বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাচ্চুর ঈদ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X " বাচ্চুর ঈদ " . বাচ্চুর আজ মন বেশ খারাপ। এত মন খারাপ হতো না কিন্তু আশেপাশের মানুষদের আচরণ দেখে বাচ্চু আর নিজেকে সংবরণ করতে পারছে না। বাচ্চুরা এইবার কোরবানি দিচ্ছে না। বাচ্চু বিষয়টা সহজভাবে নিয়েছে। কারণ মানুষের সবসময় ভাল সময় যায় না, খারাপ সময়ও যায়। এটি অবশ্য বাচ্চুর কথা না, তার বাবা বাবুল সাহেবের কথা। . সকাল থেকেই বাচ্চুর মন খারাপ। এর মূলে রয়েছে তার বড় বোন। বাচ্চুর বড় বোন বুশরা সেই সকালেই ঘোষণা দিয়েছে যে আজ সারাদিন কিছুই খাবে না! বড় বোনের আচরণ দেখে মন খারাপ হয়ে গিয়েছে বাচ্চুর। বাচ্চু মাত্র তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। তবুও কোরবানি না দেয়ার বিষয়টা মেনে নিয়েছে। কিন্তু তার সপ্তম শ্রেণীতে পড়া বড় বোন কেন বিষয়টা মেনে নিতে পারছে না কে জানে! . বাবার সেই উক্তিটা বাচ্চু বোনকে শুনিয়েছিলো, মানুষের সবসময় ভাল সময় যায় না, খারাপ সময়ও যায়। . এমন দারুণ একটা কথা বলার বিনিময়ে বাচ্চু দারুণ এক চড়ও খেয়েছে! মন খারাপের ঘটনা একের পর এক ঘটতেই থাকে। বাচ্চু নাস্তা করলো একা একা। এমনটি কখনোই হয়নি, কিন্তু আজকেই এমনটি হলো যেই দিনটি ঈদের দিন। ঈদ মানে আনন্দ, কিন্তু বাচ্চুর বাসায় আনন্দ নেই। . মা চুপচাপ বই পড়ছে, বোন মুখ ভোতা করে বসে আছে, বাবা ঘুমাচ্ছে। আর বাচ্চু জানালা দিয়ে গরু কাটাকাটি দেখছে। . (দুই) . আজ বাচ্চু ঈদের নামাজও পড়তে যেতে পারেনি। যাওয়ার ইচ্ছে ছিলো। পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে বসেছিলো। কিন্তু বাবা আর ঘুম থেকেই উঠেনি! এইজন্যেও বাচ্চুর মন খারাপ হয়েছে। . গতবছর মস্তবড় এক লাল গরু দিয়েছিলো, তখন তেমন কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলো না। কিন্তু এইবার সবাই বাচ্চুকেই ধরে ধরে জিজ্ঞেস করছে, গরু কিনেছো?! . এটি এমন এক প্রশ্ন যে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে উত্তর দেয়ার সুযোগ নেই। আবার মিথ্যে বলাও সম্ভব না, তাহলে সবাই গরু দেখতে চাইবে। বাচ্চু সত্যই বলেছে। সত্য শুনতে খারাপ লাগলেও সত্য সবসময়ই সুন্দর। এটিও বাচ্চুর বাবার উক্তি। বাবা অনেক জ্ঞানী। সবসময় জ্ঞানী কথা বলে, মজাও করে অনেক। . কিন্তু মা অনেক রাগী। বাচ্চুকে অনেক মারেও! এই সেদিনের ঘটনা, বাচ্চু পড়তে বসে ব্যাগে জ্যামিতি বক্স খুঁজে পেলো না। তাই মাকে বলল। মা এসে খুজলো, কিন্তু পেলো না। মা বলল, তুই স্কুলে ফেলে এসেছিস? . - নাতো মা। -- তাহলে কি উড়াল দিয়েছে? - আমি কি জানি... . কথা শেষ করার পরেই বাচ্চু এমন এক চড় খেলো যে খাট থেকে নিচে পড়ে গেলো। বিকট এক চিৎকার দিতে গিয়েও আওয়াজ গলায় আটকে গেল, কারণ দেখা যাচ্ছে মা ঝাড়ু হাতে এগিয়ে আসছে! . সেদিন বাবা এসে উদ্ধার করেছিলো। শুধু যে উদ্ধার করেছিলো তা না, বাচ্চুকে একটা জ্যামিতি বক্সও কিনে দিয়েছিলো। তা দেখে মা বাবাকে অনেক বকেছিলো। কিন্তু বাবা কিছুই বলেনি, শুধু মুচকি হেসেছে। বাচ্চুর বাবা অনেক বেশি ভাল। মাও অনেক ভাল। একটু শাসন বেশি করে। শাসন না করলে সন্তান মানুষ হয়না। বেশি শাসন করলেও মা তাদের সবাইকে অনেক ভালবাসে। এইজন্যেই তিনি দুই সন্তানের নাম বাবার নামের সাথে মিলিয়ে রেখেছেন ; বাবুলের সাথে মিলিয়ে বুশরা আর বাচ্চু। . এইসব কঠিন কথাগুলো বাচ্চুর জানার কথা না। তবুও বাচ্চু জানে কারণ বাবা তাকে এগুলো জানিয়েছে। বাবা অনেক জ্ঞানী, সবসময় জ্ঞানী কথা বলে। বাচ্চু বড় হলেও বাবার মতো এমন জ্ঞানী হবে। . (তিন) . বাচ্চু কিছুক্ষণ ধরে গরুর গোশতের ঘ্রাণ পাচ্ছে। আশেপাশে কোথাও হয়তো গোশত রান্না করছে। বাচ্চুর এখন গোশত খেতে ইচ্ছে করছে। এমন ইচ্ছে করা বোকামি, কারণ তাদের বাসায় কোন গোশত নেই। তবুও গোশতের কোন ব্যবস্থা হবে কিনা মাকে জিজ্ঞেস করেছিলো। মা বলল, একটু পরে অনেকেই গোশত দিয়ে যাবে। . বাচ্চু সেই অনেকের অপেক্ষায় আছে। ছোট বাথরুম পেয়েছে তবুও বাচ্চু বাথরুমে যাচ্ছে না। মূল দরজার পাশে বসে আছে। অনেকক্ষণ পরে সইতে না পেরে বাথরুমে গেল বাচ্চু। আর তখনই গেটে নক পড়লো! বাচ্চু এমনই সন্দেহ করেছিলো। সে বাথরুমে ঢুকলেই গোশত নিয়ে আসবে, এমনই হলো! . বাচ্চু দ্রুত বাথরুম থেকে বের হলো। ততক্ষণে বুশরা গেট খুলে ফেলেছে। সিনথিয়ার আব্বা ডেকচি হাতে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে বেশ উৎফুল্ল মনে হচ্ছে। বলল, " তোরা তো কোরবানি দেস নাই, নে গোশত নে! " . পলিথিনে করে কিছু গোশত বুশরার হাতে দিয়ে চলে গেল। বাচ্চুর এখন খুশি খুশি লাগছে। কারণ গোশত এসে গেছে। এগুলো এখন রান্না হবে। বাচ্চু অবাক হয়ে দেখলো বুশরার মুখটা কাঁদোকাঁদো! কারণটা বাচ্চু ধরতে পারলো না। . (চার) . - মা, আমরা কি ভিক্ষুক? . প্রায় চিৎকার দিয়েই কথাটা বলল বুশরা। শুনে বাচ্চু হতবাক হয়ে পড়েছে! এ কেমন কথা! মা অবশ্য এখনো কিছু বলেনি। মনে হচ্ছে বকে দিবে। বুশরা আবার বলল, . - গোশত দিতে এসেছে ভাল কথা, কিন্তু আমরা কোরবানি দেইনি এটা চিৎকার দিয়ে কেন বলল? গেটের সামনে এসে অপমান করে গেল! আমি এই গোশত মরে গেলেও খাবো না। . মা বলল, . - না খেলে না খাবি, এখন সামনে থেকে যা। . বুশরা চলে গিয়েছে। মাও রাঁধতে বসেছে। বাচ্চু তার বোনের আচরণে নিজেই লজ্জিত। সিনথিয়ার বাবার কথাইতো সত্য, তারা তো সত্যিই কোরবানি দেয়নি। সেতো মিথ্যা বলেনি। সত্য শুনতে খারাপ লাগলেও সত্য সবসময়ই সুন্দর। . (পাঁচ) . বাচ্চু গোশত খেতে বসেছে। একা একা খাচ্ছিলো। কিছুক্ষণ পরে বাবা ঘুম থেকে উঠে আসলো। বলল, . - বাবা, কি খাও?? . বাচ্চু উত্তরে কিছু বলেনি। শুধু মুচকি হেসেছে। বাবার কথার উত্তর না দিলেও চলে, শুধু হাসলেই বাবা উত্তর জেনে যায়। বাবা অনেক জ্ঞানী। বাবা আবার বলল, একা খাচ্ছো কেন? বুশরা কোথায়? . - বুশরা নাকি খাবে না? -- খাবে না মানে! একশবার খাবে, হাজারবার খাবে! . মন খারাপের মধ্যেও বাচ্চু হেসে ফেললো। বাবা আশেপাশে থাকলে মন খারাপ থাকা অসম্ভব। . একটু পরে বুশরাও খেতে বসলো। সে বলেছিলো, মরে গেলেও খাবে না! তবুও খেতে এসেছে। কারণ বাবার অবাধ্য হওয়ার সাধ্য তার নেই। আসলে কারোরই নেই। বাবা কাউকে মারে না, বকে না, কোন ধরণের শাসনও করেনা। তবুও বাবার অবাধ্য কেউ হয়না। এ এক আশ্চর্য বিষয়! বাচ্চু এখন কারণটা বুঝতে পারছে না, বড় হলে অবশ্যই বুঝবে। . বুশরা একটু পরপর ডুকরে কেঁদে উঠছে। নিঃশব্দ কান্না। তবুও বোঝা যাচ্ছে। বাবা জিজ্ঞেস করলো, . - মা কাঁদছ কেন? -- এমনেই! - কোরবানি দেইনি বলে মন খারাপ? -- হু! - সামনের বছর আমরা উট কোরবানি দিবো। উট কিভাবে জবাই দিতে হয় জানো? -- না। - আমি বলছি... . মা মাঝে এসে বাগড়া দিলো... . - শুধুশুধু আজেবাজে কথা বলছো কেন? -- বাবুদের মন খারাপ। - এভাবে মন ভাল করতে হবেনা। বিকেলে ঘুরতে নিয়ে যেও। -- আচ্ছা যাবো। . বাচ্চুর মন সত্যিই ভাল হয়ে গেল। কারণ বাবার সাথে ঘুরতে গেলে অনেক আনন্দ হয়। আইসক্রিম খেতে নিষেধ করেনা, চকলেট খেতে নিষেধ করেনা, যা ইচ্ছে খাওয়া যায়। . বাবা এখন বুশরাকে খাইয়ে দিচ্ছে। তবুও বাচ্চু মন খারাপ করলো না। বুশরা এখনো কাঁদছে আর চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও বাচ্চুর দেখতে ভাল লাগছে। আজ ঈদের দিনে তাদের ঘরে আনন্দ নেই কথাটি ভুল। তাদের ঘরেও আনন্দ আছে, অলিখিত আনন্দ। . বাচ্চু দেখলো যে, মা এগিয়ে আসছে। আচ্ছা, সে কি বাচ্চুকে খাইয়ে দিবে! বাচ্চুর মতে, দিলে মন্দ হতো না। . (সমাপ্ত) . (সত্য ঘটনা অবলম্বনে) . লেখক - মুনীর আহমদ। উৎসর্গ - গল্পের বাচ্চুকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বাচ্চুর ঈদ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now