বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এভাবেই দিন যাচ্ছে আর সময় পার হচ্ছে আর সাথে রুপাঞ্জনার আফরাজের প্রতি ভালোবাসাও গাঢ় হচ্ছে । কিন্তু আফরাজ কিছুই বুঝায় না । তার মনে কি আছে সে নিজেই হয়তো জানে না । না চাইতেও রুপাঞ্জনা আফরাজ কে ভালোবাসে । আর আফরাজ সব দিক দিয়েই রুপাঞ্জনাকে প্রটেক্ট করে । এইটা কি ভালোবাসা নাকি শুধুই দায়িত্ব । রুপাঞ্জনা বার বার জানতে চেয়েও পারে নি । সব বাধা পেরিয়ে রুপাঞ্জনা জিজ্ঞাসা করতে যায় ,
↓
_উহুম উহুম (রূপ)
_কিহ উহুম (আফরাজ)
_আসবো ভিতরে (রূপ)
_তুমি আবার কবে থেকে পারমিশন নেয়া শুরু করেছো (আফরাজ)
_নাহ মানে (রূপ)
_আরেহ আসো (আফরাজ)
_কি করছিলেন (রূপ)
_এইতো কাল একটা কেইস এর শুনানি আছে কোর্টে ওই টার ব্যবস্থা করছিলাম (আফরাজ)
_ওহ (রূপ)
_তুমি কি কিছু বলবা রুপাঞ্জনা (আফরাজ)
_নাহ মানে আসলে হ্যা মানে (রূপ)
_কিছু বলতে চাচ্ছো কিন্তু সংকোচ হচ্ছে তাই তো , তা বলেই ফেলো কি বলবা (আফরাজ)
_আসলে আমি না ,,, আমি আ,,,প,,,,, (রূপ)
↓
ক্রিং ক্রিং........
↓
_১ মিনিট রুপাঞ্জনা কল টা পিক করি আগে , খুব দরকারি ফোন কথা বলতে হবে একটু (আফরাজ)
↓
বলতে গিয়েও বলা হলো না । রুপাঞ্জনা প্রতি মুহূর্তে দগ্ধে যাচ্ছে এই ভেবে যে আফরাজ এর মনে কি আছে । কিছুই বোঝা যাচ্ছে না ।
↓
সময় যাচ্ছে , দেখতে দেখতে ছয় মাস পেরিয়ে গেলো তাদের বিয়ের । অথচ তাদের সম্পর্ক টা সেইখানেই আটকে আছে । সামনে বাড়াতে চেয়েও রুপাঞ্জনা আগাতে পারে নি । কারন আফরাজ যে এক ধাপ পিছিয়েই আছে । এরই মাঝে একদিন রুপাঞ্জনার বড় বোনের আগমন ঘটে । যা রুপাঞ্জনার একদমই কাম্য ছিল না । সে তো কারো সাথে কোন রকম যোগাযোগ রাখে নি , তাহলে তার বড় বোন কিভাবে তার ঠিকানা খুজে পেলো । বোনকে দেখে খুশির হওয়ার চেয়ে অবাক হয়েছে বেশী আর তার থেকে বেশী ভয়ে ছিল । আর ভয় টা ছিল আফরাজের । যদি সে এসে দেখে তার বোন এই বাড়িতে তাহলে প্রচুর রাগ করবে কারন ৬ মাস আগে এই এদের জন্যে তাদের দুইজন কে প্রচুর বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল, তাতে অবশ্য আপুর কোন দোষ ছিল না ও তো ছিলই না । অবশ্য একদিক দিয়ে খুব ভালোই হয়েছিল যে সে আজ আফরাজের মতো মানুষের বউ । বোনের মেয়েটা মাশাল্লাহ অনেক কিউট রুপাঞ্জনার । রুপাঞ্জনা কে মাম্মাম ডাকে । সেও সাথে এসেছে
↓
বোনের সাথে কথা বলতে বলতে বার বার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে সে , যেখানে বাঘের সেইখানে রাত হয় । আফরাজ সাহেব চলে আসছে ।
↓
_রুপাঞ্জনা ইনি কে ? (আফরাজ)
_ই,,,ই,,,,ইনি আমার বড় বোন (রূপ)
_হ্যা কে কে (আফরাজ)
_আমার আপু (রূপ)
_ওহ তাই (আফরাজ)
_আসসালামু আলাইকুম (বড় আপু)
_জ্বি
_রুপাঞ্জনা আমি উপরে গেলাম আতিয়া কে দিয়ে কফি পাঠাও উপরে (আফরাজ)
_হুম (রূপ)
_উনি মনে হয় রাগ করলেন তাই না রে (বড় আপু)
_না না আপু তুই বস আমি একটু আসছি (রূপ)
_এই এই এইসব কি করেছিস , এতো খাবার কে খাবে (বড় আপু)
_তুই খাবি সাথে আমার মাম্মাম ও (রূপ)
↓
রুপাঞ্জনার বড় আপুর মেয়েটা অনেক কিউট । নাম আদৃতা । অনেক কিউট করে কথা বলে ।
↓
রুপাঞ্জনা এই দিকে ভয়ে শেষ । আফরাজের এমন চুপচাপ থাকাই ঝড়ের আভাস । এইদিকে আফরাজের মেজাজ চরমে । সে বার বার করে বলে দিয়েছিল যে , রুপাঞ্জনা যাতে তার পরিবারের কারো সাথে যোগাযোগ না রাখে , কিন্তু সে সেই কাজ টাই করেছে । এখন , মেজাজটা খুব খারাপ আফরাজের । ইচ্ছে করছে রুমের সব ভেঙে ফেলতে । এমন সময় রুপাঞ্জনার বড় আপুর ছোট্ট মেয়েটা তাদের রুমে আসে । আফরাজ কে দেখছে আর বার বার লুকাচ্ছে । আফরাজের নজর সেই ছোট মেয়েটার দিকে যায় । সে বার বার লুকাচ্ছে এইটা আফরাজের নজরে পরে । তাই সে দরজার কাছে গিয়ে মেয়েটা কে ধরে তারপর , কোলে তুলে নেয় , মেয়েটা এতোই কিউট যে দেখবে সেই আদর করবে । আফরাজ কে দেখে আদৃতা একটু ভয় পেয়ে যায় । সে চুপচাপ করে আফরাজের কোলে বসে আছে ।
↓
_তোমার নাম কি মামুনি (আফরাজ)
_আদৃতা , তোমাল নাম তি (আদৃতা)
_হা হা হা , আমার নাম তোমার মুখে দিয়ে আসবে না তো আম্মু (আফরাজ)
_আমাল মাম্মাম তোমাল তি হয় (আদৃতা)
_মাম্মাম কোন মাম্মাম (আফরাজ)
_ওইতে নিতে যাকে বলেতো তোমাকে কফি দিতে সেই তো আমাল মাম্মাম , আমাল মামুনির বোন আমি মাম্মাম বলি (আদৃতা)
আদৃতার কথা শুনে আফরাজ হেসেই যাচ্ছে ,
_ওহ আচ্ছা , সে আমার কেউ হয় না (আফরাজ)
_কিন্তু মাম্মাম যে আমাতে বলল তোমাকে আন্তেল ডাকতে (আদৃতা)
_হা হা হা , আচ্ছা ঠিক আছে , ডেকো , আর তোমার মাম্মাম আমার বউ হয় বুঝলা পাকনি (আফরাজ)
_যেমন আমাল মামুনি আমাল বাবাইয়ের বউ সেই রকম (আদৃতা)
_হা হা তুমি তো খুব পাকা পাকা কথা বলো
আচ্ছা আদৃতা একটা কথা বলো তো , তোমাদের এইখানে কে আসতে বলেছে , তোমার মাম্মাম ? (আফরাজ)
_নাহ তো মাম্মাম এর সাথে তো আমাদের কথাই হয় নাই জানো আমি মাম্মালের জন্য অনেত কেদেছি পরে আমার মামুনি মাম্মামের কাতে নিয়ে আসতে । (আদৃতা)
_তোমার মাম্মাম তোমাদের আসতে বলে নাই (আফরাজ)
_নাহ তো , জানো আন্তেল আমাল মাম্মাম অনেত খুব পতা । আমাল তব চতলেত খেয়ে নিয়েতে , মাম্মাম আমাল চতলেত গুলো দিলো না (আদৃতা)
_হা হ হা আচ্ছা আমি তোমার সব চকলেট কিনে দিবো ঠিক আছে । তোমার মাম্মাম চকলেট খায় ? (আফরাজ)
_হে তো আন্তেল অনেত চতলেত খায় মাম্মাম (আদৃতা)
_আচ্ছা আচ্ছা তাই (আফরাজ)
↓
এমন সময় রুপাঞ্জনা এসে পরে ।
↓
_আদৃতা মাম্মাম কোথায় তুমি ? (রূপ)
_এইতো মাম্মাম আমি এইতানে , আতো (আদৃতা)
_তুমি এইখানে কি করছো চলো মামুনি তো এখন চলে যাবে , (রূপ)
_আত্তা , আন্তেল আমি তইলা যাই (আদৃতা)
_আচ্ছা মামুনি তুমি আবার এসো , তখন তোমায় চকলেট কিনে দিবো (আফরাজ)
_আত্তা , তা তা তইলা যাই (আদৃতা)
↓
সেইদিনকার মতন সব ঠান্ডা থাকে । আফরাজও চুপচাপ । আচ্ছা এই আফরাজ কি ? এমন কেন ? কি আছে তার মনে কে জানে ? তার মনের খবর জানতে রুপাঞ্জনার অনেক কাঠ-খর পুরাতে হবে মনে হচ্ছে । আচ্ছা দেখাই যাক না কি হয় ?
↓
↓
↓
To be continue...........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now