বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মা, কিছু টাকা লাগবে (আমি)
> বিছানার নিচে ৫০ টাকা আছে দেখ (মা)
> হা হা হা
> কি হলো?
> ৫০ টাকা দিয়ে কি করবো?
> তাহলে নিতে হবেনা যা
> মা
> কি
> ও মা
> কাজ করছি, বিরক্ত করিস না
> শোননা
> বল
> ফোনটা বদলাতে হবে
> ৬ মাস আগে না কিনলি?
> নতুন একটা মডেল বের হইছে ওটা নেব ৷
বাবাকে
বলোনা...
> যেটা আছে ওটা নিয়েই থাক
> এটা বাবাকে দেবো, বাবাকে ওইটা কিনে
দিতে
বলো
> কত দাম
> ১২০০০, আমার কাছে ৪০০০ আছে
> কোথায় পেলি?
> জমিয়েছি, ওই ফোনটা কিনবো বলে
> আচ্ছা বলব, এখন বাজারে যা
:
সুযোগ পেয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে ৷ কি আর
করার
৷ রাতে
খেয়ে শুয়ে আছি ৷ বাবা বারান্দায় বসে
আছে, একটু
পরে
মা আসলো,
> শুনছো? (মা)
> কিছু বলবে? (বাবা)
> হুম
> বলো
> তোমার ছেলে একটা নতুন মোবাইল কিনবে
বলে ৭০০০
টাকা জমিয়েছে ৷ কিন্তু মোবাইলটার দাম
১২০০০
> কোথায় পেলো টাকা?
> বলল জমিয়েছে, ওর পুরান মোবাইলটা নিয়ে
৫০০০
টাকা থাকলে দাও ওকে
> আছে, কিন্তু
> কিন্তু কি আবার?
> ওটা তো তোমার নাকফুল বানানোর জন্য
রেখেছিলাম
> আমার নাকফুল লাগবে না, তুমি ওটা ওকে
দাও
> আচ্ছা, কাল দেবো
সকালবেলা ঘুম ভাঙিয়ে বাবা আমার হাতে
৫০০০ টাকা
দিয়ে মুচকি হেসে মাথায় হাত দিয়ে বলল,
> ছেলেটা টাকা জমা করতে শিকলো কবে?
উত্তরের অপেক্ষা না করে চলে গেল ৷ আমি
উঠে আস্তে
আস্তে রান্না ঘরের দরজায় গিয়ে দাড়ালাম
৷ মা
রান্না করছিল ৷ পায়ের শব্দ পেয়ে পেছন
তাকিয়ে
বলল,
> কখন উঠলি (মা)
> একটু আগে (আমি)
> মন খারাপ নাকি?
> তুমি কালকে ৭০০০ বললে কেন?
> বাকি ৩০০০ আমি দেবো
মায়ের পাশে গেলাম, বললাম,
> মা
> বল
> একটা সত্যি কথা বলবে?
> তুমি কি জন্য এ টাকাটা জমিয়েছিলে?
> ওহ, ওটা?
> হুম
> তোর বাবার জন্য ভালো একটা পাঞ্জাবী
কেনার
জন্য
:
চোখটা কেমন যেন জলে ভরে এলো ৷ মাকে
জড়িয়ে ধরে
কাঁদতে কাঁদতেই বললাম,
> আমার মোবাইল লাগবে না, এটাতেই হবে
> আরে আমরা বুড়ো হয়েছি, এসব না হলেও
চলে
> কিন্তু তোমাদের এই টাকা আমি নিতে
পারবো না
> আচ্ছা শোন, কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দে
> বলো (চোখ মুছতে মুছতে বললাম)
> তোর বাবা টাকাটা কেন জমিয়েছে?
> তোমায় নাকফুল দেওয়ার জন্য
> আর আমি কেন জমিয়েছি?
> বাবার পাঞ্জাবি কেনার জন্য
> তাতে কি হবে?
> তোমরা দুজনেই খুশি হবে
> এই তো, তাহলে আমার টাকাটা কেন
জমিয়েছিলাম?
> দুজন দুজনকে খুশি করার জন্য
> বাবা-মার সবচেয়ে খুশির মুহুর্ত কোনটি
জানিস?
> কোনটি?
> সন্তানের মুখের হাসি ৷ যখন তোর সন্তান
হবে
তখন
বুঝবি
> তাই বলে...
> খুব মহান হয়ে গেছ না? টাকাটা নিয়ে
মোবাইল টা
কিনে আন ৷ আর আমার একটা সুন্দর করে ছবি
তুলে
দিবি
:
আর কিছু বলতে পারলাম না ৷ শুধু মনে প্রশ্ন
জাগলো,
বাবা-মা এত ভালবাসতে পারে কিভাবে?
উত্তরটা হয়তো আমিও একদিন পাবো...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now