বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বদর যুদ্ধের দিনের একটি ঘটনা শুনুন।

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Raz Khan (০ পয়েন্ট)

X বদর যুদ্ধের দিনের একটি ঘটনা শুনুন। . বিখ্যাত সাহাবী 'আব্দুর রহমান বিন 'আওফ (রাদিআল্লাহু আনহু) এর বর্ণনায় -- . . “বদরের ময়দানে আমি সৈন্যদের সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমার ডানে ও বামে দুইজন কিশোরকে দেখতে পেলাম। . একজন কিশোর এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলঃ 'হে চাচা! আবু জাহেল কোথায়'? আমিও তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'তার কাছে তোমার কি দরকার'? সে উত্তর দিলঃ 'আমি শুনেছি, সে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে অনেক কষ্ট দিয়েছে। তাই আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, ‘আমি যদি তাকে দেখতে পাই, আমার ছায়া তাকে অতিক্রম করবে না, যতক্ষণ না আমি তাকে হত্যা করি কিংবা সে আমাকে হত্যা করে।’ . হযরত আব্দুর রহমান বিন 'আওফ (রাঃ) বললেন, ‘আমি তার এ কথায় অভিভূত হয়ে গেলাম!’ . কিছুক্ষণ পর আরেকজন কিশোর আমার কাছে আসল। সেও আমাকে জিজ্ঞেস করলঃ 'হে চাচা! আবু জাহেল কেথায়'? আমি তাকেও জিজ্ঞাসা করলাম,তার কাছে তোমার কী দরকার? সে উত্তর দিলঃ 'আমি শুনেছি, সে মহানবীকে (সাঃ) অনেক কষ্ট দিত, নির্যাতন করত। তাই আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, ‘আমি যদি তাকে দেখতে পাই, আমার ছায়া তাকে অতিক্রম করবে না, যতক্ষন না আমি তাকে হত্যা করি কিংবা সে আমাকে হত্যা করে।’ . . তারপর আমি লক্ষ্য করলাম যে, ‘আবু জাহল সামান্য দূরে লোকজনদের মাঝে বিচরণ করছে। আমি তাদেরকে বললাম, 'ঐ হলো সেই ব্যক্তি যাকে তোমরা খুঁজছো'। . এই কথা বলার পর আমি আকাংখা করছিলাম আমি যদি এই দুই কিশোরদের মত উৎসাহী এবং উদ্যমী হতে পারতাম। দুই কিশোর দ্রুত ছুটে গেল সেদিকে। . কিছুক্ষণের পরে তারা ফিরে আসল এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এঁর নিকট প্রত্যাবর্তন করল। এই দুই কিশোরের নাম - মু'আয বিন 'আমর বিন আল-জামুহ এবং মু'আয বিন 'আফরা (রাদিআল্লাহু আনহুম)! . রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের জিজ্ঞাসা করলেন-‘তোমাদের মধ্যে কে আবু জাহলকে হত্যা করেছো?’ . মু'আয বিন 'আমর বিন আল-জামুহ (রাঃ) বলল-‘আমি হত্যা করেছি’ এবং মু'আয বিন 'আফরা (রাঃ) বলল-‘আমি হত্যা করেছি।’ . রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুনরায় বললেন, ‘তোমরা কি তোমাদের তরবারী পরিষ্কার করে ফেলেছো?’ তারা বলল, ‘না’। তিনি বললেন- ‘আমাকে দেখাও’। . উভয় তরবারীতে রক্ত দেখতে পেয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘তোমরা উভয়ে তাকে হত্যা করেছো।’ . মু'আয বিন 'আমর বিন আল-জামুহ (রাঃ) বলেনঃ . “আমি আবু জাহেলকে আমার লক্ষ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে নিলাম এবং তার প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করে রাখলাম। তারপর যখন সুযোগ পেয়ে গেলাম, তখনই আক্রমণ করে বসলাম এবং এমনভাবে আঘাত করলাম যে, তার পা দ্বিখন্ডিত হয়ে গেল। এদিকে আমি যখন আবু জাহলকে আঘাত করলাম অন্য দিকে তখন তার ছেলে ইকরিমা (তখন পর্যন্ত অমুসলিম) আমার কাঁধে তরবারীর আঘাত করল এবং তাতে আমার হাত কেটে গিয়ে চামড়ার সঙ্গে ঝুলে গেল এবং যুদ্ধের জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াল। আমি আমার হাত পিছনে টেনে সাধারণভাবে যুদ্ধ করতে থাকলাম। কিন্তু হাতটি যখন আমাকে খুবই কষ্ট দিতে লাগল, তখন আমি হাতের উপর আমার পা রেখে জোরে টান দিয়ে হাতটি বিচ্ছিন্ন করে ফেললাম।" . এরপর আবু জাহলের নিকট পৌঁছে যান মুয়ায বিন আফরা। তিনি তাকে এত জোরে আঘাত করেন যে, তার ফলে সে সেখানেই পড়ে যায়। সে সময় শুধু তার শ্বাসঃপ্রশ্বাসটুকু অবশিষ্ট ছিল।” . মু'আয বিন 'আমর বিন আল-জামুহ (রাঃ) এর বয়স তখন ১৪ বছর এবং মু'আয বিন 'আফরা (রাঃ) এর বয়স ছিল ১৩ বছর। মু'আয বিন 'আফরা (রাঃ) বদরের যুদ্ধেই শহীদ হন। মু'আয বিন 'আমর বিন আল-জামুহ (রাঃ) হযরত 'উসমান বিন আফ্ফান (রাঃ) এর খিলাফত পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বদর যুদ্ধের দিনের একটি ঘটনা শুনুন।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now