ভালবাসার প্রহর ১ম অংশ
X
ভালবাসার প্রহর
ঘণ ঘোর অমানিশায় আবৃত থাকিবেনা কাহারো জীবন।জীবন তাহার আপন গতিতেই আবৃত কারিতে থাকিবে জন্ম হইতে মৃত্যু পর্যন্ত। কোন এক নশ্বর পৃথিবীর কালান্তরে আগমন ঘাটিয়াছিল অবনির। জন্ম হতেই মা-বাবা ঈশ্বরের অতি আপন হইয়া গিয়েছিল। ঘোর অমানিষা আকড়াইয়া ধরিলো অবনির জীবন প্রবাহ কে। কোথাও ঠাঁই না মিললেও ,ঠাঁই হয়েছিল আশ্রমে। চারিদিক ফাঁকা ময়দান মাঝে মাধ্যে দেবদারু গাছ, আর হাজার বছরের পুরোন বট বৃক্ষ, এরই মাজে আশ্রম। সেই বল্যকাল হতেই আশ্রম ও তার চার পাশের পরিবেশ হইয়া উঠেছিল অবনির পরম প্রিয় ও আত্নার আত্বীয়। গুরুর আদেশ ও ভালবাসার বাণী এ গুলোই ছিল তাহার জীবনের একমাত্র অবলম্বন। আর মাঝে মধ্যে বৃদ্ধ বট গাছ তাহাকে ভালবাসার সুশীতল ছায়াতলে আবৃত করিয়ারাখিত। জৈষ্ঠের খরতাপে পুড়িতেছে ধরিত্রী , চারিদিকে খাঁ-খাঁ রৌদ্দুর ,দূর মাঠে প্রতিকের বুকের ছাতি পিপাষায় ছটফট করিতেছে। একটা কুকুর দুর হইতে ছুটিয়া এসে বট ছায়াই দাড়াল। অবনি বটতলে বসিয়া সমিরনের সাথে কথা কইতেছিল। একটি গরুর গাড়ি বটগাছের দিকে আসিতেছে। গাড়িটি বটতলে এসে থামিল। অবনি দেখিতে পাইলো এক অস্প^রী (শালিনী) গাড়ি হইতে নামিল ,এদিক ওদিক তাকায়ে জ্বল কুজিতে লাগিল। কোথাও জ্বল না পাইয়া বালকের নিকট জ্বল প্রার্তনা করিলো। অবনি সামনে এগিয়ে গেল,তাহাকে লইয়া অশ্রমে পৌছাল। পানাহার করাইয়া ,বিশ্রমের ব্যবস্থা করিল। সময়টা ভালই খাটিলো শালিনীর। কিছুক্ষন পর শালিনী আশ্রম হতে বাহির হইলো । গুরুকে তাহার হাজার প্রণাম জানাইয়া গরুর গাড়িতে উঠিয়া বসিল। বলিলো কোথাই যাইতেছেন। অবনি মাথা নিচু করিয়া বসিয়া ছিল,মুখ পানে তাকায়ে বলিলো,আপনার সাথে। শালিনী হাসিয়া উড়াইয়া দিল। তৎক্ষনে টিকিট চেকার আসিয়া পড়িলো ,শালিনী তাহার পার্সটা খুজিতে লাগিলো,ব্যাগ তননো তননো করিয়া খুজিলো কিন্তু কোথাও পার্সটা পাওয়া গেলনা। অসহায়ের মত অবনির দিকে তাকাইলো ,অবনি চেকার কে ডাকিয়া দুজনের টিকিট ক্রয় করিয়া লইলো । শালিনী এই প্রথম অবনির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিলো,বলিলো বাড়ি পৌঁছা মাত্রই আপনার টাকা পাঠাইয়া দিব। দুজনের মধ্যে একটা বন্ধুত্ব ভাব তৈরি হইয়া উঠিলো। বিকালের নাস্তার সময় আসিয়া গেল,শালিনী তাহার ব্যাগ হইতে খাবার বাহির করিলো।
শালিনী উঠিয়া অবনির নিকটে বসিয়া বলিলো চল,আহার টা শেষ করি ,আহার শেষ করিয়া দুজনে খোশ গল্পে মশগুল হইয়া উঠিলো। হঠাৎ ট্রেন থামিয়া গেল। জানাগেল একটা ট্রেন লাইন চ্যূত হইয়াছে,সেটা না সরানো পর্যন্ত ট্রেন চলিবেনা। তাহারা ট্রেন হইতে নামিয়া, একট চায়ের দোকানের সামনে এসে দাড়াইলো ,শালিনী অন্যমনস্ক হইয়া আনমনে বিড় বিড় করিতেছিল। অবনি দোকানদারকে চায়ের অর্ডার দিল ,শালিনী চা পান করিলো না,বলিলো আমার আজ রাতেই বাড়িতে যাইতে হইবে,বাড়িতে আমার একটা ছোট ভাই আছে,তাছাড়া পাত্রপক্ষ কাল আসিবে। অবনির মাথায় আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়ার উপক্রম হইলো ।,চা দোকানি হইতে ঠিকানা লইয়া দ্রুত স্টেশন পানে ছুটিল কিন্তু ততক্ষনে শেয়াল কোটের সমস্ত গাড়ি ছাড়িয়া চলিয়া গিয়াছে। শালিনী কোন কথা বলিলো না,অবনি শাীলনীকে বলিলো যে কোন মূল্যেই তাহাকে সে তার বাড়িতে পৌছায়ে দিবে । অতঃপর অনেক খোজাখুজির পর একটা গাড়ি লইয়া তাহারা ছুটিলো । কিছুক্ষ ভালই চলিলো। কিছূদূর যাবার পর গাড়িটি বিগড়ায়া বসিেেলা ,ড্রাইভার অনেক চেষ্টা করিলো ,কিন্তু কিছু করা সম্বব হইলো না।
মাথায় যেন আকাশ ভাঙ্গিয়ে পড়িল ।ড্রাইভার বলিলো গাড়ি ঠিক করিতে অনেক সময় লাগিয়া যাইবে ,আপনারা জঙ্গলের রাস্তা দিয়া চলিয়া যান,দ্রƒত যাইতে পারিবেন। শালিনী ইতস্ততা অনুভব করিলো ,অতপর তাহারা হাটিতে আরম্ব করিলো,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now