বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বারান্দার ওপাশে ॥ তিন

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X কানে থপথপ শব্দের অস্তিত্ব এখনও স্পষ্ট। মন অস্থির হয়ে উঠলো হঠাৎ। নিশি নেই। কুসংস্কার মনে করিয়ে দেয়ার মত কেউ নেই। এই সুযোগ, সময়টাও ভালো কাটবে। যায়ই না একটু, ওমন নিশীথ কাঁপানো ভুতুড়ে শব্দের উৎস খুঁজে দেখেই আসি। একবার ভাবলাম দাড়োয়ানটাকে ডেকে নেই। না থাক। তারচেয়ে বরং বারান্দার সদ্য আবিঙ্কৃত গুপ্ত পথটাই একটু পরখ করে দেখি। খুব সহজ না হলেও খাঁজ গুলো বন্ধুর মত সাহায্য করল নিচে নেম যেতে। যতই কুসংস্কার মুক্ত হই না কেনো। ভয় আমার ঠিকই করছে এখন। পরিবেশটাই তো ভূতুড়ে। কার না ভয়ে গা ছম ছম করবে ? একদিকে থপথপ আর অন্যদিকে নিশ্চুপ নিশীথের অন্ধকারের ছায়া। গাছের পাতাগুলো দুলছে হালকা বাতাসে। পাতার থেকে পানি ছিটকে আসছে মুখে। ভেজা ভেজা এক আলতো পরশ আনন্দ ত্বকে । মনে আমার অসাধারণ কিছু একটা করার গুপ্ত অভিলাষ। এমন কোন কাজ নয়, তবুও অতি সাধারণ এই আমার কাছে স্বাভাবিকতার প্রচন্ড বিপরীত। থ্রীলভাব তাই ভয়ের চেয়ে বেশী কাজ করতে লাগলো। রহস্য উন্মোচনের এক নেশা তখন প্রাণে। গুটি গুটি পায়ে রাস্তা পেরিয়ে ওপারের দুবিল্ডিংয়ের মাঝে খোলা প্লটটা দিকে এগোলাম। পায়ে কিছুর খোঁচা লাগলো, জ্বলে উঠলো। কাটল বোধহয়। হাত দিয়ে দেখলাম কাঁটা গাছের গুল্ম। টর্চ না নিয়ে বড় ভুল হয়ে গেছে। যাক মোবাইলটা আছে পকেটে। তারই টিমটিমে আলোয় এগোতে লাগলাম শব্দের উৎস ধরে। ভাঙা একটা চালের এক কোনায় পানি জমেছে। চুইয়ে চুইয়ে সেখান থেকে নিচে পড়ছে একটা বাঁেশর বাঁকা অংশে। বাঁশটা ভেঙে বেঁকে আছে। ভাঙা অংশের ভেতরের অংশটা কোটোরের মত । সেখানে পানি জমছে আর একটা লেভেল পর্যন্ত উঠলেই নলের মত একটা গিঁটের গোড়া বেয়ে টুপ করে নিচে পড়ছে। মোবাইলের আলোটা নিচে ধরতেই চোখে পড়ল সাদাটে কিছু একটা। হাতে উঠিয়ে নিলাম। মোবাইলে সিমকার্ড। পাশেই আরেকটা। দুটোই হাতে উঠিয়ে তালুতে রাখলাম। মাটির উপরে একটা ইটের গায়ে লেগে কাত হয়ে পড়েছিল দুটোই। প্রতিবার যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর সেই সিম কার্ডদুটোতে পানির ফোঁটা পড়তেই সীমদুটো লাফিয়ে উঠতে চাইছিল আর বাড়ি খাচ্ছিল ইটের গায়। সবমিলে শব্দটা ওমন থপ থপ ধরনের এক অদ্ভুত হয়ে পৌছে যাচ্ছিল আমার কানে। এখন আর সেই বিচিত্র থপ থপ হচ্ছে না। থেমে গেছে, সিম দুটো আমার হাতের তালূতে । শব্দ যা হচ্ছে তা খুবই স্বাভাবিক পানির পতনের শব্দ মাটিতে। পুলকিত এক শিহরণ মনে জাগলো আমার। মহা এক রহস্য যেন আমি উন্মোচন করে ফেলেছি। বীর দর্পে আমার নিজের বারন্দার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম। সীমকার্ডদুটো দুটো যে হাতেই রয়ে গেছে খেয়াল হলো হঠাৎ। কেনো আনলাম? কেই বা ফেলে গেলো …নষ্ট নাকি? কিন্তু দুটো একসাথে। ভাবনা পূর্ণ হবার আগেই যেনো মনে মনে উত্তর ও চলে এলো। নিশ্চয় কেউ ছিনতাই করেছে কাউকে। তা মোবাইল সেটদুটো (কিংবা এক সেটে দুই সীম ও হতে পারে) নিয়ে যাবার সময় সীমদুটো খুলে ফেলে গেছে। ধরা পড়ার ঝামেলা রেখে লাভ কি? তাই হবে , ঠিকই। আচ্ছা সীমদুটো টেস্ট করে মূল গ্রাহককে ফিরিয়ে দিলে কেমন হয়। বেচারার এমনেতেই সেট গেছে , সীম দুটো পেলে অন্তত নতুন করে তোলার ধকল থেকে মুক্তি পেত। কিন্তু খুশি না হয়ে যদি আমাকেই ছিনতাই কারী ভাবে, কিংবা যদি চোর… ভাবতে ভাবতে বারন্দার তলে এসে দাড়িয়েছি। একটু ঘুরে ডানে উঁিক দিলাম, দাড়োয়ানের কোন চিহ্ন দেখা গেলো না নিচের বড় দরজায়। নব আবি®কৃত চোরাই পথ বেয়ে অনেক চেষ্টা করেও বারান্দায় এবার উঠা গেলো না। নামা যত সহজ হয়েছিল ওঠাটা আমার জন্য অত সহজ হচ্ছে না। অভ্যেসের ব্যাপার আসলে। বাধ্য হয়ে দরজার সামনে গিয়ে হাজির হলাম। বড় দুটো তালা ঝুলছে। এ বাড়িতে ১২ টার পড়ে কেউ বাইরে যেতে পারে না আসতেও পারে না। এ বাড়ীর বহুদিনের নিয়ম ওটাই। সেই সুযোগটা কাজে লাগে দাড়োয়ানের । ঘুমাতে কেউ বাধ সাধতে আসে না। আজ আমি এলাম। অবশ্য এ বাড়ীতে লোকই বা আর কয়জন। কে আসবে এত রাতে। দু’তলায় কেবল আমি আর নিশি। নিচতলায় আমার ফুফাতো বোন শিখা আর জামাই আর তাদের ছোট দুটো বাচ্চা। একটার বয়স চার অন্যটার দুই। ওরা অবশ্য ভাড়া দিয়েই থাকে। নিশির নামে বাড়ী তো, আমার আত্মীয় হলেও নিশির কাছে তো ভাড়াটেই। শিখারাও নেই আজ। কক্সবাজার বেড়াতে গেছে। সচারচর লোকজন দেখেছি বর্ষাকালে কক্সবাজার যায়না। অথচ আমার মনে হয় বৃষ্টির সাথে সাগরের মিতালী না দেখলে সাগরের আসল উচ্ছলতা অদেখাই রয়ে যায়। দাড়োয়ানকে বেশ কয়েকবার ডাকার পর লিকলিকে দাড়োয়ান রূপী লোকটা হাজির হলো। তাকে দেখলে মোটেও দাড়োয়ান মনে হয় না। আমার আপত্তি করার অবশ্য কারন ছিলনা, কারন নিশির বাবাই তাকে পাঠিয়েছিলেন, ওনার খুব বিশ্বস্ত। চোখ ডলতে ডলেেত এসে বলল, “স্যার, এত রাতে ? কই গেছিলেন, বাইর হইলেন কেমতে, ম্যাডাম ওনার ডুপ্লি চাবি দিয়ে খুলে দিয়েছিলেন নাকি?” …ম্যাডাম মানে, ও সন্ধ্যার সময় চলে গেছে না। ‘তাই নাকি স্যার? আমি তো যাইতে দেখি নাই। দুপুরে বলছিল একবার বাইরে যাইব, কিছু ফলমুল কিনে নিয়া আসতে কইছিল, আইনা ও দিছিলাম। তারপর তো আর ডাকেন নাই ।’ ভীষন অবাক হলাম। অজানা শংকায় কেঁপে উঠল বুকের বাম পাশ। ‘তুমি ঠিক বলছ তো?’ তাপর একটু সুস্থির হবার চেষ্টায় বললাম,‘ তুমি কি বিকালে বাইরে টাইরে গিছিলা হয়তো খেয়াল কর, তখন বের হয়ে গেছে হয়তো, যাও , তুমি ঘুমাও , আমি বারন্দা দিয়া নিচে নেমেছিলাম, এই যে এই কার্ডদুটো পড়ে গিয়েছিল। বারান্দা দিয়ে যে নামা যায় তুমি নিশ্চয় জানো না, খেয়াল রোখা , খুব সহজেই ওঠা নমা যায়। খাঁজ গুলো ভেঙে দেবো আগামী শুক্রবার। ম্যাডামরে কিছু বল না। ’ ‘জি স্যার।’ উপরে সিড়ি ভাঙতে ভাঙতেই আবার ফোন দিতে লাগলাম নিশির নম্বরে। রিং হচ্ছে না। বন্ধ বলছে। আশ্চর্য তো! বিপদ আপদ হলো নাতো কোন? শশুর মশাইয়ের বাসার ল্যান্ড ফোনে কল দেবো নাকি ভাবলাম একবার। আচ্ছা যদি নাই যেয়ে থাকে , ওনাদের এত রাতে টেনশনে ফেলে কি লাভ। কিন্তু নিজের উদ্বিগ্নতা দূর করি কেমনে। হু হু এক পশলা বাতাস ঢুকলো খোলা জানালা দিয়ে। নিশির বিশ্বাসে ওটা বিপদ সংকেত ! মনে ভাবনার কত শত কালো রূপ। হাতে ধরা সীম কার্ড দুটোর দিকে তাকিয়ে অন্য এক শংকা জাগতেই টেবিলের ড্রয়ার হতে অব্যবহৃত পুরানো মোবাইল সেটটা হাতে নিলাম। চার্জে দিয়ে একটা সীমকার্ড ঢুকালাম। কল দিলাম আমার নম্বর টিপে। হতবাক! বিমূর্ত মুহুর্তে আমি। এত অবাক আমি বোধহয় আর কখনই হয়নি। নিশির জন্য যে বিশেষ রিং টোন সেট করা সেইটা বাজছে। কি ভীষন রকমের অবাক কান্ড। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি নিশির জন্য ব্যবহৃত বিশেষ নামটা উঠেছে । অব্যবহৃত সেটটা লাল বোতাম চাপতেই আমার নিজের নিজ রাজ্য স্তব্ধ হয়ে গেলো। এটাতো নিশির মোবাইলের সীমকার্ড। কণ্ঠ দিয়ে বের হয়ে হলো -‘ কি আশ্চর্য!’ সাথে সাথে মাথায় ঘুরপাক খেলো অনেকগুলো কিন্তু … ওখানে গেলো কি করে সীমটা? নিশির কি তাহলে কোন…নাহ্, কিন্তু অন্যটা সীমটা আবার কার। আমার অজ্ঞাত কোন গোপন সীম নিশির? কিন্তু… কি করা উচিৎ ভেবে পাচ্ছিনা। ভাবতে ভাবতেই অন্য সীমটাও সেটে ঢুকালাম। লাগাবার দেরী নেই, কল চলে এল ঐ নম্বরে। রিসিভ করলাম। তীব্র মেজাজে কথা বলতে লাগল ওপাশে একজন পুরষ মানুষ। অনেকগুলো কথা কানে এলো দ্রুত, অনঢ় শুনে গেলাম কিছুক্ষণ। আমার মুখে দিয়ে হ্যালো ছাড়া আর কোন শব্দ উচ্চারিত হলো না। ওপাশের বক্তব্য হতে মোটামুটি বুঝলাম মোবাইল সীমটি সুবর্ণা নামে কোন এক মহিলার। যিনি ফোন করেছেন তিনি ঐ সুবর্ণার স্বামী মহাশয়, ওনার নাম আসফাক। অনেকক্ষণ ধরে ট্রাই করে পাচ্ছেন না বলেই তার এই তীব্র মেজাজ। তিনি ভেবেছেন আমি তার বউয়ের পরকীয়া প্রেমিক-রাসেল। যে প্রেমিকের খবর তিনি সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন। প্রেমে মক্ত হয়ে সুবর্ণা মোবাইল বন্ধ করে রেখেছে। সুবর্ণাকে দিলাম না দেখে খুব গাল মন্দ শুরু করলেন যখন তখন আমি যেই বলতে গেলাম আপনি ভুল করছেন- শুনুন, তার মুখ দিয়ে চ-বর্গীয় শব্দ বের হতে শুরু করল। আমি অফ করে দিলাম , কেনো জানি মনের ভেতর তখন রাগ আর অস্থিরতা মিশে যাচ্ছিল। দ্রুত কিছু হিসাব মেলাতে চাইল মন আমার। স্পষ্ট মনে করতে পারলাম, সামনের ডানের দোতলায় ভদ্রলোক সেই রাতে তার বউকে ধমাকনোর সময় সুবর্ণা নামটি উচ্চারণ করছিলেন। উহ্ ! আল্লাহ যা ভাবছি তা যেন নাহয়! প্রচন্ড উৎকণ্ঠায় বারান্দা দিয়ে নেমে যেতে এবার আর কষ্ট ই হলো না। প্রয়োজনে বাধা তুচ্ছ হয়ে যায়, এটা তারই প্রমাণ। নিচে নেমেই দ্রুত ওপারে সেই শব্দের উৎসে চলে গেলাম এক দৌড়ে। টর্চ আনতে এবার আর ভুল হয়নি। মাথা ভালই কাজ করছে টেনশনেও সেটা বুঝতে পেরে কিঞ্চিৎ পুলকিত হলাম। তারপরই টর্চের আলো ভালো করে মারতেই দেখলাম কিছূ জায়গার মাটি ওলট পালট হয়ে আছে। তখন কেনো খেয়াল করলাম না? সেখানের গুল্ম লতা ভেঙে পড়ে আছে। দ্রুত হাত দিয়ে কিছু খসানে মাটি আলগা করতেই অনড় অসার হয়ে গেলাম। নিশ্চিত সামনে কেউ থাকলে দেখতো চেহারা আমার পুরো ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছিল। মাত্র চার আঙ্গুল মাটির নিচেই পাশাপাশি দুটো নারীর মুখ। মুখ পুরোপুরি মাটিতে ঢেকেও ছিলনা। আলো আঁধারিতে কেবল বোঝা যাবার মত অবস্থায় ছিলনা কাদামাটি মাথা মুখাবয়ব দুটো। হাত পা অবশ হয়ে আসতে চাইছে, কি করি বুঝতে পারছি না। গলা দিয়ে স্বরও বেরোচ্ছেনা। দাড়োয়ানকে ডাকতে হবে , ডাকতে পারছিনা। অগত্যা রাস্তা পার হয়ে আমার বাড়ীর দরজায় ধাক্কাই দিলাম গোটাকয়েক। দাড়োয়ান উঠে এলো। না ব্যাটার ঘুম পাতলা আছে। হাতের ইশারায় দরজা খুলে আসতে বললাম। পুরো শরীর কাঁপছে আমার। দাড়োয়ান পিছে পিছে আসতে থাকলো , মুখ থেকে শুধু একটা শব্দ বেরোলো …ওখানে নিশি.. তারপরও দাড়োয়ানও ছুটল আমার সাথে। আলগা মাটি সরাতে বেগ পেতে হলোনা। দুজন মিলে নারী দেহদুটো উঠিয়ে পাকা রাস্তায় শুয়ে দিলাম। নিশির নিথর মুখটার দিকে তাকিয়ে মনে হলো আমি মুর্ছা যাচ্ছি। দাড়োয়ান আমার হাত ধরে আছে, কাঁদছে। অজান্তেই নিশির বুকে কান পাতলাম। আছে তো, ওঠানাম আছে, বেঁচে আছে এখনও আমার পরান পাখী। ‘দাড়োয়ান, গ্যারেজ খোলো, ’ ‘স্যার কিন্তু ড্রাইভার তো চলে গেছে।’ ‘লাগবে না আমিই চালাবো’, বলেই দাড়োয়ানের গায়ের চাদরটা টান দিয়ে খুলে নিয়ে মুছে দিলাম দু’ নারীর মুখের কাদামাটি। অন্য নারীটি যে সুবর্ণা আর সন্দেহ নেই। দারোয়ানও চিনতে পারল। তার জীবন স্পন্দন আছে কিনা দেখার প্রয়োজন বোধ হলোনা। দুজনকেই দ্রুত গাড়ীতে তুলে ছুটলাম হাসপাতালে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বারান্দার ওপাশে ॥ তিন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now