বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালোবাসা একেক

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ভালোবাসা একেক জনের কাছে একেক রকম।অাজকে অাপনাদের অন্যরকম একটা ভালোবাসার গল্প শোনাই। এতে রোমান্টিকতা অাছে কি না জানি না।তবে এতে অাবেগ অাছে,অাছে অারও অনেক কিছু।দিনশেষে হয়ত অাপনি নিজেকেই অাবিষ্কার করবেন যে অাপনিও এর অাওতামুক্ত নন। ... সাল ২০০৬।অামার বয়স ৬ বছরও পুরোপুরি হয় নাই।কয়েকদিন অাগেই নতুন একটা খেলার সাথে পরিচিত হয়েছি।খেলাটার নাম ব্যাট-বল।বিকালবেলা প্রতিদিন খেলতাম।খেলার সাথীরা ছিল অামার থেকে বয়সে কয়েক বছরের বড়।তাদের সাথে খেলায় পেরে উঠতাম না।তবুও খেলতাম।খেলাটার প্রতি অালাদা একটা অাকর্ষণ কাজ করতো। ... খেলাটা সম্পর্কে তারপর মোটামুটি ধারণা হলো কয়েকদিন পর।নাহ্ খেলাটার নাম ব্যাট-বল না! খেলাটার নাম ক্রিকেট।তখনো টিভিতে খেলা দেখতাম না।খেলাটার নিয়ম-কানুনও জানতাম অল্প।তবে কিছুদিন না যেতেই কীভাবে যেনো খেলাটার নিয়ম-কানুন পুরোপুরি বুঝে যাই।খুটিঁনাটি যত নিয়ম অাছে তাও।তখন অামার থেকে বড়রাও খেলাটার নিয়ম ভালো করে বুঝতো না। ... এবার প্রতিনিয়ত ক্রিকেট খেলা দেখা শুরু।তবে তখন শুধুমাত্র বিটিভি ছিল একমাত্র চ্যানেল।তাই শুধুমাত্র বাংলাদেশের খেলা দেখার সৌভাগ্য হতো। যখন খেলা দেখা শুরু করি হাবিবুল বাশার ছিল দলের অধিনায়ক।অাফতাব অাহমেদ,মোঃ অাশরাফুল,সৈয়দ রাসেল এদের ছাড়া অার কারো নাম এখন মনে পড়ে না।অার একজন ছিলো যার খুব ভক্ত ছিলাম। তার নাম মাশরাফি।মাশরাফি বিন মর্তুজা।তার ভক্ত হওয়ার অালাদা একটা কারণ ছিলো। কলারটা উঁচু করে বল করতো মাশরাফি।তাকে দেখে অামিও ছোটবেলা কলার উঁচু করে রাখতাম।এর জন্য অনেক বকা শুনতে হতো অাম্মুর কাছে। ... ২০০৬ সালের শেষের দিকে দলে কিছু নতুন প্লেয়ার অাসে।অার অন্যান্য দেশের খেলোয়াড়দেরও চেনা শুরু করি।যেমন:অাফ্রিদি,শচীন,সাঙ্গাকারা। নতুন প্লেয়ারদের মধ্যে তামিম অার মুশফিক ছিলো। কয়েকদিন পর অাসে সাকিব।তখন তাকে চিনতাম অাল হাসান নামেই।তখন জয় বলতে বুঝতাম জিম্বাবুয়ে,স্কটল্যান্ড, কানাডা এসব দলের সাথে।সাউথ অাফ্রিকা,নিউজিল্যান্ড,শ্রীলংকা এদের সাথে জয়ের কথা ভাবাও যেত না। তবে অাব্বুর কাছ থেকে শুনেছি এর অাগেই নাকি অামরা পাকিস্তান,অস্ট্রেলিয়া ও ভারতকে হারিয়েছি।যাই হোক সেসব জয় দেখার সৌভাগ্য হয় নি। ... ২০০৭ সাল।মনে মনে চিন্তা করা শুরু অামিও বড় হলে ক্রিকেটারই হবো।মুশফিকুর রহিমকে দেখে ইচ্ছাটা অারও বাড়ত।বিশ্বাস না হলে ২০০৭ এর মুশফিকের ছবিটা দেখে নিতে পারেন।কিশোরসুলভ একটা চেহারা।মনে হতো এত ছোট বয়সে কেউ ক্রিকেট খেলতে পারলে অামিও ভবিষ্যতে হয়ত পারবো। ... বিশ্বকাপ ২০০৭। ভারতের সাথে খেলা।কেউ বলার সাহস করে নি বাংলাদেশ জিতবে এই কথাটা বলার। অামি সাহস করেছিলাম। অামার কথাটার প্রতিদান সুন্দরমতো দিয়েছিলো তারা। ভারতকে সেদিন হারিয়ে দিয়েছিলাম অামরা।ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলো সেই কলার উঁচু করা লোকটা। দেখতে দেখতে অামরা সেবার সুপার এইটে উঠে যাই। অামার দেখা প্রথম বিশ্বকাপ।অার বাংলাদেশ সুপার এইটে।'বিগিনারস লাক' বলে একটা কথা অাছে না,সেটারই প্রতিফলন।সেবার অামরা সাউথ অাফ্রিকাকেও হারাই,তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে অায়ারল্যান্ডের সাথে হেরে যাই সেবার। তবে কোনো দুঃখ ছিলো না।তখন থেকেই একটা স্বপ্নের বীজ বুনেছিলাম,বাংলাদেশ হয়ত কোনোদিন বিশ্বকাপ জিতবে।তখন বিষয়টা অনেক দূরের মনে হতো। ... এদিকে খেলাটা দেখার পাশাপাশি এখন খেলতেও পারি অনেক ভালো।বড়দের সাথে নিয়মিতই ভালো খেলি।স্হানীয় একটা ক্লাবে খেলতাম।এই খেলার জন্য কত যে মার খেয়েছি তার হিসাব নেই।লেখাপড়ায় ভালো হওয়ায় সারাদিন ক্রিকেট খেলে বেড়াব এটা কেউ মেনে নেয় নি।তবুও খেলতাম। ... ২০১০ সাল।এতদিনে অামরা শ্রীলংকা,ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের সাথেও জিতেছি।তবে তখনো টেস্ট অার টি টোয়েন্টি জেতা ছিলো দুঃসাহস।টেস্ট ম্যাচের কঠিন মারপ্যাচ অনেকেই বুঝতো না।অামি বুঝতাম।বড়দেরকেও বুঝিয়ে দিতে হতো। দেখতে দেখতে অাবার ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের সাথে খেলা। মজা করে বলেছিলাম অামরা সব ম্যাচ জিতবো।সত্যি সত্যিই জিতেছিলাম।তখন থেকেই সবার কাছে পরিচিতি পাই অামি যেদিন বলি সেদিনই নাকি বাংলাদেশ জিতে যায়।ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভাগ্যের ওপর ছিলো।তবুও অামার কাছে ভালোই লাগত জিনিসটা। এতদিনে দলে এসেছে রিয়াদ,রুবেলরা। ... ঘরের মাঠে ২০১১ সালে বিশ্বকাপ।৫৮ রানের হতাশার পরের দিন ক্রিকেটে দর্শক এক ঝটকায় অনেক কমে অাসে।তবুও পরের দিন অামি অাশা নিয়ে টিভির সামনে বসেছিলাম ইংল্যান্ডের সাথে জিতবো বলে।ঠিকই জিতেছিলাম।তবে ৭৮ রানে অলঅাউটের পর সেটা ম্লান হয়ে যায়। ... এতদিনে সেই অাল হাসানকে শুধু অামি না গোটা বিশ্ব চিনে।সব ফরম্যাটেই নাম্বার ওয়ান অল রাউন্ডার বাংলাদেশের কেউ ভাবা যায়??!! ... ২০১২ সালের এশিয়া কাপ সময়টা বদলে দেয়।ভারত,শ্রীলংকাকে হারানোর পর ফাইনালে ২ রানের হার।সেদিন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী কে কাঁদে নি?? গোটা বাংলাদেশ কেঁদেছিলো। ... ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে সিরিজও জেতা হয়ে গেছে।২০১৩ সালে অাবার নিউজিল্যান্ড অাসে। এবার অামার বলা লাগে না।সবাই বলে অামরা সবগুলো ম্যাচ জিতবো।এবারও হোয়াইটওয়াশ।দিনশেষে এটাই হয়।অামার সেই ভাগ্যটা এখন অার কাজে লাগে না।অামি না বললেও জিতে বাংলাদেশ এখন। ... হাইস্কুলে উঠে গেছি এতদিনে।এখন অার অাগের মতো খেলার মাঠ নেই।তবুও অামি থেমে থাকি না।ঠিকই খেলাটা চালিয়ে যাই।এখনও স্বপ্ন দেখি অামিও একদিন খেলবো বাংলাদেশ দলে।যদিও এই ইচ্ছাটার কোনো ভিত্তি ছিলো না। ... ২০১৪ সাল।সবচেয়ে হতাশার বছর। নভেম্বর মাস এসে পড়েছে।এখনো কোন ফরম্যাটেই বাংলাদেশ একটা ম্যাচও জিতে নি।৮ বছরেও এতটা দুর্দিন দেখতে হয় নি। সেই কলার উঁচু মাশরাফি অাবার অধিনায়ক।অবশেষে অামরা ২০১৪ সালে ম্যাচ জিতি।একেবারে ৫-০ তে।হোক না জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।জয় তো জয়ই।বিশেষ করে সারা বছর জয়শূণ্য থাকার পর। ... তারপর ২০১৫ বিশ্বকাপ,২০১৫ সালের স্বপ্নের বছর। ২০১৬ সাল এবং ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এসব অাপনাদের সবারই দেখা। এতদিনে বাংলাদেশের ক্রিকেটে দর্শক কি পরিমাণ বেড়েছে তাও সবার অজানা নয়। ... বিশ্বাস করুন, এখন বাংলাদেশের প্রায় সব মানুষ ক্রিকেটটা কম বেশী একটু হলেও বুঝে। বিশ্বাস করুন, একমাত্র ক্রিকেট ছাড়া অার কিছুই পারে না অাওয়ামী লীগ-বিএনপি নির্বিশেষে সবাইকে এক করতে। বিশ্বাস করুন, বাংলাদেশের খেলার দিন অফিস থেকে মূল্যবান একটা দিন ছুটি নিতে এখন দ্বিধা করে না কেউ। বিশ্বাস করুন, বাংলাদেশের খেলা থাকলে এখন স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, রিকশাওয়ালাটাও টাকার কথা চিন্তা না করে খেলা দেখতে বসে যায় দোকানে। বিশ্বাস করুন অামি সাক্ষী, অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করা রোগীটা জ্ঞান ফেরার পর জানতে চায় খেলার স্কোরটা কত?? বিশ্বাস করুন, বাংলাদেশের খেলার দিন দোকান,বাসা,অফিস কোনো জায়গা বাদ থাকে না।টিভি,মোবাইল চালুই থাকে খেলা বা অন্তত স্কোরটা দেখার জন্য।চলমান গাড়ীগুলোতেও বাজে রেডিও।একটা উইকেট বা চার ছক্কায় বাংলাদেশের কত জায়গায় উল্লাস হয় অাপনি গুনে শেষ করতে পারবেন না। ... ক্রিকেটাররা অাপনাকে খাওয়ায় না,পড়ায় না।তারা শুধুমাত্র নিজেদের ক্যারিয়ারের জন্যই খেলে।তারা হয়ত কোনো মহৎ কাজও করছে না।তবুও অাপনি ক্রিকেট ভালোবাসেন।এই ভালোবাসার কোনো ব্যাখ্যা হয় না। ... সেই ২০০৭ সালে বোনা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের বীজটা থেকে এখন গাছ বেড়িয়েছে।গাছটাও ডালপালা ছড়িয়েছে অনেক।এখন বিশ্বকাপ জয়টা অনেক দূরের পথ মনে হয় না।হয়ত অাবার ঝড় অাসবে গাছের ডালপালা ভাঙবে। তবে গাছটা ভাঙার সম্ভাবনা কম।কারণ গাছের গুঁড়িটা এখন অনেক শক্ত। ... অার এইদিকে অামার স্বপ্নটাও এখন অার দেখি না।কারণ সবার তো এখন একই স্বপ্ন।কতবার যে খারাপ খেলার পর রাগ করে বলেছি কালকে থেকে অার খেলাই দেখবো না,তবুও খেলা শুরু হলে রিমোটটা খেলার চ্যানেলেই চলে যায়।ছোট ছেলেমেয়েদের জিগ্গেস করলে কেউ বলে না ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবো।সবাই বলে ক্রিকেটার হবো।তারা সাব্বির,সৌম্য,তাসকিন,মোস্তাফিজ, মোসাদ্দেকদের দেখে। কারণ দিনশেষে এরাই বাংলাদেশ।অার অামি ১০০ ভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি এখন বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষের মনে মাশরাফিদের জন্য একটু হলেও জায়গা অাছে।এটার নামই ভালোবাসা। ... বেঁচে থাকুক মাশরাফিরা,এগিয়ে যাক বাংলাদেশের ক্রিকেট,অটুট থাকুক এই ভালোবাসার বন্ধন। ... এবার সত্যি করে বলুনতো অাপনি ক্রিকেট ভালোবাসেন কি না?একবারও কি বাংলাদেশ বাংলাদেশ করে গলা ফাটান না?মাশরাফিদের জন্য কি অাপনার মনে একটুও জায়গা নেই? লেখকgjhahriar Hossain Rimon


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালোবাসা একেক

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now