বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালবাসার পরশ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X - আসসালামু আলাইকুম আন্টি। ~ নিধি তো ঘরে নেই। - কোথায় গেছে? ~ বাগানে আছে হয়তো। তুমি ভেতরে বস আমি দেখেতেছি। - না আন্টি থাক। আমিই যেয়ে দেখতেছি। ~ আচ্ছা বাবা। . আবিদ বাগানে যেয়ে খুজতে লাগল। কিন্তু পেল না। কি হল মেয়েটার! রাগ করার মত আবিদ কিছুই করেনি। তবে মেয়েটা গেল কোথায়? দূরে কোথাও গেলে আন্টিকে অবশ্যই বলে যেত। . নিধি কথা বলতে পারে না। বোবা মেয়ে। জীবনে অনেক দুঃখ। আপন বলতে শুধু মা। বোবা বলে বাবা দেখতে পারে না। বড় ভাই ও ছোট বোনও নিধিকে ইগনোর করে চলে। কারণ নিধির সাথে কমিউনিকেশন করতে কষ্ট হয়। ইশারা ইঙ্গিতে বুঝাতে বুঝাতে সময় লাগে। তারা হচ্ছে সুপার ফাস্ট ও ব্যস্ত মানুষ। তাই তাদের কাছে সময় নষ্ট করার মত সময় নেই। . বর্তমানে নিধির আপন আরেকজন আছে। আর সে হল আবিদ। তাদের ব্যাপারে পরিবারের সবাই জানে। নিধির বাবা ও ভাইবোন খুশি। কারণ বিয়ের বোঝা তো কমেছে। বোবা মেয়ে বিয়ে করবে কে? বিপদমুক্ত হল। নিধির জীবনে আবিদ আসার পর থেকে নিধি হাসতে শিখেছে। তাই নিধির মাও খুশি। নিধির কমিউনিকেশন এখন আগের থেকে দ্রুত হয়েছে। হাতে অলয়েজ একটা নোট প্যাড আর কলম থাকেই। আবিদ শিখিয়ে দিয়েছে। . আবিদ নিধিকে পাগলের মত এদিক সেদিক খুজতে লাগল। অতঃপর ছাদে পেল। . - এই যে মহারানী, আপনি এখানে বসে আছেন? আর আমি খুজে খুজে মরতেছি। নিধি আবিদের দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাকালো। "মরা" শব্দটা বলা নিষেধ। মৃত্যুকে স্মরণ করা উচিত। কিন্তু চাওয়া উচিত নয়। সেটা আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছে। আবিদ জিহ্বা কেটে বলল - স্যরি। তা আপনি এখানে একা বসে আছেন কেন? নিধি চুপ করেই বসে রইল। . - আমি তো আজ রাগ করার মত কিছু করিনি। তবুও রাগ কেন? > (নিশ্চুপ) - জানি না কি করেছি তবুও স্যরি বলতেছি। এবার রাগ কমাও। নিধি কাগজে লিখে দিল। > Do u love me? - yes of course. more than my life. but হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন? > আমার প্রতি তোমার অনুভূতি ভালবাসার নাকি দয়া - সহানুভূতি? . আবিদ বুঝল নিশ্চয়ই তার ছোট বোনটা খোচা মেরে কিছু বলেছে। অদ্ভুত এক মেয়ে নিধির ছোট বোন। অন্যের সুখ সহ্য করতে পারে না। আবিদ নিধির হাতে ধরে বলল - আমার চোখের দিকে তাকাও। নিধি তাকালো। - এই চোখে কখনো তুমি সহানুভূতি দেখেছ? এই চোখে যা আছে তা হল তোমার জন্য অফুরন্ত ভালবাসা। > আমি জানি এসব কিছুই হল তোমার সহানুভূতি ও করুণা। আমার সাথে তোমার কোনো দিক থেকেই মিলে না। - ভালবাসা কোনো পোষাক নয় যে রং মিলতে হবে। তুমি একটা গাধী। সবসময় অন্যের কথায় কান দাও। আর কষ্ট আমার হয়। . নিধি আবিদকে জড়িয়ে ধরে কেদে উঠল। আর লিখল > আমি দয়া সহানুভূতি করুণা চাই না। শুধু একটু ভালবাসা চাই। - পাগলী আমি তোকে একটু না অনেক্কক্কক্কক্কক্ক ভালবাসি। কিছুক্ষণ ভালবাসার চাদরে দুজন দুজনকে জড়িয়ে রাখল। . আসলে নিধির ছোট বোন নিধির মাথায় এসব ঢুকিয়েছে। আবিদ তাকে ভালবাসে না করুণা করে, ওর সাথে তোর মিলেই না ব্লা ব্লা ব্লা। . স্কুল ছুটির পর - তোমার সমস্যা কি? -- কিসের সমস্যা? (নিধির বোন) - নিধিকে উল্টাপাল্টা বুঝাও কেন? ওকে কাদাতে ভাল লাগে? -- যার জীবন কান্নায় ভরা তাকে আমি কিভাবে কাদাব? - তুমি নিধির বোন না হলে থাপ্পড় মেরে দাত সব ফেলে দিতাম। তুমি বোন নামে কলংক। আবিদ চলে গেল। . কিছুদিন পর, চ্যাটিং > তুমি আমাকে ভুলে যাও। - আবার কি হইছে? > কিছু না। আমাকে ভুলে যাও। - আমি তোমাকে ছাড়া বাচব না। > দেখ আমি চাই না আমার মত অন্য কেউ হোক। - তুমি কি ভবিষ্যতের কথা বলতেছ? > হুম। আমি এটা চাই না। জীবনের প্রতিটি ধাপে বোবাদের কত কষ্ট হয় তা আমি জানি। - বুঝেছি তোমার ** বোনটা আবার কিছু বলেছে। . নিধি অফলাইনে চলে এলো। . পরেরদিন সকালে আবিদ নিধির বাসায় এলো। - আসসালামু আলাইকুম আন্টি। ~ আমি তোমাকেই কল দিতাম। - কেন আন্টি কি হইছে? ~ সকাল থেকে মেয়েটা রুম আটকিয়ে বসে আছে। . আবিদ দৌড়ে যেয়ে দরজা বাড়ি মারল। নিচ থেকে কাগজের টুকরো এলো। আবিদের মাথা থেকে সব দুঃশ্চিন্তা চলে গেল। ~ দেখ না বাবা কিছু দরজা খুলতে বললেই এই খালি কাগজের টুকরো দেয়। - এর মানে ও ঠিক আছে। ~ তুমি একটু দেখ তো। আমি নাস্তা নিয়ে আসি। . আন্টি চলে গেল। - নিধি প্লিজ দরজা খুল প্লিজ। > যাও এখান থেকে। (কাগজ) - দেখ তুমি সবসময় ওই অসভ্য মেয়েটার কথায় কান দাও কেন? শুন এটা কোথাও লিখা নাই যে বাব মা যেমন সন্তানও তেমনই হবে। এটা(প্রতিবন্ধী) কোনো বংশগত রোগ না। সবই আল্লাহর পরীক্ষা। . নিধির বোন নিধিকে বুঝিয়েছে তার সন্তানও বোবা হবে। আর নিধি এটা চায় না। তাই নিধি আবিদকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। জীবনে বিয়েও করবে না এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। . - প্লিজ নিধি বুঝার চেষ্টা কর। ও (বোন) তোমার সুখ দেখে জ্বলে। নিধি দরজা খুলল। - দেখ এসব আল্লাহর ইচ্ছা। তোমার ভাইবোন স্বাভাবিক কিন্তু তাদের মনটা নোংরা। এমন স্বাভাবিক দিয়ে কি লাভ বল? > যদি আমাদের বাবু আমার মত হয়? - হলে হোক। তবুও তার প্রতি আমাদের ভালবাসা কমতি হবে না। আমি তো খুব ভালবাসব। তুমি বাসবে না? > তোমার থেকে অনেক বেশি বাসব। ~ আয় নাস্তা করে নে। দুজন মিলে নাস্তা করে নিল। . আবিদ একদিন নিধিকে তার বাসায় নিয়ে এলো মায়ের সাথে দেখা করানোর জন্য। = আরে এই মেয়ে এখানে? - তুমি চিনো ওকে? = তোকে বলেছিলাম না একদিন আমি রাস্তায় মাথা ঘুরিয়ে পারে গেছিলাম। - হুম। = সেদিন এই মেয়েটাই আমাকে ডাক্তার কাছে নিয়ে গেছিল। আশেপাশের মানুষ তো শুধু তাকিয়ে ছিল। আমারও পছন্দ হয়েছে। - ইয়ে মানে ….. মা আসলে ও কথা বলতে পারে না। . আবিদের মা অবাক হয়ে গেল। নিধির দিকে তাকিয়ে দেখল চোখ বেয়ে পানি পড়তেছে। আবিদ আগে এলোমেলো ও দায়িত্বহীন ছেলে ছিল। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে বেশ গোছালো ও দায়িত্ববান হয়েছে। যে ছেলের কাজের প্রতি অনীহা ছিল। আজ সেই ছেলে অফিসের বড় পদে কাজ করছে। (পারিবারিক বিজনেস) . = তাতে কি! সেদিন রাস্তায় যারা ছিল সবাই কথা বলতে পারত কিন্তু আমার সাহায্যে এগিয়ে এলো না। শুধুমাত্র এই মেয়েটাই এলো। ওসব কথা না বলা নিয়ে আমি ভাবি না। - কিন্তু বাবা! = আরে ধুর! যেখানে আমি রাজি হলাম সেখানে তোর বাবা দ্বিমত করবে না। . নিধি কেদে কেদে আবিদের মাকে জড়িয়ে ধরে ধরল। = এই দেখ মেয়ের কান্ড। আরে কাদতে নেই। কান্না থামাও। আবিদ যা ওকে বাকিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দে। আবিদ নিধিকে নিয়ে গেল। . নিধি বেশ হাসিখুশি আজ। যা দেখে নিধির বোনের সহ্য হল না। একের অপর এক বিভ্রান্তিকর কথা বুঝাতে লাগল। ওসব শুনার সময় এখন নিধির নেই। সে এখন স্বপ্ন দেখায় মগ্ন। মধুর স্বপ্ন। . # ভালবাসার_পরশ_পাথরকেও_গলিয়ে_দেয় ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "ভালবাসার পরশ"
→ ভালবাসার পরশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now