বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রতিদিন কলেজে যেতাম আসতাম... বাড়িতে এসে ছোট
বোনকে নিয়ে গল্পতে আড্ডায় মেতে উঠতাম... একদিন
কলেজ থেকে বাসায় এসে দেখি আব্বু কয়েকজন
মুরুব্বির সাথে কথা বলতেছে... রুমে প্রবেশ করে দেখি
আম্মু বলতেছে আজ নাকি আমাকে দেখতে এসেছে...
আমি ভয় পেয়ে গেলাম... কিছুক্ষন পর আম্মু নিজেই
আমাকে তৈরী করে দিয়ে বলে দিয়েছেন যা যা প্রশ্ন
করি তার ঠিক ঠিক উত্তর দিই... প্রথমেই আমি গিয়ে
সবাইকে সালাম দিলাম...
তারপর আমাকে জিগ্যেস করা হলো, তোমার নাম কি?
যদিও অবাক করা প্রশ্ন ছিল.. পরে ভাবলাম হয়তো
আমার মুখ থেকেই জানতে চাচ্ছে... আমি আমার নাম
বললাম... তারপর প্রশ্ন করা হলো নিজের জীবন নিয়ে
আমি উত্তর দিলাম... তারপর তারা যেন ঠিক কি কি
যেনো বলতেছে... তারপর তাদের মধ্যে একজন আমাকে
বললেন,
-মা তোমার হাত টা দেখি?
-আমি ভয়ে ভয়ে দেখালাম..
-এবার পা দেখাতে বললো..
-আমি দেখালাম...
এবার আব্বু আমাকে বললো ভিতরে চলে আসতে
বললো.. আমি আমার রুমে চলে আসলাম... ঠিক
কিছুক্ষন পর হাসির শব্দ শুনতে পেলাম... সেই সময়
ছোট বোন এসে আমাকে বললো, আপু তোর বিয়ে ঠিক
হয়ে গেছে... আগামী মাসে তোর বিয়ে... আমি এবার ভয়
পেয়ে গেলাম.. আমার কান্না চলে আসলো.. এই বুঝি
আমার আম্মু আব্বু আর ছোট বোনকে ছেড়ে অন্য এক
জগতে থাকতে হবে... আচ্ছা তারা কি আমাকে
ভালোবাসবে? ভাবতে ভাবতে আমার চোখে জল চলে
আসলো... তখন আম্মু এসে আমার জল মুছে দিলো...
ততক্ষনে. মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলাম...
মা শুধু বললো, প্রত্যেক মেয়েকে নাকি একসময় পরের
বাড়ি যেতে হয়...
এরপর থেকে আমার মনে শুধু একটাই ভাবনা থাকতো.
ওই বাড়ির মানুষ গুলো কিরকম হবে? আমাকে
ভালবাসবে তো....মাকে ছাড়া অচেনা জায়গায় থাকবো
কিভাবে... কিন্তু কিছুতেই মনকে সান্তনা দিতে পারতাম
না...
এক মাস পর,
আমি এখন আমার বাসর ঘরে... হুম আমার বিয়ে হয়ে
গেছে... অনেক কান্নাকাটি করে নিজের বুকের উপর
পাথর রেখে মা বাবাকে ছেড়ে আসতে হয়েছে... সেই
থেকেই একা একা বসে আছি... কিছুক্ষন পর পর
আমাকে মানুষজন এসে দেখে যাচ্ছে আর হাসাহাসি
করতেছে.. আমার লজ্জা আর ভয় দুইটাই হচ্ছিলো...
কিছুক্ষন পর মানুষটি ঘরে ঢুকলো... আমাকে অভয়
দিলেন এবং তার বাড়ির নিয়মকানুন বলে দিলেন... তখনি
আমি বুঝতে পারলাম বাস্তবতা আসলে কত কঠিন...
যাই হোক পরদিন থেকে আমি আমার নতুন জীবন নিয়ে
ব্যাস্ত হয়ে পরলাম.. যদেও আমার মানিয়ে নিতে অনেক
কষ্ট হচ্ছিলো... কিন্তু মানুষটার দিকে তাকালে সবকিছু
ভূলে যেতাম... হুম আমি তাকে ভালবেসে ফেলেছিলাম...
উনিও আমাকে ভালবাসেন.. জীবনের পথে চলার জন্য
অভয় দিতেন... আমি তার মান সম্মানের জন্য নিজেকে
সব কাজে মানিয়ে নিলাম শুধু মাত্র পরিবারের মানুষদের
খুশি করার জন্য... আমাকে আমার শ্বশুর বাড়ির
লোকেরা সবাই খুব আদর করতো... মাঝে মাঝে আমার
মনে হতো পৃথীবিতে আমার চেয়ে সুখী আর কেউ নাই...
কিছুবছর পর,
আজ আমার মেয়ে হয়েছে... পরিবারের সবাই খুশি...
সবাই এসে আমার মেয়েটাকে কোলে নিচ্ছে আর বলে
যাচ্ছে আমার বাবুটা নাকি দেখতে আমার মতো...আস্তে
আস্তে আমি আমার বাবু, স্বামি ও তার পরিবারকে
নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছিলাম.. তখন মনে হতো কই
সংসার চালানো কিসের এত কঠিন কাজ? কিন্তু মন
থেকে একটাই উত্তর আসতো আমি তো নিজেকে
সঠিকভাবে মানিয়ে নিয়েছি....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now