বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
টিউশনির
টাকাটা হাতে পেতেই
মনটা খুশিতে নেচে উঠলো।
অনেক গুলো মৃত
আশা আকাঙ্ক্ষা যেন
প্রাণ
ফিরে পেল।একবার
ভাবলাম
এই টাকা থেকে ছোট্ট
বোনটার জন্য
একটা জামা কিনবো।
প্রতিবারই
বাড়িতে যাই
খালি হাতে।আমার
বোনটা ছুটে আসে অনেক
আশা নিয়ে।
একটা চকলেটও
ওকে দিতে পারিনা।
নিজেকে তখন বড্ড
অপরাধী মনে হয়।এবার
ওর জন্য এক
প্যাকেট চকলেটও
কিনবো। ওর
হাসি দেখতে আমার
ভীষন ভাল
লাগে।স্রষ্টা বোধহয়
সমস্ত সুখ ওই
কচি মুখের হাসির
মধ্যে দিয়েছেন।ওর ওই
চাঁদমুখে এবার
আমি হাসি ফোটাবোই।
ফ্যাশন হাউজের
সামনে দিয়ে যাওয়ার
সময়
রোজ নীল শার্ট
টা চোখে পড়ে।কিছুক্ষণ
দাঁড়িয়ে থাকি।
পকেটের
খুচরোরা শব্দ
করে জানিয়ে দেয়
ওটা কেনার সামর্থ্য
আমার নেই।
সামনে ঈদ,তাই
শার্টটাও
হয়তো আর
পড়ে থাকবে না।
দোকানীকে বাকি দিতে বলেছিলাম।
রাজি হয়নি।পরনের
জামাটাও দুদিন
পরে ঘর
মোছার উপযুক্ত
হবে তাতে আর
সন্দেহ নেই।তারপরও
পরছি।এই
টাকা থেকে নিজের
জন্য
এবার একটা জামাও
কিনে নেব। মা'র জন্য
একটা শাড়ি আর
ছোটভাই
আসিফের জন্য
একটা লুঙ্গিও
কিনবো।আজ
বাবা বেঁচে থাকলে আমাকে হয়তো এত
ভাবতে হত না।
সংসারে অভাব ছিল
কিন্তু সুখের
কমতি ছিলনা।আজ
বাবা নেই তাই সুখ
গুলোও
সার্থপরের মত
দূরে চলে গেছে।
সারাক্ষণই
ভেতরে ভেতরে একটা কষ্ট
খেলা করে।
কে জানে,হয়তো এটাই
আক্ষেপ,
কিংবা অনুশোচনা ।
কারো কারো ঈদ হয় সব
আপনজনকে ছাড়াই।
আমার তবু
মা আছে,বোন আছ,ছোট
একটা ভাই আছে।এইটুকুই
সান্তনা।
সবকিছু ঠিকঠাক
কিনে যদি কিছু
বেঁচে থাকে তাহলে সবাইকে সেলামী দিব।
এবার ঈদে আসলেই
অনেক
মজা হবে।ভাবতেই
ভেতর
টা আনন্দে নেচে উঠছে।
মা'র
পোষা মুরগী থেকেই
হয়তো একটা জবাই
হবে।সত্যি!
কতদিন যে মাংস
খাইনা!
এবার সবাই
একসাথে পোলাও
খাব।
হুইসেল বেজে উঠলো,।
আচমকা সামনে তাকালাম।
নয়টা তিরিশের ট্রেন
চলে এসেছে।
কিভাবে যে আধা ঘন্টা পার
করলাম টেরই পাইনি।
সত্যি! সুখের
ভাবনা ভাবতেই অনেক
ভাল
লাগে।বিশেষ
করে,একদিন বড়
হব,অনেক
টাকা হবে,চাকরিটা হয়ে গেলে আর
দু:খ থাকবে না এই সব
ভাবতে আরো ভাল
লাগে।
আমার পাশেই
যে বেঞ্চে বসে আর
একজন
বিড়ি টানছেন,খেয়ালই
করিনি।
আমাকে তাকাতে দেখে বললেন,
কোথায় যাবেন?
বললাম,খুলনায়,আপ নি?
বললেন
আমিও,কিন্তু এট
তো দশটায়
ছাড়বে,চলুন কোন
চায়ের
দোকানে বসি।বললাম
আপনি যান,আমি একটু
ফাকা রেললাইনটায়
হাটাহাটি করি।শুনেই
লোকটা চলে গেল।
জ্যোৎস্না রাতে একা রেললাইনে হাটতে আমার
ভীষন ভাল লাগে।
সেদিনের নতুন
চাঁদে যদিও
চাঁদনিটা কম ছিল,তবু
রাত পোহালেই
ঈদ,তাই
চারিদিকে সাজ সাজ
রব উঠেছিল।
কিছুটা আলো ঝলমল
পরিবেশও
ছিল রেল লাইনের দুই
ধারে।
বাড়িতে গেলে কেমন
মজা হবে, ছোট্ট
বোনটা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরবে,চকলেট
পেয়ে ও কেমন
খুশি হবে কেবল
এইসবই
ভাবতে লাগলাম।
মা হয়তো অভিমানী রাগ
দেখিয়ে বলবে,আমার
জন্য
শাড়ি আনতে গেলি কেন?
তোর জন্য একটা প্যান্ট
কিনতে পারলি না।
আমি শুধু
নিঃশব্দে হাসবো।
জগতের সব
মায়েরা এমন হয়,কিন্তু
সব
ছেলেরাই আমার মত
হয়না।
আমার মত কপাল নিয়েও
খুব কম
লোক জন্মায়।
যে ছাত্রজীবন
থেকেই সংসারের ভার
বহন করে।
ভাবতে ভাবতে কখন
এতটা পথ
চলে এসেছি বুঝতেই
পারিনি।
আশেপাশে কেউ নেই।
এবার আর না ফিরলেই
নয়। দূর
থেকে কয়েকজন কে টর্চ
জ্বালিয়ে আসতে দেখালাম।
দেখলাম ওরা আমার
দিকেই
আসছে। আমি দ্রুত
হাটতে লাগলাম।তবুও
ওরা আমার
কাছাকাছি এসে আমাকে ধাক্কা দিল।
তারপর আমার
চোখে টর্চ
জ্বালিয়ে রেখে বলল,ওই,দেখে চলত
পারিস নাা?একজন
তো কলারও ধরে বসলো।
সেধে গন্ডগোল
বাধাতে আসছিল
ওরা,তাই
নিজে থেকেই
ক্ষমা চাইলাম।
কিন্তু শুনলো না।ছয়
ইঞ্চি লম্বা ছুরি বের
করে একজন
বলে উঠলো ,এই
ওকে সার্চ করতো।ওর
কাছে দু
নম্বরি মাল
থাকতে পারে।
আবছা আলোয় আমি অবাক
হয়ে দেখলাম সেই
প্লাটফরমের লোকটা।
আমি ওকে বললাম,আমি তোমার
কি ক্ষতি করেছি?
সে নিশ্চুপ।
অনেক
কাকুতিমিনতি করলাম।
একপর্যায়ে কেঁদে ফেললাম।
কিন্তু আমার সেই
কান্না সেদিন
স্রষ্টার
দ্বারে পৌছায়নি।তাই
আমার শেষ সম্বল আর
পৃথিবীর
শ্রেষ্ঠ সুখ সেদিন
ওরা কেড়ে নিল।
হোকনা সে 1500 টাকা।
তবু
তা আমার জীবন ছিল।
ওরা চলে গেল আমার
জীবন্ত লাশ
রেখে।কিছুক্ষণ নিথর
হয়ে বসে রইলাম আমি।
অনেক
কাঁদলাম। মুহুর্তেই
অন্ধকার হয়ে এল
চারপাশ।
একপাতা ঘুমের
বড়ি নিয়ে কোনরকমে টলতে টলতে মেসে এসে শুয়ে পড়লাম।
রাত পোহালেই ঈদ।
মা,ভাই
আর ছোট্ট বোনটা আমার
পথ
চেয়ে হয়তো সারাটা সকাল
বসে থাকবে।
হয়তো মা ওদের
সান্ত্বনা দেবে,কিংবা লুকিয়ে কাঁদবে।!
হয়তো আচলের খুঁট
থেকে মা ওদের
সেলামি দিবে।তবুও
আনন্দ
টা যে অপূর্ণই
থেকে যাবে। ছোট্ট
বোনটার জন্য
একটা নতুন জামা আর
এক প্যাকেট চকলেট
হয়তো কখনোই
নেয়া হবেনা।
কে জানে?
হয়তো হবে একদিন।
কিন্তু তখন আর ওর
চাহিদায় চকলেট
থাকবে না।
কখন
ঘুমিয়ে পড়েছি জানিনা।
জানালার ফাঁক
দিয়ে আলো এসে ঢুকেছে ঘরে।
একটু পরেই রাস্তায়
হৈ হুল্লোড়
করবে মানুষ।
মেসে যারা ছিল
তারা বাড়িতে গেছে ছুটিতে।
আমি দরজা খুললাম।
আকাশে আজ
ঝকঝকে রোদ।
সাদাশূণ্য
আকাশটা বড্ড বিষাক্ত
হয়ে উঠেছে।
মাথাটা ঝিমঝিম
করছে।তাই
আবার শুয়ে পড়লাম।
আমার
একটা মেঘলা আকাশ
চাই,যেখানে মেঘ
থাকবে কিন্তু
বৃষ্টি হবেনা।
পুড়ে পুড়ে ছাই হব,তবু
জানবেনা কেউ।কেউ
দেখবে না আমার
অন্তর্দহন। ।।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now