বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাবা, শুধুমাত্র একজন হিরো নন ; তিনি বাস্তবজীবনের একজন সুপার হিরো......
আমাকে যদি কখনো প্রশ্ন করা হয়, কার মতো হতে চাই? তখন আমি বলব,"বাবা"। কারণ একজন বাবার মতো সৎ, লড়াকু, পরিশ্রমী, মায়াবী, সাহসী, ত্যাগী কেউ হতে পারবে না।
যদি কখনো প্রশ্ন করা হয়, তোমার দেখা সেরা অভিনেতা কে? আমি বলব, "বাবা"। কারণ উনাদের কষ্ট লুকানোর অভিনয়ের কাছে অনায়াসে যেখনো চলচিত্রের নামি-দামি অভিনেতারা পরাজিত হবে।
যদি প্রশ্ন করা হয়, তোমার নিরাপত্তার জন্য কোন বাহিনী দরকার? উত্তরে বলব, "সবার আগে বাবাকে চাই" কারণ বাবার মতো নিঃস্বার্থভাবে আমাকে আগলে রাখতে আর কেউ পারবে না।
বাবার মাঝে জড়িয়ে আছে বিশালত্বের এক অদ্ভুত মায়াবি প্রকাশ। বাবা নামটা উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে কোন বয়সী সন্তানের হৃদয়ে শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা আর ভালবাসার এক অনুভব জাগে। বাবা শুধু মাত্র একটি সম্পর্কের নাম নয়। বাবা একজন মানুষও নয়। বাবা হলেন একজন বাস্তবজীবনের সুপারহিরো।
পথের ক্লান্তি ঝেড়ে, মনের সব চিন্তা ফেলে, নিজের শরীরের খেয়াল না রেখে, অক্লান্ত পরিশ্রম করে, হাসি মুখে সন্তানকে আঁকড়ে রাখে যে মানুষটি, তিনিই বাবা।
পরিবারের সুখ, সন্তানের পড়ালেখার উন্নতির জন্য বাড়তি স্যার, সন্তানের আবদার পূরণের জন্য যে মানুষটি ওভারটাইম ডিউটি করেন, তিনিই বাবা।
তিনিই বাবা, যার হাত ধরে আমরা হাটতে শিখেছি, যার হাত ধরে আমাদের পড়ালেখার হাতেখড়ি। তিনিই আমাদের অনুপ্রেরক, আত্নবিশ্বাসদাতা।
হ্যা তিনিই বাবা, যার শরীরের পরিশ্রমের প্রত্যেকটি ঘামের ফোটা আমাদের লালনপালনের জন্য ব্যয় করেন।
ইনিই সেই বাবা, যিনি সন্তানের স্যান্ডেল ছিঁড়ে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন জুতা বা স্যান্ডেল কিনে দেন আর নিজে পায়ে দেন কয়েকটিবার সেলাই করা স্যান্ডেল।
হ্যা, উনিই সেই মানুষ যিনি আপনার, আমার আবদার রাখার জন্য একটির পর একটি স্মার্টফোন কিনে দেন। অথচ বছরের পর বছর নিজে ব্যাবহার করেন সামান্য একটি এক বা দেড় হাজার টাকার মোবাইল।
পরিক্ষার আগে বলেন," এবার ফার্স্ট হতে হবে",
আর রেজাল্ট ভালো না আসলে, " এবার হয়নি তো কি হয়েছে, পরেরবার হবে। মন খারাপের প্রয়োজন নেই" খারাপ সময়ে এভাবে পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দেয়ার মানুষটিই আমাদের বাবা।
আমাদের মতো বাবার ড্রয়ার ভর্তি কাপড় থাকে না। প্রতি ঈদে/ পূজায় আমাদের মতো নতুন নতুন ঘড়ি কিনেন না। যুগ যুগ ধরে বাবাদের হাতে একটি ঘড়িই দেখা যায়। তিনিই বাবা যিনি আমাদের কষ্ট হবে তাই রিক্সায় করে যাতায়াত করায় আর নিজে যায় বাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।
বাবাদের এতো কষ্টের পরেও আমরা তাদের কটু কথা বলি, বৃদ্ধাশ্রম এ পাঠিয়ে দিয়। আমাদের এতো আবদার মেটানোর পরেও আমরা অনেকেই প্রশ্ন তুলি যে," তিনি আমাকে কি দিয়েছেন?" আমাদের সকলের উচিত "তিনি আমাকে কি দিয়েছেন "প্রশ্নটি করার আগে একটিবার চিন্তা করা। দিনপ্রতি যদি ৫০টাকা করে ধরা হয় তাহলে শুধুমাত্র ১৬ বছরের একটি সন্তানের জন্য খরচ হয় প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। এছাড়া স্কুলের বেতন, কোচিংয়ের বেতন, স্যারের বেতন, প্রতিক্লাসে ভর্তি ফি, কেনাকাটা, ওষুধ বাবদ তো আছেই। এসব কিছুর বিনিময় উনি আমাদের কাছে শুধু একটি জিনিস চান। পরিক্ষায় ভালো ফলাফল। আমরা কি উনাদের সেই চাওয়া দিতে পারি? পারি না। উলটা কটু কথা বলি আর প্রশ্ন তুলি উনি কি দিয়েছেন। শুধু মাত্র বাবারাই জানেন কি পরিমাণ পরিশ্রম করে আমাদের লালনপালন করেছেন। উনাদের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর আগে আমাদের চিন্তা করতে হবে, উনারা তো আমাদের লালনপালন করে যোগ্য পিতা হিসেবে জানান দিয়েছেন। আমাদেরও কি উচিত না, যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান হিসেবে জানান দেওয়ার? যাদের বাবা নেই শুধু তারাই বুঝে, আসলে বাবার মূল্য কতটুকু।
সকল বাবা সন্তানদের খুব ভালোবাসে।কিন্তু তারা কখনো মুখ ফুটে বলতে পারেন না, তারা আমাদের কতটুকু ভালোবাসেন। বাবা বকা-ঝকা করলে আমরা অনেকে বলি, বাবা খারাপ। কিন্তু আসলে বাবা খারাপ না। তারা যদি বকা-ঝকা না দিত তাহলে আমরা মানুষের মত মানুষ হতে পারতাম না। হতাম মানুষরূপী পশু।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now