বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাবারা এমনই হয়

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X হসপিটালের বেডে বাড়ির প্রথম সন্তান মেয়ে দেখে যৌথ পরিবারের সকলেই প্রায় অখুশি, পরিবারের ধারক হিসাবে কেউ এলোনা বলে । সদ্যোজাতর মা আতঙ্কিত ,ভয়ে মা হবার আনন্দও প্রকাশ করতে পারছে না । মুখের একরাশ হাসি শুধু মেলাচ্ছে না নতুন বাবার ।হসপিটালের সমস্ত স্টাফদের মিষ্টি মুখ করাতেই ব্যাস্ত সে। তারমধ্যে নতুন চিন্তা কি নাম রাখবে এই ছোট্ট পরীর । রাজরানীর জন্য সে নিয়ে এসেছে বেশ বড় বড় জরির কাজকরা দুটো সুন্দর জামা ,নার্সরা তো হেসেই খুন ।যখন কিনা সদ্যোজাতকে রাখা হবে নরম কাপড় জড়িয়ে তখন এই সলমা- জরির কাজের জামা ! আনাড়ী বাবার ছোটাছুটির বিরাম নেই । ছোট্ট মেয়েটা বাবার ভীষণ ন্যাওটা ।বাবার কোলে বসলে যেন পৃথিবীর সব পাওয়া হয়ে যায় ওর ।মায়ের ব্যাস্ততার সময় বাবা-ই অপটু হাতে খাইয়ে দেয় তাকে । ঘুম পড়ানোর গানটা মা ভালো গায় বটে কিন্তু বাবাও তো চেষ্টা করে । যেদিন প্রথম গানের স্কুলে ভর্তি হলো সেদিন বাবাই ওকে উল্টো করে চুল আছড়ে, টিপ পরিয়ে দিয়েছিল ,মনে আছে গানের স্কুলের দিদিরা হেসেছিল । যৌথপরিবারের মা এর অনেক কাজ , সে যে বড় বউ । মেয়ের ঠান্ডা লেগে যখন শ্বাসকষ্ট হতো নিঃস্বাস বন্ধ হয়ে আসতো ,ঘুমের ঘোরে চোখ খুলে দেখতে পেতো মেয়েটি বাবার বিনিদ্র ,চিন্তিত মুখটা । মেয়ের আবদারে দামি পোশাক আসতো নিজের জুতোটা হয়তো সে মাসেও সেলাই করেই চালাতে হতো।মেয়ে যে বড় আদরের বাবার কাছে । ছোট্ট মেয়েটা বড় হতে লাগলো ,আর বাবা মধ্যবয়স্ক ।মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় পরীক্ষাহল থেকে বেরিয়ে বন্ধুদের টিপিপ্পনী " ওই যে তোর বাবা হাতে ডাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রে " ।বিরক্ত হতো মেয়েটা ,অস্বস্তিতে পড়তো তবুও নাছোড় বাবার হাত থেকে ডাব টা নিতেই হতো । সকলের মুখের একটাই কথা মেয়ে বড় হয়ে গেছে এখন নাকি আর বাবাকে জড়িয়ে ধরতে নেই ।কি অদ্ভুত ? অথচ সব গল্পের সঙ্গী শুধু বাবা ।সব অভিমানের সাক্ষীও বাবা ।সব অভিযোগের স্থানও বাবা ,আর সব আবদারের নীরব প্রশ্রয়ও বাবা ।শত ঝঞ্ঝাট থেকে আড়াল করেও রাখে বাবা । মেয়েদের জন্মটাই নাকি পরের ঘর সাজানোর জন্য ।ছোট থেকেই এই শুনে মেয়েরা বড় হয়। এই আদরের পরীকে ঠিক কার হাতে তুলে দেবে সেই নিয়েই শুরু হয় বাবার ভাবনা আর কষ্ট হয় এই ভেবে কি করে থাকবে মেয়েকে ছেড়ে?অনেক দোর্দন্ডপ্রতাপ বাবাও মেয়ের বিয়ে হয়ে বিদায়ের দিনের আতঙ্কে থাকেন । বিয়ের পর মেয়েরা কি সত্যিই পর হয়ে যায় এমন বাবার ? ছিঁড়ে কি যায় সব স্নেহের সুতো ? যদি মুছে যায় এতদিনের এসব স্মৃতি তাহলে বলতে হয় ভালোবাসা মিথ্যে ।আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় মেয়েদের মনে বাবারা চিরজীবন অমলিন ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বাবারা এমনই হয়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now