বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভালবাসি
..
..
একুশ দিন পর আজ ইউনিতে যাচ্ছি। যেতে মন চাইছিল না। কিন্তু বন্ধুদের ফোনে বিরক্ত হয়ে অবশেষে রওনা দিলাম। যদি হেঁটে যাই তাহলে একঘন্টা লাগবে আর যদি রিক্সায় যাই তাহলে বিশ মিনিটের মধ্যেই পৌছে যাবো।
- এই রিক্সা যাবে নাকি?
- কই যাইবেন মামা?
- কলেজরোড যাবো মামা।
- না মামা যামু না। ওই রাস্তায় রিক্সা যাওয়া নিষেধ।
- ও আচ্ছা।
..
আজ বোধহয় হেঁটেই যেতে হবে। তাই আর সময় ক্ষেপন না করে হাঁটতে শুরু করলাম। মাঘ মাস চলছে। যথারীতি হাঁড় কাঁপানো শীত পড়েছে। এখন সকাল নয়টা, কিন্তু সূর্যের মুখ এখনো দেখা যায়নি। আকাশটা আজ মেঘলা, ঠিক যেন আমার মনের মতই ঘোলাটে।
..
ইউনিতে ঢোকার মুখেই দেখা হলো রফিক ভাইয়ের সাথে। রফিক ভাই আমাদের এখানকার নেতা টাইপের লোক। তবে আমাকে খুবই স্নেহ করে।
- স্লামালাইকুম ভাই, কেমন আছেন?
- (হাসি দিয়ে) এইতো ভাল আছি আরমান। তোমার কি খবর?
- জী ভাই ভাল আছি।
- তা সেদিন নীলার সাথে তোমার কি হয়েছিল?
নীলার নামটা শুনতেই বুকের ভেতর জ্বলে উঠলো। এখন মন চাচ্ছে রফিক ভাইকে নীলার নাম উচ্চারনের অপরাধে গলা সমান গোবরে ফেলে দেই। তবে মনের ইচ্ছা মনেই চেপে রেখে মুখে যথাসম্ভব হাসি রেখে বললাম,
- কই ভাই কিছু হয়নাই তো।
- আসলেই কিছু হয়নাই? আমি তে শুনলাম তোমাকে নাকি চড় মেরেছে?
- আরে নাহ ভাই, এগুলো হুদাই ভুয়া কথা। পোলাপানের কাজ নাই তো, তাই তিলকে তাল বানাচ্ছে।
- হুহ আমিও তাই ভাবছিলাম। তবে একটু সাবধানে থাকবে। নীলা মেয়েটা সুবিধার না।
- জী ভাই আমি সবসময় সাবধান থাকি।
..
মেজাজটাই বিগড়ে গেল। এতদিন পর ইউনিতে এসেই নীলা নামক একটা ডাইনির নাম শুনতে হলো। ধুর দিনটাই মাটি হয়ে গেল আমার।
এসব কথা মনে মনে ভাবছি আর ঠিক তখনই দেখলাম নীলা আসছে। তবে সে একা নয়, তার আরো কয়েকজন বান্ধবী নিয়ে সে আসছে।
আমি তখনই গলায় পেঁচানো মাফলার দিয়ে আমার মুখটা ঢেকে নিলাম। তারপর বসে পড়লাম শহীদ মিনারের সিড়িতে।
..
নীলাকে যেদিন প্রথম দেখেছিলাম সেদিনই ওর প্রেমের জালে আটকা পড়েছিলাম। মাকড়সার জালে যেমন পোকা আটকা পড়লে ছটফট করে আমিও তেমনি নীলার প্রেমের জালে আটকা পড়ে ছটফট করছিলাম।
এই জাল থেকে ছাড়া পাওয়ার একমাত্র উপায় নীলাকে মনের কথাটা খুলে বলা।
কিন্তু কথা বলতে হলে তো আগে পরিচিত হতে হয়। তাই লেগে গেলাম নীলার পিছনে।
অবশেষে একদিন নীলার সাথে কথা বলার সুযোগ পেলাম। তারপর থেকে মাঝে মাঝে নীলার সাথে কথা হতো। ক্যাম্পাসে যতক্ষন থাকতাম ততক্ষন আমার এই দুচোখ নীলাকে মন ভরে দেখতো।
কিন্তু মনটা ছটফট করতো আমার। মনের কথাটা বলতে যে এখনো পারলাম না।
..
সেদিন নীলা একটা গোলাপি রঙের শাড়ি পরে এসেছিল। শাড়িতে নীলাকে অসাধারন লাগছিল। আমি মনে মনে ঠিক করে ফেললাম নীলাকে মনের কথাটা বলবই আজ।
- নীলা কেমন আছো?
- হুম ভাল আছি। আপনি কেমন আছেন?
- আমিও ভাল আছি।
- কিছু বলবেন নাকি?
গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল বোবা হয়ে গেছি। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। অনেক কষ্টে আমি নীলাকে বললাম,
- নীলা আমি তোমাকে ভালবাসি।
- কি বললেন?
- আমি তোমাকে........
বাকিটা আর বলতে পারলাম না। তার আগেই নীলার হাতটা আমার শার্টের কলারে এসে পড়লো এবং ঠুস করে একটা শব্দ হলো। ধাক্কার কারনে একেবারে ক্লাসের দরজার সাথে বাড়ি খেলাম। যার ফলেই এই শব্দের সৃষ্টি।
- মেয়ে দেখলেই তোদের জীভে পানি চলে আসে? কি মনে করিস নিজেদের? মেয়েরা তোদের হাতের খেলনা?
- নীলা আমি......
- চুপ একটা কথা বলবি না। দুইদিন একটু হেসে কথা বলেছি আর তাতেই একেবারে ভালবেসে ফেলেছিস? তোদের মত ছেলেদের ভাল করেই চিনি। তোরা যখন যাকে দেখিস তার সাথে ভালবাসার অভিনয় করিস।
- আমার কথাটা........
- আর একটা কথাও বলবি না। যদি লজ্জা থাকে তাহলে আর কখনই আমার সামনে আসবি না। আসছে প্রেম করতে।
..
ক্যাম্পাসের সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে আমার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। আমার শুধু একটা জিনিসই খারাপ লেগেছে। নীলার এমন ভাবে আমায় অপমান করাটা কি ঠিক হলো?
কি অপরাধ করেছিলাম আমি? কাউকে ভালবাসাটা কি অপরাধ? নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে দুফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। অশ্রুর সাথে সাথে হয়তো আমার ভালবাসাটাও গড়িয়ে পড়ে গেছে।
সেদিনের পর থেকে একুশ দিন ইউনিতে আসিনি।
..
অতীত থেকে বর্তমানে ফিরে আসাটাই ভাল। কারন অতীত শুধু কষ্ট ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনা।
আমি শহীদ মিনারের সিড়িতে বসে আছি। আর একটু পরে নীলাও তার বান্ধবীদের নিয়ে সিড়িতেই বসলো। তবে আমার থেকে একটু দূরে।
আমার দিকে নীলা যদি তাকিয়ে থাকে তাহলে আশা করি চিনতে পারবে না।
..
কিছুক্ষন সেখানেই বসে থেকে চলে এলাম ক্যান্টিনে। দেখা হয়ে গেল রাফির সাথে।
- কিরে দোস্ত এতদিন আসলি না কেন? (রাফি)
- এমনি দোস্ত, শরীর ভাল ছিল না। (আমি)
- শরীর ভাল ছিলনা নাকি মন?
- দুটোই।
- দোস্ত মন খারাপ করিস না। এমন মেয়ে জীবনে আরো অনেক পাবি।
- হুম ঠিকই বলেছিস রে। তবে কি জানিস? নীলাকে বড্ড বেশী ভালবেসে ফেলেছি রে। ও আমায় অপমান করেছে কিন্তু তারপরও মন থেকে ওকে ঘৃনা করতে পারছি না। কেন দোস্ত বলতে পারিস?
- (রাফি চুপ।)
- জানি উত্তর দিতে পারবি না। বাদ দে দোস্ত, চল কোথায় গিয়ে কফি খাই।
..
- আরমান ভাই ভাল আছেন?
আমি আর রাফি কফিতে সবে মাত্র একটা চুমুক দিয়েছি এমন সময় একটা মেয়ে আমাকে উপরের কথাটা বললো। মেয়েটাকে চিনি তবে নাম জানিনা।
- হুম ভাল আছি, তুমি কেমন আছো? (আমি)
- আমিও ভাল আছি। এই যে নিন এটা আপনার। (মেয়েটা)
একথা বলেই মেয়েটা আমাকে একটা কাগজ আমার হাতে দিয়েই চলে গেল। কিসের কাগজ জিজ্ঞেস করার সুযোগ দিলো না।
..
' আমি তোমার জন্য কালাম ভাইয়ের ফুচকা দোকানের সামনে অপেক্ষা করছি। পাঁচ মিনিট সময় দিলাম, চলে আসো।'
কাগজের লেখাটা পড়েই চোখ কপালে উঠলো। কে দিল এই চিরকুট? আর কেনই বা সে আমার জন্য অপেক্ষা করছে? আমার কি যাওয়া উচিত?
দ্বীধাগ্রস্থ ভাব নিয়ে এগুলাম কালামের ফুচকা দোকানে।
..
দোকানের সামনে গিয়ে একটা বড়সড় ধাক্কা খেলাম। কারন নীলা দাঁড়িয়ে আছে দোকানের সামনে। তারমানে নীলাই আমাকে কাগজে......।
নাহ আর দাঁড়ালাম না। উল্টোদিকে হাঁটতে লাগলাম কোনরকম সময় নষ্ট না করেই। শেষ মূহুর্তে হয়তো নীলা আমাকে দেখে ফেলেছিল। কারন আমি নীলার মুখে আমার ডাক শুনতে পাচ্ছিলাম। এটা আমার বিভ্রমও হতে পারে।
..
বাসায় আসার পর থেকেই শুধু নীলার কথা মনে পড়ছে। আসলে কি নীলাই চিরকুট দিয়েছিল? নাকি আমি ভুল করেছি ওখান থেকে চলে এসে? নাহ মাথা কাজ করছে না।
বিছানায় শরীর এলিয়ে দিয়ে বালিসে মাথা রাখার সাথে সাথেই বিকট শব্দে ফোন বেজে উঠলো। আনমনে ছিলাম বলেই হয়তো শোয়া থেকে লাফিয়ে উঠলাম।
অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন এসেছে।
- হ্যালো স্লামালাইকুম। (আমি)
- এই কি ব্যাপার তুমি এভাবে চলে আসলে কেন? (ওপাশ থেকে)
- কে বলছেন আপনি?
- আমাকে চিনতে পারছো না তুমি?
- নাহ, চিনতে পারছি না। আপনি কে?
- আমি নী............!
ফোনটা কেটে দিলাম। আমি জানি নীলা ফোন দিয়েছে। হয়তো কোন বন্ধুর কাছ থেকে আমার নাম্বার নিয়েছে। হয়তো আমাকে সরি বলতে চাইছে। মেয়েদের মন বোঝা খুবই কঠিন।
..
পরদিন ইউনিতে ঢুকতেই নীলার সাথে দেখা হয়ে গেল। আমি পাশ কাটিয়ে চলে আসতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু নীলা খপ করে আমার হাতটা চেপে ধরলো।
- হাত ছাড়ুন। (আমি)
- না ছাড়বো না। (নীলা)
- দেখুন ভাল হবেনা বলে দিলাম।
- কি করবে তুমি?
- (জবাব দিলাম না)
- কি ব্যাপার জবাব দিচ্ছো না কেন?
- জবাব দিতে বাধ্য নই।
..
হঠাৎ নীলা হাত ছেড়ে দিল। ছাড়া পেয়ে আমিও কালবিলম্ব না করে হাঁটতে লাগলাম। নীলাও আমার পাশে পাশে হাঁটছে।
- আসলে সেদিন মাথাটা গরম ছিল। আব্বু আম্মুর সাথে ঝগড়া হয়েছিল তাই। (নীলা)
- হুম। (আমি)
- প্লীজ মাফ করে দাও।
- দিলাম।
- মাফ করেছো তো সত্যি?
- হুম।
- ভালবাসি।
- কি বললা?
- ভালবাসি তোমায়।
- হুম
- এই শুধু হুম হুম করছো কেন?
- হুম।
- আবারো হুম।
- হুম।
- তবে রে বাঁদর।
..
হাঁটতে হাঁটতে নীলা আর আমি একটু নির্জন জায়গায় চলে এসেছিলাম। তখনই নীলা আবারো আমার শার্টের কলার চেপে ধরলো। তবে এবার ধাক্কা দিল না। কাছে টেনে নিল। ওর নিশ্বাসের শব্দ স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি।
তারপর কি হলো আমি জানিনা।
যখন ঘোর কাটলো তখন নীলা মুচকি হাসছে আর আমি কাঁপছি।
যাক শেষমেষ সেই দরজার সাথে ধাক্কার বদলা পেয়ে গেলাম সুদে আসলে।
তবে একটা জিনিস মানতেই হবে। মেয়েদের মন বোঝা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।
..
লেখক: আরমান হোসেন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now