বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জীবনের গল্প- Life $tory ডিভোর্স পেপারে সাইন করার সময়,,,,,, . মেয়ে : আমি তো আর থাকব না। সব ঠিক মতো করে নিও আর নিজের খেয়াল রেখো। তুমি তো কিছু ই ঠিক করে করতে পারো না। . ছেলে : হুম রাখব . মেয়ে: তুমি ঠিক মতো ঔষধ খেতে ভুলে যাও। টাইম এ খেয়ে নিও। . ছেলে : হুম খাব। . কিছু সময় নিরবতা। দুজন দুজনের দিকে তাকায় এই ভেবে আর কিছু ই কি বলার নেই, ,,,,,??? হাতটা ধরে একটু থামিয়ে দাও না,,,,,,!!!! কিন্তু কেউ সাহস করে থামিয়ে দেয় না। সব ই চাপা অভিমান। . মেয়ে : শুন, একটা ভাল মেয়ে দেখে বিয়ে করে নিও। যে তোমাকে অনেক ভালোবাসবে, অনেক খেয়াল রাখবে আর আমার চেয়ে অনেক ভালো হবে। আমি তো খারাপ ই।।।।। . ছেলে : চুপ। আর একটা ও কথা না,,,,,,, আমার তোমার চেয়ে ভাল কাউকে চাই না, তোমাকে ই চাই। অন্য কারো ভালোবাসা ও চাই না। শুধু তোমার ভালোবাসা চাই।।।। থাকবে না পাশে,,,,???? . মেয়েটি জরিয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো। এভাবে ই মান-অভিমান আর ভুল বুঝাবুঝির জন্য হারিয়ে যায় ভালোবাসা। ভালোবাসা কাছে আসতে চায়, মান- অভিমান পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়ে বলে আমি ই কেন আগে মাথা নতো করব। মাথা নত করলে কেউ ছোট হয় না। যার ভালোবাসা বেশি সেই আগে মাথা নতো করে, যাতে সম্পর্ক টা সারা জীবন টিকে থাকে। মনে রাখবেন, সম্পর্কে ভাঙা খুব সহজ কিন্তু টিকিয়ে রাখা অনেক কঠিন। আর যা মাঝ পথে হাত ছেড়ে দেয় তা কখন ই ভালোবাসা ছিল না। হাজার ভুল বুঝাবুঝি, মান-অভিমান আর হাজার ভুল মাফ করে যা বুকে টেনে নেয় তাই ভালোবাসা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now
X
ভালোবাসা????...
তারিখ ১০-১-১৬
দোস্ত প্রেম করতে পারলাম নারে জীবনে, শালা আফসোস।
তারিখ ২-২-১৬ মেয়েটা খুব বেড়ে গেছে বেশ স্ট্যাইলিশও হয়েছে, ট্রাই করে ওকে একটু শিক্ষা দিতে পারি কি দেখি
১৬-২-১৬ তাকে ডেকে একটু ইমপ্রেস করলাম। হলোও বেশ। ২৫-২-১৬???? জড়িয়ে গেলাম সম্পর্কে।
মায়া পড়ে গেল ছাড়তে পারব না হয়ত। বললাম দেখো অনেক ভালোবেসে ফেলেছি তোমাকে। সে বলল আপনি ঠাট্টা করেন না৷
সে আমার থেকে ২ বছরের ছোট)
আমি বললাম সত্যি,,গুটি গুটি করে এগুতে লাগলো আমাদের ভালোবাসা।
৯-৩-১৬ ১ম বারের মত ও আমাকে জড়িয়ে ধরে। সেদিন ওর বাসায় কি কারনে রাগ করেছিলো। তাই আবেগি কষ্ট টা আমার বুকে মিশিয়ে দিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই জড়িয়ে ধরলো স্কুল গ্রাউন্ড এর পাশ থেকে৷ বুঝলাম ও আমার বুকে একটা বিশ্বাস ও সুখের ঠিকানা খুজে পেয়েছে৷ যাক এতদিন বাদে কাউকে পেলাম ????সত্যি অনেক হ্যাপি আমি।
তারিখ ২৮-৪-১৬ ওকে পরিক্ষা করার জন্য একটু মিথ্যা বললাম মানে দোষ চাপাইলাম????৷ কে জানতো সেটা এতদূর এগুবে? পরদিন সকালে স্কুল এসে দেখি বেচারির মুখ শুকনো। তারপর দেখি স্কুল ড্রেস এর হাতা পুরোটা নামানো। যদি ও কিছুটা গুছিয়া রাখে। কারন জিগাইলাম উত্তর পাইলাম না। হাত৷ ধরে টেনে নিয়ে যাব ভেবে মাত্র হাত ধরেছি ও আলত করে কেদে হাত সরিয়ে নিল৷ তারপর বুঝিয়ে ওকে কমন রুম নিয়ে গেলাম। বললাম কি সমস্যা? সে একদম চুপ ডান হাতের কব্জি ধরতে মনে হলো কিছু দিয়ে ওটা জড়ানো। জামার হাতা কনুই এর একটু নিচ অবদি উঠিয়ে ব্যান্ডেজ খুললাম সেখানে দেখি এই অভাগার নাম খোদাই করে লেখা। বাম হাতের দিকে নজর যেতেই হাত সরিয়ে নিল। ওই হাতও দেখি একই অবস্হা। দুহাত মিলিয়ে ২ বার করে ৪ জায়গা আমার নাম লিখেছে। হাত অসম্ভব ফুলেছে এবং কিছু যায়গা থেকে তখনো রক্ত বেরোচ্ছে। আমি পুরো রোবট হয়ে গেলাম। কি বলব বুঝতে পারছিলাম না। ওর এমন ক্ষত দেখে বুঝলাম এর থেকে ওর হৃদয়টা আরো বেশি ক্ষত হয়েছে। যাইহোক তখনই মাথায় এলো একটু শাসন করি ওকে বেশ ভালো রকম বকা দিলাম বললাম এগুলো পাগলামি ছাড়া কিছু না।
যাইহোক আবার চলতে শুরু করলাম দুজন একসাথে। কত দুষ্টমি আর আড্ডা করতাম টিফিনের সময়। মাঝে ও হাতে করে খাইয়ে দিত???? অসম্ভব ভালো সময় কাটছিল৷
২৫-২-১৭ ১ বছর পূর্ন হলো। আমি সেবার আন্তঃস্কুল ব্যাডমিন্টন খেলতে যাব। তো পাগলি আমাকে উপহার হিসাবে একটা শো-পিচ আর একটা টি-শার্ট দিল????। আমি বললাম কি দরকার ছিল৷ ব্যাস্ততার কারনে সেদিন কিছু দিতে পারিনি৷ পরেরদিন ওকে ভেলকি দেখিয়ে দিলাম। ৮ টাই স্কুলে পৌছে বাজার থেকে ওর ওকটা ঘড়ি কিনলাম। বন্ধুদের সাহায্য কমন রুমটা সাজিয়ে নিলাম৷ ও স্কুলে আসলো বাট আমি লুকিয়ে আছি এক জায়গাতে। মিনিট ১০ অপেক্ষার পর ও কমন রুমে বসতে গেল। ঠিক তখনই আমার বন্ধুরা ওকে উইস করলো সকলে একসাথে, ও তো পুরো অবাক। আমি ওর পিছর থেকে এসে চোখ ধরলাম ও জানে এরকম সাহস আমার ছাড়া আর কারো নেই৷ ঘুরে দাড়িয়ে বলল পাগল কোথাকার। হাটু গেড়ে বসে ঘড়িটা বের করে ওর হাতে পরিয়ে দিলাম। আর আমার এক বন্ধু একটা গোলাপ টুক করে আমার হাতে দিল ওর অদেখায়,আমি সেটা ওকে দিয়ে বললাম ভালোবাসি তোমাকে অনেক ভালোবাসি৷ আমাকে উঠিয়ে অতগুলো বন্ধুর মাঝে জড়িয়ে ধরে বললো আমিও তোমাকে ভালোবাসি। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো আমি কোনো ফিল্মে কাজ করছি চারিদিকে হাততালি দিচ্ছে বন্ধুরা।
সময় কাটতে লাগলো ssc দিয়ে স্কুল থেকে বেরিয়ে আসলাম। তার আগে বিদায় অনুষ্ঠানে ও আমাকে নিজ থেকেই কথা দিয়েছিলো আমি নিজেই নিজেকে দেখে রাখব একদম চিন্তা করবা না। মন দিয়ে পড়াশোনা করবা৷ আর আমাকে কিছুটা সময় দিও৷ আর পরিক্ষার ভিতর বেশি রাত জাগবা না। আরো অনেক নীতিবাক্য।
আর একটা ব্যাপার কিছু স্যাররা আর ম্যাডামরা আমাদের বিষয় টা জানতো তাদের বললাম স্যার ওকে একটু দেখে রাইখেন???? মজা করে স্যার বলল হুম তোর বউ বলে কথা। তুই আমার ছেলের মত। তাছাড়া আলহামদুলিল্লাহ সব শিক্ষকদের ও শিক্ষীকাদের মন জয় করে নিয়েছিলাম অনেক আগে৷
২৫-২-১৮= ২ বছর হলো, সেবারের গিফট্ টা ছিলো সানগাল্স,ফুল,হাত ঘড়ি। আমিও ওকে গিফট হিসাবে একটা ওড়না, এক জোড়া পায়েল দিছিলাম????। এক সাথে চলতে আছি।
এসে গেলো নতুন বছর ২৫-২-১৯ সকালে ঘুম থেকে উঠে মেস থেকে বেরোয়ে মার্কেট গেলাম। ওর জন্য একটা টেডি বিয়ার,লাভ চকলেট,আরো কিছু জিনিস কিনে প্যাক করে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম৷ ১১ টার দিকে বাসায় গিয়ে ঝটপট বাইকটা বের করে স্কুলে গেলাম। সাথে ২ টা বন্ধু। গিয়ে দেখি তিনি আমার থেকে অনেক বেশি এ্যাক্টিভ৷ দাড়িয়ে আসের গেটের পাশে। স্কুল থেকে ২ বছর হলো এসেছি ঢুকতে লজ্জা লাগে৷ তাই বাইরে দাড়ালাম দেখি ছোট ভাইরা অনেক এ আছে ডাক দিতেই ছুটে এলো। ওরা আমাদের ২ জনকে ঘিরে দাড়ালো আমি ঝটপট হাটু গেড়ে বসে সেই প্রচলিত নিয়মে গিফট টা দিলাম ও আমাকে কিছু দিলো। এবার উঠে কথা বার্তা বলে যাব এমন সময় দেখি ও পাগলামি করে বসলো। পাশে দাড়িয়ে থাকা বান্ধবির হাত থেকে দুহাতে আবির রং নিয়ে দৌড়ে এসে আমাকে মাখিয়ে দিল। জুনিয়ার যারা ছিল কেউ পার্টি স্প্রে মারে তো কেউ আবির ছুড়ে মারে আমি তো পুরোই অবাক এ ত কিছু ম্যানেজ করলো কিভাবে৷ ও বলল মনে পড়ে ৩ বছর আগে আমাকেও তুমি অবাক করেছিলা???? এবার আমি আর অপেক্ষা করতে পারলাম না। ছুটে গিয়ে ওকে বুকে জড়িয়ে নিলাম৷ সম্পর্কে জড়ানোর মাস ৩ পরে ওকে বোরকা পরার আদেশ দিয়েছিলাম তখন থেকেই সেই নিয়মই মেনে আসছে পাগলিটা৷ বললাম মুখটা একটু খুলো ও বলল কেন? বললাম আহা খোলাই না ও স্কার্ফ টা খুলতে মাখিয়ে দিলাম আবির রং৷????
কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করে বললাম আসি তবে। বলল ঠিক আছে সাবধানে যেও। আর কিছু নীতিবাক্য শোনালো। কোনো ঝামেলা জড়াবা না,রাত জাগবা না,সিগারেট খাবা না, মেয়েরা বোন না হয় বান্ধবী ওকে? আমি মাথা নিচ করে বললাম ঠিক আছে৷ কারন আমাদের মধ্য বোঝাপড়াটা এমন ছিল যে শাসনের সময় খুব সিরিয়াস,বললো যাও আর শোনো গাড়ি আস্তে চালাবা ঠিক আছে বললাম ওকে বাবু।
গাড়িতে উঠে ওর দিকে তাকালাম দেখি এগিয়ে আসছে ভাবলাম কিছু বলবে। কিন্তু না! এসে আসার শার্ট থেকে আবির ঝেড়ে দিয়ে বলল ওকে যাও খোদা হাফেজ। এ পর্যন্ত ওর কাছ থেকে ৭৫০+ লেটার পাইছি আমি কম দি নাই। সেই স্ট্যাইলিশ মেয়েটা এখন অনেক মার্জিত। ওকে জীবন সজ্ঞী বানাতে চাই।
দোয়া করবেন সকলে..❤