বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভালবেসে বিয়ে করেছিলাম সেই অনেক বছর আগে। বিয়ের ৩ বছর পর আমার স্ত্রী গর্ভধারণ করে। কিন্তু ২/৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও হার্টবিট আসেনা। যার দরুন ডাক্তার বাধ্য হয় ডিএনসি করতে। যাইহোক আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাই কিন্তু কয়েক বছর পাড় হলেও কিছুই সম্ভব হয় না। এরই মাঝে টেস্ট করে ধরা পড়লো স্ত্রীর ইউটেরাসে টিউমার দেখা দিয়েছে। অনেক গুলো হওয়াতে ডাক্তার পরামর্শ দিলেন অপারেশন করতে হবে। ঢাকার বড় বড় ডাক্তার খুঁজে ডিসিশন নিলাম স্কয়ার হাসপাতালে বসেন ডাক্তার নার্গিস ফাতেমা দ্বারা অপারেশন করাবো। ২০১২ সাল জানুয়ারি ডাঃ নার্গিস ফাতেমাকে দেখাতে তিনিও বললেন ইউটেরাস সেভ রেখে টিউমার গুলো রিমুভ করবেন। যাইহোক তিনি বললেন এটি একটি প্যাকেজের মাধ্যমে এখানে করা হয় যা সবকিছু দিয়ে ৬৫০০০/- টাকা খরচ। আমি রাজি হোলাম এবং স্ত্রীকে ভর্তি করে দিলাম কিছুদিন পর। অপারেশন ভাল করলেন অনেক সময় নিয়ে। ডাক্তার আমাকে টিউমার গুলো দেখিয়ে বললেন অনেক টিউমার ছিল যা রিমুভ করতে অনেক সময় লেগেছে এবং রুগী এখন ভাল আছে তবে একরাত পোষ্ট অপেরেটিভ কেয়ার ইউনিটে থাকতে হবে। অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়াতে আমি বিকেলে দেখতে সেই রুমের সামনে গেলাম। সিকিউরিটিকে অনুরোধ করাতে আমাকে ঢুকতে দিলো। কিন্তু যেয়ে দূর থেকে দেখি এ কি অবস্থা !! আল্লাহ্ মনেহয় শেষ বারের মত দেখতেই আমাকে ওখানে নিয়েছিলেন। ডিউটিরত ডাক্তার ও সিস্টার সব কাউন্টারে আড্ডা দিচ্ছে অথচ রুগী ওখানে মৃত্যুশয্যায় হাত নেড়ে ডাকছে কিন্তু কেউ শুনছেনা। যেন গরু জবাই করে ফেলে রেখেছে। আমার স্ত্রীর শরীর দেখি সাদা হয়ে গেছে। আমি চিৎকার করে ডিউটি ডাক্তার ডাকাতে তারা এসে ব্লাড প্রেসার মাপতে দেখে প্রেসার ৩৫। সাথে সাথে ডাঃ নার্গিস ফাতেমা এসে হাজির। তিনি এই অবস্থা দেখে ডিউটি ডাক্তারের উপর চোখ গরম করলো কিন্তু আমি থাকাতে কিছু না বলে দ্রুত ICU তে নিয়ে গেলেন। এবং আমাকে বললেন যত ব্যাগ পারেন রক্ত সংগ্রহ করেন এখনই। আমি পাগল হয়ে গেলাম। ICU তে ডাক্তার ব্লাড প্রেসার বাড়াতে চেষ্টা চালিয়ে গেল এবং সবাই বোর্ড মিটিংয়ে বসে গেলেন। আমি ব্যাগের পর ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করতে থাকলাম। রাতে ডাক্তার আমাকে ICU তে ডাকলেন এবং বললেন রুগীর টিউমার রিমুভ করার স্থান গুলো বন্ধ করা যাচ্ছেনা এজন্য ব্লিডিং হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ্র কাছে দোয়া করতে বললেন যেন তাকে বাঁচানো যায়। আমি আমার স্ত্রীর হাত ধরে বলে আসলাম তোমাকে আমার ঘরে নিয়ে যাবোই। সারারাত কেঁদে কেঁদে প্রার্থনা করতে থাকলাম। রাত থেকে রক্ত দিচ্ছে অথচ বেড় হয়ে যাচ্ছে। এভাবে ১১ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়ে গেল। ডাক্তাররা আবার আমাকে ডাকলো এবং বললেন তাকে আবার অপারেশন করতে হবে এবং পুরো ইউটেরেসটি ফেলে দিতে হবে এবং আমার স্ত্রী আর কোনদিন মা হতে পারবেন না। আমি সাথে সাথে ডাক্তারকে কাগজে সাইন দিয়ে বললাম আপনি ফেলে দেন আমার বাচ্চার দরকার নাই। আবার অপারেশনে ঢুকালো। সর্বোমোট আমি ১৮ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে ক্রসম্যাচ করেছিলাম। অপারেশন হলো এবং ICU তে তিন দিন রেখে রুমে দিলো। আল্লাহর রহমতে তখন ভাল। আমাদের রুমের মাঝে পর্দা দেওয়া সহ তখন আর একজন রুগী ছিল। এক আমার স্ত্রী আর একজন সেদিনই বাচ্চা হওয়া এক ভদ্রমহিলা। একজন মা হলেন আর একজন চিরতরে মা হওয়া থেকে বঞ্চিত হলো একই রুমে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের পাশের রুগী যখন জানতে পেলো আমার স্ত্রীর এই সমস্যা সাথে সাথে পর্দার এপাশ থেকে শুনতে পেলাম সিস্টারকে ফোন করে বলছে আমাকে এইরকম রুগীর কাছে কেন রাখা হয়েছে??? আমার বাচ্চার ক্ষতি হবে। শুনেও আমরা না শুনার ভান করলাম। এবং তিনি রুম ছেড়ে দিলেন। যাইহোক তিন দিন পর যখন বিল দিতে গেলাম তখন দেখি ৬৫০০০/- টাকার প্যাকেজের বিল দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ টাকা। আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। যাদের অবহেলার কারনে আমাদের এত বড় ক্ষতি হলো আবার তারা টাকাতে একটুও ছাড় দিলো না। আমি স্কয়ার হাসপাতালের অপারেশন হেডের কাছে গেলাম ও তাকে সব খুলে বললাম। তার নিকট দরখাস্ত দ্বারা আবেদন করলাম আমাকে কিছু টাকা মওকুফ করা হোক। কিন্তু তিনি মোটেও শুনলোনা। তিনি ডাক্তার নার্গিস ফাতেমা সহ অন্য ডাক্তারদের ডাকালেন এবং সকল বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে বললেন আপনার স্ত্রীকে বাঁচানো গেছে এটাই বড় কথা আর মৃত্যুশয্যা যাওয়াতে তাদের নাকি কোন দোষ ছিল না। আমি ওদের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু ফ্যামিলির কাছ থেকে কোন সাপোর্ট পেলাম না। সবাই বলে আল্লাহ কপালে রেখেছেন এখন আর কি করার !!!
স্ত্রী সুস্থ হয়ে উঠলো আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের টোনাটুনির সংসারের অনেক বছর পাড় হয়ে গেল। দুজনই কর্মজীবনে ব্যস্ত। দিন শেষে ঘরে ফিরি। আর মন খারাপ রোধ করতে দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াই। এই গ্রুপে অনেকেই পোষ্ট দিয়ে থাকেন যাদের সন্তান না হওয়ার কারনে স্বামি তালাক দিতে চায়। আমি সেই সমস্ত পুরুষদের বলতে চাই স্ত্রীকে সবার আগে ভালবাসুন তারপরে অন্য সব চাওয়া পাওয়া।
একজন স্ত্রী শুধুমাত্র সন্তান পয়দা দেওয়ার মেশিন নয় যে তা দিতে না পারলে আপনি তাকে ছেড়ে দিবেন। সন্তান আল্লাহ্ দিয়ে থাকেন তিনি যেমন দিতে পারেন তেমনি নিতেও পারেন। এখানে কারো কোন হাত নেই। সবার আগে সংসারে সুখ।একটি সুখি সংসার বেহেস্তের বাগান স্বরুপ। আর পৃথিবীটা থাকার জায়গা না। আমরা কেউই থাকবো না। কেউ আজ কেউ কাল। সব কিছুই পড়ে রবে তবে কেন আমাদের এত চাওয়া পাওয়া?
এভাবে দিন চলে যায়
জীবন থেকে সময়
হারিয়ে যায় স্বপ্ন গুলি
স্মৃতি শুধু পড়ে রয় !!
জগতের এইতো রীতি
একদিন হবে যে ইতি
সুখে দুঃখে কেটে যাবে
মানুষ নামের দেহ বাতি !!
#Real_life_story_of-- Kazol
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now