বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজকে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সমগ্র মুসলিম বিশ্ববাসীর কাছে অন্যতম একটি উৎসবমুখর আনন্দময় দিন। ঈদ মানেই হাসি, আনন্দ আর ছোটোখাটো অজস্র অনুভূতি ও মুহূর্ত আপনজনদের সাথে ভাগাভাগি করে নেয়ার দিন। ঈদ উপলক্ষেই শত বাধাবিপত্তি, কষ্ট সহ্য করে সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে প্রিয় মানুষের কাছে পাড়ি জমায় মানুষ। সাথে নিয়ে যায় টুকরো টুকরো, ছোটোখাটো জমানো হাজারো অনুভূতি আর অনিমেষ সুখের ছোঁয়া। হয়তো, বাড়িতে ছোটোছোটো বাচ্চারা অপেক্ষায় আছে কখন তাদের বাবা নতুন জামাকাপড় নিয়ে বাড়ি পৌঁছাবে। আর প্রিয়তমা স্ত্রী অপেক্ষায় আছে কখন তার প্রিয় মানুষটার মুখটা দেখতে পাবে। বৃদ্ধা মা হয়তো অপেক্ষা করে বসে আছে কখন তার খোকার ক্লান্ত, ঘর্মাক্ত মুখটা নিজের আঁচল দিয়ে মুছে দেবে। অবশেষে একসময় সব প্রতীক্ষার অবসান হয়। কাঙ্ক্ষিত মানুষটা ঘরে ফেরে। সব অনুভূতিগুলো জমা করে একত্রে ঈদ উদযাপন করে তারা।
আমার ঈদটা এই বছর বেশ সাদামাটাভাবেই কাটছে। শুধু সাদামাটা বললে ভুল হবে বরং ফ্যাকাসে বলা যেতে পারে। একাএকা ঘরবন্দী হয়ে বসে আছি। আর এভাবেই কেটে যাবে দিনের শেষ প্রহর পর্যন্ত। কারণ, এবার আমাদের গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হয়নি কিছু সংগত কারণে। তাই ঈদের দিনটা আমার আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতোই কাটছে। বিশেষত্ব কিছুই নেই। বাড়িতে থাকলে অবশ্য ঈদটা অন্যরকম কাটতো। কারণ, সেখানে কাকা-কাকীমা, বড় মা, দাদু আর কাজিনরা অনেকেই আছে। যদিও কয়েকটা আপুর বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ঈদের আনন্দ অতোটা নেই। তবুও তারা ঈদের পরদিন বাড়িতে আসে বেড়াতে। তখন বেশ ভালোই কাটে। আর এখানে একলা হয়ে আছি আমি। মনটা বেশ মেঘাচ্ছন্ন যেমন আকাশে এখন মেঘ জমেছে ঠিক তেমনি।
আমাদের বাড়িতে ঈদের আগের রাত্রে আমরা কেউই ঘুমাতাম না। মা, কাকীরা ব্যস্ত থাকতো বিভিন্ন মশলাসহ অন্যান্য রান্নার উপকরণ জোগাড়যন্ত্র করতে। আর আমরা কাজিনরা ব্যস্ত থাকতাম একে-অন্যকে মেহেদী পড়িয়ে দেয়ায়। আর প্রত্যেকের ঈদের পোশাক দেখায়। কারণ, চাঁদ রাত ছাড়া আমরা কেউই কাউকে ঈদের পোশাক দেখাতাম না। পাশাপাশি গল্পগুজব তো চলতোই। তাই হাসিঠাট্টায় আর গল্প করতে করতে রাতটা কখন পেরিয়ে যেতো সেটা টেরই পেতামনা। আর আমাদের বাড়ির একটা বিশেষ নিয়ম আছে। বাড়ির সবকটা ঘরের সব মহিলারা ঈদের আগের রাতে বাড়ির বিশাল উঠোনে একত্রিত হয়ে যারযার রান্নার মশলার ব্যবস্থা করতো আর পাশাপাশি তাদের আলাপচারিতা আর আড্ডা তো চলতোই। পুরোপুরি একটা উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হতো।
ঈদের দিন একদম ভোরবেলা সব ঘরেই রান্না শুরু হয়ে যেতো। বাড়ির পুরুষরা সামান্যকিছু নাস্তা করেই ঈদগাহে চলে যেতো ঈদের নামাজ আদায় করতে। আর মহিলারা রান্নায় পুরোদমে ব্যস্ত থাকতো। আর আমরা সমবয়সীরা আর আপুরা একসাথে গোসল করতে যেতাম। গোসল করে ফিরে একসাথে সেজেগুজে তৈরি হয়ে যেতাম। ততোক্ষণে পুরুষরা সবাই ফিরে আসতো নামাজ শেষ করে। এসেই উঠোনে বিশাল পাটি বিছিয়ে বাড়ির সব ঘরের সবাই একত্রিত হতো। আমাদের বাড়ির অন্যরকম একটা নিয়ম আছে যেটা আমার বেশ ভালো লাগে। ঈদের দিন বাড়ির উঠোনে পাটি বিছিয়ে সব ঘরের সবাই তাদের নিজনিজ ঘর থেকে ফিরনি, সেমাই, পায়েস এসব নিয়ে একত্রিত হয়ে সবাই একসাথে বসে সবাই সবার ঘরের খাবার খাওয়া হয়। প্রথমে পুরুষদের খাওয়ার পর্ব চলে। তারপর সব মেয়ে, বউ, বাচ্চারা সবাই সব মহিলারা ঈদের পোশাক পড়ে সেজেগুজে একত্রিত হয়ে অংশ নেয়। বেশ একটা আনন্দময় পরিবেশের তৈরি হয় তখন। তখনকার অনুভূতিটা ঠিকভাবে বলে বোঝাতে পারবোনা বর্ণনা করে।
আমার কথা এখানেই শেষ করলাম। হয়তো আমার এই লম্বা কথাগুলো পড়তে অনেকেরই বিরক্তিবোধ হবে। কিন্তু আমার তো কোনো কাজ নেই!! তাই ভাবলাম তোমাদের জন্য কিছু লিখি।
গল্পেরঝুড়ির প্রত্যেক সদস্যকে আমার পক্ষ থেকে ঈদের দাওয়াত এবং প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
★★ বাকাঁ চাঁদের হাসিতে
দাওয়াত দিলাম আসিতে
আসতে যদি নাইবা পারো
ঈদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করো।।★★
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now