বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালোবাসার রেলগাড়ি

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X - গানু... এইদিকে একটু শুনো না| - এই তোমাকে না কতোবার বলছি, এইভাবে কথা বলবা না| 'গানু' এইটা আবার কি ধরনের উচ্চারন? . - তুমি শুধু শুধুই রাগ করতেছো| কত্তো কিউট একটা শব্দ... - হুমম... কচু কিউট| আর কোনো শব্দ যদি এইভাবে উচ্চারন করো তাহলে তোমার সাথে কথাই বলবো না| হুমম... . - আচ্ছা বলার দরকার নাই| তুমি সারাদিন এই সিরিয়াল নিয়েই পরে থাকো| তুমি কি খেয়াল করছো? আজ আমি কখন অফিস থেকে আসছি| আর কখন থেকে তোমার সামনে বসে আছি| - হুমম... জানি| একটু আগে আসছো| আরেকটু অপেক্ষা করো সোনা| এই সিরিয়ালটা শেষ করেই আমার জানের দিকে আমি মনোযোগ দিতেছি| - ধুর... . এই বলে শুভ্র উঠে গেল ড্রয়িং রুম থেকে| নাহ এই মেঘলা মেয়েটাকে নিয়ে আর পারা গেলো না| এই মেয়েটা যে সিরিয়াল এতো মনোযোগ দিয়ে দেখে কি আহরন করে তাই শুভ্র ভেবে পায় না| তিন মাস হলো ওদের বিয়ে হয়েছে| এই তিন মাস ভালো মতো পর্যবেক্ষন করে শুভ্রের মনে হল মেঘলা যেন তাকে বিয়ে না করে এই সিরিয়ালকে বিয়ে করেছে| . অনেকটা অভিমান করেই শুভ্র ছাদে চলে গেল| আর চাদ দেখতে লাগল| আজ চাদেরও যেন তার মতো দুঃখ| কেমন মেঘগুলো ঢেকে রেখেছে চাদটাকে... এদিকে কিছুক্ষন পরই মেঘলার খেয়াল হল শুভ্রর কথা| নাহ ছেলেটাকে আজ বেশি দুঃখ দিয়ে ফেলেছে| এখন অভিমান টা না ভাঙালে রাতে না খেয়েই শুয়ে পড়বে| মেঘলা জানে অভিমান করলে শুভ্র ছাদে গিয়ে বসে থাকে| তো মেঘলাও সাথে সাথে ছাদে উঠলো| দেখলো শুভ্র ছাদের একপাশে দাড়িয়ে চাদের দিকে তাকিয়ে আছে| যদিও চাদটা মেঘ দিয়ে ঢাকা| তবুও চাদের অবস্থান টা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে| . - ছাদে দাড়িয়ে একা একা কি করছে বাবুটা? - ____ . - বাবুটা কি রাগ করছে? - না বাবুর রাগ করার ক্ষমতা নেই| . - তবে বাবু কথা বলছে না কেন? - বাবুর কথা বলতে ইচ্ছা করছে না| . - তাই তাহলে বাবুর কি করতে ইচ্ছা হচ্ছে?? - একা একা থাকতে| . - কিন্তু আমার যে একা থাকতে ইচ্ছা করছে না| - কেন? তোমার সঙ্গী হিসাবে তো সিরিয়াল আছে| তোমার একা থাকতে হবে কেন?? . - তাই বাবুসোনাটা দেখি অনেক রাগ করেছে| - বললাম না আমার রাগ করার ক্ষমতা নাই| (অনেকটা ধমকের সুরে) . - আমার সাথে এরকম করলে কিন্তু আমি কেদে দিব| - যাও কাদো| আর ওই সিরিয়ালের কাছে গিয়ে তোমার দুঃখটা শেয়ার করো| . নাহ মেঘলা আর পারতেছে না| শুভ্রর অভিমানটা ভাঙাতে এতো কিছু করেও কিছু হচ্ছে না| সে এবার সত্যি সত্যিই কেদে দিল| আর রুমের দিকে পা বাড়ালো| এই কান্নাটা সে শুভ্রকে দেখাবে না| কিন্তু সে যেতে পারছে না| কেউ তার হাত টা টেনে ধরেছে পিছন থেকে| হুমম শুভ্রই টেনে ধরেছে তার হাত| . - কি ব্যাপার? আমার গানুটা কি সত্যি সত্যিই সিরিয়ালের সাথে তার দুঃখ শেয়ার করতে যাচ্ছে? - ____ . - কি হয়েছে গানু? এখন তুমি রাগ করলে নাকি?? - তুই আবার ঐ অড ওয়ার্ড টা বলতেছিস শয়তান? (কান্নাজড়িত কন্ঠে) . - ওরে বাব্বা... আমার গানুটা আমার সাথে তুই তুকারি করতেছে... - একশবার করবো| তোর তাতে কি? আগে বল তুই আমার সাথে এরকম করলি ক্যান? . - কি রকম? - ওই যে তখন কথা বললি না| . - ও এই কথা... আরে তখন আমি দেখলাম তুমি কতোটা রাগতে পারো| - তাই বলে ওই ভাবে আমাকে রাগাতে হবে? জানো আমি কতোটা কষ্ট পেয়েছি তোমার ওই কথা গুলাতে| . - আমি আসলেই অনেক সরি জানু| তোমাকে ওইভাবে বলা আমার ঠিক হয়নাই| যাও প্রমিস আর কখনও বলবো না| - সত্যি তো? . - তিন সত্যি| তবে একটা শর্ত আছে| - কি শর্ত? . - তুমি আর এইভাবে সিরিয়াল দেখতে পারবা না| - এইটা বাদ দিয়ে অন্য একটা শর্ত দাওনা জান| . - নাহ তোমাকে এই শর্তটাই পালন করতে হবে| - কিন্তু এটা যে আমার অভ্যাস হয়ে গেছে| . - অভ্যাস ত্যাগ করো| - কিভাবে করবো? . - আমি শিখিয়ে দিবো| - সত্যিই শিখিয়ে দিবা? . - হুমম সত্যি| - ওকে গানু... তুমি পাশে থাকলে আমি যেকোনো শর্ত পালন করতে রাজি আছি... . - কিইইইহ... তুমি আমাকে কপি করতেছো? - আমি আমার গানুর কপি করবো না তো কার কপি করবো? . - উম্মাহ জানু... তুমি এত্তোগুলা ভালো| - . - জানু তোমার লিপস্টিক একটু খাইতে দিবা? - যাহ দুস্টু... ছাদে দাড়িয়ে লিপস্টিক খাইতে চাইতেছে| লোকজন দেখলে কি ভাববে? . - কি ভাববে আবার? বরং বলবে, শুভ্র তার জানুর লিপস্টিক খাইতেছে| - কিছু মুখে আটকায় না| তাইনা? আচ্ছা বাসায় চলো তোমার খবর আছে.... . - আর কিছুক্ষন থাকি না... - না রান্না বসিয়ে আসছি| এতক্ষনে মনেহয় পুড়ে গেছে| তারাতারি চলো| . - আরে দাড়াও না| এতো তাড়া কিসের? পুড়লে পুড়ুক| আমরা বাইরে থেকে খেয়ে নিব| এখন আমি আমার বউএর সাথে একান্তে কিছু সময় কাটাবো| - না... রোজ রোজ বাইরে খাওয়া ভালো না| আজ আমরা বাসায়ই খাব| . - তাহলে লিপস্টিক খাইতে দিলা না... - না.. সেটা রাতে হবে| এখন চলোতো| . এই বলে মেঘলা শুভ্রকে টানতে টানতে রুমে নিয়ে যায়| অতঃপর তাদের এই ভালোবাসা রেলগাড়ির মতো আজীবন চলতে থাকে....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালোবাসার রেলগাড়ি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now