X
প্রিয় বেলা,
তোমাকে “কেমন আছো?” প্রশ্নটা করা বোধহয় বোকামি হবে। ৩১ নং বিধান সরনী রোডের রাস্তার পাশে আকাশ ছোয়া ভবনটার দিকে তাকালে আমাদের পাড়ার হাবা গোপালটাও চোখ বুজে বলে দিতে পারবে তুমি কেমন আছো। ওটারই সবচেয়ে উপরের তলায় তোমার স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখের সংসার। শুনেছি লিফট,দামি ইম্পোর্টেট আসবাব আর ওসব দেখাশোনা করার জন্য কয়েক ডজন লোক লস্কর দিয়ে সাজানো তোমার ওই বহুতল ভবন। তোমার হয়তো সেখানে কুটোটিও সরাতে হয়না। তোমার স্বামীর দামি বাইক, লেটেস্ট মডেলের কার,মাস শেষে মোটা মাইনে আর তোমার দামি শাড়ী, গয়না সব নিয়ে রাণীর হালেই আছো হয়তো।
জানো, সেদিন দেখলাম তোমায় গাড়ি হাকিয়ে চলেছো কোথাও। তোমার ওই দামি গাড়ির কাচ ভেদ করে হাজার লোকের ভিড়ে তোমার দৃষ্টি হয়তো আমাকে খোজে নিতে পারেনি, কিন্তু আমি কিন্তু তোমাকে ঠিকই চিনতে পেরেছিলাম। বড্ড ইচ্ছে করছিলো ছুটে গিয়ে তোমার সামনে দাঁড়িয়ে তোমার গালে আলতো হাতটা ছুয়ে দিয়ে বলি,”কেমন আছো বেলা?” কিন্তু ইচ্ছে থাকলেই তো সব ইচ্ছে পুরন হবার নয়। যেমন তোমার ইচ্ছে হলেই ছুটে গিয়ে ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে পারো না। ইচ্ছে হলেই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ফুচকা খেতে পারো না। চাইলেই ফুটপাতের জিনিস নাড়াচাড়া করে দেখতে পারো না কিংবা ফুটপাতের ওই কুড়ি টাকার ওই ফুটপাতের দুল কিনে আয়নার সামনে সজতনে নিজেকে সাজানো হয় না।
ময়দান, কলেজ স্ট্রীট, প্রিন্সেসঘাট কিংবা কফিহাউজে কোনো তরুণ-তরুণীকে একসাথে হাতধরে দেখলে মনে পরে “আমাদেরও দিন ছিলো”। আচ্ছা বেলা, তোমারও কি মনে পড়ে আমাকে, কোনো এক নিস্তব্ধ রাতে কিংবা বৃষ্টি-মুখর দিনে? আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামলে কি তোমারো মন কেমন করে উঠে? তোমার ওই ভবনের দেয়ালগুলো কি ওই “মন কেমনের” মানে বুঝতে পারে? থাক, কিছু প্রশ্নের উত্তর নাহয় নাইবা জানা হলো।
“চাকরীটা আমি পেয়ে গেছি বেলা শুনছো” গানটা শুনে দ্বিধায় পরোনা যেনো। না, চাকরী আমি পাইনি। এই দুর্মূল্যের বাজারে চাকরী আমাকে কেউ দেয়নি। তাই ভালোবাসা আর “ভালো” “বাসা” কোনটাই আমার গড়া হয়ে উঠেনি। ভালো থেকো বেলা.........
ইতি
লিখেছেন:অভ্রনীল