বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাবার নিকট থেকে অন্য সবাই যেরকম ভালোবাসা পায় আমি তার সিঁকি ভাগও পাই নি ! কারণ সেই ছোট বেলা বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে যাও পড়াশোনা করো ! তারপর সেই ৫ বছর বয়স থেকে আজ ২২ বছর বয়স পেরিয়ে আমি বাইরে বাইরে জীবন কাটাচ্ছি ! তাই অন্যসবার থেকে আমার দূরত্ব এক হাত হলেও আব্বুর সাথে সেটা দশহাত ! আমায় বাইরের জগত্ এ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিলো সেই ছোট বেলাতে বোধহয় একটা নেশাতেই শিক্ষা গ্রহণ করে মানুষের মতো মানুষ হতে হবে ! তবে নেশাটা যে আমার কিনা আমার আশের পাশের মানুষদের তা এখনো বুঝে উঠতে পারি নাই ! আমি কি পরিবার সাথে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে মানুষের মতো মানুষ হতে পারতাম না ?
কি জানি তারা হয়তো এটাতেই আমার মঙ্গল দেখেছেন !
প্রথম কয়েকবছর নানুর বাড়িতে তারপরের কয়েকবছর হোস্টেলে এরপর ম্যাচে আর এখন এখানে প্রতিটা জায়গাতে ভালোবাসার কমতি অনুভব করেছি তবে কাউকেই সেটা ভুলেও বুঝতে দেই নাই । মনে আছে প্রথম যখন আব্বু আম্মাকে ছেড়ে বাইরের দুনিয়ায় চলে এসেছিলাম তখন প্রায়ই সময় মন খারাপ থাকতো । এমনও দিন গেছে যে কান্নাও করছি । কেউ এসে কারণটাও জিঙ্গাসা করতো না যে আমার কি হয়েছে ! তাহলে আব্বু আর আম্মা কি করতো তখন ?
তারা নিশ্চয়ই হেসে খেলে বেড়াতো না !
ছুটি হলে যখন বাড়িতে যেতাম তখন বড় আম্মু বলতো যে আব্বু আর আম্মু নাকি সব সময় মন খারাপ করে থাকতো !
থাকারই কথা কারণ আমিই ছিলাম তাদের একমাত্র সন্তান । এখন অবশ্য সেই জায়গাটা পূরণ করছে ছোটু !
.
আব্বু ছোট একটা চাকুরি করে সেই জন্য ব্যস্ত থাকে । আমাদের পরিবারটা বিছিন্ন অবস্থায় আছে সেই কবে থেকে ! আব্বু চাকুরির জন্য একজায়গাতে আম্মা আর ছোটু গ্রামে আর আমিতো বলেছিই ছোট থেকেই বিচ্ছিন্ন । তাই আমার খোঁজ খবর নেওয়ার মতো সময় আব্বুর ছিলো না কখনোই । যা একটু আমার সাথে খোঁজ খবর আম্মাই নিতো । আবার স্কুলে যখন প্যারেন্টস মিটিংয়ে সবার আব্বু আসতো সেখানে আমার আব্বুর চেহারাটা পর্যন্ত কেউ দেখে নাই ! হয় আম্মা আসতো নাতো অন্য কেউ বা কোন কোন সময় আমি নিজেই নিজের অভিভাবক কারণ কেউ আসতো না ! মিস করা বা নিজেকে সেই সময় ছোট মনে হতো না এটা বলবো না কারণ পাশের বন্ধুর খোঁটায় সেগুলো কখনো আমার চোখে বৃষ্টি হয়ে নামতো ! তবে দিনের পর সেটা সয়ে এখন আর কিছু মনে হয় না !
.
আগে কয়েকদিন পরপর ফোন দিয়ে আব্বুর সাথে টুকটাক কথা বলতাম এখন সেটা মাসে দু একবার !
দূরত্বটা কি বেড়েছে বা বাড়ছে ?
আমায় যদি কেউ এই প্রশ্নটা করে তবে আমি সোজা সাপ্টা উত্তর দেবো আমি জানি না !
কারণ একবার বা দু বার যখন আব্বু ফোন দিয়ে বলে কেমন আছিস ?
সেই সময় কেন যানি আমি মিথ্যা বলতে পারি না ! মুখ ফসকে হলেও অত্যন্ত গোপন না ভালো থাকার সত্যটা বেরিয়ে যায় ! এরপর কিছুক্ষণকথা হয় আমাদের মধ্যে সমাধানটাও সেই কিছুক্ষণের মধ্যেই আশ্চর্যজনক ভাবে হয়ে যায় । আর্থিক দিক থেকে তিনি খুবই উদার মানে যা চাই তা মোটামুটি ভাবে পেয়ে যাই অথচ দ্বিতীয় উক্তি করে না । আমিও অবশ্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাই না । [হাসি পাচ্ছে]
কয়েকবছর আগে আব্বুর হার্ট এটাক হয়েছিলো সেই খবরটা পেয়েছিলাম কয়েকদিন পর ! কারণ তখন আমার HSC এক্সাম চলছিলো ! আব্বু চায় নি ঐচাপটা এক্সামের মধ্যে দিয়ে দিতে কতটা মঙ্গল চায় বুঝুন ? খবরটা যখন শুনেছিলাম তখন পরীক্ষা শেষ । সেই দিন কেন জানি আমার কঠিন মনটা বারে বারে ভেঙ্গে পড়ছিলো । নিজের অজান্তেই অনেকক্ষণ কেঁদেছিলাম তখন । এরপর সোজাসুজি হাসপাতালে গিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি একান্ত আপনজন হিসেবে । এটা বলে আমি প্রমাণ করার চেষ্টা করছি না যে আমি তাকে লোক দেখানো ভালবাসি ! তবে কেন জানি আমার তখন মনে হচ্ছিলো এই মানুষটার পাশে আমার থাকা দরকার । একটু সময়ের জন্যে হলেও ।
.
আমায় অনেকেই বলে তোর আব্বুর আম্মার উপর টান খুব কম । কারণ আমি তাদের খোঁজ খবর ঠিক মতো রাখি না ! ছুটিতে বাড়িতে গেলে একদমি বেশী দিন থাকি না ! আব্বু আম্মা ও তাই মনে করে ! মাঝে মধ্যে আম্মা তো বলেই ফেলে এখনি আমাদের খোঁজ খবর নিস না বিয়ের পর কি করবি !
কি করবো না করবো সেটা পরের ব্যাপার । তবে ছোট থেকে দেখে আসছি বাবা নামের এই মানুষটা আমার জন্যে কত কিছুই না করছে । নিজের সব সুখ শান্তি বিসর্জন দিয়ে সে আমার সুখের পাহাড়ে তুলে দিচ্ছে !
এই বিষয় ঠিক যে ছোট থেকে বাইরে থাকার কারণে তাদের সাথে আমার একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে কিন্তু সেটা ঠিক কতখানি তা আমার অজানা । তবে আমি চাই সব সময় এই হাসি মুখগুলো আমার সামনে থেকে আমায় ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত করুক । আমি স্বপ্ন দেখি আমি আব্বু আম্মা ছোটু একটেবিলে বসে দিনের পর দিন কথা বলতে বলতে রাতের খাবার একসাথে খাচ্ছি ! আমি চাই আব্বু নামের মানুষটার দেখে আসা পরিশ্রমের অবসান হোক । সবার মতো আমিও চাই জীবনের যে কয়টা দিন আছে উনি নির্ভার কাটাক আমার উপর ভরসা করে । উনি অসুস্থ্য হলে শুধু ৩টা দিন নয় কয়েকবছর ওনার পাশে থাকতে চাই ! এইতো !
তবে আমি এটাও চাই যে আমার এই লেখাটাও যেন কোন ভাবেই আব্বু না দেখে ! কারণ দেখলেই হয়তো একটু হলেও বুঝে ফেলবে আমার ভালবাসার গভীরতা [মানুষটার বুঝার ক্ষমতা প্রচুর বিশেষ করে আমায় বুঝার ক্ষমতা] ! যা আমি কখনোই চাই না ! আমাদের মাঝের দুরত্বের মতো ভালোবাসাটাও অজানা গোপন ই থেকে যাক । কারণ আমার মতে এটাই সর্বশ্রেষ্ঠ ভালোবাসা !
.
লেখক - ওয়ালিদ আব্দুল্লাহ
.
উত্সর্গ - আব্বুকে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now