বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আসমানের ওপর সুন্দর করে সাজানো বিশাল এক বেহেশত। সেই বেহেশতের সদর দরজার সামনে এক লম্বা লাইন। পৃথিবী থেকে আসা সব বাবা-মারা সেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁরা এসেছেন তাঁদের নিজের সন্তানকে পৃথিবীতে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পৃথিবীতে বাবা-মায়ের কাছে যাওয়ার আগে সব শিশুরা এখানেই থাকে। মনের আনন্দে এখানে তারা খেলাধুলা করে, ঘুরে বেড়ায়, শান্তিতে ঘুমায়। আর অপেক্ষায় থাকে কবে তাদের বাবা-মায়েরা আসবেন ওদেরকে দুনিয়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য।
কিছু বাবা-মা এসেছেন ছেলে শিশুর জন্য। আর কিছু বাবা-মা এসেছেন মেয়ে শিশুর জন্য। ছেলে শিশুরা মনের আনন্দে তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে চলে যাচ্ছে। কিন্তু গোল বেঁধেছে মেয়ে শিশুদের নিয়ে। তারা কেউ আর পৃথিবীতে যেতে রাজি নয়। বাবা-মায়েরা অনুনয়-বিনয় করছেন, কিন্তু কেউ যেতে রাজি হচ্ছে না। এক বাংলাদেশি বাবা তার ছোট্ট পরিকে অনুরোধ করে বলছেন, চলো মা, আমার সঙ্গে। জানো, তোমার জন্য আমি পুরো ঘর সাজিয়েছি। কত পুতুল, খেলনা কিনেছি। সুন্দর সুন্দর রঙিন জামা কিনেছি।
—না বাবা আমি যাব না। আমি এখানেই ভালো আছি।
আধো আধো বোলে ছোট্ট পরিটি বলল।
—কিন্তু মা, তোমাকে দুরে রেখে আমরা তো ভালো নেই। তুমি কি আমাদের ছেড়ে ভালো আছ?
—না বাবা, তোমাদের ছেড়ে আমি ভালো নেই। তোমাদের ছেড়ে থাকতে আমার অনেক কষ্ট হয়। জানো বাবা, খুব ইচ্ছে করে তোমার বুকে শুয়ে একটু ঘুমাই। ইচ্ছে হয় মায়ের শাড়ি, চুড়িগুলো পরি। ছুটে বেরাই খোলা মাঠে। কিন্তু...।
—আবার কিন্তু কেন মা? তুমি আমার সঙ্গে চলো। তুমি আমার বুকের মাঝেই ঘুমোবে। আর দেখবে তোমার মা ঠিক তার সব শাড়ি-চুড়ি তোমাকে দিয়ে দেবে। চলো মা।
—না বাবা আমি পৃথিবীতে যাব না। তোমাদের পৃথিবী ভালো না, পচা। সেখানে মেয়েদের জন্য রয়েছে শুধু কষ্ট আর কান্না।
—কে বলেছে তোমাকে এসব? আমি আছি না? আমি তোমাকে কোনো কষ্ট পেতে দেব না, মা।
—আমি জানি বাবা। কিন্তু তবু আমি যাব না। পৃথিবীটা মেয়েদের জন্য না।
—না এটা ঠিক না, মা। এটা ভুল।
—কেন তুমি কী দেখোনি বগুড়াতে তুফান সরকার কি করল আমাদের এক বোনের সঙ্গে। কুমিল্লাতে তনু আপার কি হলো? সিলেটে খাদিজা। কত বলব বাবা।
—আমি জানি মা। পৃথিবীতে মানুষের সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু অমানুষও বাস করে। সেই অমানুষগুলো এসব করেছে। তবে ওদের কিন্তু বিচার হচ্ছে, মা।
—না বাবা, সবার বিচার হচ্ছে না। আর তা ছাড়া সব ঘটনাও কি তোমরা জানতে পারছ? পারছ না। আর বাবা, বিচার হলেই বা কি? তনু আপা কি আর কখনো দুনিয়ায় ফিরে আসবে? খাদিজার দুই চোখে যে ভয়, সে চোখে কি আর কোনো সুন্দর স্বপ্ন দেখতে পারবে? তুফান যেভাবে বোনটিকে অপমান করেছে, সে কষ্ট কি বোনটি ভুলতে পারবে? পারবে না বাবা, পারবে না।
মেয়ের কথা শুনে চুপ করে থাকেন বাবা। কোনো উত্তর খুঁজে পান না।
প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট থেকে নেওয়াছোট্ট পরিটি আবার বলতে শুরু করে, দেখেছ বাবা বাড্ডায় তানহার কি হলো? চার বছরের ছোট্ট মেয়েটাকে...।
আর বলতে পারে না ছোট্ট পরিটা। কান্নার বৃষ্টি নামে ছোট্ট কচি চোখে। বাবার শার্টের কোণায় চোখ মুছে আবার বলতে শুরু করে—সবাই বলে মেয়েরা নাকি বাজে পোশাক পরে তাই ছেলেরা এমন করে। বাড্ডার ছোট্ট চার বছরের মেয়েটি কি বাজে পোশাক পরেছিল? ওর তো পোশাক পরার বয়সই হয়নি। কেন ওকে মেরে ফেলল? যদি দুনিয়ায় আমাদের থাকতেই না দেবে, তাহলে নিয়ে যাবে কেন?
মাথা নিচু করে বোবার মতো চুপ করে বসে থাকেন বাবা। চোখ তুলে তাকাতে পারেন না মেয়ের দিকে। বাবার দুই চোখ বেয়ে অশ্রু নামে। বাবার চোখে জল দেখে মায়া হয় ছোট্ট পরির। কষ্টের ঢেউ ওঠে তার ছোট্ট বুকে। ছোট্ট হাত দিয়ে বাবার চোখের জল মুছে দেয়। আবার মুখ খুলে পরি।
—কেঁদো না বাবা। তুমি কাঁদলে আমার কষ্ট হয়। তুমি কি জানো? আমার খুব ইচ্ছে করে তোমার হাত ধরে খোলা মাঠে হাঁটতে। মায়ের শাড়ি পরে, পায়ে আলতা মেখে সারা উঠোন ধরে ছুটতে।
—তাহলে মা আমার সঙ্গে চলো। দেখো আমি শক্ত করে তোমার হাত ধরে রাখব। আগলে রাখব তোমাকে সবকিছু থেকে। কিচ্ছু হবে না তোমার।
—তুমি একা পারবে না বাবা। তুমি যাও, আমাদের সব ভাইদের বলো ঘর থেকে বের হতে। ওদের বলো আমাদের আগলে রাখতে। তুমি আমার এক হাত ধরো, আমাদের ভাইদের বলো আমাদের অন্য হাত ধরতে। আমি জানি আমাদের সব ভাইরা যদি শক্ত হয়ে সামনে দাঁড়ায়, কেউ সাহস পাবে না আমাদের দিকে চোখ তুলে তাকাতে। বাবা তুমি চলে যাও। আমাদের ভাইদের নিয়ে আস। তবেই আমরা যাব।
প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট থেকে নেওয়াকথাগুলো বলেই বেহেশতের দরজা বন্ধ করে দেয় ছোট্ট পরিরা। বাবা-মায়েরা মাথা নিচু করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন বেহেশতের সদর দরজায়।
ছোট্ট পরিরা সব এখন বেহেশতের জানালা খুলে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে আছে। অপেক্ষায় আছে, সব ভাইদের জন্য। কবে সব ভাই ঘর থেকে বের হয়ে আসবে, বোনদের একটি নিরাপদ পৃথিবী উপহার দেবে। হঠাৎ এক ছোট্ট পরি জানালা দিয়ে মাথা বের করে হাত বাড়িয়ে চিৎকার করে বলে ওঠে, ভাইয়া কোথায় তোমরা? আর চুপ করে থেকো না। ঘর থেকে বের হয়ে এসো। দেখো আমরা তোমাদের অপেক্ষায়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now