বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বেদনা যুক্ত জিবন

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Tuhin (গ্যাংস্টার) (০ পয়েন্ট)

X গল্পটি পড়ুন আপনার জয়তু কান্না পাবে!!! ???????? রেনু: মা আজকা কাজে যাইও না , আজ আমারে গুরতে লইয়া যাও না। অামি তোমার লগে সারাদিন ঘুরমু। রেনুর মা: না , রাকিবরে ক তোরে ঘুরতে লইয়া যাইবো রেনু: ভাইয়ায় তো ইসকুলে গেছে। তুমি লইয়া যাওনা মা! সন্তান এর এমন আবদার শুনে রুনা বেগমরেও খুব ইচ্ছা করলো ওকে নিয়ে ঘুরতে। কিন্তু তার যে কাজে যেতে হবে, না গেলে মালিক বেতন থেকে টাকা কেটে নিবে। তাই নিজের মেয়ে রেনু কে ঘরে একলা রেখে গার্মেন্টসে গেলেন রুনা বেগম। অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছেন রুনা বেগম, মেয়ে লোক বলে কাজের খুব কম বেতন দেয়া হয় । তার স্বামী গত বছর মারা গেছেন । তার পর থেকে সংসার হাল ধরেছেন তিনি। বড় ছেলে রাকিব এখন নাইনে পড়ে। মেয়ে রেনুর বয়স ছয় বছর , পড়ার উপযুক্ত বয়স হলেও টাকা না থাকায় ওকে এখনো স্কুলে ভর্তি করানো হয়নি। রেনু সারাদিন বাসায় একা থাকে। বসে বসে অপেক্ষা করে কখন মা আর ভাইয়া আসবে। অাজ সকাল থেকে রুনা বেগম এর অনেক জ্বর।বেশ গুরুত্ব না দেয়ায় জ্বর আরো বেড়ে যায়। আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়ে।তাই কাজে যেতে পারেননি তিনি, মাস খানেক জ্বর থাকায় বাসায় শুয়ে কাটাতে হয়েছে। টাকা না থাকায় চিকিৎসা করানো হচ্ছে না রুনা বেগমের ,অবস্হা দিন দিন অবনতি হতে থাকে , রাকিব উপায়ন্তর না দেখে কিছু আত্মীয়স্বজনের কাছে মায়ের চিকিৎসার জন্য টাকা চাইতে যায়। কিন্তু কেউ দিতে রাজি হয়নি। এভাবে তীব্র জ্বরে মারা যায় রুনা বেগম। রেনু কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পরলো। বোনের কান্না দেখে নিরব মনে শুধু চেয়ে রইল রাকিব। কিছু আত্মীয়স্বজন এসে দায়সাড়াভাবে দাফনকাজ সমাপ্ত করলো। তারপর, যে যার মতো চলে গেল। রেনু ও রাকিব এর দিকে কেউ ফিরেও তাকায়নি,কে নিজের টাকা খরচ অন্যের সন্তান কে পালবে। রাকিব নীরব মনে বলতে লাগলো কেউ নেই আজ আমাদের, টাকার অভাবে মা মারা গেল,জগতে আাজ আমরা খুবই তুচ্ছ,কেননা আমরা গরিব। আমরা আর গরিব থাকতে চাই না, আমি উপার্জন করবো, রেনু কে লেখাপড়া শিখাবো,ও অনেক বড় হবে। তাতে আমি পড়ালেখা না শিখতে পাড়লে কিছু হবে না। আমার বোন শিক্ষিত হবে সবাই তাকে নিয়ে গর্ব করবে তাতেই আমার শান্তি। এই ভেবে রাকিব রোজগার করতে শুরু করে ।খুব ভোরে ঘুম খেকে উঠে পত্রিকা অফিস থেকে পত্রিকা এনে বিলি করে বাসায় বাসায় তারপর একটি রিকশা নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে ব্যস্ত রাস্তায়। রেনু কে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয় রাকিব। রেনু নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। ওর হাসি মাখা মুখটা রাকিবের সব কষ্ট মুছে দেয়। প্রতিদিনের মতো আজও পত্রিকা বিলি করার পর রাকিব রিকশা নিয়ে বের হয়। রাস্তায় অবিরাম ছুটে চলছে রাকিব এর রিকশা, হঠাৎ কথা থেকে যেন একটা ট্রাক এসে ধাক্কা দেয় রাকিবের রিকশা কে। রাকিব চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। রাকিব এর দেহটা আস্তে অাস্তে স্তব্দ হয়ে পরে। রিকশার সাথে সাথে ওর জীবনের চাকাটাও চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। রেনু প্রতিদিনের মতো ভাইয়া জন্য স্কুল থেকে এসে অপেক্ষা করে। কিন্তু ওর ভাইয়া যে আর আসেনা। রেনুর স্বপ্ন শুরু হতে না হতেই শেষ হয়ে গেল। ওর ভাইয়া ওকে বিভীষিকাময় জীবনে ঠেলে দিয়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বেদনা যুক্ত জিবন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now