বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কি করো?
. নেশা!
. কি নেশা?
. যা তুমি ধরিয়ে দিয়ে গেছো।
. আমি নিজেও কোন নেশা করিনা সেখানে তোমাকে কিভাবে নেশা ধরিয়ে দিবো?
. তুমি নিজে করোনা কিন্তু আমাকে করতে বাধ্য করেছো।
. সেটা তোমার ভূল। আমি কখনো বলিনি তুমি নেশা করো।
. তুমি এটাও বলোনি যে তুমি আমাকে ছেড়ে কখনো চলে যাবে।
. তুমি একটা পাগল জানো? পাগলের সাথে কি থাকা যায়?
. মনে কি পরেনা তোমার? তুমি পাগলী ছিলে আমি অবুঝ! পরে আমি পাগল তুমি বাস্তববাদী।
. দেখো ওসব শুধুই আবেগ! তাছারা কিছুই না।
. তাহলে কি দরকার ছিলো আবেগে আমাকে টেনে নেয়ার?
. তখন আমি বুঝিনি।
. তো এখন কি বুচ্ছো?
. তোমার আমার এক হওয়া এ জন্মে হবেনা।
. কেন?
. তুমি খ্রিষ্টান আমি মুসলিম।
. সেটা কি আগে জানতে না? তাছারা ভালবাসায় ধর্ম নেই। ভালবাসাই একটা ধর্ম। আমরা সবাই মানুষ এটাই সবচেয়ে বড় পরিচয়। সবার শরীরেই একই রক্ত।
. কিন্তু সমাজ কি আর রক্ত নিয়ে চলে? আমি কোনদিন মুসলিম ধর্ম ছেড়ে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহন করতে পারবোনা তুমি বুঝতে পারোনা?
. এর উল্টোও তো করা যায়।
. তুমি কি মুসলিম হবে!!
. তোমার জন্য নাহয় এটুকু করলাম।
. এটুকু বলোনা, অনেক কিছুই এটা।
. আমার কাছে তোমার জন্য এটুকু কিছুই নয়।
. এখনো আগের মতো ভালবাসো?
. তোমার হাজারটা বিয়ে হয়ে গেলেও বাসবো। আমি তোমার শরীরকে ভালবাসিনি তা এতোদিনে বুঝার কথা।
. আমি কি বুঝিনা তুমি মনে করেছো? কিন্তু আমি বন্ধি সেটাও তো তুমি বুঝবে নাকি।
. বুঝে আর কি হবে। তোমার তো বিয়ে হয়ে গিয়েছেই। কিন্তু আমি মুসলিম হবো।
. আচ্ছা আজ রাখছি! তুমি মুসলিম হলে ফোন দিয়ো নাহয় এভাবেই থাকুক সব।
.
অতঃপর সাবার চোখে সুখের জল। অমিত'কে সাবা মিথ্যে বলেছিলো। কিন্তু পারিবারিক সমস্যার কারনে পরে আর অমিতের সাথে যোগাযোগ হবেনা জেনে সাবা অমিতকে বলে দেয় যে তাঁর বিয়ে হয়ে গিয়েছে। অমিত এর পরে পুরো নেশায় একাকার। সাবাকে সে সত্যিই অনেক ভালবাসে। তাঁদের ভালবাসার গল্পটা আরম্ব হয় কলেজ থেকে। অমিত শান্তশিষ্ট ছেলে ছিলো। কারো সাথেই মিশতো না। আর সাবা ছিলো কলেজের এক নামে চেনা পাগলী।
.
পাগলী অনেক কষ্ট করে অমিতকে তাঁর প্রেমে পাগল করে। পরে যখন সাবা জানলো অমিত খ্রিষ্টান তারপর থেকে সাবা অমিতের সাথে যোগাযোগ অফ করে দেয়। কিন্তু দুজনেই দুজনকে ভালবাসে। অমিত একটা কাজ সবসময় করতো আর তা হলো সাবাকে দেখার সাথে সাথেই খাতা কলম নিয়ে বসে পড়তো। আর বলতো " তুমি আমার সামনে থাকলে আমি কবি হয়ে যায়। তোমার কাজল চোখ দেখলে আমার সুনিল গঙ্গোপাধ্যায় হতে ইচ্ছে হয় " যা অনেক উপভোগ করতো সাবা।
.
অমিত সাবাকে দেয়া কথা রাখবে। সে মুসলমান হবে। একজন বড় হুজুরের কাছে গিয়ে কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে। অমিতের কিরকম যেন শান্তি আর নিজেকে ফ্রেশ অনুভব হলো। সাবাকে ফোন দেয়। ফোন রিসিভ করার পরে,
. আমি মুসলিম হয়ে গিয়েছি সাবা। তোমাকে কথা দিয়ে রেখেছি।
. সত্যিই? তুমি কোথায় এখন?
. সেই পুরোনো রাস্তায় আপাদত হাঁটছি।
. শোন, আমাকে আরেকটা কথা দিতে পারবা?
. বলে দেখো সম্ভব হলে!
. তুমি আর নেশা করতে পারবেনা কোনরকম।
. একটু সময় লাগবে কিন্তু রাখবো অবশ্যই।
. হুম নেশা ছাড়তে পারলে আবার ফোন দিয়ো নাহয় কি আর দরকার।
.
অতঃপর সাবার বিশ্বজয়ের সুখে ভাসছে। নিজেকে এখন অন্য অন্য লাগছে। বিশ্বাস হচ্ছেনা তাঁর জন্য কেউ ধর্ম পরিবর্তন করেছে। সাবা জানে অমিতেরও কোন সমস্যা হবেনা কারন একটা চাকুরী সে অবশ্যই পাবে। সাবার আর কিছু চায়না। অমিত নেশা ছাড়তে পারলো সম্পূর্ণভাবে। অমিত পারিবারিক ভাবে অনেক সমস্যায় পড়ে। খুব কষ্টে একটা ছোটখাটো চাকুরী পায়। এতেই চলবে অমিতের।
. তুমি কোথায় এখন?
. এই তো নতুন বাসা খোঁজছি। কেন বলো তো।
. তার মানে তুমি চাকুরী পেয়েছো।
. হ্যাঁ, কিন্তু তুমি জানো কি করে?
. এতো কিছু বলতে পারবোনা কাল বিকেল ৫ টায় আমাদের বাসায় থাকবা আমরা অপেক্ষা করবো। বাঁকিটা আমি তোমাকে টেক্সট করে বলছি।
.
অতঃপর সাবা বিয়ের ব্যাপারটা ক্লিয়ার করলো যে সে মিথ্যা বলেছে। অমিতেরও রাগ হয়নি। শত হোক ভালবাসার মানুষই তো। সাবা তার বাসায় অমিতের ব্যাপারে সব খুলে বলে বুঝিয়ে। তাই বাসার সবাই অমিতকে দেখতে চায়। তাই অমিতকে সাবার বাসায় ডাকা। অমিত যাওয়ার পর সবাই পছন্দই করলো। না করার মতো কিছু নেই। সবশেষে তাঁদের বিয়ে হলো। অমিতের বাসায় জানালেও তারা কিছু বলেনি। ছোট্ট একটা বাসা, চাকুরী ভালই যাচ্ছে তাঁদের। কিন্তু সাবা মাঝে মাঝে নিরবে কাঁদে। তারও তো ইচ্ছে হয় শ্বাশুড়ি, শ্বশুর, ননদ থাকবে, দেবর থাকবে, কিন্তু তাঁর পুড়া কপাল শ্বশুড় বাড়িই কপালে নেই। অমিতও বুঝতে ব্যাপারটা। তাই তাঁর পরিবারের কয়েকজনের কাছে গেলেও কোন কাজ হয়নি।
.
সাবার একাকিত্ব কেটে যায় কিছুদিন পর। তাঁদের ঘরে আলো হয়ে আসে ছোট্ট একটি মামনি। তাঁকে নিয়েই সারাদিন কেটে যায় সাবার। সম্ভাষণ একটাই "তাঁরা সুখে আছে, তাঁরা সুখে আছে" অল্পতে খুশি থাকলে সবখানেই সুখ পাওয়া যায় আর অল্পতে যার মন ভরেনা তাঁকে আকাশের চাঁদ এনে দিলেও মন ভরবেবা। তাই সেখানে সুখও নেই। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ভালবাসার থেকে বড় কোন সত্য নেই। ভালবাসায় কোন ধর্ম, রং থাকেনা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now