বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"বাসের সেই মেয়েটি"
লেখাঃতৌফিক আহমেদ(মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে)
...................
আমি তৌফিক।আমি ঢাকায় একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করি।আমার আসল বাসা টাংগাইল। আমি এখন টাংগাইল যাওয়ার জন্য বের হচ্ছি।কারন কাল রাতে আমার মা ফোন করে বলছে ওনার নাকি শরীর খুব অসুস্থ।আমাকে তাড়াতাড়ি টাংগাইল যেতে হবে।কি আর করা অফিস থেকে ইমার্জেন্সি ভাবে ছুটি নিয়ে টাংগাইল যেতে হচ্ছে।
.
আমি সকাল সকালেই মহাখালি বাস স্ট্যান্ডে আসছি।আমি স্ট্যান্ডে দাড়িয়ে আছি একটু পর বাস ছেড়ে দিবে।এমন সময় একটি মেয়ের সাথে ধাক্কা লাগল।হয়ত বাস ধরতে দেরি হয়ে গেছে এজন্য তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে ধাক্কা লাগছে।তো মেয়েটি আমাকে সরি বলে চলে গেল।আমিও পরে বাসে উঠে পরলাম।
.
আমি জানালার পাশে বাইরের দিকে তাকিয়ে বসে আছি।এমন সময় একটি মেয়ে এসে আমাকে ডাক দিল।তাকিয়ে দেখি সেই মেয়েটি যার সাথে ধাক্কা লেগেছিল।পরে মেয়েটি বলল...
..মেয়ে:এই যে শুনছেন?
..আমি:জী আমাকে বলছেন?
..মেয়ে:হ্যা আপনাকেই।আসলে আমি একটা কথা বলতাম।আপনি রাখবেন কিনা।
..আমি:হ্যা বলেন।রাখার মত হলে রাখব।
..মেয়ে:আসলে আমি জানালার পাশের সিটে বসতে চাচ্ছিলাম যদি আপনার আপত্তি না থাকে।
..আমি:হ্যা অবশ্যই বসেন।
.
পরে আমি এপাশে বসে মেয়েটিকে জানালার পাশে বসতে দিলাম।পরে মেয়েটির সাথে কথা হল।জানতে পারলাম ওর নাম অবনি।ওর বাসাও নাকি টাংগাইল। এই পর্যন্তই কথা হল।মেয়েটি দেখতে অসম্ভব সুন্দর।কথা বলে আরো সুন্দর করে।কি বলব যে কোন ছেলে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পরে যাবে।আমারও বিপরীত কিছু হল না।কিন্তু প্রথম দেখতেই ভালবাসা বলতেও পারলাম না।
.
পরে টাংগাইল এসে বাস থেকে নেমে যার যার বাসার উদ্দেশ্যে চলে গেলাম।বাসায় গিয়ে যা দেখলাম তাতে তো আমি পুরো অবাক।আসলে মা এর কোন অসুখ হয়নি।আমাকে টাংগাইল আনার জন্য মিথ্যা কথা বলছেন।আসলে দেখি যে বাসা ভর্তি লোকজন।পুরো বাসা সাজানো। আসলে মা আমার বিয়ে ঠিক করছেন।জানিনা কিছুনা আর আমার বিয়ে ঠিক করল।গেলাম মায়ের সাথে কথা বলতে....
..আমি:মা এগুলো কি?
..মা:কালকে তোর বিয়ে।
..আমি:মানে কি আমাকে না জানিয়ে আমার বিয়ে ঠিক করছ।এটা কেমন কথা?
..মা:কেমন কথা মানে?আমি তোকে বার বার বিয়ের কথা জিজ্ঞেস করছি।তোর কোন পছন্দের মেয়ে আছে কিনা সেটাও বলছি।তুই বলছিস নাই।এজন্য আমি তোর বিয়ে ঠিক করছি।
..আমি:পছন্দের মেয়ে নেই ঠিক আছে।তাই বলে আমাকে না জানিয়ে বিয়ে ঠিক করবে।যাকে চিনিনা জানিনা তাকে কিভাবে বিয়ে করব।
..মা:আরে আমিতো চিনি।আমার খালাতো বোনের মেয়ে।তুই অবশ্য কখনো দেখিসনি।কিন্তু মেয়েটা দেখতে অনেক সুন্দর এবং ভাল।তুই একবার দেখলেই পছন্দ করে ফেলবি।আমি পছন্দ করছি না তোর জন্য।মা কি কখনো ছেলের জন্য খারাপ কিছু পছন্দ করে?
.
বুঝলাম মা এর সাথে কথা বলে কোন লাভ নেই।যা হবার হয়ে গেছে।বিয়ে আমাকে করতেই হপবে।বাসা ভর্তি মানুষ। কিছুই করার নেই।পরে রাতে ঘুমাতে গেলাম।কিন্তু বাসের সেই মেয়েটির কথা ভুলতে পারছিনা।একদিকে মেয়েটির কথা ভাবছি আবার অন্য দিকে বিয়ের কথা ভাবছি।এজন্য রাতে ভাল ভাবে ঘুম হল না।
.
সকাল বেলা ঘুম থেকে ডেকে তুলে কত কিছুই যে করল।বুঝতেই পারছেন নতুন বর।একদম ক্লান্ত লাগছে শরীরটা।কিন্তু কাওকে কিছু বলতেও পারছিনা।যাই হক দুপুরে মেয়ের বাড়িতে গেলাম।আমিতো নতুন বর তাই চুপচাপ বসে আছি।কিন্তু সব শেষে যখন মেয়েকে আনা হল আমার সামনে বিয়ে পরানোর জন্য।তখন আমার সব ক্লান্তি দুর হয়ে গেল।আমি আমার নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।
.
কারন মেয়েটি আর কেউ না।বাসের সেই মেয়েটি অবনি।আমি ওকে দেখে বুঝলাম অবনিও আমাকে দেখে ঠিক তোতটাই অবাক হয়েছে যতটা আমি হয়েছি।বিয়েটা ভাল ভাবেই হল।পরে আমার বাড়িতে আসার পর যখন বাসর ঘরে গেলাম দেখি অবনি খাটে বসে আছে।ওর সাথে কথা বলে জানতে পারলাম ওকেও মিথ্যা কথা বলে টাংগাইল আনা হয়েছিল।
.
অবনিও নাকি খুব অবাক হয়েছিল এসব দেখে।কিন্তু অবনি ওর আম্মুর কথা ফেলতে পারেনি।তাই বিয়েতে রাজি হয়ে যায়।পরে আমি ভাবতে লাগলাম।আসলে ভাগ্যে থাকলে সব কিছুই সম্ভব।আর মায়েরা কখনই সন্তানের খারাপ চাননা।তারা সন্তানের জন্য যা কিছু করেন ভালই করেন।আমি আমার মাকে এজন্য অনেক ধন্যবাদ দিলাম।যে আমার জীবনে অবনিকে এনে দেওয়ার জন্য।এভাবেই আমি বাসের সেই মেয়েটিকে নিয়ে আমার নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now