপলক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। লামিয়া রাতুলকে কোমল কিন্তু উচ্চস্বরে বললো, এই বলদ কি দেখিস অমন করে ?
-তোকে দেখি।( রাতুল লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বাধ্য বালকের মতো উত্তর দিলো।)
-এমন করে দেখার কি আছে শুনি ।
-অনেক কিছুই আছে।
-কি?
-হুম। দোস্ত আজ তোকে সেই লাগছে। মনে হচ্ছে তুই অপার্থিব জগতের নীল এ্যালিয়ন ।
-ঐ কিরে? কি হইছে তোর?
-অসুখ।
-কি অসুখ। কবে থেকে। কেমনে?
-জানি না কেমনে। তবে তোর সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকেই আমি অসুস্থ।
-কি বলিস!!
-হুম। সত্যিই বলছি। আমি অসুস্থ।
.
লামিয়া ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাতুল মুখটা মলিন করে লামিয়াকে দেখছে। সত্যিই লামিয়াকে আজ খুব সুন্দর লাগছে। নীল রঙের শাড়ি পরেছে। আঁচলটা বাতাসে উড়ছে। লামিয়া যখন টিউশনি পড়াতে যায় তখন সে শাড়ি পরেই যায়। শাড়িতে লামিয়াকে যতটা সুন্দর লাগে আর কাউকে অতটা সুন্দর লাগে না। রাতুল লামিয়ার হাত ধরলো। এটা নতুন কোনো বিষয় না। তবে আজ দুজনের কাছেই নতুন অনূভূতি লাগছে। এ অনূভূতির নাম ভালোবাসা। লামিয়া বুঝতে পেরেছে রাতুল তাকে কি বলতে চাইছে। তবুও সে আল্লাদ করে জিজ্ঞেস করলো, রাতুল কি হয়েছে তোর? রাতুলের জানামতে প্রায় তিন বছর পর লামিয়া ওর নাম ধরে ডাকলো। রাতুল একে একে সব ফুলগুলো লামিয়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো, আমি তোরে ভালোবাসি লামিয়া।
-কিন্তু।
-কোনো কিন্তু নয়। তুই আমায় প্লিজ ফিরিয়ে দিস না। আমি আর চালচুলোহীন ছেলে নেই। তোর বলদটা একটা জব পেয়েছে। শুরুতেই পনেরো হাজার। আর অনার্স কমপ্লিট হলেই বেতন হবে পঁচিশ হাজার। দুজনের সংসারে এটাই অনেক যথেষ্ট।
-তুই সত্যিই অসুস্থ। উঠে পর। আর ভালো করে ভেবে বল। সত্যিই তুই আমায় ভালোবাসিস কিনা।
-আমি সত্যিই তোকে ভালোবাসি। আমাকে এতদিন যে এত সহ্য করেছে তাতে আমিও জানি তুইও আমাকে ভালোবাসিস।
-কিন্তু তুই,,,,(রাতুল লামিয়ার মুখে আঙুল চেপে ধরলো)
-আর তুই নয়। এখন থেকে তুমি।( বললো রাতুল)
.
লামিয়া হাসির প্রলেপ টেনে ঠোঁট বাঁকালো। বিকেলটা আস্তে আস্তে সন্ধ্যের পথে গড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু রাতুল আর লামিয়া এখনও নিরবে ভালোবাসা বিনিময় করছে। পৃথিবীতে সুখ বলে অনেক কিছু থাকলেও এ সুখের কাছে সবকিছুই ম্লান। লামিয়ার খোলা চুলে ঝাপটানিতে রাতুলের চশমাটা নিচে পড়ে গেলো। রাতুলের চোখে এখন পৃথিবীটা অন্ধকার। কিন্তু রাতুলের কাছে পৃথিবীটাকে এখন সবচেয়ে রঙিন বলে মনে হচ্ছে। লামিয়া রাতুলকে জড়িয়ে হাঁটছে। সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের অস্বাভাবিক মনকে প্রশ্রয় দিয়েছে লামিয়া অনেক আগেই। কিন্তু বলদটা এতদিন গাঁধা ছিলো। আজ মনে হচ্ছে গাঁধাটা মানুষ হয়েছে। সেই মানুষটাকে লামিয়া যুগ যুগ ধরে চিনে। বহু পরিচিত মানুষটাকে আজ নতুন করে পাওয়ার আনন্দে লামিয়ার চোখে মুখে আনন্দের রঙ ছুঁটে চলছে। ভালোবাসার রঙে দুজনেই আজ খুব রঙিন।
.
#লেখকের_কথা
সেই কবেই তো প্রেমে পড়েছি। সেই কত আগেই তো জীবনে প্রেম এসে গিয়েছিলো। কিন্তু তার পূর্ণতা দিতে পারি নি। গল্পতে চেষ্টা করি মাত্র। নিজের কষ্টটা, না পাওয়ার যন্ত্রণাটা কেনো জানি গল্পের চরিত্রদেরও দিতে ইচ্ছে করে না। কষ্টের জন্য তো প্রেম নয়। তবে প্রতিটা সফল প্রেমের পেছনেই কষ্ট আছে। শুধু যেনো একমাত্র আমিই ব্যর্থ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now