বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্কুল লাইফ থেকে শুরু হয়েছিলো আমাদের প্রথম পথচলা। সেই শৈশবকাল থেকেই আমি আর রুমা একে অপরের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলাম। আমাদের ঘর আর রুমাদের ঘর একেবারে পাশাপাশি ছিলো। স্কুল ছাড়াও আমি আর রুমা বাকি সময়গুলি একসাথেই থাকতাম। রুমা মেয়েটা তেমন চতুর ছিলোনা ঠিক। তবে ঘরের সমস্ত কাজ কর্ম সে একাই সামলাতো। শৈশব কালেই রুমার মা রুমাকে একা করে চলে যান। রুমার বাবা উনার একমাত্র মেয়ের দিকে তাকিয়ে দ্বিতীয় কোনো বিবাহ করেননি। প্রতিবেশীরা অনেক বুঝিয়েছিলো রুমার বাবা কে। কিন্তু উনার একটাই উত্তর আমার মেয়ে আমার কাছে সব। আমার মেয়ের দিকে তাকালে মেহরিনের কথা স্মরণ হয়। মেহরিন হলো রুমার মা। রুমার বাবা উনার স্ত্রীর কথা কখনো ফেলতেন না। কারণ তারা একে অপরকে খুব ভালোবাসতেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন ভাগ্য সব উলট পালট করে দিলো। পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে রুমার মা পড়পাড়ে চলে গেলেন। সেদিন থেকেই রুমা খুব একা।
..
..
তাদের ঘরে একটা কাজের মেয়ে থাকা সত্তেও রুমা নিজ হাতে খাবার রাঁধতো। কারণ ওর পছন্দ না। কেউ তাকে রেঁধে খাওয়াক। রুমা প্রতিদিনই আমাদের ঘরে আসতো। আম্মুর সাথে মাঝেমাঝে অনেক রাত পর্যন্ত গল্প গুজব করতো। আম্মুর ও ভীষণ পছন্দ ছিলো রুমাকে। অনেক ভালোবাসতেন মেয়েটিকে। একদিন তো আম্মু বলেই দিছিলেন আমি তোকে আমার ঘরের বউ বানিয়ে আনবো। আমি তখন রুমার পাশে বসা ছিলাম। খেয়াল করলাম লজ্জায় তখন তার চেহারা একেবারে লাল হয়ে গেছিলো। কি বলবে ভেবে পাচ্ছিলো না। অবশেষে আমি সেখান থেকে চলে আসলাম। কারণ আমিই ছিলাম আমাদের ঘরের একমাত্র সন্তান। আর আম্মু যে রুমাকে আমার বউ বানিয়ে আনার কথা বলতেছেন সেটাও আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না। তাই আমি সেখান থেকে চলে আসলাম যাতে রুমা লজ্জা না পায়।
..
..
আজকে কলেজের প্রথম দিন।
তার চেয়ে আরো খুশীর সংবাদ হলো আমি আর রুমা এক কলেজে ভর্তি হয়েছি। তাই ভাবলাম আজকেই রুমাকে আমার না বলা কথাটুকু বলে ফেলবো। এতদিন থেকে বলবো বলবো বলেও বলা হচ্ছেনা। আসল কথা এখানে না। আসল কথা হলো যখনি আমি তাকে কিছু একটা বলতে যাবো তখনি গলা একেবারে শুকিয়ে যায়। কণ্ঠনালী থেকে একটা আওয়াজ ও বের হয়না। তাই আজ প্রতিজ্ঞা করেছি যেভাবেই হোক রুমাকে আমার মনের কথা বলবই। অনেকক্ষণ থেকে তার জন্য অপেক্ষা করতেছি। কিন্তু ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো নাম ও নিচ্ছেনা। অবশেষে আধা ঘন্টা অপেক্ষা করানোর পর তার দেখা মিললো। নীল রঙের একটা ড্রেস পরা। ঠোঁটে হালকা করে লিপস্টিক দিয়েছে। চোখের মধ্যে গাঢ় করে কাজল লাগানো। এক কথায় অন্যদিনের থেকে অসাধারণ দেখাচ্ছে। একদম ডানা কাটা এক পরী।
আমি তার এমন অবস্থা দেখে বললাম....
> কিরে আজ এত সাজোগোজো করলি যে।
> আরে না এমনিতেই। ভালো লাগলো তাই।
> সত্যি করে বল কেইছ কি? কাউকে পটানোর ধান্দা করতেচিস বুঝি?
> আরে না এসব কিছুনা। ছাড় তো এইগুলা। চল তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে।
> হু। আমার ও কিছু কথা আছে তোর সাথে।
চল ওখানটায় গিয়ে বসি তাইলে।
> হুম অকে।
..
..
আমি আর রুমা একটা বটতলায় একে অপরের পাশাপাশি বসে আছি। উভয়েই নীবর। কারোর মুখে কোনো সাড়াশব্দ নেই। মনে হচ্ছে উভয়েই শব্দহীনতায় ভুগছি। মনে মনে আবার ভীষণ আনন্দ ও লাগছে এই ভেবে যে আমি রুমাকে যে কথাটা বলতে চাচ্ছি রুমাও সেই একই কথা আমাকে বলতে চাচ্ছে। অবশেষে আমি নীরবতা ভেঙ্গে বললাম....
> তুই না আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছিলি।
> হ্যাঁ বলবো। আগে তুই বল।
> না। আগে তুই।
> এইত ঝগড়া শুরু করে দিলি।
> আমি কই শুরু করলাম। তুই আগে বলেছিলি আমার সাথে নাকি তোর কথা আছে। তাহলে তুই আগে বলবি।
> হইছে। আর ঝগড়া করতে হবেনা। এবার থাম।
> আচ্ছা থামলাম।
শুন আক্কু আমি সিয়াম কে খুব বেশী ভালোবাসিরে।
কিন্তু কিভাবে তাকে বলবো সেটা ভেবে পাচ্ছিনা।
তুই তো আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। প্লিজ একটু হেল্প করনা।
রুমার কথা শুনে মুহূর্তেই আমার চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে গেল। এতদিনের তিল তিল করে গড়ে তুলা স্বপ্নগুলি এক ধমকা হাওয়ায় ভেঙ্গে যাবে তা কখনো অনুমান করতে পারিনি। অনুমান করলাম আমার মনের উপড় দিয়ে কেউ স্টিম রোলার চালানোর ফলে মনখানা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। রুমাকে এই মুহূর্তে কি বলবো সেটাও ভেবে পাচ্ছিলাম না। শুধু তারদিকে ফ্যালফ্যাল তাকিয়েছিলাম। অবশেষে রুমার ডাকে বাস্তবে ফিরলাম।
> আমার দিকে তাকিয়ে কি এমন ভাবচিস।
> আরে কিছুনা। চল কলেজে যাই। তাহলে সিয়ামের সাথেও এই বিষয় নিয়ে কথা বলে ফেলবো।
> আচ্ছা তাহলে চল।
..
..
আমি আর রুমা উভয়ে কলেজের দিকে হাটা ধরলাম।
কলেজে পৌঁছতেই গেইটে সিয়াম কে দেখে রুমা যতটুকু আনন্দ পাচ্ছিলো। তার চেয়ে দ্বিগুণ আমি কষ্ট পাচ্ছিলাম। অতঃপর সিয়াম কে ডাক দিয়ে আমার পাশে আনলাম। আর রুমার ফিলিংসগুলি সুন্দরভাবে তার সামনে উপস্থাপন করলাম।
ছেলেটা হাসিমুখে রুমাকে সাধরে গ্রহণ করে নিলো। তারা উভয়ে একে অপরকে পেয়ে যতটুকু হাসছিলো তার চেয়ে বেশী আমার চোখ থেকে অশ্রু ঝড়ছিলো।
তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি বাড়ি চলে আসলাম। পা এগোচ্ছিলো না। বারবার পিছন ফিরে তাকাচ্ছিলাম। এই নাকি রুমা আমাকে আদর করে আক্কু বলে ডাক দিবে। কিন্তু না। আমার ধারণা ভুল ছিল।
বারবার মনে হতে লাগলো আমি আমার সবচেয়ে প্রিয় বস্তুকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি। আবার মনে হলো এখন তো সে একা না।
..
..
বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ এক খণ্ড মেঘ আমার চোখেরজলের সাথে একাকার হয়ে বর্ষিত হতে লাগলো। সেখানে কোনটা চোখের জল আর কোনটা বৃষ্টির পানি তা চিহ্নিত করা দুষ্কর ছিলো।
সেদিন বাড়িতে এসে আমি খুব কাঁদছিলাম। হ্যাঁ খুব কাঁদছিলাম।
পরের দিন আমি ঢাকা চলে যাই। রুমার সব স্মৃতিগুলি একটা ডায়েরীতে লিপিবদ্ধ করে আমার সাথে নিয়ে যাই।
..
..
২মাস পর আজ প্রথম কলেজের গেইটে পা রাখি।
চারিদিক কেমন যেন অন্যরকম লাগলো। নতুন করে চারিদিকে ফুল গাছ লাগানো হয়েছে। কি মনোরম দৃশ্য।
রুমার এক বান্ধবী রুমাকে আমার আসার সংবাদটা পৌঁছাইতেই রুমা দ্রুত গতিতে আমার সামনে উপস্থিত হলো। আমরা একে অপরের দিকে কতক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। আমি একটা জিনিস খেয়াল করলাম রুমা আগের চেয়ে অনেক চিকন হয়ে গেছে। চেহারা ও কেমন যেন ফ্যাকাসে। চোখের নিচে ও কালো দাগ।মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম কেমন যেন রোগা রোগা ভাব।
আমি রুমা কে বললাম তোর এমন অবস্থা হলো কেন?
অতঃপর সে আমার বুকে ঝাপিয়ে পরে কাঁদতে কাঁদতে বললো জানিস আক্কু সিয়াম আমার সাথে প্রতারণা করেছে। আমার মন নিয়ে খেলা করছে।
আমার সরলতার সুযোগ নিছে।
আমি আমার প্রকৃত ভালোবাসা কে বুঝতে পারিনি। তুই কাছে থাকা সত্তেও আমি তোকে নিয়ে ভাবিনি।তোকে একটু ও ভালোবাসিনি আমাকে ক্ষমা করে দিস আক্কু।
আমি অট্টহাসিতে ফেটে উঠলাম।
এক পর্যায়ে হাসি থামিয়ে বললাম, তুই যে আক্কু কে চিনতি সে আক্কু দু'মাস আগেই মারা গেছে।
তোকে যে আক্কু ভালোবাসতো আমি সেই আক্কু নই। আমি ভুলতে শিখেছি। একা থাকতে শিখেছি। এখন কাউকে হারানোর ভয় নেই। তুই আমার বেস্ট বন্ধু ছিলি। এবং সারা জীবন বেষ্ট বন্ধু হয়েই থাকবি।
তোর জায়গা আমার অন্তরে চিরকাল থাকবে।তবে বেষ্ট বন্ধু হিসাবে ।
..
..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now