বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভাবি যখন স্ত্রী

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X --- সোহেল আর সুমন তারা দুই ভাই , বড় ভাইয়ের নাম সোহেল , আর ছোট ভাইয়ের নাম সুমন । সোহেল তিন বছরের বড় । বড় ভাই হলেও তাদের সম্পর্কটা বন্ধুর মতোই , দুইজনেই একদম ফ্রি ভাবে কথাবার্তা বলে । কে বড় কে ছোট সেটা কখনও দেখে না । দুজনেই একে অন্যের কাছে সবকিছু শেয়ার করে । দুজনে এতটাই ফ্রি ছিলো ,কোন মেয়ের সাথে কথা বললেও একজন আরেক জনের সামনে কথা বলতো ,কেউ কারো কাছে কিছুই লুকাতো না । সোহেলের একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিলো তার নাম সাদিয়া । তার সম্পকে সবকিছু সুমন কে বলতো । সব সময় তার সামনে সাদিয়ার সাথে কথা বলতো । ---- সোহেলের সম্পর্কের যখন দেড় বছর হলো , তখন সাদিয়ার বাসা থেকে তার বিয়ের কথাবার্তা ফাইনাল করে ফেলে একটা ছেলের সাথে । তখন সে বলে , এই বিয়ে সে করতে পারবে না , কারন সে সোহেল কে ভালোবাসে । বিয়ে করলে শুধু তাকেই করবে । অন্য ছেলে কে বিয়ে করা তার পক্ষে সম্ভব না । তার মা বাবা কে অনেক বুঝালো , কিন্তু কিছুতেই তার বাবা মা রাজি হলো না ।তাই সে বাসা থেকে জিদ করে একবারে চলে আসে সোহেলের কাছে । তারপর কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করে নেয় । ---- বিয়ের পর খুব সুখে ঘর সংসার করতে লাগলো দুই জনে ।দেড় বছর পর তাদের ঘরে একটা ফুটফুটে মেয়ে জন্ম হয় । সে তাদের ঘরটা আলোকিত করে তুলে । ঘরের সবাই অনেক সুখে ছিলো হাসিখুশি ছিলো । কিন্তু যখন তাদের মেয়ের বয়স তিন মাস হয় , তখন সোহেল খুব অসুস্থ হয়ে পরে । অনেক ডাক্তার দেখিয়েও তার রোগ টা ভালো হয়নি ।দেড় মাস অসুস্থ থাকার পর সে মারা যায় । --- সোহেলের মৃত্যুর পর সাদিয়া একদম ভেঙে পড়ে । সে ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করতো না , সবসময় চুপচাপ বসে থাকতো কারো সাথে কথাবার্তা বলতো না । তার দুধের বাচ্চা টার দেখাশোনা ঠিক মতো করতো না । এতে মেয়ে টা ও অসুস্থ হয়ে পরে । অন্য দিকে সোহেলের বাবা মা সাদিয়া কে বলে তার বাপের বাড়ি চলে যেতে এটা নাকি তার জন্য আর তার মেয়ের জন্য ভালো হবে । আচ্ছা সাদিয়া কি মুখ নিয়ে তার বাপের বাড়ি যাবে । যে মেয়ে ভালোবাসার জন্য বাবা মা বাসা বাড়ি সবকিছু ছেড়ে এসেছে ।সেই মেয়ে কি করে আবার বাসায় ফিরে যাবে , কোন মুখ নিয়ে তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে, আর তার বাবা মা কি তাকে মেনে নিয়ে ঘরে জায়গা দিবে ,আর এখন তো সে একা না সাথে একটা মেয়েও আছে । --- সুমন এই সবকিছু লক্ষ করে , সাদিয়া আর তার ভাইয়ের মেয়ের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয় সাদিয়া কে সে বিয়ে করবে । তাই সে সরাসরি সাদিয়া কে বিয়ের কথা বলে । কিন্তু সাদিয়া কিছুতেই রাজি হয়নি । এরপর সুমন তাকে বোঝাতে লাগলো , দেখেন আমি যা করতে যাচ্ছি সেটা সবার ভালোর জন্য , একবার ভেবে দেখেন আপনি আপনার বাসাতে যেতে পারবেন না । এদিকে বাবা মা আপনাকে রাখতে রাজি না । আপনি এই দুধের বাচ্চা টা কে নিয়ে কোথায় থাকবেন ,কোথায় খাবেন । আমি বিয়ে টা আপনার জন্য বা আমার জন্য করছি না । একমাত্র ভাইয়ের মেয়ের কথা ভেবে তার ভবিষ্যৎ এর কথা ভেবে বিয়েটা করার কথা বললাম । সুমন অনেক ভাবে বোঝানোর পর সাদিয়া বিয়ে করতে রাজি হয় । এরপর সুমন তার বাবা মা কে বললো , কিন্ত উনারা রাজি হলো না । তারপরও অনেক বুঝালো , কিন্তু কোনো রখমে রাজি করাতে পারল না । পরে তার বাবা মা রাজি না হওয়ার কারণে । দুজনেই কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করে নেয় । --- তাদের বিয়ে হলো এখন প্রায় দুই বছর কিন্তু এখনো সুমনের মা বাবা তাদের বিয়ে টা মন থেকে মেনে নেয়নি । তাদের সাথে তেমন কথাবার্তা বলে না , শুধু তার বাবা মা যে বিয়ে টা মেনে নিতে পারেনি তা নয় । তার সব আত্মীয় স্বজনেরা কেউ তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে না । ভালো ভাবে কথাবার্তা বলে না ।সবাই এমন ভাবে কথা বলে , মনে হয় সুমন জেনো কোনো বড় ধরনের অপরাধ করছে । যে অপরাধের কোনদিন ক্ষমা নাই । --- এখন সুমনের মনে শুধু একটাই প্রশ্ন সাদিয়ার কথা ভেবে আর তার বড় ভাইয়ের মেয়ের কথা ভেবে ,তাদের ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে । সে যে কাজটা করছিলো । সেটা কি তার করা উচিত হয়নি , তার এই‌ কাজটা করা একটা অন্যায় একটা অপরাধ ছিলো ।নাকি যা করছে ভালোর জন্যই করছে । ---


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৬২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভাবি যখন স্ত্রী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now