বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাবা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rupkothar Rajkonna (০ পয়েন্ট)

X খাবার টেবিলে বসে মার দিকে তাকিয়ে চোখে ফাহিম ইশারা করল‌ তার কথাটা বাবাকে বলতে। মা ভয়ে ভয়ে ফাহিমের বাবার দিকে তাকিয়ে বললো, ~ ফাহিম ১০ হাজার টাকা চেয়েছিলো। ওর বন্ধু বান্ধবরা মিলে কয়েকদিনের জন্য কক্সবাজার যাবে সেজন্য... বাবা ফাহিমের দিকে তাকিয়ে বললো, -কবে যাবি? সে বলল‌ , -- এই তো ৫ দিন পর যাবো.. তার বাবা নিচের দিকে তাকিয়ে খেতে খেতে বললো, - তাহলে এক কাজ কর ৩ দিন দোকানে একটু সময় দে। আমি ৩ দিনের জন্য একজায়গায় যাবো। এসে তকে টাকাটা দেই... ফাহিম খুশিতে হাসতে হাসতে বলল, -- ঠিক আছে বাবা.. পর দিন সকালে সে দোকানে গেল। ফাহিমদের ছোটখাটো একটা কাপড়ের দোকান আছে। মাঝে মাঝে সে দোকানে আসলেও কখনো দোকানে বসেনি । আজকেই প্রথম দোকানে বসল সে। দোকানে দুইটা কর্মচারী আছে ওরা সব ফাহিমকে বুঝিয়ে দিচ্ছে। তার কাজ হলো কোন কাপড়ে কত টাকা লাভ হয়েছে সেটা লিখে রাখা আর মাঝে মাঝে কাস্টমারদের কাপড় দেখানো... একটা কাস্টমারকে ২০টার মত শার্ট দেখানোর পর কাস্টমারটা বললো, ~না ভাই পছন্দ হয় নি। ফাহিম অবাক হয়ে বলল, -- এত গুলোর মাঝেও পছন্দ হয় নি? উনি বললেন, - না... মুখটা গোমড়া করে যখন শার্ট গুলো সে যখন ঠিক করছিল‌ তখন কর্মচারী ছেলেটা হেসে বললো, ~ভাইয়া, মুখ গোমড়া করে থাকলে হবে না। সব সময় মিষ্টি হেসে কাস্টমারের সাথে কথা বলতে হবে... কিছুক্ষণ পর একটা ছেলে এসে বললো, কিছু নতুন ডিজাইনের প্যান্ট দেখাতে। ফাহিম দোকানের কিছু ভালো মডেলের প্যান্ট দেখালো। একটা প্যান্ট পছন্দ করলো। প্যান্টের কিনা মূল্য ছিলো ১২০০ টাকা। সে ছেলেটার কাছে চাইলাম ১৫০০ টাকা। ছেলেটা প্যান্টা উল্টে পাল্টে আবার দেখে বললো, ~৩০০ টাকা দিবেন? কথাটা শুনে মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো ফাহিমের। দাঁতের সাথে দাঁত চেপে নিজের রাগটা কন্ট্রোল করে মুখে মিষ্টি হাসি এনে বলল , -- না ভাইয়া, এত কম দামে হবে না... কিছুক্ষণ পর এক মহিলা এসে ১ ঘন্টা ধরে দোকানের সমস্ত কাপড় চোপড় উল্টে পাল্টে দেখে ২টা কাপড় পছন্দ করে বললো, ~আমার স্বামী ৩দিন পর বেতন পাবে তখন এই দুইটা কাপড় নিবো। রাগে সারটা শরীর কাঁপছিলো তার। তারপরও কিছু বলতে পারছিল না সে কারণ কাস্টমার বলে কথা। নিজের রাগ বুকের ভিতর জমাট রেখে মুচকি হেসে বলল, -- আন্টি, যেদিন আংকেল বেতন পাবে সেদিন আংকেল কে নিয়ে না হয় আসবেন... একছেলে মনে হয় তার গার্লফ্রেন্ডকে সাথে নিয়ে দোকানে এসেছে। কর্মচারী ছেলে গুলো যে কাপড় গুলোই দেখায় সেগুলো দেখেই বলে আরো ভালো মানের কাপড় দেখাতে। অবশেষে কর্মচারী ছেলেটা বললো, ~এর চেয়ে ভালো মানের কাপড় আমাদের দোকানে নেই। ছেলেটা মুখে বিরক্তির ভাব এনে বললো, - দূর যা, শুধু শুধু এমন একটা ফকিন্নি দোকানে সময় নষ্ট করলাম... না আর সহ্য করা যায় না। ছেলেটাকে ফাহিম বলল, -- ভাই, আপনি বড়লোকের পোলা তাহলে বসুন্ধরা শপিংম, যমুনা ফিউচার পার্ক এই গুলো বাদ দিয়ে শুধু শুধু কেন এই সব সাধারণ শপিংমলে ঘুরাঘুরি করছেন? তাদের যখন কথা কাটাকাটি হচ্ছিলো তখন কর্মচারী ছেলেটা ঐ ছেলের কাছে মাফ চেয়ে ফাহিমকে বললো, ~ভাইয়া এমন করলে তো ব্যবসা হবে না। প্রতিদিন কত মানুষের কত রকম কথা শুনতে হবে। আপনি আজ প্রথম এসেছেন তাই কিছু জানেন না... দিন শেষে হিসাব করে দেখে সব খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয়েছে ৮২০ টাকা... ফাহিম ৩দিন দোকান দেখাশুনা করে। এই তিন দিনে আয় হয় ৪০২০টাকা। আর এই ৩দিনে যে পরিমাণ কষ্ট হয়েছে মনে হয় না ফাহিম তার জীবনে এত কষ্ট করেছে... রাতে নিজের রুমে বসে যখন ফাহিম ফোন টিপছিল তখন তার বাবা এসে বললো, -এই নে তোর ১০ হাজার টাকা। সে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল, -- কিসের ১০ হাজার টাকা? বাবা অবাক হয়ে বললো, - তুই না কক্সবাজার যাবি বন্ধুদের সাথে? ফাহিম বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, --বাবা আমি আগে বুঝতাম না টাকা ইনকাম করতে কতটা কষ্ট হয় তাই তোমার কাছে এতকিছু আবদার করতাম। আমি এই ৩ দিনে খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছি টাকা ইনকাম করার কষ্টটা। যে আমি ৩ দিনে ৫ হাজার টাকায় ইনকাম করতে পারলাম না সেই আমি কি না ২ দিনের জন্য ১০ হাজার টাকা কিভাবে আবদার করি। এত টাকা খরচ করা আমাদের মত নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অপচয় বাদে কিছুই না.. ফাহিমের কথা শুনে বাবা কিছুটা রেগে গিয়ে বললো, - তকে এত পন্ডিতগিরি করতে হবে না। বন্ধুরা সবাই যাচ্ছে তুইও যা। সমুদ্রের বিশালতা দেখলে তোর খুব ভালো লাগবে। সে বাবার হাত ধরে বলল, -- বিশালতা দেখতে সমুদ্রে যেতে হয় না। বাবার চোখের দিকে তাকালেই বিশালতা দেখা যায়। যে বাবারা হাজার কষ্টের পরেও সন্তানের মুখে হাসি ফোটায়... খাবার টেবিলে বসে যখন খাচ্ছে তখন ফাহিম বাবাকে বলল‌ , -- বাবা, দোকানে ২জন কর্মচারী রাখার কোন দরকার নেই। আজ থেকে আমি দোকানে বসবো। বাবা তার কথার কোন উত্তর দিলো না। শুধু মাকে বললো, - তারকারি তে এত ঝাল দেয়েছো কেন? ঝালে চোখেমুখে পানি চলে এসেছে... ফাহিম জানে তারকারিতে ঝাল হয় নি। বাবা চোখের জল লুকানোর জন্য মিথ্যা কথা বলছে... (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বাবার ঋণ
→ বাবার ঋণ
→ ​“বাবার দেওয়া জমি” অধ্যায় - ২
→ ​“বাবার দেওয়া জমি” অধ্যায় - ১
→ আচরণের আয়নায় বাবা-মা
→ বাবা-মেয়ের অতৃপ্ত ভালোবাসা
→ আমার প্রিয় বাবা
→ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা
→ মায়ার মা আর বাবা
→ বাবা
→ বাবাকে হারিয়ে
→ বাবা ও ছেলের গল্প
→ বাবা
→ বাবা মা এখন আমাদের সন্তান
→ বাবা ও ছেলে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now