বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালবাসি বলেই কি এত্ত পেইন দাও

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান uzzal (০ পয়েন্ট)

X চুপচাপ রিকশার এক কোণে বসে আছি। হালকা শীতের মধ্যেও কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা হয়েছে। মাথার মধ্যে হাজারটা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে কিন্তু কোনটাই কাজে দিচ্ছে না। মাঝে মাঝে আড়চোখে পাশে বসা মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছি। ঠান্ডা আবহাওয়ায় কপালে ঘাম জমার কথা না কিন্তু পাশের মেয়েটির রাগের গরমে আমার কপাল দিয়ে পানি বের হচ্ছে। কিছু বলারও সাহস পাচ্ছিনা, কোথায় যাচ্ছি সেটাও জানি না। . পাশে বসে রাগে ফোসফোস করা মেয়েটার নাম নীলা। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, ফ্রেন্ড বললে ভুল হবে ওকে খুব ভালোবাসি কিন্তু কখনো বলি নি। অনেকভাবে বুঝিয়েছি কিন্তু ও কিছুতেই বোঝেনি। কলেজে সবসময় দুজন একসাথে থাকতাম। ও ছাড়া আমার কোন বন্ধু বা বান্ধবী ছিলো না আর আমি ছাড়া ওরও কেউ ছিলো না। দুজনের বাসা পাশাপাশি হওয়াতে ওর পরিবারের সাথে আমার পরিবারের আত্বিক সম্পর্ক হয়ে গেছে। কলেজে যাওয়া থেকে শুরু করে ওর সকল কাজে আমাকে সাথে নিয়ে যেত। এভাবেই পাশাপাশি থাকতে থাকতে একসময় মনের কোণে নীলার উপস্থিতি অনুভব করি। ওর নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকালে হাজার কবিতা বের হয়ে আসে। ওর দীঘল কালো চুলের কাছে মেঘেরা ও হার মেনে যায়। . সব কিছুই ঠিকঠাক ছিলো, আমিও আপন মনে ভালোবেসে যাচ্ছিলাম কিন্তু আজকের রাগের কারণটা এখনও জানতে পারি নি। জানবোই বা কিভাবে সেটা জিজ্ঞেস করার সুযোগটাই পাইনি। সবেমাত্র ঘুমথেকে উঠে ফ্রেস হইছি, ঠিক তখনি নীলা রাগি মুখে আমার শার্টের কলার ধরে আম্মুর সামনে দিয়ে টানতে টানতে রিকশায় এনে বসিয়েছে। সেই থেকে চুপচাপ শান্ত ছেলের মতো বসে আছি আর ভাবছি কপালে কি আছে। যেভাবে আম্মুর সামনে থেকে নিয়ে এসেছে, বাসায় ফিরলে কি হবে সেটাই ভাবছি। . আধাঘন্টা পার হয়ে গেছে, রিকশা চলছে আপন মনে । মাঝে মাঝে আড়চোখে তাকাচ্ছি রাগি মেয়েটার দিকে, রাগে এখনও ফুসছে সেটা বুঝতে পারছি। কিছু বলবো সে সাহসটাও পাচ্ছি না। অনেক্ষণ ভেবে, বুকে কিছুটা সাহস সঞ্চার করে বুকটা বেলুনের মতো ফুলিয়ে ওর দিকে ঘুরে তাকালাম। কিন্তু ওর রাগি লুক দেখে বুকটা তাৎক্ষণিক ধপাস করে ফেটে গেল। সাহস আর ধরে রাখতে পারলাম না। কিছুক্ষণ পর একটা জায়গায় রিকশাটা থামতে বললো। জায়গাটা অসাধারণ ছিলো, রিকশা হতে নেমে জায়গাটা দেখছিলাম। নদীর তীরে কাশফুল ফুটে আছে, হালকা বাতাসে নিজেকে রুপকথার নায়ক মনে হচ্ছিলো। ভাবছিলাম এরকমই কোন এক জায়গাতে নীলাকে নিয়ে আসার কথা স্বপ্নের মাঝে ছিলো আর সেটা নীলা পূরণ করছে। . রোমান্টিক মুড নিয়ে মনের মধ্যে হাজার কেজি সাহস নিয়ে নীলার দিকে তাকিয়ে যেইনা কথাটি বলতে যাবো ঠিক তখনি ঠাস ঠাস করে দুটো শব্দ শুনতে পেলাম। কিছুক্ষণ পর নিজের হাতদুটো মুখে আবিষ্কার করলাম। কিছুক্ষণ নিরবতার পর ভাবলাম যাক ওর রাগতো কমছে। কিন্তু আমার ধারণা ভুল প্রমাণ করে নীলা আমার শার্টের কলার ধরে বলতে শুরু করলো ------- -ওই, তুই কাল মিমরে কি কইছোস......??? আমি না থাকলেই তোর অন্য মেয়ের দিকে তাকাতে ইচ্ছা করে, তাদের চোখমুখের প্রশংসা করতে ইচ্ছা করে.....??? এতক্ষণে বিষয়টা বুঝতে পারলাম, কাল নীলা কলেজে আসছিলো না, বাড়ি ফেরার সময় মিমের সাথে দেখা। মিমও আমাদের পাশের বাসায় থাকে, তাই দুজনে একসাথে আসছিলাম। রাস্তার মাঝে মিমকে বলছিলাম "নতুন জামাতে তোমায় দারুন লাগছে"।। এইটাই আমার অপরাধ।। . -ওই চুপ করে আছিস ক্যান.......???? (নীলার ডাকে বাস্তবে ফিরলাম) -সরি বাবুনী -কিসের সরি, আর কোন মেয়ের দিকে তাকালে চোখ তুলে ফেলবো। -ওকে, এই চোখ বন্ধ করলাম। -ওই, আমার দিকে তাকাবি শুধু, -কেন তাকাবো......???? -জানিনা -ও -প্রোপজ কর.......!! মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। অনেকদিনের ভালোবাসা আজ প্রকাশ করবো। ভাবতেই ভালো লাগছে, তাড়াতাড়ি ওর সামনে বসে হাটুগেড়ে প্রোপজ করলামঃ আই লাব য়্যু আবার, ঠাশ শব্দ আর আমার গালে হাত। -এইভাবে কেউ প্রোপজ করে.....? (নীলা) -তাহলে কিভাবে করবো.......?? -একটু ভিন্ন ভাবে..... -এই মেয়ে, বউ হবে আমার....???? নিশিরাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকবে, তখন রাতজাগা পাখির মতো থাকবে আমার পাশে.......??? আমার ছোট্ট ঘরে পূর্ণিমার চাদ হয়ে থাকবে.....???? গোধুলী বিকেলে খোলা চুলে আমার পাশাপাশি হেটে যাওয়া পরী হবে......?? তুমি কি আমার ঘুম ভাঙ্গানো পাখি হবে......??? তুমি কি শুধু আমার হবে.......???? . কথাগুলো শেষ করে গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছি, বলাতো যায় না কখন কি হয়ে যায়। কিন্তু এবার কিছু হলোনা শুধু বুকের মাঝে কারো উষ্ণ উপস্থিতি টের পেলাম। আমিও গাল থেকে হাত নামিয়ে জড়িয়ে নিলাম মায়ার বন্ধনে। কেউ ভালোবাসা দিতে চাইলে সেটা দুহাত বাড়িয়ে নিতে হয়। নইলে পড়ে পস্তাতে হয়।। .......উজ্জ্বল....... নবাব সিরাজ উদ দৌলা সরকারি কলেজ নাটোর


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালবাসি বলেই কি এত্ত পেইন দাও

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now