বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
বেকার বিজ্ঞানী মজনু মামা
"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ʀɪᴍᴜ (০ পয়েন্ট)
X
মজনু মামা বেকার ছিলেন। তা–ও ছিলেন আবার বিজ্ঞানী। মানে কেউ যদি তাকে জিজ্ঞেস করত, ‘তা মজনু, এখন কী যেন করছ তুমি?’
মামা অত্যন্ত উদাস হয়ে বলতেন, ‘গবেষণা।’
‘কী নিয়ে গবেষণা?’
‘বিজ্ঞান নিয়ে। আপনারা সবটা বুঝবেন না!’
ফলে বেকার হওয়া সত্ত্বেও আমরা যারা কিশোর, তাদের কাছে বেশ সমীহ আদায় করে নিয়েছিলেন মজনু মামা। যে কাউকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিতে পারতেন। মেতে থাকতেন নিজের ভুবনে। দেখা যেত, মামা এই ঘাস শুঁকছেন, তো একদিন আবার গাঁদা ফুল বাটছেন। আমাদের চোখে ঘোর, ‘কী হবে এই সব দিয়ে মামা?’
‘বিদ্যুৎ হবে রে, বিদ্যুৎ। মানে কারেন্ট!’
মজনু মামার ওপর আমাদের অগাধ ভরসা। মামা যখন বলেছেন, তখন তা হবেই। আমরা মজনু মামার কারেন্টের অপেক্ষায় থাকলাম।
সকাল-বিকেল তিনি লতা–পাতা, ঘাস বাটেন শোঁকেন, আরও বাটেন, আরও শোঁকেন। ঘরে ঘরে জমে গেল গাছের ডাল, ঘাসের বোঝা, প্যাঁচানো লতা। তাতে কিছুতে জংলা গন্ধ, কিছুতে আবার বোঁটকা।
এদিকে আম্মুর আছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বাতিক৷ তিনি ধোয়া জামাও ধুয়ে ফেলেন। মোছা মেঝে আরও দুবার করে মোছেন। আম্মু মজনু মামাকে ডাকলেন। চোখ–মুখ শক্ত করে বললেন, ‘তোর এই পাগলামি কত দিন চলবে মজনু?’
মজনু মামা খুবই উত্তেজিত। বললেন, ‘পাগলামি কী বলছ মেজপা! এইটা তো গবেষণা। আমি আছি খুবই কাছাকাছি। যেকোনো দিন আমার বানানো কারেন্ট দিয়ে ফ্যান ঘুরিয়ে দেখাব।’
আম্মা বিজ্ঞান, গবেষণা, এমনকি ফ্যান—কোনো কিছুরই ধার দিয়ে গেলেন না। তামিম ইকবালের মতো সপাটে কাভার ড্রাইভ করলেন। বললেন, ‘কালকের মধ্যে সব পরিষ্কার করবি। ২৪ ঘণ্টা সময়।’
আম্মু চলে গেলেন। আমরা মজনু মামাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলাম। বললাম, ‘মামা, মন খারাপ কইরেন না। আম্মু আসলে বিজ্ঞানের কিছু বোঝেন না।’
মজনু মামা মন খারাপ করার মানুষ নন অবশ্য। মুশফিকের মতো তার ধৈর্য। বললেন, ‘মন খারাপের কিছু নাই। দুনিয়ার সব বিজ্ঞানীই তার কাজ করতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু বিজ্ঞান থেমে থাকেনি। কাল পরিষ্কার করতে হবে, কিন্তু আজ তো সারা রাত আছেই।’মজনু মামা আহার–নিদ্রা ত্যাগ করে কাজ করতে লাগলেন। আমরা কিছুক্ষণ দেখলাম, বেশিক্ষণ ঢুললাম, তারপর হাই তুলে ঘুমাতে গেলাম। সকালে মজনু মামার চিৎকার শোনা গেল—
‘ইউরেকা ইউরেকা!’
আমরা সবাই ধড়ফড় করে উঠলাম। ছুটে গেলাম। যা দেখলাম, তা অবিশ্বাস্য। মামার খালি গা। পরনে শুধু একটা কমলা রঙের আন্ডারওয়্যার। কিছুক্ষণ পরপর বলছেন, ‘ইউরেকা ইউরেকা!’
আব্বু ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকলেন কিছুক্ষণ। তারপর গম্ভীর গলায় বললেন, ‘প্যান্ট পরো মজনু।’
মামা বললেন, ‘রাখেন তো দুলাভাই প্যান্ট...এইটা দেখেন...’
মজনু মামা তার বানানো ছোট্ট ফ্যানটা ঘোরাতে শুরু করলেন। বললেন, ‘কারেন্ট দুলাভাই, কারেন্ট...গাছের পাতা দিয়ে কারেন্ট!’
আমরা সবাই যখন তালি দিয়ে উঠলাম; আম্মু তখন, অবাক ব্যাপার, মামার গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলেন। আমরা বিস্ময়ে বিমূঢ়। আম্মু বললেন, ‘যা গাধা, আগে অন্তত একটা লুঙ্গি পরে আয়!’
বিজ্ঞান যেমন থেমে থাকে না, আমাদের বেকার বিজ্ঞানী মজনু মামাও থেমে থাকেন না। প্রজেক্ট গুল্মবিদ্যুৎ শেষে তিনি শুরু করলেন প্রজেক্ট মূষিকতরঙ্গ। এই প্রজেক্টের জন্য তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন ধরনের ইঁদুর ধরে নিয়ে আসতে লাগলেন। ছোট ইঁদুর, বড় ইঁদুর, ধেড়ে ইঁদুর...এত ধরনের ইঁদুর যে আমাদের চক্ষু ছানাবড়া।
‘মামা, এত ইঁদুর দিয়ে কী করবেন?’
‘কী আবার! গবেষণা!’
‘সে তো বুঝলাম, কিন্তু কী ধরনের গবেষণা মামা?’
মজনু মামা আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসলেন, ‘বললেই কি আর বুঝতে পারবি? এই সব হাই থটের ব্যাপার-স্যাপার!’
মজনু মামা খুবই উত্তেজিত। বললেন, ‘পাগলামি কী বলছ মেজপা! এইটা তো গবেষণা। আমি আছি খুবই কাছাকাছি। যেকোনো দিন আমার বানানো কারেন্ট দিয়ে ফ্যান ঘুরিয়ে দেখাব।’
তবু যদি একটু পরিষ্কার করেন...’
‘শোন, প্রাণিকুলে ইঁদুর নিয়ে কিন্তু নানান গল্প চালু আছে। সব গল্পেই দেখানো হয়েছে, ইঁদুর অত্যন্ত বুদ্ধিমান। এসব গল্প তো এমনি এমনি আসেনি। ইঁদুর নিশ্চয়ই বুদ্ধিমান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কতটা বুদ্ধিমান, এইটার একটা মাপ থাকা জরুরি। আমি ইঁদুরের বুদ্ধি মাপছি। ইতিবাচক সাড়া মিলছে! শুধু এইটুকু বলি, মেজপার চাইতে ইঁদুরের বুদ্ধি বেশি, জানিস তো!’
আমরা আম্মুর চেয়ে বুদ্ধিমান ইঁদুরগুলোর দিকে ঈর্ষা নিয়ে তাকালাম। আহা রে! ওদের মতো বুদ্ধি যদি আমাদের থাকত!
সবকিছু ভালোই চলছিল। মজনু মামা তার বেডরুম কাম ল্যাবে একটা বড় জারে ইঁদুরগুলো রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু এক সকালে মামা হন্তদন্ত হয়ে আমাদের ঘরে এলেন। বললেন, ‘ইঁদুরগুলো তো সাংঘাতিক, এরা তো একেবারে আইনস্টাইন পর্যায়ের মেধাবী!’
আমরা ভয়ে ভয়ে জানতে চাইলাম, ‘কী হয়েছে মামা?’
‘সব কটি একসঙ্গে জার থেকে পালিয়ে গেছে। পালানোর আগে নিশ্চয়ই নিজেদের মধ্যে সভা–সমিতি করেছে। ব্রিলিয়ান্ট!’
মজনু মামার এই উচ্ছ্বাস অবশ্য বেশিক্ষণ থাকল না। আম্মু অচিরেই বাসায় ইঁদুরের উৎপাত টের পেয়ে গেলেন এবং খুব স্বাভাবিকভাবেই বুঝে গেলেন, পেছনের কলকাঠি কার। আম্মু মজনু মামাকে দিলেন কঠিন শাস্তি। তিন দিন বাসার কারও সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না মজনু মামা!
মজনু মামা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ছাড়া থাকতে পারেন; কিন্তু কথা ছাড়া থাকা তার জন্য ফুসফুসহীন জীবনের মতোই বিপন্ন হয়ে গেল। এই শাস্তিকে তিনি ব্যক্তিগত শাস্তি হিসেবে দেখলেন না, দেখলেন বিজ্ঞানকে দেওয়া শাস্তি হিসেবে। আর মজনু মামা আর যা–ই হোক, বিজ্ঞানকে কেউ হেয় করে গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়াবে, তা হতে দেবেন না।
মজনু মামা বললেন, ‘ইটটি মেজপা মেরে দিয়েছেন, পাটকেলটা এবার তাকে খেতে হবে! মজনু মামা আমাদের নিয়ে পাটকেল কিনতে গেলেন।
জেল্লাদার খেলনার দোকান। কী নেই সেখানে! খেলনা গাড়ি থেকে দেখতে আসলের মতো বড় বড় রাইফেল। পিয়ানো থেকে শুরু করে হুমায়ূন আহমেদের শিশুতোষ বই পর্যন্ত। নকল, কিন্তু বোঝার উপায় নেই, এমন তেলাপোকা থেকে প্রমাণ সাইজের ডাইনোসর পর্যন্ত।
মামা অবশ্য তিন হাজার টাকা খরচ করে কিনলেন কিং কোবরা। নকলই। কিন্তু দেখতে একদম আসলের মতো। রিমোট সিস্টেমে শরীর আঁকিয়ে–বাঁকিয়ে চলাফেরাও করে। শরীরটা এতই আসলের মতো যে আমরা ভয়ে প্লাস্টিকের সাপটা ছুঁতেও পারলাম না।
মামা সাপটা বাক্সবন্দী করে ছুটলেন। আমরা গেলাম পিছু পিছু, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে।
যেমন আশা করেছিলাম, তার আগেই আম্মুর চিৎকার শুনতে পেলাম, ‘সাপ, সাপ! কিচেনে সাপ!’
মজনু মামা আমাদের দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচালেন। কথা বলা তার বারণ বলে খাতায় লিখে দেখালেন, ‘এইবার বুঝবে মজা!’
আব্বু আর মামা কিচেনটা তন্নতন্ন করে খুঁজলেন। কিন্তু সাপ থাকলে তো! আম্মু দেখার পরই মামা রিমোট দিয়ে সরিয়ে ফেলেছে।
ওদিকে আম্মু ক্রমাগত বলে যাচ্ছেন, ‘মসলার বাটিটা সরাতেই দেখেছি...উফ্, এই রকম মোটা...আমার দিকেই যেন তাকিয়ে ছিল...বিষধর! কামড়ালে কেউ বাঁচবে না!’
মজনু মামা আমাদের দিকে তাকিয়ে বিশ্বজয়ের হাসি হাসলেন। আব্বু বললেন, ‘একটা জ্যান্ত সাপ এভাবে ঘরের মধ্যে এল কীভাবে?’
আম্মু সপাটে এবার তাকালেন মজনু মামার দিকে। ‘তোর এইখানে কোনো হাত নেই তো? গবেষণার জন্য কোনো সাপ ধরে আনিসনি তো?’
মজনু মামা চুপ করে আছেন। আম্মু বললেন, ‘কথা বলিস না কেন?’
আমরা বললাম, ‘মামার তো কথা বলা নিষেধ আম্মু!’
‘বল, কথা বল, আমি অনুমতি দিলাম, তুই আনিসনি তো এই সাপ?’মজনু মামা পড়লেন বিপদে। কথা বলার অনুমতি তিনি পেয়েছেন। কিন্তু মিথ্যা তিনি বলেন না। ফলে কী করবেন, বুঝতে পারছেন না। আমরা সেটা বুঝেই তাড়াতাড়ি বললাম, ‘আম্মু, মামা কীভাবে সাপ নিয়ে আসবে? মামা কি সাপুড়ে?’
আম্মু হঠাৎই বলে উঠলেন, ‘ঠিক। ঠিক…একেবারে ঠিক। সাপুড়ে…সাপুড়েই তো লাগবে!’
আমাদের ড্রয়িংরুমে যিনি বসে আছেন, তার নাম নাকি আলতামির। পরনে বিভিন্ন রঙিন কাপড়ের তালি দেওয়া অদ্ভুত আলখেল্লা। মাথায় গোলাপি রঙের পাগড়ি। থুতনিতে সরু দাড়ি। মুখে পান। চিবাচ্ছে তো চিবাচ্ছেই। আম্মু আর আব্বু সোফার ওপর পা তুলে বসে আছেন। ঘরে যেহেতু সাপ আছে, সেহেতু কখন কী হয়ে যায়, ভরসা তো নেই!
আমাদের অবশ্য ভয়-ডর নেই। আমরা তো জানিই ঘরের ভেতর আসলে কী আছে! একটু দূর থেকে বসে সাপুড়ে আলতামিরের কাণ্ডকারখানা দেখছি। দূরে থেকে দেখার কারণ, আলতামিরের কাছে সাপের ঝাঁপি আছে তিনটা। তার দাবি, তিনটাতে নাকি ছয়টা সাপ আছে। সেগুলো আমাদের দেখার ইচ্ছা আছে ঠিকই, কিন্তু মজনু মামার যন্ত্রণায় কিছু বলার সুযোগ পাচ্ছি না।
ওদিকে আম্মু ক্রমাগত বলে যাচ্ছেন, ‘মসলার বাটিটা সরাতেই দেখেছি...উফ্, এই রকম মোটা...আমার দিকেই যেন তাকিয়ে ছিল...বিষধর! কামড়ালে কেউ বাঁচবে না!’
মজনু মামা লেগে পড়েছেন সাপুড়ে আলতামিরের বিনের পেছনে। কীভাবে বাজে, কী করলে বাজে না…ইত্যাদি ইত্যাদি। আলতামিরও বিতং করে বলে যাচ্ছেন বিভিন্ন কথা। মজনু মামা হেসে বললেন, ‘সাপ যে শুনতে পায় না, জানেন না আপনি? তাহলে কীভাবে বলেন যে বিনের আওয়াজ শুনে সাপ চলে আসে, নাচে?’
আলতামিরের সম্মানে লেগেছে বোধ হয় কথাটা। আলতামির ধাপ ধাপ করে সব ঝাঁপি খুলে ফেলে বিন বাজাতে শুরু করলেন। সাপগুলো ঝাঁপি থেকে বেরিয়ে আসতে লাগল। আলতামির বাজিয়ে যাচ্ছেন বিন ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে, আর সাপগুলোও সেই বিনকে অনুসরণ করে নাচের মতো করছে।
আম্মু বললেন, ‘মাগো! বন্ধ করেন। এসব বন্ধ করেন!’
আমরাও ভয় পেয়েছি। এভাবে এত কাছ থেকে এত জীবন্ত সাপ তো দেখিনি। তবে খেয়াল করে দেখলাম, সবচেয়ে ভয় পেয়েছেন মজনু মামা। তিনি বলতে গেলে প্রায় আব্বুর কোলে উঠে বসেছেন। আর চিঁ চিঁ করে কী যেন বলছেন! আব্বু বললেন, ‘মজনু, অন্তত কথাটা তো ঠিক করে বলবে!’
মজনু মামা কণ্ঠ ঝেড়ে বললেন, ‘সাপের তো কান নেই…ওরা নাচছে কীভাবে?’
আলতামির রহস্যময় হাসি হাসলেন। তারপর বললেন, ‘কুন ঘরে সাপ দেখছেন আপনারা?’
আম্মু রান্নাঘর দেখিয়ে দিলেন। আলতামির বিন নিয়ে চলে গেলেন সেখানে। শুরু হলো বিনবাদন!
ঘণ্টা দুয়েক বিন বাজালেন আলতামির। এর মধ্যে তিনবার গুড়ের শরবত খেলেন। গুড়ের শরবতে নাকি গলায় জোর আসে। কিন্তু যত জোরেই বাজানো হোক না কেন, সাপের কোনো দেখা পেলেন না আলতামির। মজনু মামা আমাদের কানে কানে বললেন, ‘মেজপা কেমন শায়েস্তা হয়েছে দেখ! ভয়ে এখন পা তুলে বসে আছে সোফায়! বিজ্ঞানের সঙ্গে ফাজলামি করলে ফল যে ভালো হয় না, দেখতেই তো পাচ্ছিস!’
তিন ঘণ্টার মতো বিন বাজিয়ে, সারা বাসা তন্নতন্ন করে খুঁজেও আলতামির কিছু পেলেন না। ড্রয়িংরুমে ফিরে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, ‘দুঃখিত জনাব। বাসায় কুনো সাপ আছে বইলা মনে হয় না!’
আব্বু বললেন, ‘চলে যদি গিয়ে থাকে, সেটাও তো ভালো।’
আব্বু আলতামিরকে টাকা দিলেন কিছু। আলতামির সালাম দিয়ে যখন ফিরে যাবেন, তখন দেখলেন, তার একটা ঝাঁপির মুখ একটু খোলা। ভালো করে দেখতে গিয়ে দেখলেন, ঝাঁপির ভেতর দুটির জায়গায় একটি সাপ। আলতামির বলে উঠলেন, ‘হায় হায়! আমার সাপ তো পলাইছে!’
আম্মু চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘কী বলেন এই সব!’
মজনু মামা বললেন, ‘এত ভয় পেয়ো না মেজপা! ওনাদের কাছে যেসব সাপ থাকে, সেগুলোর বিষদাঁত ভেঙে ফেলা থাকে তো…কামড়ালেও বিষ থাকবে না!’
আলতামির মাথা নাড়িয়ে বললেন, ‘সকালেই ধরছি সাপটারে। বিষদাঁত তো ভাঙা হয় নাই!’
আমরা সবাই এবার একযোগে চিৎকার করে উঠলাম। তবে মজনু মামা কোনো কথা বললেন না। শুধু ধপাস করে পড়ে গেলেন। আমরা সাপ খুঁজব, না মজনু মামার জ্ঞান ফেরাব, সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে সোফায় পা তুলে বসে থাকলাম।
সূত্র এই গল্পটার লেখক আমি না
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now